মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত শরীফ)

৭- যাকাতের অধ্যায়

হাদীস নং: ১৮৫০
- যাকাতের অধ্যায়
৪. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - যার জন্য কিছু চাওয়া হালাল নয় এবং যার জন্য হালাল
১৮৫০। হযরত হুবশী ইবনে জুনাদা (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলিয়াছেনঃ সওয়াল হালাল নহে অভাবহীন গনী ব্যক্তির জন্য, আর না অবিকলাঙ্গ সক্ষম পুরুষের জন্য। দুই ব্যক্তি ব্যতীতঃ (১) সর্বনাশা অভাবে পতিত ব্যক্তি ও (২) অপমানকর দেনায় আব্দ্ধ লোক। যে ব্যক্তি মাল বৃদ্ধি করার উদ্দেশ্যে মানুষের নিকট সওয়াল করিবে কিয়ামতের দিন সওয়াল তাহার মুখমণ্ডলে ক্ষতস্বরূপ হইবে এবং মাল দোযখের উত্তপ্ত প্রস্তর খণ্ডরূপ হইবে যাহা সে খাইতে থাকিবে। (ইহা জানার পর) যে চাহে সওয়াল কম করুক আর যে চাহে বেশী করুক। —তিরমিযী
كتاب الزكاة
وَعَنْ حُبْشِيِّ بْنِ جُنَادَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: إِنَّ الْمَسْأَلَةَ لَا تَحِلُّ لِغَنِيٍّ وَلَا لِذِي مِرَّةٍ سَوِيٍّ إِلَّا لِذِي فَقْرٍ مُدْقِعٍ أَوْ غُرْمٍ مُفْظِعٍ وَمَنْ سَأَلَ النَّاسَ لِيُثْرِيَ بِهِ مَالَهُ: كَانَ خُمُوشًا فِي وَجْهِهِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ وَرَضْفًا يَأْكُلُهُ مِنْ جَهَنَّمَ فَمَنْ شَاءَ فَلْيَقُلْ وَمَنْ شَاءَ فليكثر . رَوَاهُ التِّرْمِذِيّ

হাদীসের ব্যাখ্যা:

এ হাদীসে ধনী দ্বারা ঐ ব্যক্তি উদ্দেশ্য, যে বর্তমানে সাহায্যের মুখাপেক্ষী ও অভাবী নয়, (যদিও সে নেসাবের মালিক ও সম্পদশালী নাও হয়।) এমন ব্যক্তির জন্য এবং ঐ সুস্থ-সবল ব্যক্তির জন্য, যে পরিশ্রম করে নিজের জীবিকা উপার্জন করতে পারে, এ হাদীসে সওয়াল করতে নিষেধ করা হয়েছে। সাধারণ নিয়ম ও মাসআলা এটাই যে, এমন ব্যক্তির জন্য কারো সামনে হাত পাতা উচিত নয়। হ্যাঁ, অভাব ও দারিদ্র্য যদি কাউকে একেবারে ধরাশায়ী করে দিয়ে থাকে আর সওয়াল ছাড়া তার অন্য কোন উপায় না থাকে অথবা কোন অর্থদণ্ড কিংবা কোন ভারী ঋণের বোঝা যদি তার উপর চেপে বসে থাকে এবং অন্যদের নিকট থেকে সাহায্য গ্রহণ ছাড়া এটা আদায় করতে না পারে, তাহলে এসব অবস্থায় তার জন্য সওয়াল করার ও সাহায্য প্রার্থনার অবকাশ রয়েছে।

হাদীসের শেষে বলা হয়েছে, যে ব্যক্তি প্রয়োজন ও অভাবের কারণে বাধ্য হয়ে নয়; বরং নিজের আর্থিক অবস্থা ভাল ও উন্নত করার জন্য অন্যের সামনে ভিক্ষার হাত প্রসারিত করে, তাকে কিয়ামতের দিন এ শাস্তি দেওয়া হবে যে, তার মুখমন্ডলে একটি বিশ্রী ক্ষত থাকবে। তাছাড়া ভিক্ষাবৃত্তির মাধ্যমে সে যা উপার্জন করেছিল সেটাকে জাহান্নামের উত্তপ্ত পাথর বানিয়ে দেওয়া হবে এবং তাকে এটা ভক্ষণ করতে বাধ্য করা হবে।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)
tahqiqতাহকীক:তাহকীক চলমান