আল জামিউল কাবীর- ইমাম তিরমিযী রহঃ
৩৮. রাসূলুল্লাহ ﷺ থেকে বর্ণিত জান্নাতের বিবরণ
হাদীস নং: ২৫৫২
আন্তর্জাতিক নং: ২৫৫২
রাসূলুল্লাহ ﷺ থেকে বর্ণিত জান্নাতের বিবরণ
আল্লাহ পাকের দীদার।
২৫৫৪. মুহাম্মাদ ইবনে বাশশার (রাহঃ) ..... সুহায়ব (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, (لِلَّذِينَ أَحْسَنُوا الْحُسْنَى وَزِيَادَةٌ) যারা নেক কাজ করে তাদের জন্য রয়েছে নেক বদলা এবং আরো বেশী (ইউনুস ১০ঃ ২৬) সম্পর্কে নবী (ﷺ) বলেছেনঃ জান্নাতীগণ যখন জান্নাতে দাখিল হয়ে যাবে তখন এক আহবানকারী হেঁকে বলবেঃ আল্লাহর কাছে তোমাদের জন্য আরো ওয়াদা রয়েছে।
জান্নাতীরা বলবেঃ তিনি কি আমাদের চেহারা সমুজ্জ্বল করে দেন নি? আমাদেরকে জাহান্নাম থেকে নাজাত দেন নি এবং জান্নাতে দাখিল করেন নি? আহবানকারী বলবেঃ অবশ্যই। অনন্তর (আল্লাহর দীদারের জন্য) পর্দা তুলে দেওয়া হবে। আল্লাহর কসম, আল্লাহর দীদার অপেক্ষা প্রিয় আর কোন জিনিস তিনি তাদের দিবেন না। - ইবনে মাজাহ, মুসলিম
হাম্মাদ ইবনে সালামা (রাহঃ) এই হাদীসটিকে মুসনাদ ও মারফু’ হিসাবে বর্ণনা করেছেন। সুলাইমান ইবনে মুগীরা হাদীসটিকে ছাবিত বুনানী আব্দুর রহমান ইবনে আবু লায়লা (রাহঃ) সূত্রে ইবনে আবী লায়লা (রাহঃ) এর বক্তব্য হিসাবে রিওয়ায়াত করেছেন।
জান্নাতীরা বলবেঃ তিনি কি আমাদের চেহারা সমুজ্জ্বল করে দেন নি? আমাদেরকে জাহান্নাম থেকে নাজাত দেন নি এবং জান্নাতে দাখিল করেন নি? আহবানকারী বলবেঃ অবশ্যই। অনন্তর (আল্লাহর দীদারের জন্য) পর্দা তুলে দেওয়া হবে। আল্লাহর কসম, আল্লাহর দীদার অপেক্ষা প্রিয় আর কোন জিনিস তিনি তাদের দিবেন না। - ইবনে মাজাহ, মুসলিম
হাম্মাদ ইবনে সালামা (রাহঃ) এই হাদীসটিকে মুসনাদ ও মারফু’ হিসাবে বর্ণনা করেছেন। সুলাইমান ইবনে মুগীরা হাদীসটিকে ছাবিত বুনানী আব্দুর রহমান ইবনে আবু লায়লা (রাহঃ) সূত্রে ইবনে আবী লায়লা (রাহঃ) এর বক্তব্য হিসাবে রিওয়ায়াত করেছেন।
أبواب صفة الجنة عن رسول الله صلى الله عليه وسلم
بَابُ مَا جَاءَ فِي رُؤْيَةِ الرَّبِّ تَبَارَكَ وَتَعَالَى
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ مَهْدِيٍّ، حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ، عَنْ ثَابِتٍ الْبُنَانِيِّ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبِي لَيْلَى، عَنْ صُهَيْبٍ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فِي قَوْلِه: (لِلَّذِينَ أَحْسَنُوا الْحُسْنَى وَزِيَادَةٌ) قَالَ " إِذَا دَخَلَ أَهْلُ الْجَنَّةِ الْجَنَّةَ نَادَى مُنَادٍ إِنَّ لَكُمْ عِنْدَ اللَّهِ مَوْعِدًا . قَالُوا أَلَمْ يُبَيِّضْ وُجُوهَنَا وَيُنَجِّنَا مِنَ النَّارِ وَيُدْخِلْنَا الْجَنَّةَ قَالُوا بَلَى . قَالَ فَيُكْشَفُ الْحِجَابُ قَالَ فَوَاللَّهِ مَا أَعْطَاهُمْ شَيْئًا أَحَبَّ إِلَيْهِمْ مِنَ النَّظَرِ إِلَيْهِ " . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ إِنَّمَا أَسْنَدَهُ حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ وَرَفَعَهُ . وَرَوَى سُلَيْمَانُ بْنُ الْمُغِيرَةِ وَحَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ هَذَا الْحَدِيثَ عَنْ ثَابِتٍ الْبُنَانِيِّ عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبِي لَيْلَى قَوْلَهُ .
হাদীসের ব্যাখ্যা:
পর্দা সরানোর অর্থ হল দৃষ্টিকে এত শক্তিশালী করা যাতে অনায়াসে মহান প্রভুকে দর্শন করা যায়। কুরআনের আয়াতে উল্লিখিত "زیادة" শব্দের দ্বারা জান্নাত এবং জান্নাতের নি'আমত ছাড়াও মহান আল্লাহর দর্শনের নি'আমতের কথা বলা হয়েছে।
বিঃ-দ্রঃ আল্লাহ তাঁর সৎকর্মশীল বান্দাদেরকে আখিরাতে সাক্ষাৎ দেবেন। দুনিয়াতে আমরা চর্ম চোখে আল্লাহকে দেখতে পাই না। হযরত মূসা (আ) তাঁকে দেখতে চেয়েছিলেন, কিন্তু দেখতে পারেন নি। জ্যোতির ঝলক দেখে তিনি বেহুশ হয়ে পড়ে গিয়েছিলেন। কিন্তু আখিরাতের অবস্থা হবে সম্পূর্ণ স্বতন্ত্র। তার কারণ সেই জগতের স্বভাব প্রকৃতি, ধারণ ক্ষমতা ও সহ্য শক্তিও হবে ব্যতিক্রমধর্মী। মানুষকে আল্লাহ্ রাব্বুর আলামীন আখিরাতের জীবনের সম্পূর্ণ উপযোগী করে দ্বিতীয়বার সৃষ্টি করবেন। তাই জান্নাতের মধ্যে আল্লাহর দর্শনে কোনরূপ অসুবিধা হবে না। বরং জ্যোতির্ময় আল্লাহর জ্যোতি দর্শন করার জন্য জান্নাতীদের চোখ সম্পূর্ণ উপযোগী হবে। আল্লাহকে দর্শন করে তারা বেহুশ হবে না এবং তাদের চোখ ক্লান্ত ও অসুস্থ হবেনা।
বিঃ-দ্রঃ আল্লাহ তাঁর সৎকর্মশীল বান্দাদেরকে আখিরাতে সাক্ষাৎ দেবেন। দুনিয়াতে আমরা চর্ম চোখে আল্লাহকে দেখতে পাই না। হযরত মূসা (আ) তাঁকে দেখতে চেয়েছিলেন, কিন্তু দেখতে পারেন নি। জ্যোতির ঝলক দেখে তিনি বেহুশ হয়ে পড়ে গিয়েছিলেন। কিন্তু আখিরাতের অবস্থা হবে সম্পূর্ণ স্বতন্ত্র। তার কারণ সেই জগতের স্বভাব প্রকৃতি, ধারণ ক্ষমতা ও সহ্য শক্তিও হবে ব্যতিক্রমধর্মী। মানুষকে আল্লাহ্ রাব্বুর আলামীন আখিরাতের জীবনের সম্পূর্ণ উপযোগী করে দ্বিতীয়বার সৃষ্টি করবেন। তাই জান্নাতের মধ্যে আল্লাহর দর্শনে কোনরূপ অসুবিধা হবে না। বরং জ্যোতির্ময় আল্লাহর জ্যোতি দর্শন করার জন্য জান্নাতীদের চোখ সম্পূর্ণ উপযোগী হবে। আল্লাহকে দর্শন করে তারা বেহুশ হবে না এবং তাদের চোখ ক্লান্ত ও অসুস্থ হবেনা।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)
বর্ণনাকারী: