মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত শরীফ)

৮- রোযার অধ্যায়

হাদীস নং: ২০৩৬
- রোযার অধ্যায়
৬. প্রথম অনুচ্ছেদ - নফল সিয়াম প্রসঙ্গে
২০৩৬। হযরত আয়েশা (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ্ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রোযা রাখিতে থাকিতেন যাহাতে আমরা বলিতাম যে, তিনি আর রোযা ছাড়িবেন না। এভাবে তিনি রোযা ছাড়িতে আরম্ভ করিতেন, যাহাতে আমরা বলিতাম যে, তিনি বুঝি আর (এ মাসে) রোযা রাখিবেন না। আমি রাসূলুল্লাহ্ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে কখনও রমযান ছাড়া পূর্ণ মাস রোযা রাখিতে দেখি নাই এবং এই শা'বান অপেক্ষা কোন মাসে অধিক রোযা রাখিতেও দেখি নাই।

অপর এক রেওয়ায়তে আছে, হযরত আয়েশা (রাঃ) বলেন, হুযূর পূর্ণ শা'বান মাসেই রোযা রাখিতেন (অর্থাৎ) কয়েক দিন ব্যতীত পূর্ণ শা'বান রোযা রাখিতেন। -মোত্তাঃ
كتاب الصوم
بَابُ صِيَامِ التَّطَوُّعِ
عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ: كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَصُومُ حَتَّى نَقُولَ: لَا يُفْطِرُ وَيُفْطِرُ حَتَّى نَقُولَ: لَا يَصُومُ وَمَا رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ اسْتكْمل صِيَام شهر قطّ إِلَّا رَمَضَانَ وَمَا رَأَيْتُهُ فِي شَهْرٍ أَكْثَرَ مِنْهُ صِيَامًا فِي شَعْبَانَ

وَفِي رِوَايَةٍ قَالَتْ: كَانَ يَصُوم شعْبَان كُله وَكن يَصُوم شعْبَان إِلَّا قَلِيلا

হাদীসের ব্যাখ্যা:

হাদীসের প্রথম অংশটির মর্ম তো এই যে, নফল রোযার ব্যাপারে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর ধরাবাঁধা কোন নিয়ম ছিল না; বরং তিনি কখনো একাধারে বিরতিহীনভাবে রোযা রাখতেন, আর কখনো একাধারে রোযা ছাড়া থাকতেন। উদ্দেশ্য এই ছিল যে, তাঁর অনুসরণ করতে গিয়ে উম্মতের যেন কোন সমস্যা না হয়; বরং প্রশস্ততার পথ খোলা থাকে এবং প্রত্যেকটি মানুষ তার অবস্থা ও সাহস অনুযায়ী তাঁর যে কোন রীতি অবলম্বন করতে পারে। দ্বিতীয় অংশটির অর্থ এই যে, হুযুর (ﷺ) পূর্ণ যত্ন সহকারে পূর্ণ মাসের রোযা কেবল রমযানেই রাখতেন- যা আল্লাহ ফরয করে দিয়েছেন। হ্যাঁ, শা'বান মাসে তিনি অন্যান্য মাসের তুলনায় বেশী রোযা রাখতেন। এমনকি এ হাদীসেরই এক বর্ণনা মতে- তিনি প্রায় পুরা শা'বান মাসই রোযা রাখতেন এবং খুব কম দিনই রোযা বাদ দিতেন।

শা'বান মাসে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর অধিক পরিমাণে নফল রোযা রাখার কয়েকটি কারণ ও রহস্য বর্ণনা করা হয়েছে। এগুলোর মধ্যে কোন কোন কারণ এমনও রয়েছে, যেগুলোর প্রতি কোন কোন হাদীসেও ইঙ্গিত রয়েছে। যেমন, হযরত উমামা ইবনে যায়েদ রাযি.-এর এক হাদীসে রয়েছে যে, স্বয়ং রাসূলুল্লাহ (ﷺ)কে এ ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি উত্তরে বলেছিলেন: এ মাসেই বান্দাদের আমলসমূহ আল্লাহর দরবারে পেশ করা হয়। তাই আমি এটা পছন্দ করি যে, আমার আমল যখন পেশ করা হয়, তখন যেন আমি রোযা অবস্থায় থাকি।
অন্য দিকে হযরত আয়েশা রাযি. বর্ণিত এক হাদীসে বলা হয়েছে যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) শা'বান মাসে এ জন্য বেশী বেশী নফল রোযা রাখতেন যে, সারা বছরে যারা মারা যাবে তাদের তালিকাটি এ মাসেই মালাকুল মওতের কাছে হস্তান্তর করা হয়। তাই তিনি চাইতেন যে, তাঁর ওফাতের ব্যাপারে যখন মালাকুল মওতকে নির্দেশ দেওয়া হবে, তখন যেন তিনি রোযা অবস্থায় থাকেন।

তাছাড়া রমযানের আগমন এবং এর বিশেষ নূর ও বরকতের সাথে অধিক সম্পর্ক সৃষ্টির আবেগ ও উৎসাহও এর কারণ হতে পারে এবং এগুলো রমযানের রোযার ভূমিকা ও পূর্বপ্রস্তুতি হিসাবে গণ্য হতে পারে। এ হিসাবে শা'বানের এ রোযাগুলোর সম্পর্ক রমযানের রোযার সাথে তাই হবে, যে সম্পর্ক থাকে ফরযের পূর্বে পঠিত নফল নামাযসমূহের মূল ফরযের সাথে। অনুরূপভাবে রমযানের পর শাওয়ালের ছয়টি নফল রোযার প্রতি যে উৎসাহ প্রদান করা হয়েছে-যা সামনের হাদীসে আসছে- এগুলোর সম্পর্কও রমযানের রোযার সাথে তাই হবে, যা ফরযের পরে পঠিত সুন্নত ও নফল নামাযসমূহের হয়ে থাকে।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)
tahqiqতাহকীক:তাহকীক চলমান