মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত শরীফ)
৭- যাকাতের অধ্যায়
হাদীস নং: ১৭৮১
- যাকাতের অধ্যায়
দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ
১৭৮১। হযরত ইবনে আব্বাস (রাঃ) বলেন, যখন এই আয়াত নাযিল হইল, “যাহারা সোনা ও রূপা সংরক্ষণ করে” – ( শেষ পর্যন্ত) মুসলমানদের ইহা ভারী বোধ হইল। ইহা দেখিয়া হযরত ওমর (রাঃ) বলিলেন, আমি আপনাদের এ কষ্ট দূর করিব। অতঃপর তিনি নবী করীম (ﷺ)-এর নিকট গেলেন এবং বলিলেন, হে আল্লাহর নবী! এই আয়াতটি আপনার সহচর গণের ভারী বোধ হইতেছে, (তবে কি আমরা কোন মালই সংরক্ষণ করিতে পারিব না?) হুযূর বলিলেনঃ আল্লাহ্ তা'আলা এ জন্যই যাকাত ফরয করিয়াছেন, যাহাতে তোমাদের অবশিষ্ট মালকে পবিত্র করিয়া লন (অর্থাৎ, যাকাত প্রদানের পর বাকি মাল সমস্তই পবিত্র ও সংরক্ষণ যোগ্য)। আল্লাহ্ তা'আলা মীরাসকে ফরয করিয়াছেন, যাহাতে উহা তোমাদের পরবর্তীদের জন্য হয়। (যদি মাল মোটেই সংরক্ষণ করা না হইল, তবে মীরাস আসিবে কোথা হইতে ?) রাবী বলেন, মীরাসের পর হুযূর আর একটি কথা বলিয়াছিলেন, (তাহা আমি ভুলিয়া গিয়াছি।) পুনরায় রাবী বলেন, ইহা শুনিয়া হযরত ওমর খুশীতে 'আল্লাহু আকবর' বলিয়া উঠিলেন। অতঃপর নবী করীম (ﷺ) বলিলেন, আমি কি তোমাকে বলিয়া দিব না যে, মানুষ যাহা সংরক্ষণ করে, তাহার মধ্যে উত্তম জিনিস কি? উত্তম জিনিস হইল নেক স্ত্রী। যখন সে তাহার দিকে দৃষ্টি করে, সে তাহাকে সন্তুষ্ট করে, যখন সে তাহাকে কোন নির্দেশ করে, সে উহা পালন করে এবং যখন সে তাহার নিকট হইতে দূরে থাকে, সে তাহার হক সংরক্ষণ করে। —আবু দাউদ
كتاب الزكاة
اَلْفَصْلُ الثَّانِى
عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا قَالَ: لَمَّا نَزَلَتْ (وَالَّذِينَ يَكْنِزُونَ الذَّهَبَ وَالْفِضَّةَ)
كَبُرَ ذَلِكَ عَلَى الْمُسْلِمِينَ. فَقَالَ عُمَرُ أَنَا أُفَرِّجُ عَنْكُمْ فَانْطَلَقَ. فَقَالَ: يَا نَبِيَّ اللَّهِ قد كبر على أَصْحَابك هَذِه الْآيَة. فَقَالَ نَبِيُّ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «إِنَّ اللَّهَ لم يفْرض الزَّكَاة إِلَّا ليطيب بهَا مَا بَقِيَ مِنْ أَمْوَالِكُمْ وَإِنَّمَا فَرَضَ الْمَوَارِيثَ وَذكر كلمة لتَكون لمن بعدكم» قَالَ فَكَبَّرَ عُمَرُ. ثُمَّ قَالَ لَهُ: «أَلَا أُخْبِرُكَ بِخَيْرِ مَا يَكْنِزُ الْمَرْءُ الْمَرْأَةُ الصَّالِحَةُ إِذَا نَظَرَ إِلَيْهَا سَرَّتْهُ وَإِذَا أَمَرَهَا أَطَاعَتْهُ وَإِذَا غَابَ عَنْهَا حفظته» . رَوَاهُ أَبُو دَاوُد
كَبُرَ ذَلِكَ عَلَى الْمُسْلِمِينَ. فَقَالَ عُمَرُ أَنَا أُفَرِّجُ عَنْكُمْ فَانْطَلَقَ. فَقَالَ: يَا نَبِيَّ اللَّهِ قد كبر على أَصْحَابك هَذِه الْآيَة. فَقَالَ نَبِيُّ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «إِنَّ اللَّهَ لم يفْرض الزَّكَاة إِلَّا ليطيب بهَا مَا بَقِيَ مِنْ أَمْوَالِكُمْ وَإِنَّمَا فَرَضَ الْمَوَارِيثَ وَذكر كلمة لتَكون لمن بعدكم» قَالَ فَكَبَّرَ عُمَرُ. ثُمَّ قَالَ لَهُ: «أَلَا أُخْبِرُكَ بِخَيْرِ مَا يَكْنِزُ الْمَرْءُ الْمَرْأَةُ الصَّالِحَةُ إِذَا نَظَرَ إِلَيْهَا سَرَّتْهُ وَإِذَا أَمَرَهَا أَطَاعَتْهُ وَإِذَا غَابَ عَنْهَا حفظته» . رَوَاهُ أَبُو دَاوُد
হাদীসের ব্যাখ্যা:
সূরা তওবার যে আয়াতটির উল্লেখ এ হাদীসে এসেছে, সেই আয়াতটি যখন নাযিল হয়, তখন সাহাবায়ে কেরাম এর বাহ্যিক শব্দমালা ও কথার ভঙ্গিতে এই মনে করলেন যে, এর মর্ম ও দাবী এটাই যে, নিজের উপার্জনের মধ্য থেকে কোন কিছুই সঞ্চয় করে রাখা যাবে না এবং সম্পদ একেবারেই জমা করা যাবে না- সম্পদ যাই হাতে আসবে, তাই আল্লাহর পথে খরচ করে দিতে হবে। আর একথা স্পষ্ট যে, এ বিষয়টি মানুষের জন্য খুবই কঠিন। হযরত উমর রাযি. সাহস করলেন এবং এ ব্যাপারে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কাছে প্রশ্ন করলেন। হুযুর (ﷺ) উত্তরে বললেন যে, এ আয়াতটির সম্পর্ক ঐসব লোকের সাথে, যারা অর্থ-সম্পদ জমা করে এবং এর যাকাত আদায় করে না। কিন্তু যদি যাকাত আদায় করে দেওয়া হয়, তাহলে অবশিষ্ট মাল হালাল ও পবিত্র হয়ে যায়। তিনি এখানে এ কথাও বলে দিলেন যে, আল্লাহ তা'আলা যাকাত এজন্যই ফরয করেছেন- যাতে এটা আদায় করে দিলে অবশিষ্ট মাল পাক হয়ে যায়। তারপর তিনি আরেকটি কথা অতিরিক্ত বলে দিলেন যে, এভাবেই আল্লাহ তা'আলা উত্তরাধিকার আইনও এজন্য করে দিয়েছেন- যাতে কোন মানুষ মারা গেলে তার রেখে যাওয়া লোকদের জন্য একটি আশ্রয় হয়। এ উত্তরের মধ্যে হুযুর (ﷺ) এ ইঙ্গিতও করে দিলেন যে, যদি সঞ্চয় করা এবং অর্থ-সম্পদ জমা করা একেবারেই নিষেধ হত, তাহলে শরী‘আতে যাকাত এবং উত্তরাধিকারের বিধানই থাকত না। কেননা, শরী‘আতের এ দু'টি বিধানের সম্পর্ক সঞ্চিত সম্পদের সাথে। যদি অর্থ-সম্পদ জমা রাখার একেবারেই অনুমতি না থাকে, তাহলে যাকাত ও উত্তরাধিকার বন্টনের প্রশ্নই আসবে না।
হযরত উমর রাযি.-এর আসল প্রশ্নের এ উত্তর দেওয়ার পর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) সাহাবায়ে কেরামের সুস্থ মন-মানসিকতা গড়ার লক্ষ্যে একটি অতিরিক্ত কথা এও বলে দিলেন যে, অর্থ-সম্পদের চেয়ে বেশী কাজের জিনিস যা এ দুনিয়াতে অন্তরের প্রশান্তি ও আত্মার তৃপ্তির সবচেয়ে বড় পুঁজি- সেটা হচ্ছে পুণ্যবতী ও অনুগত জীবনসঙ্গিনী। তার মূল্যায়ন অর্থ-সম্পদের চেয়েও বেশী করতে হবে এবং তাকে আল্লাহ্ তা'আলার বিশেষ নে'আমত মনে করবে। এ কথাটি তিনি এক্ষেত্রে এ জন্য বলেছেন যে, ঐ যুগে মহিলাদেরকে খুবই অবহেলার দৃষ্টিতে দেখা হত এবং তাদের প্রতি অবিচার করা হত।
হযরত উমর রাযি.-এর আসল প্রশ্নের এ উত্তর দেওয়ার পর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) সাহাবায়ে কেরামের সুস্থ মন-মানসিকতা গড়ার লক্ষ্যে একটি অতিরিক্ত কথা এও বলে দিলেন যে, অর্থ-সম্পদের চেয়ে বেশী কাজের জিনিস যা এ দুনিয়াতে অন্তরের প্রশান্তি ও আত্মার তৃপ্তির সবচেয়ে বড় পুঁজি- সেটা হচ্ছে পুণ্যবতী ও অনুগত জীবনসঙ্গিনী। তার মূল্যায়ন অর্থ-সম্পদের চেয়েও বেশী করতে হবে এবং তাকে আল্লাহ্ তা'আলার বিশেষ নে'আমত মনে করবে। এ কথাটি তিনি এক্ষেত্রে এ জন্য বলেছেন যে, ঐ যুগে মহিলাদেরকে খুবই অবহেলার দৃষ্টিতে দেখা হত এবং তাদের প্রতি অবিচার করা হত।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)