মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত শরীফ)

১১- হজ্জ্বের অধ্যায়

হাদীস নং: ২৭৫৬
- হজ্জ্বের অধ্যায়
১৫. তৃতীয় অনুচ্ছেদ - মদীনার হারামকে আল্লাহ তাআলা কর্তৃক সংরক্ষণ প্রসঙ্গে
২৭৫৬। হযরত ইবনে ওমর (রাঃ) রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)-এর নাম করিয়া বলেন যে, তিনি বলিয়াছেনঃ যে হজ্জ করিয়া পরে আমার যিয়ারত করিয়াছে আমার মউতের পরে, সে হইবে ঐ ব্যক্তির ন্যায় যে আমার জীবনে আমার যিয়ারত করিয়াছে। — উক্ত হাদীস দুইটি বায়হাকী শোআবুল ঈমানে বর্ণনা করিয়াছেন।
كتاب المناسك
وَعَنِ ابْنِ عُمَرَ مَرْفُوعًا: «مَنْ حَجَّ فَزَارَ قَبْرِي بَعْدَ مَوْتِي كَانَ كَمَنْ زَارَنِي فِي حَياتِي» . رَوَاهُمَا الْبَيْهَقِيّ فِي شعب الْإِيمَان

হাদীসের ব্যাখ্যা:

১. ‘হজ্জ করিয়া পরে আমার যিয়ারত করিয়াছে ইহাতে বুঝা গেল যে, হজ্জ আগে এবং যিয়ারত পরে করাই বাঞ্ছনীয়। তবে কোন কারণে যিয়ারত যদি আগে করা হয় তাহাও জায়েয।

২. রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যে নিজ কবরে; বরং সমস্ত নবী-রাসূলই যে নিজ নিজ আলোকিত কবরে জীবিত রয়েছেন, এটা জমহুরে উম্মতের স্বীকৃত মত- যদিও এ জীবনের ধরন নিয়ে মতভেদ রয়েছে। বিভিন্ন বর্ণনা ও উম্মতের বিশেষ মনীষীদের অভিজ্ঞতার দ্বারা এটাও প্রমাণিত যে, উম্মতের কোন ব্যক্তি যখন রওযা শরীফে হাজির হয়ে সালাম নিবেদন করে, তখন তিনি তার সালাম শুনেন এবং উত্তরও দিয়ে থাকেন। এমতাবস্থায় রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)-এর ওফাতের পর তাঁর রওযা শরীফে হাজির হওয়া ও সালাম নিবেদন করা যেন এক বিবেচনায় তাঁর দরবারে উপস্থিত হওয়া ও সামনাসামনি সালাম করারই একটি রূপ। নিঃসন্দেহে এটা এমন সৌভাগ্যের বিষয় যে, ঈমানদার বান্দারা যে কোন মূল্যে এটা অর্জন করার চেষ্টা করবে।
২. ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)
tahqiqতাহকীক:তাহকীক চলমান