মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত শরীফ)

১১- হজ্জ্বের অধ্যায়

হাদীস নং: ২৭২৮
১৫. প্রথম অনুচ্ছেদ - মদীনার হারামকে আল্লাহ তাআলা কর্তৃক সংরক্ষণ প্রসঙ্গে
২৭২৮। হযরত আলী রাযিয়াল্লাহু আনহু বলেন, কোরআন এবং এই কাগজে যাহা আছে তাহা ব্যতীত আমি রাসূলুল্লাহ্ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট হইতে আর কিছু লিখিয়া লই নাই—তিনি বলেন, ইহাতে আছে—রাসূলুল্লাহ্ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিয়াছেন: মদীনা হারাম (সম্মানাই) আইর হইতে সওর পর্যন্ত। যে উহাতে কোন অসৎ প্রথা (বেদআত) সৃষ্টি করিবে অথবা অসৎ প্রথা সৃষ্টিকারীকে আশ্রয় দিবে, তাহার উপর আল্লাহ্ ও ফিরিশতাগণ এবং মানুষ সকলেরই অভিসম্পাত। তাহার ফরয বা নফল কিছুই কবুল করা হইবে না। সকল মুসলমানের প্রতিশ্রুতি এক–তাহাদের ক্ষুদ্র ব্যক্তিও উহার চেষ্টা করিতে পারে,—
অতএব, যে ব্যক্তি কোন মুসলমানের প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করিয়াছে তাহার উপর আল্লাহ্ ও ফিরিশতাগণ এবং মানুষ সকলেরই লা'নত—তাহার ফরয বা নফল কোনটাই গ্রহণ করা হইবে না। আর যে ব্যক্তি নিজের মালিকদের অনুমতি ব্যতীত অন্য সম্প্রদায়ের সহিত বন্ধুত্ব স্থাপন করিবে, তাহার উপর আল্লাহ্ ও ফিরিশতাগণ এবং মানুষ সকলেরই লা'নত—তাহার ফরয বা নফল কোনটাই গ্রহণ করা হইবে না। – মোত্তাঃ

তাহাদের অপর বর্ণনায় আছে—যে নিজের পিতা ছাড়া অন্যকে পিতা বলিয়া স্বীকার করিয়াছে অথবা যে ক্রীতদাস নিজের মনিব ছাড়া অপরকে মনিব বলিয়া গ্রহণ করিয়াছে, তাহার উপর আল্লাহর, ফিরিশতাগণের ও মানুষ সকলের লা'নত—তাহার ফরয বা নফল কিছুই গ্রহণ করা হইবে না।
بَابُ حَرَمِ الْمَدِيْنَةِ حَرَسَهَا اللّٰهُ تَعَالٰى: الْفَصْلُ الأول
عَنْ عَلِيٍّ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ: مَا كَتَبْنَا عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِلَّا الْقُرْآنَ وَمَا فِي هَذِهِ الصَّحِيفَةِ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسلم: «الْمَدِينَةُ حَرَامٌ مَا بَيْنَ عَيْرٍ إِلَى ثَوْرٍ فمنْ أحدَثَ فِيهَا حَدَثًا أَوْ آوَى مُحْدِثًا فَعَلَيْهِ لَعْنَةُ اللَّهِ وَالْمَلَائِكَةِ وَالنَّاسِ أَجْمَعِينَ لَا يُقْبَلُ مِنْهُ صَرْفٌ وَلَا عَدْلٌ ذمَّةُ المسلمينَ واحدةٌ يَسْعَى بِهَا أَدْنَاهُمْ فَمَنْ أَخْفَرَ مُسْلِمًا فَعَلَيْهِ لَعْنَةُ اللَّهِ وَالْمَلَائِكَةِ وَالنَّاسِ أَجْمَعِينَ لَا يُقْبَلُ مِنْهُ صَرْفٌ وَلَا عَدْلٌ وَمَنْ وَالَى قَوْمًا بِغَيْرِ إِذْنِ مَوَالِيهِ فَعَلَيْهِ لَعْنَةُ اللَّهِ وَالْمَلَائِكَةِ وَالنَّاسِ أَجْمَعِينَ لَا يُقْبَلُ مِنْهُ صَرْفٌ وَلَا عدل»

وَفِي رِوَايَةٍ لَهُمَا: «مَنِ ادَّعَى إِلَى غَيْرِ أَبِيهِ أَوْ تَوَلَّى غَيْرَ مَوَالِيهِ فَعَلَيْهِ لَعْنَةُ اللَّهِ وَالْمَلَائِكَةِ وَالنَّاسِ أَجْمَعِينَ لَا يُقْبَلُ مِنْهُ صرف وَلَا عدل»

হাদীসের ব্যাখ্যা:

মদীনার হেরেমে হারাম হওয়া

মদীনার হেরেম অর্থে কি বুঝান হইয়াছে এ সম্পর্কে ইমামগণের মধ্যে মতভেদ দেখা যায়। ইমাম মালেক, শাফেয়ী ও ইমাম আহমদের মতে মদীনার হেরেম অর্থে তাহাই বুঝান হইয়াছে যাহা মক্কার হেরেম অর্থে বুঝান হইয়াছে। উহাতে যেমন যুদ্ধ করা, গাছ কাটা ও শিকার করা প্রভৃতি নিষিদ্ধ, ইহাতেও সেই সকল তদ্রূপ নিষিদ্ধ। ইমাম আ'যমের মতে মক্কার ন্যায় মদীনাও সম্মানার্হ, তবে উহার গাছ কাটা ও শিকার করা প্রভৃতি নিষিদ্ধ নহে।

(১) 'আইর'—মদীনার একদিকের একটি পর্বতবিশেষ। 'সত্তর'—ইহা মক্কার সত্তর পর্বত ব্যতীত মদীনার ওহুদ পর্বতের নিকট একটি ছোট পর্বত। (মেরকাত) (২) 'মুসলমানদের প্রতিশ্রুতি এক'—সুতরাং তাহাদের যে কেহ প্রতিশ্রুতি দান করিলেই সকলের পক্ষে উহা পালনীয় হইয়া যায়। পূর্ব যমানার মুসলমানরা ইহা অক্ষরে অক্ষরে পালন করিয়াছেন। এ যমানার মুসলমানদের এ ব্যাপারে সতর্ক হওয়া উচিত। (৩) জাহেলিয়াত যুগে আরবের এক গোত্র অন্য গোত্রের সাথে ভাল মন্দে বন্ধুত্ব স্থাপন করিত, কিন্তু ইসলাম মন্দ বন্ধুত্বকে রহিত করিয়া দিয়াছে। হুযূর (ﷺ) মদীনায় পৌঁছিয়া কোন কোন গোত্রের সাথে এইরূপ বন্ধুত্ব করিয়াছিলেন। ইহা পালনীয়।
tahqiqতাহকীক:তাহকীক চলমান
মিশকাতুল মাসাবীহ - হাদীস নং ২৭২৮ | মুসলিম বাংলা