মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত শরীফ)

১০- যাবতীয় দোয়া-যিক্‌র

হাদীস নং: ২৪৮৭
- যাবতীয় দোয়া-যিক্‌র
৭. প্রথম অনুচ্ছেদ - মৌলিক দুআসমূহ
২৪৮৭। হযরত আনাস (রাঃ) বলেন, নবী করীম ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অধিকাংশ সময়ের দোআ ছিল, “আল্লাহ্। আমাদিগকে দুনিয়াতে ভালাই দান কর এবং আখেরাতে ভালাই, আর বাচাইয়া রাখ আমাদিগকে দোযখের আযাব হইতে।" - (কোরআন) মোত্তাঃ
كتاب الدعوات
بَابُ جَامِعِ الدُّعَاءِ
وَعَن أنسٍ قَالَ: كَانَ أَكْثَرُ دُعَاءِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ «اللَّهُمَّ آتِنَا فِي الدُّنْيَا حَسَنَةً وَفِي الْآخِرَةِ حَسَنَةً وقنا عَذَاب النَّار»

হাদীসের ব্যাখ্যা:

সুবহানাল্লাহ্! কী সংক্ষিপ্ত অথচ কত ব্যাপক দু'আ! এতে আল্লাহ তা'আলার নিকট ইহলৌকিক জগতে এবং পারলৌকিক জগতের অফুরন্ত জীবনেও কল্যাণের প্রার্থনা করা হয়েছে। বলা বাহুল্য, এতে ইহলৌকিক ও পরলৌকিক লোভনীয় ও কাম্যবস্তুর প্রার্থনা এবং সর্বশেষে দোযখ থেকে রক্ষার দু'আও এসে গেছে। মোদ্দা কথা, দুনিয়া ও আখিরাতে একজন বান্দার যা কিছুর প্রয়োজন রয়েছে তার সবকিছুই এ সংক্ষিপ্ত দু'আয় প্রার্থনা করা হয়েছে। এ দু'আর আরেকটি বৈশিষ্ট্য হচ্ছে এই যে, এটা আসলে কুরআন মজীদেরই দু'আ; তবে সামান্য একটি পার্থক্য হলো এর শুরু হয়েছে اَللّٰهُمَّ দিয়ে, আর কুরআন শরীফে সূচনার শব্দটি হচ্ছে رَبَّنَا তবে উভয় শব্দের মর্ম একই।

হযরত আনাস (রা) বর্ণিত এ হাদীসের দ্বারা জানা গেল, রাসূলুল্লাহ ﷺ প্রায়ই এ দু'আটি করতেন। আল্লাহ তা'আলা আমাদের উম্মতীদেরকেও রাসূলুল্লাহ ﷺ জীবনের এ বহুল প্রার্থিত দু'আটি বহুলভাবে করে তাঁর অনুসরণ-অনুকরণ করার তাওফীক দান করুন।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)
tahqiqতাহকীক:তাহকীক চলমান