মা'আরিফুল হাদীস
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
হাদীস নং: ৪৬৬
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
ওসীয়ত
আর্থিক বিষয়াদী ও ব্যয়ের অধ্যায়সমূহের মধ্যে একটি অধ্যায় হচ্ছে- 'ওসীয়াত অধ্যায়'। ওসীয়তের অর্থ এই যে, কোন ব্যক্তি যার নিকট স্থাবর সম্পদ বা কোন প্রকার পুঁজি রয়েছে, সে নির্ধারিত করে দেবে যে, আমার ইন্তিকালের পর অমুক কূপের সম্পত্তি ও পুঁজি থেকে এত অংশ অমুক উত্তম কাজে ব্যয় হবে অথবা অমুক ব্যক্তিকে দেওয়া হবে। শরী'আতে এ জাতীয় ওসীয়তের আইনগত মর্যাদা রয়েছে। এর বিশেষ শর্ত ও বিধান রয়েছে, যার কতগুলো নিম্নে লিপিবদ্ধ হাদীসসমূহ থেকে জানা যাবে। বিস্তারিত অতিরিক্ত বিধান ফিকহের কিতাবসমূহে দেখা যেতে পারে। নিজের পরিত্যক্ত সম্পদের ব্যাপারে এ জাতীয় ওসীয়ত যদি আল্লাহর জন্য ও আখিরাতের সওয়াবের উদ্দেশ্যে করা হয় তবে তা হবে এক প্রকার সাদকা। শরী'আতে এ বিষয়ে উৎসাহিত করা হয়েছে।
আর যদি কারো নিকট কারো কোন জিনিস আমানত হিসাবে রাখা হয় অথবা তার ওপর কোন লোকের ঋণ থাকে কিংবা কোন ধরনের অধিকার থাকে তবে তা ফেরত প্রদান ও পরিশোধের ওসীয়ত করা ওয়াজিব। আর যে কোন ওসীয়ত হোক তা লিখে সংরক্ষণ করা চাই। এ বিষয়ে কতক হাদীস নিম্নে পাঠ করুন।
আর্থিক বিষয়াদী ও ব্যয়ের অধ্যায়সমূহের মধ্যে একটি অধ্যায় হচ্ছে- 'ওসীয়াত অধ্যায়'। ওসীয়তের অর্থ এই যে, কোন ব্যক্তি যার নিকট স্থাবর সম্পদ বা কোন প্রকার পুঁজি রয়েছে, সে নির্ধারিত করে দেবে যে, আমার ইন্তিকালের পর অমুক কূপের সম্পত্তি ও পুঁজি থেকে এত অংশ অমুক উত্তম কাজে ব্যয় হবে অথবা অমুক ব্যক্তিকে দেওয়া হবে। শরী'আতে এ জাতীয় ওসীয়তের আইনগত মর্যাদা রয়েছে। এর বিশেষ শর্ত ও বিধান রয়েছে, যার কতগুলো নিম্নে লিপিবদ্ধ হাদীসসমূহ থেকে জানা যাবে। বিস্তারিত অতিরিক্ত বিধান ফিকহের কিতাবসমূহে দেখা যেতে পারে। নিজের পরিত্যক্ত সম্পদের ব্যাপারে এ জাতীয় ওসীয়ত যদি আল্লাহর জন্য ও আখিরাতের সওয়াবের উদ্দেশ্যে করা হয় তবে তা হবে এক প্রকার সাদকা। শরী'আতে এ বিষয়ে উৎসাহিত করা হয়েছে।
আর যদি কারো নিকট কারো কোন জিনিস আমানত হিসাবে রাখা হয় অথবা তার ওপর কোন লোকের ঋণ থাকে কিংবা কোন ধরনের অধিকার থাকে তবে তা ফেরত প্রদান ও পরিশোধের ওসীয়ত করা ওয়াজিব। আর যে কোন ওসীয়ত হোক তা লিখে সংরক্ষণ করা চাই। এ বিষয়ে কতক হাদীস নিম্নে পাঠ করুন।
৪৬৬. হযরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেন, এমন কোন মুসলমান বান্দার জন্য, যার নিকট এরূপ কোন জিনিস (স্থায়ী, সম্পদ, পুঁজি বা আমানত ও ঋণ ইত্যাদি) থাকে, যে ব্যাপারে ওসীয়ত করা চাই, তার জন্য দু'রাত অতিবাহিত করা ঠিক নয়, তবে হ্যাঁ, তার নিকট লিখা ওসীয়তনামা থাকবে। (বুখারী, মুসলিম)
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ عَبْدِ اللَّهِ ابْنِ عُمَرَ قَالَ: قَالَ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: مَا حَقُّ امْرِئٍ مُسْلِمٍ لَهُ شيءٌ يُوصَي فِيهِ يَبِيتُ لَيْلَتَيْنِ إِلاَّ وَوَصِيَّتُهُ مَكْتُوبَةٌ عِنْدَهُ. (رواه البخارى ومسلم)
হাদীসের ব্যাখ্যা:
অর্থাৎ ওসীয়ত করা বা ওসীয়তনামা নিজে লিখা বা লিখানোর জন্য বিলম্ব করা ঠিক নয় যে, যখন মৃত্যু নিকটে দেখা যাবে তখন ওসীয়ত করে যাবে। বরং প্রত্যেক মু'মিনের উচিত, সে প্রতিটি মুহূর্ত মৃত্যুকে নিকটবর্তী মনে করবে, নিজের ওসীয়তনামা তৈরী রাখবে। বিনা ওসীয়তনামায় দু'দিনও অতিবাহিত করা ঠিক নয়।
আক্ষেপ! রাসূলুল্লাহ ﷺ এর এ নির্দেশাবলির উপর আমল করার প্রথা উম্মতের মধ্যে খুবই কম পরিলক্ষিত হয়। কেবল বিশেষ লোক বরং অতি বিশেষ লোকের এ তওফীক লাভ হয়। অথচ এতে পার্থিব দৃষ্টিকোণ থেকেও অনেক কল্যাণ রয়েছে। ওসীয়তনামার কারণে প্রিয়জন, নিকট ও উত্তরাধিকারীদের মধ্যে পরবর্তী সময়ে সৃষ্টি হবে এমন বহু মনোমালিন্য ও ঝগড়া বন্ধ হতে পারে।
আক্ষেপ! রাসূলুল্লাহ ﷺ এর এ নির্দেশাবলির উপর আমল করার প্রথা উম্মতের মধ্যে খুবই কম পরিলক্ষিত হয়। কেবল বিশেষ লোক বরং অতি বিশেষ লোকের এ তওফীক লাভ হয়। অথচ এতে পার্থিব দৃষ্টিকোণ থেকেও অনেক কল্যাণ রয়েছে। ওসীয়তনামার কারণে প্রিয়জন, নিকট ও উত্তরাধিকারীদের মধ্যে পরবর্তী সময়ে সৃষ্টি হবে এমন বহু মনোমালিন্য ও ঝগড়া বন্ধ হতে পারে।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)