মা'আরিফুল হাদীস
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
হাদীস নং: ৪৬৫
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
আল্লাহর ওয়াস্তে ওয়াকফ
৪৬৫. হযরত সুমামা ইবনে হাযান কুশাইরী (তাবিঈ) বলেন, আমি তখন হযরত উসমান (রা)-এর ঘরের নিকট ছিলাম (যখন বিদ্রোহী সেনারা তাঁর ঘর ঘেরাও করেছিল)। তিনি ঘরের উপর থেকে তাদের দেখলেন। সমবেতদের উদ্দেশ্যে বললেন, আমি তোমাদেরকে আল্লাহ ও ইসলামের দোহাই দিয়ে জিজ্ঞেস করছি-তোমরা কি জান, রাসুলুল্লাহ ﷺ যখন মদীনায় এলেন তখন রূমা কূপ ছাড়া মিঠাপানির কোন কূপ ছিল না। (আর সেটা ছিল কোন ব্যক্তি মালিকানায়) তখন রাসূলুল্লাহ ﷺ বললেন, কে আছে যে, রূমা কূপ ক্রয় করে ওয়াক্ফ করে দেবে এবং তারই ন্যায় অন্যান্য মুসলমান এটা থেকে পানি ব্যবহার করবে? আর এর বিনিময়ে আল্লাহ তা'আলা জান্নাতে তাকে উত্তম জিনিস দেবেন। তখন আমি আমার ব্যক্তিগত মাল দ্বারা সেটা ক্রয় করি (এবং সাধারণের জন্য ওয়াক্ফ করে দেই)। আজ তোমরা আমাকে এর পানি পান করতে দিচ্ছ না। সমুদ্রের মতো লবণাক্ত পানি পান করতে বাধ্য করছ। লোকজন বললেন, আল্লাহ সাক্ষী, ঠিকই। (আমরা এটা জানি)। এরপর হযরত উসমান বললেন, আমি তোমাদেরকে আল্লাহ ও ইসলামের দোহাই দিয়ে জিজ্ঞেস করছি, তোমরা কি জান, মসজিদে নববী নামাযীদের জন্য সংকীর্ণ ছিল। তখন রাসুলুল্লাহ ﷺ এক দিন বললেন, আল্লাহর কোন বান্দা কি আছে, যে অমুক গৃহবাসীর জমি খণ্ড (যা মসজিদ সংলগ্ন) ক্রয় করে মসজিদে অন্তর্ভুক্ত করে দেবে? এর বিনিময়ে আল্লাহ তাকে জান্নাতে উত্তম প্রতিদান দেবেন। তখন আমি আমার ব্যক্তিগত অর্থে সেটা ক্রয় করে নেই (এবং মসজিদে অন্তর্ভুক্ত করে দেই)। লোকজন বললেন, আল্লাহ সাক্ষী, ঠিকই (আমরা জানি)। এরপর হযরত উসমান বললেন, তোমরা কি জান যে, (রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর উৎসাহ ও ইঙ্গিতে) আমি তাবুক যুদ্ধের সৈন্যদের সরঞ্জাম আমার ব্যক্তিগত অর্থে যোগান দিয়েছিলাম? লোকজন বললেন, আল্লাহ সাক্ষী ঠিকই (এটাও আমরা জানি)। এরপর হযরত উসমান বলেন, আমি তোমাদিগকে আল্লাহ ও ইসলামের দোহাই দিয়ে জিজেস করছি, তোমরা কি জান, এক দিন রাসুলুল্লাহ ﷺ মক্কার 'সুবাইর' পাহাড়ে হিলেন, তাঁর সাথে আবু বকর ও উমর ছিলেন, আমিও ছিলাম। তখন পাহাড় নড়তে লাগল। এমনকি কিছু পাথর নিয়ে পড়ে গেল। তিনি তাঁর পা দিয়ে তাতে আঘাত করে বললেন, সুবাইর! শান্ত হও। তোমার উপর এক নবী, এক সিদ্দীক ও দুই শহীদ রয়েছেন। (হযরত উসমানের এ কথার উপরেও) লোকজন বললেন, আল্লাহ সাক্ষী, ঠিকই (আমরা জানি)। তখন হযরত উসমান বললেন, আল্লাহু আকবার। কা'বার প্রভুর কসম! এরাও সাক্ষী দিচ্ছে যে, আমি শহীদ। একথা তিনি তিনবার উচ্চারণ করলেন।
(তিরমিযী, নাসাঈ)
(তিরমিযী, নাসাঈ)
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ ثُمَامَةَ بْنِ حَزْنٍ الْقُشَيْرِيِّ قَالَ شَهِدْتُ الدَّارَ حِينَ أَشْرَفَ عَلَيْهِمْ عُثْمَانُ قَالَ أَنْشُدُكُمْ اللَّهِ وَالإِسْلاَمِ هَلْ تَعْلَمُونَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَدِمَ الْمَدِينَةَ وَلَيْسَ بِهَا مَاءٌ يُسْتَعْذَبُ غَيْرَ بِئْرِ رُومَةَ فَقَالَ: مَنْ يَشْتَرِي بِئْرَ رُومَةَ فَيَجْعَلُ دَلْوَهُ مَعَ دِلاَءِ الْمُسْلِمِينَ بِخَيْرٍ لَهُ مِنْهَا فِي الْجَنَّةِ. فَاشْتَرَيْتُهَا مِنْ صُلْبِ مَالِي فَأَنْتُمُ الْيَوْمَ تَمْنَعُونِي أَنْ أَشْرَبَ مِنْهَا حَتَّى أَشْرَبَ مِنْ مَاءِ الْبَحْرِ. قَالُوا اللَّهُمَّ نَعَمْ. فَقَالَ أَنْشُدُكُمْ بِاللَّهِ وَالإِسْلاَمِ هَلْ تَعْلَمُونَ أَنَّ الْمَسْجِدَ ضَاقَ بِأَهْلِهِ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: مَنْ يَشْتَرِي بُقْعَةَ آلِ فُلاَنٍ فَيَزِيدُهَا فِي الْمَسْجِدِ بِخَيْرٍ لَهُ مِنْهَا فِي الْجَنَّةِ. فَاشْتَرَيْتُهَا مِنْ صُلْبِ مَالِي فَأَنْتُمُ الْيَوْمَ تَمْنَعُونِي أَنْ أُصَلِّيَ فِيهَا رَكْعَتَيْنِ. فَقَالُوا اللَّهُمَّ نَعَمْ. قَالَ أَنْشُدُكُمْ بِاللَّهِ وَالإِسْلاَمِ هَلْ تَعْلَمُونَ أَنِّي جَهَّزْتُ جَيْشَ الْعُسْرَةِ مِنْ مَالِي قَالُوا اللَّهُمَّ نَعَمْ. ثُمَّ قَالَ أَنْشُدُكُمْ بِاللَّهِ وَالإِسْلاَمِ هَلْ تَعْلَمُونَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ عَلَى ثَبِيرِ مَكَّةَ وَمَعَهُ أَبُو بَكْرٍ وَعُمَرُ وَأَنَا فَتَحَرَّكَ الْجَبَلُ حَتَّى تَسَاقَطَتْ حِجَارَتُهُ بِالْحَضِيضِ قَالَ فَرَكَضَهُ بِرِجْلِهِ قَالَ: اسْكُنْ ثَبِيرُ فَإِنَّمَا عَلَيْكَ نَبِيٌّ وَصِدِّيقٌ وَشَهِيدَانِ. قَالُوا اللَّهُمَّ نَعَمْ. قَالَ اللَّهُ أَكْبَرُ شَهِدُوا لِي وَرَبِّ الْكَعْبَةِ أَنِّي شَهِيدٌ ثَلاَثًا. (رواه الترمذى والنسائى)
হাদীসের ব্যাখ্যা:
আলোচ্য হাদীসে হযরত উসমান (রা)-এর দু'টি ওয়াকফের কথা উল্লিখিত হয়েছে, যা তিনি রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর উৎসাহ ও আহবানে করেছিলেন। প্রথমত বীরে রূমার ওয়াকফ, যা সম্ভবত ইসলামের প্রথম ওয়াকফ হবে। কেননা, এটা তখন সংগঠিত হয়েছিল যখন রাসূলুল্লাহ ﷺ হিজরত করে মদীনায় এলেন। এর পূর্বে মক্কায় কোন প্রকার ওায়াকফের কল্পনাই করা যায় না। দ্বিতীয় ওয়াকফ সেই জমি যা তিনি ক্রয় করে মসজিদে নববীতে অন্তর্ভুক্ত করে দেন।
আলোচ্য হাদীস স্পষ্টতই হযরত উসমান (রা)-এর ফযীলত ও মর্যাদা অধ্যায়ের অন্তর্গত। অধিকাশ হাদীস গ্রন্থে এ অধ্যায়েরই অধীনে লিপিবদ্ধ করা হয়েছে। কিন্তু যেহেতু এতে হযরত উসমান (রা)-এর দু'টি ওয়াকফের উল্লেখ রয়েছে, যা তিনি রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর উৎসাহে প্রদান করেছিলেন, এজন্য এ স্থলে এটা লিপিবদ্ধ করা সংগত মনে করা হয়েছে।
আলোচ্য হাদীসে উপদেশ গ্রহণের বিরাট উপাদান রয়েছে, যা হযরত উসমান (রা)-এর এই ফযীলত ও মর্যাদা এবং এই সব কার্যাবলীও সেই সব সুসংবাদের অন্তর্গত যা রাসুলুল্লাহ ﷺ তাঁর সম্পর্কে করেছিলেন। তাঁর কালের লোকজন সাধারণভাবে তা অবগত ছিলেন। আর এসব কথা এরূপ প্রসিদ্ধ ও সর্বজনমান্য ছিল যে, কারো অস্বীকারের সাহস ছিল না। তবে যাদের ওপর শয়তান সোয়ার হয়েছিল এবং দুর্ভাগ্য যাদের জন্য নির্ধারিত ছিল, তারা এতদসত্ত্বেও অতিশয় নির্দয় পন্থায় তাঁকে শহীদ করে। এরপর উম্মতের প্রতি এক সামগ্রিক শাস্তি নেমে আসে যে, পরস্পর খুন-খারাবীর এক অশেষ ধারা চালু হয়ে পড়ে।
আলোচ্য হাদীস স্পষ্টতই হযরত উসমান (রা)-এর ফযীলত ও মর্যাদা অধ্যায়ের অন্তর্গত। অধিকাশ হাদীস গ্রন্থে এ অধ্যায়েরই অধীনে লিপিবদ্ধ করা হয়েছে। কিন্তু যেহেতু এতে হযরত উসমান (রা)-এর দু'টি ওয়াকফের উল্লেখ রয়েছে, যা তিনি রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর উৎসাহে প্রদান করেছিলেন, এজন্য এ স্থলে এটা লিপিবদ্ধ করা সংগত মনে করা হয়েছে।
আলোচ্য হাদীসে উপদেশ গ্রহণের বিরাট উপাদান রয়েছে, যা হযরত উসমান (রা)-এর এই ফযীলত ও মর্যাদা এবং এই সব কার্যাবলীও সেই সব সুসংবাদের অন্তর্গত যা রাসুলুল্লাহ ﷺ তাঁর সম্পর্কে করেছিলেন। তাঁর কালের লোকজন সাধারণভাবে তা অবগত ছিলেন। আর এসব কথা এরূপ প্রসিদ্ধ ও সর্বজনমান্য ছিল যে, কারো অস্বীকারের সাহস ছিল না। তবে যাদের ওপর শয়তান সোয়ার হয়েছিল এবং দুর্ভাগ্য যাদের জন্য নির্ধারিত ছিল, তারা এতদসত্ত্বেও অতিশয় নির্দয় পন্থায় তাঁকে শহীদ করে। এরপর উম্মতের প্রতি এক সামগ্রিক শাস্তি নেমে আসে যে, পরস্পর খুন-খারাবীর এক অশেষ ধারা চালু হয়ে পড়ে।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)