মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত শরীফ)
১৪- বিবাহ-শাদী সম্পর্কিত অধ্যায়
হাদীস নং: ৩১২৯
২. প্রথম অনুচ্ছেদ - বিয়ের ওয়ালী (অভিভাবক) এবং নারীর অনুমতি গ্রহণ প্রসঙ্গে
৩১২৯। বিবি আয়েশা (রাঃ) হইতে বর্ণিত আছে, নবী করীম ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন তাঁহাকে বিবাহ করেন তখন তাহার বয়স ছিল সাত বৎসর আর যখন তাহাকে হুযুরের ঘরে পাঠানো হয় তখন তাঁহার বয়স ছিল নয় বৎসর। তখন তাহার খেলনা ছিল তাঁহার সাথে। আর যখন তিনি তাহাকে ছাড়িয়া যান তখন তাঁহার বয়স ছিল আঠারো বৎসর। —মুসলিম
وَعَنْ عَائِشَةَ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ تَزَوَّجَهَا وَهِيَ بِنْتُ سَبْعِ سِنِينَ وَزُفَّتْ إِلَيْهِ وَهِيَ بِنْتُ تِسْعِ سِنِينَ وَلُعَبُهَا مَعَهَا وَمَاتَ عَنْهَا وَهِيَ بِنْتُ ثَمَانِيَ عَشْرَةَ. رَوَاهُ مُسلم
হাদীসের ব্যাখ্যা:
বাল্য বিবাহঃ
‘সাত বৎসর' – বিবাহকালে বিবি আয়েশার (রাঃ) বয়সের উল্লেখ বোখারী, মুসলিম, আবু দাউদ ও ইবনে মাজাহ্, সিহাহ্ সিত্তার এই চারিটি কিতাবে এবং ইবনে মাজার সমপর্যায়ের কিতাব সুনানে দারেমীতে রহিয়াছে। ইহার কোনটিতে ছয় বৎসর আর কোনটিতে সাত বৎসর বলা হইয়াছে। বাস্তব কথা এই যে, তখন তাঁহার বয়স ছয় বৎসর অতিক্রম করিয়া সাত বৎসর চলিতে ছিল। তাই কখনও সাত বৎসর বলা হইয়াছে। মোটকথা, হাদীসের এই সকল সহীহ কিতাবে তখন তাঁহার বয়স সাত বৎসরের অধিক বলা হয় নাই। আর ইহাই হইল এ ব্যাপারে সহীহতর ও চূড়ান্ত কথা। সুতরাং ইতিহাস ও সীরতের কোন কোন কিতাবে বিবি আয়েশার বড় বোন হযরত আসমার জীবনীতে যে বলা হইয়াছে, তিনি আয়েশার দশ বৎসরের বড় ছিলেন এবং একশত বৎসর বয়সে ৭৩ হিজরীতে তিনি মারা গিয়াছেন, যাহাতে বুঝা যায় যে, বিবাহকালে আয়েশার বয়স চৌদ্দ বৎসর ছিল, অথবা যে বলা হয় আয়েশা হযরত ফাতেমা যাত্রার পাঁচ বৎসরের ছোট ছিলেন; আর ফাতেমার মৃত্যু হয় একাদশ হিজরীতে হুযুরের ওফাতের ছয় মাস পর ৩৫ বৎসর বয়সে, যাহার দ্বারা বুঝা যায় যে, আয়েশার বয়স ছিল তখন সতের বৎসর। এই সকল কথার কোন মূল্য নাই । কারণ, হাদীসের বিশেষ করিয়া বোখারী ও মুসলিমের হাদীসের বিশুদ্ধতার সাথে ইতিহাস ও সীরতের বিশুদ্ধতার কোন তুলনা চলে না। বিশেষ করিয়া আবুয যিনাদ, ওয়াকেদী ও কলবীর বর্ণনার কোন তুলনাই চলে না। কারণ, ইহারা হইলেন প্রসিদ্ধ মাতরূক বা গ্রহণের অযোগ্য রাবী, কোন সহীহ বর্ণনার বিপরীত হইলে ইহাদের বর্ণনা কিছুতেই গ্রহণ করা যাইতে পারে না । ইহা সর্ববাদিসম্মত কথা। অথচ হযরত আসমার ঘটনা আবুয যিনাদের আর হযরত ফাতেমার ঘটনা ওয়াকেদী ও কলবীর বর্ণনা। এক কথায়, বিবি আয়েশার বিবাহ নাবালিকা অবস্থায়ই হইয়াছিল। আর ইহা হুযূর ও আয়েশার কোন বিশেষ ব্যাপারও নহে। কেননা, কোদামা ইবনে মাযঊন হযরত জুবায়রের কন্যাকে তাহার জন্মদিনে বিবাহ করিয়াছিলেন আর ইহা সমস্ত সাহাবী জানিতেন। ইহাতে বুঝা গেল যে, শরীআতে বাল্য বিবাহ জায়েয আছে। কোরআনের একটি আয়াত হইতেও ইহা নিঃসন্দেহে বুঝা যায়। কোরআনের সূরা ‘তালাকে' বলা হইয়াছে—
وَاللَّائِي يَئِسْنَ مِنَ الْمَحِيضِ مِن نِّسَائِكُمْ إِنِ ارْتَبْتُمْ فَعِدَّتُهُنَّ ثَلَاثَةُ أَشْهُرٍ وَاللَّائِي لَمْ يَحِضْنَ
“যাহারা (বার্ধক্যহেতু ঋতু সম্পর্কে) নিরাশ হইয়া গিয়াছে, তাহাদের ইদ্দত হইল তিন মাস আর যাহারা (বাল্যের কারণে) ঋতুবতী হয় নাই তাহাদেরও (তিন মাস)।” (সূরা তালাক, আয়াত ৪) যদি বাল্য বিবাহই জায়েয না হইত, তবে ইদ্দত আসিবে কোথা হইতে ? সকল তফসীরকার ও ইমামগণ এই আয়াত হইতে ইহাই বুঝিয়াছেন। আর সূরা নেসার আয়াতে অভিভাবকদিগকে যে বলা হইয়াছে—
وَابْتَلُوا الْيَتَامَىٰ حَتَّىٰ إِذَا بَلَغُوا النِّكَاحَ فَإِنْ آنَسْتُم مِّنْهُمْ رُشْدًا فَادْفَعُوا إِلَيْهِمْ أَمْوَالَهُمْ
“ইয়াতীমদিগকে পরীক্ষা করিয়া দেখ, অবশেষে যখন তাহারা বিবাহের বয়সে পৌঁছিবে, (অর্থাৎ, বালেগা হইবে,) তখন যদি তোমরা তাহাদের মধ্যে মাল খরচ করার উপযুক্ততা দেখ তাহাদের মাল তাহাদের সপর্দ করিবে।" (সূরা নিসা, আয়াত ৬)
ইহা ইয়াতীমদের হাতে মাল সপর্দ করার সময় সম্পর্কে উক্ত হইয়াছে, বিবাহের সময় সম্পর্কে নহে। তবে তৎকালেও ছেলেমেয়ের বিবাহ সাধারণত বালেগা হইলেই দেওয়া হইত, যেমন আমরা এখন দিয়া থাকি। ইহা সাধারণ নিয়মের কথা, আইন নহে। অর্থাৎ, ইহার অর্থ এই নহে যে, কখনও ইহার ব্যতিক্রম করা হইত না বা ব্যতিক্রম করা জায়েয নহে। সুতরাং ইহা দ্বারা বিবাহের সময় প্রমাণের চেষ্টা করা কোরআনের অর্থগত তাহরীফ (রদবদল) বই কিছুই নহে। মোটকথা, কোরআন-হাদীস অনুসারে আবশ্যক মতে বাল্য বিবাহ জায়েয আছে, যদিও উত্তম নহে। চারি ইমাম এ ব্যাপারে একমত, আর ইহার জন্য মানুষ কখনও বাধ্যও হইয়া থাকে।
'তাঁহার খেলনা ছিল তাঁহার সাথে খেলনা অর্থে এখানে কাপড়ের নেকড়ার পুতুলকেই বুঝাইয়াছে। ইহাতে দুইটি কথা বুঝা গেল, (১) বিবি আয়েশা তখনও বয়স্কা হন নাই। রাবী এখানে এই কথা বুঝাইবার জন্যই এই বাক্যের প্রয়োগ করিয়াছেন। কারণ, যখন মেয়েরা দাম্পত্য জীবনের রহস্য বুঝিতে পারে, তখন ইহা দ্বারা খেলা করিতে লজ্জাবোধ করে। (২) মেয়েদের পক্ষে এইরূপ পুতুল দ্বারা খেলা করা জায়েয। হুযূর (ﷺ) আয়েশার এই খেলনা দেখিয়া নিষেধ করেন নাই। এই নেকড়ার খেলনা ছবির অন্তর্গত নহে।
‘সাত বৎসর' – বিবাহকালে বিবি আয়েশার (রাঃ) বয়সের উল্লেখ বোখারী, মুসলিম, আবু দাউদ ও ইবনে মাজাহ্, সিহাহ্ সিত্তার এই চারিটি কিতাবে এবং ইবনে মাজার সমপর্যায়ের কিতাব সুনানে দারেমীতে রহিয়াছে। ইহার কোনটিতে ছয় বৎসর আর কোনটিতে সাত বৎসর বলা হইয়াছে। বাস্তব কথা এই যে, তখন তাঁহার বয়স ছয় বৎসর অতিক্রম করিয়া সাত বৎসর চলিতে ছিল। তাই কখনও সাত বৎসর বলা হইয়াছে। মোটকথা, হাদীসের এই সকল সহীহ কিতাবে তখন তাঁহার বয়স সাত বৎসরের অধিক বলা হয় নাই। আর ইহাই হইল এ ব্যাপারে সহীহতর ও চূড়ান্ত কথা। সুতরাং ইতিহাস ও সীরতের কোন কোন কিতাবে বিবি আয়েশার বড় বোন হযরত আসমার জীবনীতে যে বলা হইয়াছে, তিনি আয়েশার দশ বৎসরের বড় ছিলেন এবং একশত বৎসর বয়সে ৭৩ হিজরীতে তিনি মারা গিয়াছেন, যাহাতে বুঝা যায় যে, বিবাহকালে আয়েশার বয়স চৌদ্দ বৎসর ছিল, অথবা যে বলা হয় আয়েশা হযরত ফাতেমা যাত্রার পাঁচ বৎসরের ছোট ছিলেন; আর ফাতেমার মৃত্যু হয় একাদশ হিজরীতে হুযুরের ওফাতের ছয় মাস পর ৩৫ বৎসর বয়সে, যাহার দ্বারা বুঝা যায় যে, আয়েশার বয়স ছিল তখন সতের বৎসর। এই সকল কথার কোন মূল্য নাই । কারণ, হাদীসের বিশেষ করিয়া বোখারী ও মুসলিমের হাদীসের বিশুদ্ধতার সাথে ইতিহাস ও সীরতের বিশুদ্ধতার কোন তুলনা চলে না। বিশেষ করিয়া আবুয যিনাদ, ওয়াকেদী ও কলবীর বর্ণনার কোন তুলনাই চলে না। কারণ, ইহারা হইলেন প্রসিদ্ধ মাতরূক বা গ্রহণের অযোগ্য রাবী, কোন সহীহ বর্ণনার বিপরীত হইলে ইহাদের বর্ণনা কিছুতেই গ্রহণ করা যাইতে পারে না । ইহা সর্ববাদিসম্মত কথা। অথচ হযরত আসমার ঘটনা আবুয যিনাদের আর হযরত ফাতেমার ঘটনা ওয়াকেদী ও কলবীর বর্ণনা। এক কথায়, বিবি আয়েশার বিবাহ নাবালিকা অবস্থায়ই হইয়াছিল। আর ইহা হুযূর ও আয়েশার কোন বিশেষ ব্যাপারও নহে। কেননা, কোদামা ইবনে মাযঊন হযরত জুবায়রের কন্যাকে তাহার জন্মদিনে বিবাহ করিয়াছিলেন আর ইহা সমস্ত সাহাবী জানিতেন। ইহাতে বুঝা গেল যে, শরীআতে বাল্য বিবাহ জায়েয আছে। কোরআনের একটি আয়াত হইতেও ইহা নিঃসন্দেহে বুঝা যায়। কোরআনের সূরা ‘তালাকে' বলা হইয়াছে—
وَاللَّائِي يَئِسْنَ مِنَ الْمَحِيضِ مِن نِّسَائِكُمْ إِنِ ارْتَبْتُمْ فَعِدَّتُهُنَّ ثَلَاثَةُ أَشْهُرٍ وَاللَّائِي لَمْ يَحِضْنَ
“যাহারা (বার্ধক্যহেতু ঋতু সম্পর্কে) নিরাশ হইয়া গিয়াছে, তাহাদের ইদ্দত হইল তিন মাস আর যাহারা (বাল্যের কারণে) ঋতুবতী হয় নাই তাহাদেরও (তিন মাস)।” (সূরা তালাক, আয়াত ৪) যদি বাল্য বিবাহই জায়েয না হইত, তবে ইদ্দত আসিবে কোথা হইতে ? সকল তফসীরকার ও ইমামগণ এই আয়াত হইতে ইহাই বুঝিয়াছেন। আর সূরা নেসার আয়াতে অভিভাবকদিগকে যে বলা হইয়াছে—
وَابْتَلُوا الْيَتَامَىٰ حَتَّىٰ إِذَا بَلَغُوا النِّكَاحَ فَإِنْ آنَسْتُم مِّنْهُمْ رُشْدًا فَادْفَعُوا إِلَيْهِمْ أَمْوَالَهُمْ
“ইয়াতীমদিগকে পরীক্ষা করিয়া দেখ, অবশেষে যখন তাহারা বিবাহের বয়সে পৌঁছিবে, (অর্থাৎ, বালেগা হইবে,) তখন যদি তোমরা তাহাদের মধ্যে মাল খরচ করার উপযুক্ততা দেখ তাহাদের মাল তাহাদের সপর্দ করিবে।" (সূরা নিসা, আয়াত ৬)
ইহা ইয়াতীমদের হাতে মাল সপর্দ করার সময় সম্পর্কে উক্ত হইয়াছে, বিবাহের সময় সম্পর্কে নহে। তবে তৎকালেও ছেলেমেয়ের বিবাহ সাধারণত বালেগা হইলেই দেওয়া হইত, যেমন আমরা এখন দিয়া থাকি। ইহা সাধারণ নিয়মের কথা, আইন নহে। অর্থাৎ, ইহার অর্থ এই নহে যে, কখনও ইহার ব্যতিক্রম করা হইত না বা ব্যতিক্রম করা জায়েয নহে। সুতরাং ইহা দ্বারা বিবাহের সময় প্রমাণের চেষ্টা করা কোরআনের অর্থগত তাহরীফ (রদবদল) বই কিছুই নহে। মোটকথা, কোরআন-হাদীস অনুসারে আবশ্যক মতে বাল্য বিবাহ জায়েয আছে, যদিও উত্তম নহে। চারি ইমাম এ ব্যাপারে একমত, আর ইহার জন্য মানুষ কখনও বাধ্যও হইয়া থাকে।
'তাঁহার খেলনা ছিল তাঁহার সাথে খেলনা অর্থে এখানে কাপড়ের নেকড়ার পুতুলকেই বুঝাইয়াছে। ইহাতে দুইটি কথা বুঝা গেল, (১) বিবি আয়েশা তখনও বয়স্কা হন নাই। রাবী এখানে এই কথা বুঝাইবার জন্যই এই বাক্যের প্রয়োগ করিয়াছেন। কারণ, যখন মেয়েরা দাম্পত্য জীবনের রহস্য বুঝিতে পারে, তখন ইহা দ্বারা খেলা করিতে লজ্জাবোধ করে। (২) মেয়েদের পক্ষে এইরূপ পুতুল দ্বারা খেলা করা জায়েয। হুযূর (ﷺ) আয়েশার এই খেলনা দেখিয়া নিষেধ করেন নাই। এই নেকড়ার খেলনা ছবির অন্তর্গত নহে।
