কিতাবুস সুনান (আলমুজতাবা) - ইমাম নাসায়ী রহঃ
৪৭. ঈমান এবং ঈমানের শাখা প্রশাখার বিবরণ
হাদীস নং: ৪৯৯৭
আন্তর্জাতিক নং: ৪৯৯৭
ঈমান এবং ঈমানের শাখা প্রশাখার বিবরণ
মুসলিমের পরিচয়
৪৯৯৬. হাফস ইবনে উমর (রাহঃ) ......... আনাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যে আমাদের ন্যায় নামায আদায় করে, আর আমাদের কিবলার দিকে মুখ করে এবং আমাদের যবেহকৃত পশু খায়, সে মুসলিম।
كتاب الإيمان وشرائعه
صِفَةُ الْمُسْلِمِ
أَخْبَرَنَا حَفْصُ بْنُ عُمَرَ قَالَ حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ مَهْدِيٍّ عَنْ مَنْصُورِ بْنِ سَعْدٍ عَنْ مَيْمُونِ بْنِ سِيَاهٍ عَنْ أَنَسٍ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَنْ صَلَّى صَلَاتَنَا وَاسْتَقْبَلَ قِبْلَتَنَا وَأَكَلَ ذَبِيحَتَنَا فَذَلِكُمْ الْمُسْلِمُ
হাদীসের ব্যাখ্যা:
আলোচ্য হাদীসের মর্ম অনুধাবন করার জন্য এ বিষয়টি ভালভাবে স্মরণ রাখতে হবে যে, নবী করীম (ﷺ)-এর যুগে যখন ইসলামের দাওয়াত খুব বলিষ্ঠতার সাথে বিস্তৃতি লাভ করছিল তখন এ ধরনের ঘটনা প্রায়ই সংঘটিত হত যে, কোন কোন লোকের ইসলাম গ্রহণ করার পর বিশেষ অবস্থা এবং প্রেক্ষাপটে তার ইসলাম গ্রহণ সম্পর্কে সন্দেহের সৃষ্টি হত। ধারণা করা হত যে, সম্ভবতঃ সে ইসলাম গ্রহণ করে নি। এধরনের লোকের সম্পর্কেই রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) এ হাদীসে ইরশাদ করেছেন। তার উদ্দেশ্য হল যে, সাহাবায়ে কিরামকে এ বিষয়ে অবহিত করা যে, তারা যে ব্যক্তির মধ্যে ইসলামের বাহ্যিক আলামত লক্ষ্য করেন এবং যাকে ইসলামের তরীকা পদ্ধতি অনুযায়ী কিবলামুখী হয়ে নামায আদায় করতে দেখেন এবং মুসলমানের যবেহকৃত পশুর গোশত খেতে দেখেন তাকে যেন তারা মুসলিম জ্ঞান করেন এবং তার প্রাণ এবং সম্পদ আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের নিরাপত্তার অধীন মনে করেন। সে ইসলাম গ্রহণ করেনি বরং সে মুনাফিকের মত ইসলামের বাহ্যিক তরীকা এখতিয়ার করেছে প্রস্তুতি মন্দ ধারণার বশবর্তী হয়ে তার বিরুদ্ধে কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করা উচিত নয়।
কোন কোন লোক হাদীসের মূল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য সম্পর্কে ওয়াকেফহাল না হওয়ার কারণে এবং মারাত্মক অজ্ঞতার দরুন আলোচ্য হাদীস থেকে এ ধরনের ধারণা পোষণ করেন যে, যে বাক্তির মধ্যে ইসলামের বাহ্যিক আলামত বিদ্যমান রয়েছে, (কিবলামুখী হয়ে নামায পড়ে এবং মুসলমানদের যবেহকৃত পশুর গোশত খায়) সে, যে ধরনের আকীদা বিশ্বাস পোষণ করুক না কেন এবং কাফির ও মুশরিকসূলভ আমল করুক না কেন সে মুসলমান থেকে যায়।
বস্তুতঃ আলোচ্য হাদীসটি এ ধরনের লোকের সাথে সম্পর্কিত নয়। অধিকন্তু এ ধরনের লোককে মুসলমান গণ্য করার অর্থ হবে ইসলাম শুধু মাত্র এধরনের বাহ্যিক আমল ও আলামতেরই নাম এবং তাতে ঈমান এবং ই'তেকাদের কোন গুরুত্ব নেই। বলা বাহুল্য ইসলাম সম্পর্কে এর চেয়ে বেশী অজ্ঞতা এবং গোমরাহী অন্য কিছু হতে পারে না।
কোন কোন লোক হাদীসের মূল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য সম্পর্কে ওয়াকেফহাল না হওয়ার কারণে এবং মারাত্মক অজ্ঞতার দরুন আলোচ্য হাদীস থেকে এ ধরনের ধারণা পোষণ করেন যে, যে বাক্তির মধ্যে ইসলামের বাহ্যিক আলামত বিদ্যমান রয়েছে, (কিবলামুখী হয়ে নামায পড়ে এবং মুসলমানদের যবেহকৃত পশুর গোশত খায়) সে, যে ধরনের আকীদা বিশ্বাস পোষণ করুক না কেন এবং কাফির ও মুশরিকসূলভ আমল করুক না কেন সে মুসলমান থেকে যায়।
বস্তুতঃ আলোচ্য হাদীসটি এ ধরনের লোকের সাথে সম্পর্কিত নয়। অধিকন্তু এ ধরনের লোককে মুসলমান গণ্য করার অর্থ হবে ইসলাম শুধু মাত্র এধরনের বাহ্যিক আমল ও আলামতেরই নাম এবং তাতে ঈমান এবং ই'তেকাদের কোন গুরুত্ব নেই। বলা বাহুল্য ইসলাম সম্পর্কে এর চেয়ে বেশী অজ্ঞতা এবং গোমরাহী অন্য কিছু হতে পারে না।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)