মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত শরীফ)
১১- হজ্জ্বের অধ্যায়
হাদীস নং: ২৬৫০
- হজ্জ্বের অধ্যায়
৮. প্রথম অনুচ্ছেদ - মাথার চুল মুণ্ডন করার প্রসঙ্গে
২৬৫০। হযরত আনাস (রাঃ) হইতে বর্ণিত আছে যে, নবী করীম ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মিনায় পৌঁছিয়া প্রথমে জামরাতে গেলেন এবং উহাতে কাঁকর মারিলেন, অতঃপর মিনায় অবস্থিত তাঁহার ডেরায় গেলেন এবং কোরবানীর পশুসমূহ যবেহ করিলেন, তৎপর নাপিত ডাকাইলেন এবং তাহাকে আপন মাথার ডান দিক বাড়াইয়া দিলেন। সে উহা মুড়াইল। তিনি আবু তালহা আনসারীকে ডাকাইয়া কেশগুচ্ছ দিলেন। অতঃপর নাপিতকে মাথার বাম দিক বাড়াইয়া দিয়া বলিলেন, মুড়াও সে মুড়াইল, আর তিনি উহা সেই আবু তালহাকে দিয়া বলিলেন যাও, মানুষের মধ্যে বণ্টন করিয়া দাও ! মোত্তাঃ
كتاب المناسك
وَعَنْ أَنَسٍ: أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَتَى مِنًى فَأَتَى الْجَمْرَةَ فَرَمَاهَا ثُمَّ أَتَى مَنْزِلَهُ بِمِنًى وَنَحَرَ نُسُكَهُ ثُمَّ دَعَا بِالْحَلَّاقِ وَنَاوَلَ الْحَالِقَ شِقَّهُ الْأَيْمَنَ ثُمَّ دَعَا أَبَا طَلْحَةَ الْأَنْصَارِيَّ فَأَعْطَاهُ إِيَّاهُ ثُمَّ نَاوَلَ الشِّقَّ الْأَيْسَرَ فَقَالَ «احْلِقْ» فَحَلَقَهُ فَأعْطَاهُ طَلْحَةَ فَقَالَ: «اقْسِمْهُ بَيْنَ النَّاسِ»
হাদীসের ব্যাখ্যা:
১. ইহাতে বুঝা গেল যে, (১) মাথা মুড়াইতেও ডান দিক হইতে আরম্ভ করা মোস্তাহাব, (২) মানুষের চুল পাক এবং (৩) হুযুরের চুল মোবারক ইত্যাদির তাবাররুক রাখা জায়েয ও বরকতের কারণ।
২. এ হাদীস থেকে এ কথা জানা গেল যে, মাথা মুড়ানোর সঠিক পদ্ধতি এটাই যে, প্রথমে ডান দিকের চুল পরিষ্কার করিয়ে নেওয়া হবে, তারপর বাম দিকের।
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এ ক্ষেত্রে নিজের কেশ মুবারক আবূ তালহা আনসারী রাযি.-কে দিয়েছিলেন। আবু তালহা রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর বিশেষ প্রিয়পাত্র ও তাঁর জন্য প্রাণ উৎসর্গকারীদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন। উহুদের যুদ্ধে হুযূর (ﷺ)কে কাফেরদের আক্রমণ থেকে রক্ষা করার জন্য তিনি শত্রুদের নিক্ষেপিত তীর নিজের শরীর পেতে গ্রহণ করতেন। এতে তার দেহে চালুনির মত অসংখ্য ছিদ্রের সৃষ্টি হয়। এছাড়াও তিনি রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)-এর সেবা ও আরামের প্রতি এবং তাঁর কাছে আগত মেহমান-মুসাফিরদের প্রতি বিশেষ লক্ষ্য রাখতেন। মোটকথা, এ ধরনের সেবাকার্যে তাঁর ও তাঁর স্ত্রী উম্মে সুলাইম (হযরত আনাসের মা)-এর একটা বিশেষ অবস্থান ছিল। সম্ভবত এসব বিশেষ খেদমত ও সেবার কারণে হুযুর (ﷺ) নিজের মাথার কেশ মুবারক তাকে দিয়েছিলেন এবং অন্যদের মাঝেও তার মাধ্যমে বিতরণ করেছিলেন। এ হাদীসটি আল্লাহওয়ালা ও পুণ্যবানদের তাবাররুক গ্রহণ করার বৈধতারও স্পষ্ট ভিত্তি ও দলীল।
অনেক স্থানে যে রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)-এর "কেশ মুবারক" রয়েছে বলে বলা হয়, এগুলোর মধ্য থেকে যেগুলোর বেলায় নির্ভরযোগ্য ঐতিহাসিক তথ্য ও প্রমাণ রয়েছে, প্রবল ধারণা এটাই যে, এগুলো বিদায় হজ্বের সময় বিতরণকৃত ঐসব চুলেরই অংশ হবে। কোন কোন বর্ণনা দ্বারা জানা যায় যে, হযরত আবূ তালহা লোকদেরকে একটি একটি অথবা দু'টি দু'টি করে চুল বিলিয়েছিলেন। এভাবে এ চুলগুলো হাজার হাজার সাহাবায়ে কেরামের কাছে গিয়ে পৌঁছেছিল। আর এ কথাও স্পষ্ট যে, তাদের মধ্য থেকে প্রত্যেকেই এবং তাদের মৃত্যুর পর তাদের পরবর্তী প্রজন্ম এই পবিত্র তাবাররুকের হেফাযত করে থাকবে। এজন্য এগুলোর মধ্য থেকে অনেকগুলোই যদি এ পর্যন্তও কোথাও কোথাও সংরক্ষিত থেকে থাকে, তাহলে এটা কোন বিষ্ময়কর ব্যাপার নয়। কিন্তু নির্ভরযোগ্য ঐতিহাসিক প্রমাণ ও সনদ ছাড়া কোন চুলকে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর "কেশ মুবারক" সাব্যস্ত করা খুবই মারাত্মক কথা ও বিরাট গুনাহ্। আর সর্বাবস্থায় অর্থাৎ, আসল হোক অথবা কৃত্রিম- এটাকে এবং এর প্রদর্শনীকে ব্যবসার মাধ্যম বানিয়ে নেওয়া- যেমন, অনেক স্থানে হয়ে থাকে- জঘন্য অপরাধ।
২. এ হাদীস থেকে এ কথা জানা গেল যে, মাথা মুড়ানোর সঠিক পদ্ধতি এটাই যে, প্রথমে ডান দিকের চুল পরিষ্কার করিয়ে নেওয়া হবে, তারপর বাম দিকের।
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এ ক্ষেত্রে নিজের কেশ মুবারক আবূ তালহা আনসারী রাযি.-কে দিয়েছিলেন। আবু তালহা রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর বিশেষ প্রিয়পাত্র ও তাঁর জন্য প্রাণ উৎসর্গকারীদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন। উহুদের যুদ্ধে হুযূর (ﷺ)কে কাফেরদের আক্রমণ থেকে রক্ষা করার জন্য তিনি শত্রুদের নিক্ষেপিত তীর নিজের শরীর পেতে গ্রহণ করতেন। এতে তার দেহে চালুনির মত অসংখ্য ছিদ্রের সৃষ্টি হয়। এছাড়াও তিনি রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)-এর সেবা ও আরামের প্রতি এবং তাঁর কাছে আগত মেহমান-মুসাফিরদের প্রতি বিশেষ লক্ষ্য রাখতেন। মোটকথা, এ ধরনের সেবাকার্যে তাঁর ও তাঁর স্ত্রী উম্মে সুলাইম (হযরত আনাসের মা)-এর একটা বিশেষ অবস্থান ছিল। সম্ভবত এসব বিশেষ খেদমত ও সেবার কারণে হুযুর (ﷺ) নিজের মাথার কেশ মুবারক তাকে দিয়েছিলেন এবং অন্যদের মাঝেও তার মাধ্যমে বিতরণ করেছিলেন। এ হাদীসটি আল্লাহওয়ালা ও পুণ্যবানদের তাবাররুক গ্রহণ করার বৈধতারও স্পষ্ট ভিত্তি ও দলীল।
অনেক স্থানে যে রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)-এর "কেশ মুবারক" রয়েছে বলে বলা হয়, এগুলোর মধ্য থেকে যেগুলোর বেলায় নির্ভরযোগ্য ঐতিহাসিক তথ্য ও প্রমাণ রয়েছে, প্রবল ধারণা এটাই যে, এগুলো বিদায় হজ্বের সময় বিতরণকৃত ঐসব চুলেরই অংশ হবে। কোন কোন বর্ণনা দ্বারা জানা যায় যে, হযরত আবূ তালহা লোকদেরকে একটি একটি অথবা দু'টি দু'টি করে চুল বিলিয়েছিলেন। এভাবে এ চুলগুলো হাজার হাজার সাহাবায়ে কেরামের কাছে গিয়ে পৌঁছেছিল। আর এ কথাও স্পষ্ট যে, তাদের মধ্য থেকে প্রত্যেকেই এবং তাদের মৃত্যুর পর তাদের পরবর্তী প্রজন্ম এই পবিত্র তাবাররুকের হেফাযত করে থাকবে। এজন্য এগুলোর মধ্য থেকে অনেকগুলোই যদি এ পর্যন্তও কোথাও কোথাও সংরক্ষিত থেকে থাকে, তাহলে এটা কোন বিষ্ময়কর ব্যাপার নয়। কিন্তু নির্ভরযোগ্য ঐতিহাসিক প্রমাণ ও সনদ ছাড়া কোন চুলকে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর "কেশ মুবারক" সাব্যস্ত করা খুবই মারাত্মক কথা ও বিরাট গুনাহ্। আর সর্বাবস্থায় অর্থাৎ, আসল হোক অথবা কৃত্রিম- এটাকে এবং এর প্রদর্শনীকে ব্যবসার মাধ্যম বানিয়ে নেওয়া- যেমন, অনেক স্থানে হয়ে থাকে- জঘন্য অপরাধ।
২. ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)