মা'আরিফুল হাদীস
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
হাদীস নং: ৩৭৩
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
বৈধ মাল-সম্পদ মু'মিন বান্দার জন্য আল্লাহর নিয়ামত
৩৭৩. হযরত আমর ইবনুল আ'স (রা) থেকে বর্ণিত। রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, আমি তোমাকে একটি সেনাদলের দায়িত্বে পাঠাতে চাই। এরপর আল্লাহ তোমাকে নিরাপদে প্রত্যাবর্তন করুন। (আর সেই যুদ্ধ যাত্রায় তোমরা বিজয়ী হও) এবং যুদ্ধলব্ধ মাল তোমার হস্তগত হয় আর আল্লাহর পক্ষ হতে মালের উত্তম অংশ তুমি লাভ কর। আমি নিবেদন করলাম, হে আল্লাহর রাসুল! ধন-সম্পদের জন্য আমি ইসলাম গ্রহন করিনি। বরং ইসলামের প্রতি আকৃষ্ট হয়ে আমি ইসলাম গ্রহণ করেছি। আর এজন্য যে, আপনার সাথী হব। তখন তিনি বললেন, হে আমর! উত্তম লোকের জন্য পবিত্র মাল উত্তম বস্তু (মূল্যায়নযোগ্য নি'আমাত)। (মুসনাদে আহমদ)
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ عَمْرِو بْنِ الْعَاصِ، أَنَّ النَّبِىَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ لَهُ أَبْعَثَكَ عَلَى جَيْشٍ فَيُسَلِّمَكَ اللَّهُ وَيُغْنِمَكَ، وَأَزْعبُ لَكَ مِنَ الْمَالِ رَغْبَةً صَالِحَةً» . فَقُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، مَا أَسْلَمْتُ مِنْ أَجْلِ الْمَالِ، وَلَكِنِّي أَسْلَمْتُ زَعْبَةً فِي الْإِسْلَامِ، وَأَنْ أَكُونَ مَعَكَ. فَقَالَ: «يَا عَمْرُو، نِعْمَ الْمَالِ الصَّالِحُ لِلرَّجُلِ الصَّالِحِ» (رواه احمد)
হাদীসের ব্যাখ্যা:
হযরত আমর ইবনুল আস (রা)-এর এ হাদীস থেকে জানা গেল যে, ধন-সম্পদ যদি বৈধ পন্থায় উপার্জিত হয় তবে তা আল্লাহর নি'আমত ও তাঁর বিশেষ অনুগ্রহ। আর সাধনা ও সংযমের অধ্যায়ের অধীনস্থ অনেক হাদীস, মা'আরিফুল হাদীসের (২য় খন্ড) ধারাবাহিকতায় উল্লিখিত হয়েছে, সেগুলো থেকে জানা যায় যে, ধন-সম্পদ থেকে রিক্ত হস্তে অর্থাৎ দারিদ্র্যকে শ্রেষ্ঠত্ব দান করা হয়েছে। আর উম্মতের দরিদ্রগণ ধনীদের থেকে শ্রেষ্ট। ঘটনা হচ্ছে, উভয় কথাই স্ব স্ব স্থানে সম্পূর্ণ সঠিক। দারিদ্র্য ও নিঃস্বতার সাথে যদি ধৈর্য, সমর্পণ, সন্তুষ্টি ও নম্রতা হাসিল হয় তবে নিঃসন্দেহে এ দারিদ্র্য ও নিঃস্বতা খুবই উঁচু স্তরের। এতে রয়েছে বিরাট কল্যাণ। রাসুলুল্লাহ ﷺ নিজের জন্য এটাই পসন্দ করেছেন এবং এটার জন্যই তিনি আল্লাহ তা'আলার নিকট দু'আ করতেন। (এ বিষয়ে তাঁর দু'আ ইতিপূর্বে পঞ্চম খণ্ডের যথাস্থানে উল্লেখ করা হয়েছে)
আর যদি আল্লাহ তা'আলা কোন বান্দাকে বৈধ ও পবিত্র পন্থায় ধন-সম্পদ দান করেন এজন্য সে শুকরিআ আদায় করে এবং সঠিক স্থানে ব্যয় করার তওফীক লাভ করে তবে তাও আল্লাহ তা'আলার বিশেষ অনুগ্রহ এবং মর্যাদা সম্পন্ন নি'আমত। নবীগণের মধ্যে হযরত দাউদ (আ), হযরত সুলায়মান (আ), হযরত আইয়ূব (আ) ও হযরত ইউসুফ (আ) আর তাঁরা ছাড়াও অনেক ব্যক্তিকে আল্লাহ তাআনা এ অনুগ্রহে বৈশিষ্ট্য মন্ডিত করেছেন। আর মর্যাদাবান সাহাবীগণের মধ্যে হযরত উসমান (রা), হযরত আব্দুর রহমান ইবনে আওফ (রা), হযরত যুবাইর ইবনে আওয়াম (রা) প্রমুখও আল্লাহ তা'আলার এ অনুগ্রহে পূর্ণ অংশ প্রাপ্ত হয়েছিলেন। সর্বোপরি এটাও আল্লাহ আ'আলার বিরাট মর্যাদাযোগ্য ও শুকরিয়া যোগ্য নি'আমত
نعم المال الصالح للمرء الصالح.
আর যদি আল্লাহ তা'আলা কোন বান্দাকে বৈধ ও পবিত্র পন্থায় ধন-সম্পদ দান করেন এজন্য সে শুকরিআ আদায় করে এবং সঠিক স্থানে ব্যয় করার তওফীক লাভ করে তবে তাও আল্লাহ তা'আলার বিশেষ অনুগ্রহ এবং মর্যাদা সম্পন্ন নি'আমত। নবীগণের মধ্যে হযরত দাউদ (আ), হযরত সুলায়মান (আ), হযরত আইয়ূব (আ) ও হযরত ইউসুফ (আ) আর তাঁরা ছাড়াও অনেক ব্যক্তিকে আল্লাহ তাআনা এ অনুগ্রহে বৈশিষ্ট্য মন্ডিত করেছেন। আর মর্যাদাবান সাহাবীগণের মধ্যে হযরত উসমান (রা), হযরত আব্দুর রহমান ইবনে আওফ (রা), হযরত যুবাইর ইবনে আওয়াম (রা) প্রমুখও আল্লাহ তা'আলার এ অনুগ্রহে পূর্ণ অংশ প্রাপ্ত হয়েছিলেন। সর্বোপরি এটাও আল্লাহ আ'আলার বিরাট মর্যাদাযোগ্য ও শুকরিয়া যোগ্য নি'আমত
نعم المال الصالح للمرء الصالح.
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)