মা'আরিফুল হাদীস
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
হাদীস নং: ৪৮৫
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
দাবির জন্য দলীল-প্রমাণ আবশ্যক
যদি কোন ব্যক্তি বিচারক ও কাযীর আদালতে অন্য কোন ব্যক্তির বিরুদ্ধে কোন দাবি অথবা অভিযোগ পেশ করে তবে দাবি পেশকারী যতই নির্ভরযোগ্য, উত্তম ও উঁচু মর্যাদার হোন না কেন, কেবল তার দাবির ভিত্তিতে বিচারক তার পক্ষে ফায়সালা করতে পারেন না। ইসলামী আইনে প্রত্যেক দাবির জন্য যথানিয়মে সাক্ষী-প্রমাণ প্রয়োজন। যদি দাবিদার সাক্ষী প্রমাণ পেশ করতে না পারে তখন অভিযুক্তকে বলা হবে যদি তার দাবি গ্রহণ না কর তবে শপথ করে বল, এ দাবি মিথ্যা।
অভিযুক্ত ব্যক্তি যদি এরূপ শপথ করতে অস্বীকার করে তবে দাবি সঠিক মনে করে ডিক্রি দেওয়া হবে। আর যদি সে শপথসহ দাবিকারীর দাবি মিথ্যা প্রতিপন্ন করে তবে, দাবি খারিজ করে অভিযুক্তের পক্ষে ফায়সালা দেওয়া হবে। এটা আদালতের আইন ও রীতি যা রাসূলুল্লাহ ﷺ দিকনির্দেশ প্রদান করেছেন এবং এটা স্বয়ং তার কর্মপদ্ধতি ছিল।
যদি কোন ব্যক্তি বিচারক ও কাযীর আদালতে অন্য কোন ব্যক্তির বিরুদ্ধে কোন দাবি অথবা অভিযোগ পেশ করে তবে দাবি পেশকারী যতই নির্ভরযোগ্য, উত্তম ও উঁচু মর্যাদার হোন না কেন, কেবল তার দাবির ভিত্তিতে বিচারক তার পক্ষে ফায়সালা করতে পারেন না। ইসলামী আইনে প্রত্যেক দাবির জন্য যথানিয়মে সাক্ষী-প্রমাণ প্রয়োজন। যদি দাবিদার সাক্ষী প্রমাণ পেশ করতে না পারে তখন অভিযুক্তকে বলা হবে যদি তার দাবি গ্রহণ না কর তবে শপথ করে বল, এ দাবি মিথ্যা।
অভিযুক্ত ব্যক্তি যদি এরূপ শপথ করতে অস্বীকার করে তবে দাবি সঠিক মনে করে ডিক্রি দেওয়া হবে। আর যদি সে শপথসহ দাবিকারীর দাবি মিথ্যা প্রতিপন্ন করে তবে, দাবি খারিজ করে অভিযুক্তের পক্ষে ফায়সালা দেওয়া হবে। এটা আদালতের আইন ও রীতি যা রাসূলুল্লাহ ﷺ দিকনির্দেশ প্রদান করেছেন এবং এটা স্বয়ং তার কর্মপদ্ধতি ছিল।
৪৮৫. হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা) রাসূলুল্লাহ ﷺ থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন, যদি নিছক দাবির প্রেক্ষিতে মানুষের পক্ষে ফায়সালা করা হয় তবে মানুষ অন্যদের বিরুদ্ধে (চালাকী দ্বারা) খুন বা সম্পদের (সত্য মিথ্যা) দাবি করতে থাকবে। (কিন্তু কেবল কারো দাবির ওপর তার পক্ষে ফায়সালা যাবে না, বরং প্রমাণ তলব করা হবে এবং প্রমাণ ও সাক্ষী না থাকার অবস্থায়) বিবাদী থেকে শপথসহ অস্বীকারমূলক বক্তব্য গ্রহণ করা হবে। (মুসলিম)
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: لَوْ يُعْطَى النَّاسُ بِدَعْوَاهُمْ لاَدَّعَى نَاسٌ دِمَاءَ رِجَالٍ وَأَمْوَالَهُمْ وَلَكِنَّ الْيَمِينَ عَلَى الْمُدَّعَى عَلَيْهِ. (رواه مسلم)
হাদীসের ব্যাখ্যা:
সহীহ মুসলিমের এ বর্ণনার শব্দাবলীতে দাবিদারের নিকট প্রমাণ ও সাক্ষী তলব করার উল্লেখ নেই। কেবল অভিযুক্তের নিকট থেকে অস্বীকার মূলক শপথ গ্রহণের উল্লেখ আছে। কিন্তু সহীহ মুসলিমের ভাষ্যকার ইমাম নববী স্বীয় মুসলিমের ভাষ্যে লিখেন যে, হযরত আবদুল্লাহ ইব্ন আব্বাস (রা)-এর এ হাদীসকে ইমাম বায়হাকীও হাসান অথবা বিশুদ্ধ সনদে বর্ণনা করেছেন। আর তাতে প্রথমে দাবিদারের নিকট প্রমাণ ও সাক্ষী তলব করার কথা উল্লেখ রয়েছে। সে হাদীসের শেষ শব্দাবলী এই:
-ولكنَّ الْبَيِّنَةَ عَلَى الْمُدَّعِي وَالْيَمِينُ على من انكر
ইমাম নববী-এর কথা সহীহ মুসলিমের এ হাদীসের সাথেই মিশকাতুল মাসাবিহতেও উদ্ধৃত করা হয়েছে। এ জন্য হাদীসের তরজমায় আমি বন্ধনীর মধ্যে ইহা অতিরিক্ত সংযোজন করে দিয়েছি। বিভিন্ন সাহাবা কেরাম থেকেও এ বিষয়ে হাদীস বর্ণিত হয়েছে।
-ولكنَّ الْبَيِّنَةَ عَلَى الْمُدَّعِي وَالْيَمِينُ على من انكر
ইমাম নববী-এর কথা সহীহ মুসলিমের এ হাদীসের সাথেই মিশকাতুল মাসাবিহতেও উদ্ধৃত করা হয়েছে। এ জন্য হাদীসের তরজমায় আমি বন্ধনীর মধ্যে ইহা অতিরিক্ত সংযোজন করে দিয়েছি। বিভিন্ন সাহাবা কেরাম থেকেও এ বিষয়ে হাদীস বর্ণিত হয়েছে।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)