মা'আরিফুল হাদীস

মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়

হাদীস নং: ২১৪
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পানাহারের আদব ও এর বিধি-বিধান
২১৪. কাবীসা ইবনে হুলব তার পিতা হুলব তায়ী রাযি. থেকে বর্ণনা করেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কাছে খ্রীষ্টানদের খাদ্য খাওয়ার ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করলাম (যে, এটা জায়েয না নাজায়েয) তিনি বললেন, এটা খাওয়ার ব্যাপারে তোমার অন্তরে কোন খটকা ও সংশয় না থাকা চাই। এমন করলে (অহেতুক কঠোরতা ও সংকীর্ণতায়) তুমি খ্রীষ্টানদের রীতি-সাদৃশ্য গ্রহণ করে ফেলবে। -তিরমিযী
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ قَبِيصَةَ بْنَ هُلْبٍ عَنْ أَبِيهِ قَالَ: سَأَلْتُ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنْ طَعَامِ النَّصَارَى فَقَالَ: لاَ يَتَخَلَّجَنَّ فِي صَدْرِكَ طَعَامٌ ضَارَعْتَ فِيهِ النَّصْرَانِيَّةَ. (رواه الترمذى)

হাদীসের ব্যাখ্যা:

এই হুলব তারা প্রথমে খ্রীষ্টান ছিলেন। পরবর্তীতে যখন আল্লাহ্ তা'আলা তাকে ঈমান ও ইসলাম দান করলেন, তখন খ্রীষ্টানদের খাবার ও তাদের যবেহ কৃত গোশত খাওয়ার ব্যাপারে তার অন্তরে খটকা ও সংশয় সৃষ্টি হয়। তাই তিনি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)কে এ ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করলেন। হুযুর (ﷺ) উত্তরে বললেন যে, এ ব্যাপারে তোমার অন্তরে কোন খটকা ও সংশয় না থাকা চাই। অর্থাৎ, আমাদের শরী‘আতে তাদের খাবার ও যবেহকৃত পশুর গোশত খাওয়া জায়েয। কুরআন পাকে সুস্পষ্টভাবে বলা হয়েছে: وَطَعَامُ الَّذِیۡنَ اُوۡتُوا الۡکِتٰبَ حِلٌّ لَّکُمۡ অর্থাৎ, আহলে কিতাবদের খাবার তোমাদের জন্য হালাল। তিনি একথাও বললেন যে, খাবারের বেলায় এই সংকীর্ণতা খ্রীষ্টান পাদ্রীদের রীতি। তাই তুমি যদি ঐ রীতিই অবলম্বন কর, তাহলে তাদের সমরূপই ধারণ করবে। অথচ আমাদের শরী‘আতে এ সংকীর্ণতা নেই; বরং প্রশস্ততা রয়েছে।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)
tahqiqতাহকীক:তাহকীক চলমান