আল জামিউল কাবীর- ইমাম তিরমিযী রহঃ
৩৮. রাসূলুল্লাহ ﷺ থেকে বর্ণিত জান্নাতের বিবরণ
হাদীস নং: ২৫৫১
আন্তর্জাতিক নং: ২৫৫১
রাসূলুল্লাহ ﷺ থেকে বর্ণিত জান্নাতের বিবরণ
আল্লাহ পাকের দীদার।
২৫৫৩. হান্নাদ (রাহঃ) .... জারীর ইবনে আব্দুল্লাহ্ বাজালী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমরা নবী (ﷺ) এর কাছে বসা ছিলাম। তিনি সেই রাতের পূর্ণিমার চাঁদের দিকে তাকালেন। বললেনঃ তোমাদেরকে অচিরেই তোমাদের পরওয়ারদিগারের সামনে পেশ করা হবে। আজকের এই চাঁদটি যেমন তোমরা দেখছ এবং তা দেখায় যেমন তোমাদের মধ্যে হুড়োহুড়ির সৃষ্টি হয়নি তেমনি তোমরা তোমাদের রবকে নির্বিঘ্নে দর্শন করতে পারবে। সূর্যোদয়ের পূর্বের (ফজরের) নামায এবং সূর্যাস্তের পূর্বের (আসরের) নামায তোমরা আদায় করে নিবে। এরপর তিনি পাঠ করলেনঃ
سَبِّحْ بِحَمْدِ رَبِّكَ قَبْلَ طُلُوعِ الشَّمْسِ وَقَبْلَ الْغُرُوبِ
″তোমরা পরওয়ারদিগারের প্রশংসা পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা কর সূর্যোদয়ের পূর্বে এবং সূর্যাস্তের পূর্বে।″ [সূরা কাফঃ ৩৯]
- ইবনে মাজাহ, বুখারি ও মুসলিম
(আবু ঈসা বলেন) হাদীসটি হাসান-সহীহ।
سَبِّحْ بِحَمْدِ رَبِّكَ قَبْلَ طُلُوعِ الشَّمْسِ وَقَبْلَ الْغُرُوبِ
″তোমরা পরওয়ারদিগারের প্রশংসা পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা কর সূর্যোদয়ের পূর্বে এবং সূর্যাস্তের পূর্বে।″ [সূরা কাফঃ ৩৯]
- ইবনে মাজাহ, বুখারি ও মুসলিম
(আবু ঈসা বলেন) হাদীসটি হাসান-সহীহ।
أبواب صفة الجنة عن رسول الله صلى الله عليه وسلم
بَابُ مَا جَاءَ فِي رُؤْيَةِ الرَّبِّ تَبَارَكَ وَتَعَالَى
حَدَّثَنَا هَنَّادٌ، حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، عَنْ إِسْمَاعِيلَ بْنِ أَبِي خَالِدٍ، عَنْ قَيْسِ بْنِ أَبِي حَازِمٍ، عَنْ جَرِيرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ الْبَجَلِيِّ، قَالَ كُنَّا جُلُوسًا عِنْدَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَنَظَرَ إِلَى الْقَمَرِ لَيْلَةَ الْبَدْرِ فَقَالَ " إِنَّكُمْ سَتُعْرَضُونَ عَلَى رَبِّكُمْ فَتَرَوْنَهُ كَمَا تَرَوْنَ هَذَا الْقَمَرَ لاَ تُضَامُونَ فِي رُؤْيَتِهِ فَإِنِ اسْتَطَعْتُمْ أَنْ لاَ تُغْلَبُوا عَلَى صَلاَةٍ قَبْلَ طُلُوعِ الشَّمْسِ وَصَلاَةٍ قَبْلَ غُرُوبِهَا فَافْعَلُوا " . ثُمَّ قَرَأََ: (سَبِّحْ بِحَمْدِ رَبِّكَ قَبْلَ طُلُوعِ الشَّمْسِ وَقَبْلَ الْغُرُوبِ ) قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ .
হাদীসের ব্যাখ্যা:
পৃথিবীতে যখন কোন সুন্দর জিনিস দেখার জন্য লক্ষ-কোটি মানুষ আগ্রহ প্রকাশ করে, এবং ভীড়ের সৃষ্টি করে তখন সাধারণত কষ্ট এবং সঙ্কটের সূত্রপাত হয়। দর্শনীয় বস্তুকে সঠিকভাবে দেখা সম্ভব হয় না। কিন্তু চাঁদের ব্যাপার স্বতন্ত্র। পূর্ব ও পশ্চিমের সকল লোক কোনরূপ সঙ্কট বা কষ্ট ছাড়াই পূর্ণ সন্তুষ্টির সাথে একযোগে চাঁদ দেখতে পারে। তাই রাসূলে আকরাম (ﷺ) চাঁদের উপমার দ্বারা বুঝাতে চেয়েছেন যে জান্নাতের বেশুমার খোশনসীব বান্দাহ একসঙ্গে আল্লাহকে দেখার সৌভাগ্য হাসিল করবে। কারও কোনরূপ কষ্ট হবে না, কোন সংঘর্ষ করতে হবে না বরং পরম শান্তি ও তৃপ্তিসহকারে আল্লাহ্ তা'আলার সৌন্দর্য অবলোকন করবেন।
উপসংহারে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এমন এক আমলের দিকে দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন যার দ্বারা আল্লাহর বান্দাগণ এই নি'আমতের সৌভাগ্য লাভ করতে পারেন। অর্থাৎ বিশেষ যত্নসহকারে ফজর ও আসরের নামায আদায় করা যাতে অন্য কোন আকর্ষণ বান্দাকে নামায থেকে গাফেল না করতে পারে। যদিও ফরয নামাযের সংখ্যা পাঁচ কিন্তু এই দুই নামাযের বিশেষ গুরুত্ব ও ফযীলত রয়েছে। তাই রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কুরআনের আয়াত তিলাওয়াত করে এই দুই নামাযের ফযীলত ও বৈশিষ্ট্যের প্রতি ইশারা করেছেন।
উপসংহারে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এমন এক আমলের দিকে দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন যার দ্বারা আল্লাহর বান্দাগণ এই নি'আমতের সৌভাগ্য লাভ করতে পারেন। অর্থাৎ বিশেষ যত্নসহকারে ফজর ও আসরের নামায আদায় করা যাতে অন্য কোন আকর্ষণ বান্দাকে নামায থেকে গাফেল না করতে পারে। যদিও ফরয নামাযের সংখ্যা পাঁচ কিন্তু এই দুই নামাযের বিশেষ গুরুত্ব ও ফযীলত রয়েছে। তাই রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কুরআনের আয়াত তিলাওয়াত করে এই দুই নামাযের ফযীলত ও বৈশিষ্ট্যের প্রতি ইশারা করেছেন।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)