আল জামিউল কাবীর- ইমাম তিরমিযী রহঃ

৪৬. কুরআনের তাফসীর অধ্যায়

হাদীস নং: ৩১৪৮
আন্তর্জাতিক নং: ৩১৪৮
কুরআনের তাফসীর অধ্যায়
সূরা বনী ইসরাঈল
৩১৪৮. ইবনে আবু উমর (রাহঃ) ..... আবু সাঈদ খুদরী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেছেনঃ কিয়ামতের দিন আমিই হব বনী আদমের সরদার। এতে কোন অহংকার নেই; আমার হাতেই থাকবে হামদের পতাকা, এতে কোন অহংকার নেই; আদম এবং অন্যান্য সকল নবীই ঐ দিন আমার পতাকার নীচে থাকবেন। আমিই প্রথম ব্যক্তি যিনি মাটি বিদীর্ণ করে উঠবে, এতে কোন অহংকার নেই।

ঐ দিন মানুষ তিনবার ভীষণ ভীতিকর অবস্থায় পড়বে। তারা আদম (আলাইহিস সালাম)-এর কাছে আসবে আর বলবেঃ আপনি আমাদের আদি পিতা আদম, আপনি আমাদের জন্য আপনার প্রতিপালকের নিকট সুপারিশ করুন। তিনি বলবেনঃ আমি তো একটা ভূল করেছিলাম, যদ্দরুন আমাকে পৃথিবীতে নামিয়ে দেওয়া হয়েছিল। বরং তোমরা নূহ (আলাইহিস সালাম)-এর কাছে যাও। তারা নূহ (আলাইহিস সালাম)-এর কাছে আসবে। তিনি বলবেনঃ আমি তো পৃথিবীতে একটি দুআ করেছিলাম। এতে তারা ধ্বংস হয়েছে। তোমরা বরং ইবরাহীম (আলাইহিস সালাম)-এর কাছে যাও। তারা ইবরাহীম (আলাইহিস সালাম)-এর কাছে আসবে। তিনি বলবেনঃ আমি তো তিনটি অসত্য কথা বলেছিলাম।

রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেন, মূলত এর একটিও মিথ্যা ছিল না। আসলে আল্লাহর দ্বীনের পক্ষে প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা হিসাবেই তিনি তা করেছিলেন।

যা হোক, তিনি বলবেনঃ তোমরা বরং মুসা (আলাইহিস সালাম)-এর কাছে যাও। তারা মুসা (আলাইহিস সালাম)-এর কাছে আসবে।

তিনি বলবেনঃ আমি তো একজনকে হত্যা করে ফেলেছিলাম। তোমরা বরং ঈসা (আলাইহিস সালাম)-এর কাছে যাও। তারা ঈসা (আলাইহিস সালাম)-এর কাছে আসবে তিনি বলবেনঃ আল্লাহকে ছেড়ে আমাকে উপসনা করা হয়েছে। তোমরা বরং মুহাম্মাদ (ﷺ) এর কাছে যাও। এরপর তারা আমার কাছে আসবে। আমি তাদের সঙ্গে চলব।

ইবনে জুদআন (রাহঃ) বলেন, আনাস (রাযিঃ) বলেছেনঃ আমি যেন এখনও নবী (ﷺ)-কে দেখছি। তিনি বলেন, এরপর আমি জান্নাতের দরওয়াজার আংটা ধরে তা খটখটাব। বলা হবে কে?

উত্তরে বলা হবেঃ মুহাম্মাদ।

আমার জন্য জান্নাতের দ্বার তারা (ফিরিশতারা) খুলে দিবেন এবং শুভেচ্ছা জানিয়ে বলবেনঃ মারহাবা, এরপর আমি (রাব্বুল আলামীনের হুযুরে) সিজদায় লুটিয়ে পড়ব। আল্লাহ্ তাআলাই আমাকে হামদ ও ছানার ইলহাম করবেন। আমাকে বলা হবেঃ আপনার মাথা তুলুন। যাঞ্ছা করুন আপনাকে তা দেওয়া হবে। সুপারিশ করুন আপনার সুপারিশ গ্রহণ করা হবে। আপনি বলুন আপনার কথা শোনা হবে।

এই হল মাকামে মাহমুদ যার কথা আল্লাহ্ তাআলা বলেছেন, (عَسَى أَنْ يَبْعَثَكَ رَبُّكَ مَقَامًا مَحْمُودًا) আশা করা যায় তোমার প্রতিপালক তোমাকে প্রতিষ্ঠিত করবেন প্রশংসিত স্থানে (১৭ঃ ৭৯)।

সুফিয়ান (রাহঃ) বলেন, আনাস (রাযিঃ) থেকে ই কেবল এই বাক্যটি ’আমি জান্নাতের দরজার আংটা ধরে তা খটখটাব’’ বর্ণিত আছে।
أبواب تفسير القرآن عن رسول الله صلى الله عليه وسلم
بَابٌ: وَمِنْ سُورَةِ بَنِي إِسْرَائِيلَ
حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي عُمَرَ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ عَلِيِّ بْنِ زَيْدِ بْنِ جُدْعَانَ، عَنْ أَبِي نَضْرَةَ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " أَنَا سَيِّدُ وَلَدِ آدَمَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ وَلاَ فَخْرَ وَبِيَدِي لِوَاءُ الْحَمْدِ وَلاَ فَخْرَ وَمَا مِنْ نَبِيٍّ يَوْمَئِذٍ آدَمُ فَمَنْ سِوَاهُ إِلاَّ تَحْتَ لِوَائِي وَأَنَا أَوَّلُ مَنْ تَنْشَقُّ عَنْهُ الأَرْضُ وَلاَ فَخْرَ قَالَ فَيَفْزَعُ النَّاسُ ثَلاَثَ فَزَعَاتٍ فَيَأْتُونَ آدَمَ فَيَقُولُونَ أَنْتَ أَبُونَا آدَمُ فَاشْفَعْ لَنَا إِلَى رَبِّكَ . فَيَقُولُ إِنِّي أَذْنَبْتُ ذَنْبًا أُهْبِطْتُ مِنْهُ إِلَى الأَرْضِ وَلَكِنِ ائْتُوا نُوحًا . فَيَأْتُونَ نُوحًا فَيَقُولُ إِنِّي دَعَوْتُ عَلَى أَهْلِ الأَرْضِ دَعْوَةً فَأُهْلِكُوا وَلَكِنِ اذْهَبُوا إِلَى إِبْرَاهِيمَ . فَيَأْتُونَ إِبْرَاهِيمَ فَيَقُولُ إِنِّي كَذَبْتُ ثَلاَثَ كَذَبَاتٍ " . ثُمَّ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " مَا مِنْهَا كَذْبَةٌ إِلاَّ مَاحَلَ بِهَا عَنْ دِينِ اللَّهِ وَلَكِنِ ائْتُوا مُوسَى . فَيَأْتُونَ مُوسَى فَيَقُولُ إِنِّي قَدْ قَتَلْتُ نَفْسًا وَلَكِنِ ائْتُوا عِيسَى . فَيَأْتُونَ عِيسَى فَيَقُولُ إِنِّي عُبِدْتُ مِنْ دُونِ اللَّهِ وَلَكِنِ ائْتُوا مُحَمَّدًا قَالَ فَيَأْتُونَنِي فَأَنْطَلِقُ مَعَهُمْ " . قَالَ ابْنُ جُدْعَانَ قَالَ أَنَسٌ فَكَأَنِّي أَنْظُرُ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " فَآخُذُ بِحَلْقَةِ بَابِ الْجَنَّةِ فَأُقَعْقِعُهَا فَيُقَالُ مَنْ هَذَا فَيُقَالُ مُحَمَّدٌ . فَيَفْتَحُونَ لِي وَيُرَحِّبُونَ فَيَقُولُونَ مَرْحَبًا فَأَخِرُّ سَاجِدًا فَيُلْهِمُنِي اللَّهُ مِنَ الثَّنَاءِ وَالْحَمْدِ فَيُقَالُ لِي ارْفَعْ رَأْسَكَ سَلْ تُعْطَ وَاشْفَعْ تُشَفَّعْ وَقُلْ يُسْمَعْ لِقَوْلِكَ وَهُوَ الْمَقَامُ الْمَحْمُودُ الَّذِي قَالَ اللَّهُ : ( عَسَى أَنْ يَبْعَثَكَ رَبُّكَ مَقَامًا مَحْمُودًا ) " . قَالَ سُفْيَانُ لَيْسَ عَنْ أَنَسٍ إِلاَّ هَذِهِ الْكَلِمَةُ " فَآخُذُ بِحَلْقَةِ بَابِ الْجَنَّةِ فَأُقَعْقِعُهَا " . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ . وَقَدْ رَوَى بَعْضُهُمْ هَذَا الْحَدِيثَ عَنْ أَبِي نَضْرَةَ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ الْحَدِيثَ بِطُولِهِ .

হাদীসের তাখরীজ (সূত্র):

হাদীসটি হাসান। কোন কোন রাবী এ হাদীসটি আবু নযরা ... ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু সূত্রে দীর্ঘ বর্ণনা করেছেন।

হাদীসের ব্যাখ্যা:

এ হাদীসের কতিপয় বিষয়ের ব্যাখ্যার প্রয়োজন রয়েছে-
(১) হাদীসে আছে যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাঁর উম্মতের (জন্য তিনবার শাফা'আত করার পর চতুর্থবার আল্লাহর দরবারে আবেদন করবেন যে, যারা লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ বলেছিল তাদেরকে দোযখ থেকে বের করার অনুমতি তাকে প্রদান করা হোক। তার অর্থ হলো, যারা তওহীদের দাওয়াত কবুল করেছিল এবং ঈমান গ্রহণ করেছিল, কিন্তু দোযখ থেকে নাযাত লাভ এবং জান্নাতে যাওয়ার জন্য কোন আমল করেনি। অর্থাৎ যারা সামান্য ঈমান এবং তওহীদের এতেকাদের অধিকারী হবেন, কিন্তু সৎকর্ম শূন্য হবেন, নবী করীম (ﷺ) তাদেরকেও দোযখ থেকে বের করার জন্য আল্লাহ তা'আলার অনুমতি প্রার্থনা করবেন। বুখারী এবং মুসলিম শরীফে উল্লিখিত এবং আবু সাঈদ খুদরী (রা)-এর বর্ণিত হাদীসে সম্ভবতঃ এ শ্রেণীর লোক সম্পর্কে বলা হয়েছে: لم يعملوا خيراً قط তারা কোন সময় কোন নেক আমল করেনি। আল্লাহ্ তার নবী (ﷺ)-কে বলবেন- ليس ذالك لك অর্থাৎ তাদেরকে জাহান্নাম থেকে বের করার বিষয়টি আপনার জন্য রাখিনি। অর্থাৎ এ কাজ আপনার জন্য নয় বরং এটা আপনার ইযযত, জালাল শ্রেষ্ঠত্ব এবং فعال لما يريد শব্দের শানের জন্য সমীচীন এবং আমি স্বয়ং নিজে তা করব। আমি মনে করি যারা ঈমান আনার পর মোটেই আমল করেনি তাদেরকে দোযখ থেকে বের করা নবীর জন্য সমীচীন নয় বরং তাদেরকে ক্ষমা করার ব্যাপারটি আল্লাহর সাথে সম্পর্কিত।

(২) কিয়ামতের দিন লোকজন শাফা'আতকারীদের যে অনুসন্ধান করবেন তার প্রয়োজনীয়তা আল্লাহ রাব্বুল আলামীন তাদের মনে সৃষ্টি করবেন এবং তারা প্রথম আদম (আ)-এর নিকট গমন করবেন। অতঃপর তার উপদেশ মোতাবেক নূহ (আ)-এর নিকট, নূহ (আ)-এর নির্দেশক্রমে ইবরাহীম (আ), অনুরূপভাবে মূসা (আ) এবং ঈসা (আ)-এর নিকট লোকজন যাবে। এসব আল্লাহর তরফ থেকে হবে এবং এজন্য হবে যে, যাতে লোকজন বাস্তবতা জানতে সক্ষম হয় যে, মাকামে মাহমূদ এবং শাফা'আতের (কুবরা) বিরাট মর্যাদা একমাত্র আখেরী নবীর জন্য নির্দিষ্ট। মোটকথা হাশরবাসীদের নিকট রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সুমহান মর্যাদা প্রকাশ করার জন্য আল্লাহ তা'আলার পক্ষ থেকে এসব করা হবে।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)
tahqiqতাহকীক:তাহকীক চলমান