মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত শরীফ)
১১- হজ্জ্বের অধ্যায়
হাদীস নং: ২৭৫৭
- হজ্জ্বের অধ্যায়
১৫. তৃতীয় অনুচ্ছেদ - মদীনার হারামকে আল্লাহ তাআলা কর্তৃক সংরক্ষণ প্রসঙ্গে
২৭৫৭। (তাবেয়ী) হযরত ইয়াহ্ইয়া ইবনে সায়ীদ (রঃ) হইতে বর্ণিত আছে যে, একদা রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বসিয়া আছেন, তখন মদীনায় একটি কবর খোড়া হইতেছিল। এক ব্যক্তি কবরে উঁকি মারিয়া দেখিল এবং বলিল, মু'মিনের কী মন্দ স্থান ইহা ! তখন রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলিলেনঃ তুমি কী মন্দ কথাই না বলিলে! লোকটি বলিল, হুযূর এই মর্মে ইহা আমি বলি নাই। আমার কথার মর্ম হইল, সে আল্লাহর রাস্তায় বিদেশে কেন শহীদ হইল না (মদীনায় মরিয়া এখানে কেন দাফন হইতে চলিল ) ? তখন রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলিলেন, হ্যাঁ আল্লাহর রাস্তায় শহীদ হওয়ার মত কিছুই হইতে পারে না, তবে মনে রাখিও, আল্লাহর যমীনে এমন কোন স্থান নাই যাহাতে আমার কবর হওয়া মদীনা অপেক্ষা আমার নিকট প্রিয়তর হইতে পারে। ইহা তিনি তিনবার বলিলেন। —মালেক মুরসালরূপে
كتاب المناسك
لإرساله وَعَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ جَالِسًا وَقَبْرٌ يُحْفَرُ بِالْمَدِينَةِ فَاطَّلَعَ رَجُلٌ فِي الْقَبْرِ فَقَالَ: بِئْسَ مَضْجَعِ الْمُؤْمِنِ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «بئس مَا قُلْتَ» قَالَ الرَّجُلُ إِنِّي لَمْ أُرِدْ هَذَا إِنَّمَا أَرَدْتُ الْقَتْلَ فِي سَبِيلِ اللَّهِ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «لَا مِثْلَ الْقَتْلِ فِي سَبِيلِ اللَّهِ مَا عَلَى الْأَرْضِ بُقْعَةٌ أَحَبُّ إِلَيَّ أَنْ يَكُونَ قَبْرِي بِهَا مِنْهَا» ثَلَاثَ مَرَّاتٍ. رَوَاهُ مَالِكٌ مُرْسَلًا
হাদীসের ব্যাখ্যা:
১. বসবাস মক্কায় আফযল না মদীনায় –এ ব্যাপারে ইমাম ও ফকীহগণ একমত না হইলেও মৃত্যু যে মদীনায়ই আফযল – তাহাতে তাঁহারা সকলেই একমত।
২. রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর এ কথার মর্ম বাহ্যত এই যে, আল্লাহর পথে শাহাদত লাভের ফযীলত ও মাহাত্ম্য অবশ্যই স্বীকৃত এবং বিছানায় পড়ে মরা ও জেহাদের ময়দানে আল্লাহর জন্য জীবন উৎসর্গ করা সমান নয়; কিন্তু মদীনায় মৃত্যুবরণ করা ও এখানে করবস্থ হওয়াও বিরাট সৌভাগ্যের বিষয়। আমি নিজেও এর আকাঙ্ক্ষা করি।
ইমাম বুখারী (রহঃ) নিজ কিতাব বুখারী শরীফের কিতাবুল হজ্বের একেবারে শেষে মদীনা শরীফের ফযীলত সম্পর্কীয় হাদীসসমূহ উল্লেখ করার পর এর সমাপ্তি টেনেছেন আমীরুল মু'মিনীন হযরত উমর রাযি.-এর এ প্রসিদ্ধ দু‘আর উপরঃ
اللَّهُمَّ ارْزُقْنِي شَهَادَةً فِي سَبِيلِكَ، وَاجْعَلْ مَوْتِي فِي بَلَدِ رَسُولِكَ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ،
অর্থাৎ হে আল্লাহ! আমাকে তোমার পথে শহীদ হওয়ার মর্যাদাও দান কর এবং তোমার রাসূলের শহর মদীনায় আমার মৃত্যু নছীব কর।
এ দু‘আর ঘটনা ইবনে সা'দ বিশুদ্ধ সনদে এ বর্ণনা করেছেন যে, আউফ ইবনে মালেক আশজায়ী স্বপ্ন দেখলেন যে, হযরত উমর রাযি.-কে শহীদ করে দেওয়া হয়েছে। তিনি এ স্বপ্নের কথা হযরত উমরকে বললেন। হযরত উমর তখন খুব আক্ষেপের সাথে বললেন:
أَنَّى لِيْ بِالشَّهَادَةِ وَأَنَا بَيْنَ ظَهْرَانَيْ جَزِيْرَةِ الْعَرَبِ لَسْتُ أَغْزُوْ وَالنَّاسُ حَوْلِيْ
অর্থাৎ আমি শাহাদাত কিভাবে লাভ করবো, অথচ আমি জাযীরাতুল আরবে অবস্থান করছি (আর এসব দারুল ইসলাম হয়ে গিয়েছে।) আমি নিজে জেহাদ করি না আর সবসময়ই আমার আশপাশে লোকজন থাকে। তারপর নিজেই বললেন, بَلَى يَاْتِىْ بِهَا اللهُ اِنْ شَاءَ অর্থাৎ, আমার শাহাদত কেন নছীব হবে না? আল্লাহ্ যদি চান, তাহলে এসব অবস্থার মধ্যেও তিনি আমাকে শাহাদতের সৌভাগ্য দান করবেন। তারপর তিনি আল্লাহ্ তা'আলার কাছে ঐ দু‘আটি করলেন- যা উপরে লিখে আসা হয়েছে:
أَنَّى لِيْ بِالشَّهَادَةِ وَأَنَا بَيْنَ ظَهْرَانَيْ جَزِيْرَةِ الْعَرَبِ لَسْتُ أَغْزُوْ وَالنَّاسُ حَوْلِيْ
হযরত উমরের মুখে একথা শুনে তাঁর কন্যা হযরত হাফছা বললেন, এটা কিভাবে হতে পারে যে, আপনি আল্লাহর পথে শহীদও হবেন, আবার আপনার মৃত্যুও মদীনায় হবে। তিনি উত্তর দিলেন: আল্লাহর ইচ্ছা হলে এ দু'টিই আমার ভাগ্যে জুটবে।
এ ধারার রেওয়ায়তগুলোতে এ কথাও এসেছে যে, হযরত উমর রাযি.-এর এ আশ্চর্য বরং বাহ্যত অসম্ভব দু‘আর কারণে মানুষ আশ্চর্যবোধ করত এবং কারো বুঝেই আসত না যে, দুটি বিষয়ই কেমন করে সম্ভব হতে পারে। কিন্তু যখন আবু লু'লু মজুসী মসজিদে নববীর মেহরাবে তাঁকে আহত করে ফেলল, তখন সবাই বুঝতে পারল যে, দু‘আটি এভাবে কবুল হওয়ার ছিল।
নিঃসন্দেহে আল্লাহ তা'আলা যখন ইচ্ছা করেন, তখন ঐ জিনিস সংঘটিত করে দেখান, যার সম্ভাবনার ব্যাপারেও মানুষের জ্ঞান সন্দেহ করে। اِنَّ اللّٰہَ عَلٰی کُلِّ شَیۡءٍ قَدِیۡرٌ
২. রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর এ কথার মর্ম বাহ্যত এই যে, আল্লাহর পথে শাহাদত লাভের ফযীলত ও মাহাত্ম্য অবশ্যই স্বীকৃত এবং বিছানায় পড়ে মরা ও জেহাদের ময়দানে আল্লাহর জন্য জীবন উৎসর্গ করা সমান নয়; কিন্তু মদীনায় মৃত্যুবরণ করা ও এখানে করবস্থ হওয়াও বিরাট সৌভাগ্যের বিষয়। আমি নিজেও এর আকাঙ্ক্ষা করি।
ইমাম বুখারী (রহঃ) নিজ কিতাব বুখারী শরীফের কিতাবুল হজ্বের একেবারে শেষে মদীনা শরীফের ফযীলত সম্পর্কীয় হাদীসসমূহ উল্লেখ করার পর এর সমাপ্তি টেনেছেন আমীরুল মু'মিনীন হযরত উমর রাযি.-এর এ প্রসিদ্ধ দু‘আর উপরঃ
اللَّهُمَّ ارْزُقْنِي شَهَادَةً فِي سَبِيلِكَ، وَاجْعَلْ مَوْتِي فِي بَلَدِ رَسُولِكَ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ،
অর্থাৎ হে আল্লাহ! আমাকে তোমার পথে শহীদ হওয়ার মর্যাদাও দান কর এবং তোমার রাসূলের শহর মদীনায় আমার মৃত্যু নছীব কর।
এ দু‘আর ঘটনা ইবনে সা'দ বিশুদ্ধ সনদে এ বর্ণনা করেছেন যে, আউফ ইবনে মালেক আশজায়ী স্বপ্ন দেখলেন যে, হযরত উমর রাযি.-কে শহীদ করে দেওয়া হয়েছে। তিনি এ স্বপ্নের কথা হযরত উমরকে বললেন। হযরত উমর তখন খুব আক্ষেপের সাথে বললেন:
أَنَّى لِيْ بِالشَّهَادَةِ وَأَنَا بَيْنَ ظَهْرَانَيْ جَزِيْرَةِ الْعَرَبِ لَسْتُ أَغْزُوْ وَالنَّاسُ حَوْلِيْ
অর্থাৎ আমি শাহাদাত কিভাবে লাভ করবো, অথচ আমি জাযীরাতুল আরবে অবস্থান করছি (আর এসব দারুল ইসলাম হয়ে গিয়েছে।) আমি নিজে জেহাদ করি না আর সবসময়ই আমার আশপাশে লোকজন থাকে। তারপর নিজেই বললেন, بَلَى يَاْتِىْ بِهَا اللهُ اِنْ شَاءَ অর্থাৎ, আমার শাহাদত কেন নছীব হবে না? আল্লাহ্ যদি চান, তাহলে এসব অবস্থার মধ্যেও তিনি আমাকে শাহাদতের সৌভাগ্য দান করবেন। তারপর তিনি আল্লাহ্ তা'আলার কাছে ঐ দু‘আটি করলেন- যা উপরে লিখে আসা হয়েছে:
أَنَّى لِيْ بِالشَّهَادَةِ وَأَنَا بَيْنَ ظَهْرَانَيْ جَزِيْرَةِ الْعَرَبِ لَسْتُ أَغْزُوْ وَالنَّاسُ حَوْلِيْ
হযরত উমরের মুখে একথা শুনে তাঁর কন্যা হযরত হাফছা বললেন, এটা কিভাবে হতে পারে যে, আপনি আল্লাহর পথে শহীদও হবেন, আবার আপনার মৃত্যুও মদীনায় হবে। তিনি উত্তর দিলেন: আল্লাহর ইচ্ছা হলে এ দু'টিই আমার ভাগ্যে জুটবে।
এ ধারার রেওয়ায়তগুলোতে এ কথাও এসেছে যে, হযরত উমর রাযি.-এর এ আশ্চর্য বরং বাহ্যত অসম্ভব দু‘আর কারণে মানুষ আশ্চর্যবোধ করত এবং কারো বুঝেই আসত না যে, দুটি বিষয়ই কেমন করে সম্ভব হতে পারে। কিন্তু যখন আবু লু'লু মজুসী মসজিদে নববীর মেহরাবে তাঁকে আহত করে ফেলল, তখন সবাই বুঝতে পারল যে, দু‘আটি এভাবে কবুল হওয়ার ছিল।
নিঃসন্দেহে আল্লাহ তা'আলা যখন ইচ্ছা করেন, তখন ঐ জিনিস সংঘটিত করে দেখান, যার সম্ভাবনার ব্যাপারেও মানুষের জ্ঞান সন্দেহ করে। اِنَّ اللّٰہَ عَلٰی کُلِّ شَیۡءٍ قَدِیۡرٌ
২. ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)