আল জামিউস সহীহ- ইমাম বুখারী রহঃ
৬- তায়াম্মুমের অধ্যায়
হাদীস নং: ৩৩১
আন্তর্জাতিক নং: ৩৩৮
- তায়াম্মুমের অধ্যায়
২৩৬। তায়াম্মুমের জন্য মাটিতে হাত মারার পর হস্তদ্বয়ে ফুঁ দেওয়া।
৩৩১। আদম (রাহঃ) ..... সাঈদ ইবনে আব্দুর রহমান ইবনে আবযা তাঁর পিতা [আব্দুর রহমান (রাযিঃ)] থেকে বর্ণিত, এক ব্যক্তি উমর ইবনুল খাত্তাব (রাযিঃ)-এর নিকট এসে জানতে চাইলঃ একবার আমার গোসলের প্রয়োজন হল অথচ আমি পানি পেলাম না। তখন আম্মার ইবনে ইয়াসির (রাযিঃ) উমর ইবনুল খাত্তাব (রাযিঃ)-কে বললেনঃ আপনার কি সেই ঘটনা স্মরণ আছে যে, এক সময় আমরা দু’জন সফরে ছিলাম এবং দু’জনেরই গোসলের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিল। আপনি তো নামায আদায় করলেন না। আর আমি মাটিতে গড়াগড়ি দিয়ে নামায আদায় করলাম। তারপর আমি ঘটনাটি নবী (ﷺ) এর কাছে বর্ণনা করলাম। তখন নবী (ﷺ) বললেনঃ তোমার জন্য তো এটুকুই যথেষ্ট ছিল। এ বলে নবী (ﷺ) দু’হাত মাটিতে মারলেন এবং দু’হাতে ফুঁ দিয়ে তাঁর চেহারা ও উভয় হাত মাসাহ করলেন।
كتاب التيمم
باب الصَّعِيدُ لِلتَّيَمُّمِ هَل ينْفخ فِي يَدَيْهِ بعد مَا يَضْرِبُ بِهِمَا (و في النسخ الأخرى: بَابٌ المُتَيَمِّمُ هَلْ يَنْفُخُ فِيهِمَا؟)
338 - حَدَّثَنَا آدَمُ، قَالَ: حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، حَدَّثَنَا الحَكَمُ، عَنْ ذَرٍّ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبْزَى، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ: جَاءَ رَجُلٌ إِلَى عُمَرَ بْنِ الخَطَّابِ، فَقَالَ: إِنِّي أَجْنَبْتُ فَلَمْ أُصِبِ المَاءَ، فَقَالَ عَمَّارُ بْنُ يَاسِرٍ لِعُمَرَ بْنِ الخَطَّابِ: أَمَا تَذْكُرُ أَنَّا كُنَّا فِي سَفَرٍ أَنَا وَأَنْتَ، فَأَمَّا أَنْتَ فَلَمْ تُصَلِّ، وَأَمَّا أَنَا فَتَمَعَّكْتُ فَصَلَّيْتُ، فَذَكَرْتُ لِلنَّبِيِّ صلّى الله عليه وسلم، فَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «إِنَّمَا كَانَ يَكْفِيكَ هَكَذَا» فَضَرَبَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِكَفَّيْهِ الأَرْضَ، وَنَفَخَ فِيهِمَا، ثُمَّ مَسَحَ بِهِمَا وَجْهَهُ وَكَفَّيْهِ
হাদীসের ব্যাখ্যা:
উপরে বর্ণিত হাদীসে যে ঘটনা বিবৃত হয়েছে তাতে হযরত উমর (রা)-এর সালাত আদায় না করার ব্যাপারে ভাষ্যকারগণ বিভিন্ন ব্যাখ্যা দিয়েছেন। তম্মধ্যে সবচেয়ে সহজ ব্যাখ্যা হচ্ছে এই যে, সম্ভবত তিনি পানি প্রাপ্তির লক্ষ্যে প্রতীক্ষা করছিলেন এবং এ ব্যাপারে খানিকটা আশাবাদীও ছিলেন। এ জন্যই তিনি ঐ সময় তায়াম্মুম করে সালাত আদায় করা সমীচীন মনে করেননি। আর হযরত আম্মার (রা) তখনও জানতেন না যে, নাপাকীর গোসলের জন্য যে তায়াম্মুম করতে হয় তাও উযূর মত। এজন্য তিনি নিজ ইজতিহাদের নিরিখে মাটিতে গড়াগড়ি করেন। তারপর যখন তিনি তাঁর অবস্থা রাসূলুল্লাহ ﷺ কে অবহিত করেন, তখন তিনি তার ভুল সংশোধন করে দেন এবং বলেন, উযূর বিপরীতে তায়াম্মুমে যে সকল অঙ্গ মাসেহ করতে হয়, নাপাকীর গোসলের বিপরীতেও ঠিক একইভাবে যে সব মাসেহ করে নিতে হয়। হযরত আম্মার (রা) উযূর বিপরীতে তায়াম্মুম সম্পর্কীয় বিষয় অবহিত ছিলেন। এজন্যই রাসূলুল্লাহ ﷺ তাঁকে সে ব্যাপারে শুধু ইঙ্গিত করলেন।
হযরত আম্মার (রা) বর্ণিত এ হাদীস থেকে এও জানা যায় যে, তায়াম্মুমে ধূলা বিযুক্ত হাত দ্বারা চেহারা মাসেহ করা করা জরুরী নয়। বরং মাটিতে হাত রাখার পর উক্ত ধূলা ফুঁক দিয়ে মাসেহ করাই উত্তম।
হযরত আম্মার (রা) বর্ণিত এ হাদীস থেকে এও জানা যায় যে, তায়াম্মুমে ধূলা বিযুক্ত হাত দ্বারা চেহারা মাসেহ করা করা জরুরী নয়। বরং মাটিতে হাত রাখার পর উক্ত ধূলা ফুঁক দিয়ে মাসেহ করাই উত্তম।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)
বর্ণনাকারী: