মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত শরীফ)
১০- যাবতীয় দোয়া-যিক্র
হাদীস নং: ২৩১১
- যাবতীয় দোয়া-যিক্র
১. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - তাসবীহ (সুবহা-নাল্ল-হ), তাহমীদ (আল হাম্দুলিল্লা-হ), তাহলীল (লা- ইলা-হা ইল্লাল্ল-হ) ও তাকবীর (আল্ল-হু আকবার)- বলার সাওয়াব
২৩১১। হযরত সা'দ ইবনে আবু ওয়াককাস (রাঃ) হইতে বর্ণিত আছে, তিনি একদা নবী করীম (ﷺ)-এর সাথে একটি স্ত্রীলোকের নিকট পৌঁছিলেন। তখন স্ত্রীলোকটির সম্মুখে কতক খেজুর বিচি অথবা বলিয়াছেন কাঁকর ছিল, যাহার দ্বারা সে তসবীহ গুণিতেছিল। হুযুর বলিলেন, আমি কি তোমাকে বাতলাইব না যাহা ইহা অপেক্ষা তোমার পক্ষে সহজ অথবা বলিয়াছেন উত্তম? তাহা হইতেছে এইরূপ বলা, 'সুবহানাল্লাহ্' অর্থাৎ, আল্লাহর পবিত্রতা—যে পরিমাণ তিনি আসমানে মখলুক সৃষ্টি করিয়াছেন, 'সুবহানাল্লাহ্'—যে পরিমাণ তিনি যমীনে মখলুক সৃষ্টি করিয়াছেন, 'সুবহানাল্লাহ্' – যে পরিমাণ উহাদের মধ্যখানে রহিয়াছে এবং 'সুবহানাল্লাহ্’–যে পরিমাণ তিনি ভবিষ্যতে সৃষ্টি করিবেন সে পরিমাণ। আল্লাহু আকবর' —উহার অনুরূপ, আলহামদু লিল্লাহ্’– উহার অনুরূপ, 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ্’—উহার অনুরূপ এবং 'লা হাওলা ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ্'ও উহার অনুরূপ। —তিরমিযী ও আবু দাউদ। তিরমিযী বলেন, হাদীসটি গরীব।
كتاب الدعوات
وَعَنْ سَعْدِ بْنِ أَبِي وَقَّاصٍ أَنَّهُ دَخَلَ مَعَ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَلَى امْرَأَةٍ وَبَيْنَ يَدَيْهَا نَوًى أَوْ حَصًى تُسَبِّحُ بِهِ فَقَالَ: «أَلَا أُخْبِرُكَ بِمَا هُوَ أَيْسَرُ عليكِ مِنْ هَذَا أَوْ أَفْضَلُ؟ سُبْحَانَ اللَّهِ عَدَدَ مَا خَلَقَ فِي السَّمَاءِ وَسُبْحَانَ اللَّهِ عَدَدَ مَا خَلَقَ فِي الْأَرْضِ وَسُبْحَانَ اللَّهِ عَدَدَ مَا بَيْنَ ذَلِكَ وَسُبْحَانَ اللَّهِ عَدَدَ مَا هُوَ خَالِقٌ وَاللَّهُ أَكْبَرُ مِثْلَ ذَلِكَ وَالْحَمْدُ لِلَّهِ مِثْلَ ذَلِكَ وَلَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ مِثْلَ ذَلِكَ وَلَا حَوْلَ وَلَا قُوَّةَ إِلَّا بِاللَّهِ مِثْلَ ذَلِكَ» . رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ وَأَبُو دَاوُدَ وَقَالَ التِّرْمِذِيُّ: هَذَا حَدِيث غَرِيب
হাদীসের ব্যাখ্যা:
১. 'উহার অনুরূপ'—অর্থাৎ, পরবর্তীগুলিতেও পূর্বটির ন্যায় 'যে পরিমাণ, যে পরিমাণ' করিয়া বলিবে। ইহা তোমার হাযার হাযার লাখ লাখ গুণিয়া পড়ার সমান হইবে। দানা বা তসবীহতে গুণিয়া কত পড়িবে?
২. এ হাদীসের দ্বারা জানা গেল যে, অধিক যিকির এর দ্বারা যেমন অধিক ছওয়াব হাসিল করা যায়, তেমনি তার একটি সহজ তরীকা বা পন্থা হলো তার সাথে এমন শব্দসমূহ জুড়ে দেয়া, যার দ্বারা সংখ্যার আধিক্য বুঝায়। যেমনটা উপরোক্ত হাদীসে রাসূল ﷺ শিক্ষা দিয়েছেন।
এখানে একথা লক্ষ্যণীয় যে, কোন কোন হাদীসে স্বয়ং নবী করীম ﷺ বহুলভাবে যিকির করার প্রতি উৎসাহ দিয়েছেন। এজন্যে হযরত সা'দ ইব্ন আবূ ওক্কাসের বর্ণিত এ হাদীস দ্বারা যিকিরের আধিক্যের ব্যাপারে তা নিষিদ্ধ হওয়া বা অপসন্দনীয় হওয়া বুঝে নেওয়া মোটেই ঠিক হবে না। উক্ত হাদীসের মর্ম হচ্ছে, যিকিরের দ্বারা অধিক ছওয়াব লাভের একটি সহজতর তরীকা হচ্ছে এটাও, বিশেষত যারা অধিক ব্যস্ততার কারণে আল্লাহর যিকিরের জন্যে বেশি সময় ব্যয় করতে পারেন না, তারা এ পদ্ধতিতেও অনেক ছওয়াব হাসিল করে নিতে পারেন।
হযরত শাহ্ ওলী উল্লাহ মুহাদ্দিসে দেহলভী (র) এ ব্যাপারে বলেন, যে ব্যক্তি তাঁর বাতিনকে এবং তার জীবনকে যিকিরের রঙে অনুরঞ্জিত করতে আগ্রহী, বহুল পরিমাণে যিকির করা তার জন্যে অপরিহার্য। আর যিকির এর দ্বারা কেবল পারলৌকিক ছওয়াব হাসিল করাই যার উদ্দিষ্ট, তার উচিত এমন সব কালিমা যিকিরের জন্যে বেছে নেয়া, যা অর্থগত দিক থেকে উন্নততর ও প্রশস্ততর যেমনটি উপরোক্ত হাদীসে বর্ণিত হয়েছে।
হযরত সা'দ ইব্ন আবূ ওক্কাসের বর্ণিত হাদীসের দ্বারা একথাও জানা গেল যে, নবী করীম ﷺ-এর যুগে তসবীহ ব্যবহারের রেওয়াজ ছিল না ঠিক, তবে এ উদ্দেশ্যে কেউ কেউ খেজুর বীচি বা পাথর কণা ইত্যাদি ব্যবহার করেছেন। রাসূলুল্লাহ ﷺ তাঁদেরকে তা করতে বারণ করেননি। বলাবাহুল্য, তাসবীহ এবং এ পন্থার মধ্যে কোনই প্রভেদ নেই। বরং তাসবীহ তারই উন্নততর সংস্করণ। যারা তাসবীহকে বেদ'আত বলে অভিহিত করেছেন, তাঁরা আসলে অহেতুক বাড়াবাড়ি করেছেন।
২. এ হাদীসের দ্বারা জানা গেল যে, অধিক যিকির এর দ্বারা যেমন অধিক ছওয়াব হাসিল করা যায়, তেমনি তার একটি সহজ তরীকা বা পন্থা হলো তার সাথে এমন শব্দসমূহ জুড়ে দেয়া, যার দ্বারা সংখ্যার আধিক্য বুঝায়। যেমনটা উপরোক্ত হাদীসে রাসূল ﷺ শিক্ষা দিয়েছেন।
এখানে একথা লক্ষ্যণীয় যে, কোন কোন হাদীসে স্বয়ং নবী করীম ﷺ বহুলভাবে যিকির করার প্রতি উৎসাহ দিয়েছেন। এজন্যে হযরত সা'দ ইব্ন আবূ ওক্কাসের বর্ণিত এ হাদীস দ্বারা যিকিরের আধিক্যের ব্যাপারে তা নিষিদ্ধ হওয়া বা অপসন্দনীয় হওয়া বুঝে নেওয়া মোটেই ঠিক হবে না। উক্ত হাদীসের মর্ম হচ্ছে, যিকিরের দ্বারা অধিক ছওয়াব লাভের একটি সহজতর তরীকা হচ্ছে এটাও, বিশেষত যারা অধিক ব্যস্ততার কারণে আল্লাহর যিকিরের জন্যে বেশি সময় ব্যয় করতে পারেন না, তারা এ পদ্ধতিতেও অনেক ছওয়াব হাসিল করে নিতে পারেন।
হযরত শাহ্ ওলী উল্লাহ মুহাদ্দিসে দেহলভী (র) এ ব্যাপারে বলেন, যে ব্যক্তি তাঁর বাতিনকে এবং তার জীবনকে যিকিরের রঙে অনুরঞ্জিত করতে আগ্রহী, বহুল পরিমাণে যিকির করা তার জন্যে অপরিহার্য। আর যিকির এর দ্বারা কেবল পারলৌকিক ছওয়াব হাসিল করাই যার উদ্দিষ্ট, তার উচিত এমন সব কালিমা যিকিরের জন্যে বেছে নেয়া, যা অর্থগত দিক থেকে উন্নততর ও প্রশস্ততর যেমনটি উপরোক্ত হাদীসে বর্ণিত হয়েছে।
হযরত সা'দ ইব্ন আবূ ওক্কাসের বর্ণিত হাদীসের দ্বারা একথাও জানা গেল যে, নবী করীম ﷺ-এর যুগে তসবীহ ব্যবহারের রেওয়াজ ছিল না ঠিক, তবে এ উদ্দেশ্যে কেউ কেউ খেজুর বীচি বা পাথর কণা ইত্যাদি ব্যবহার করেছেন। রাসূলুল্লাহ ﷺ তাঁদেরকে তা করতে বারণ করেননি। বলাবাহুল্য, তাসবীহ এবং এ পন্থার মধ্যে কোনই প্রভেদ নেই। বরং তাসবীহ তারই উন্নততর সংস্করণ। যারা তাসবীহকে বেদ'আত বলে অভিহিত করেছেন, তাঁরা আসলে অহেতুক বাড়াবাড়ি করেছেন।
২. ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)