মা'আরিফুল হাদীস
আযকার এবং দাওয়াত অধ্যায়
হাদীস নং: ৪৬
আযকার এবং দাওয়াত অধ্যায়
কুরআনের বিশেষ বিশেষ সূরা ও আয়াতের বরকত
কোন কোন হাদীসে বিশেষ বিশেষ সূরা ও আয়াতের ফযীলত ও বরকতও বর্ণনা করা হয়েছে। যেমন, হযরত আবু উমামা বাহেলী ও হযরত নাওয়াস ইবনে সামআন রাযি.-এর উপরে বর্ণিত হাদীসে পূর্ণ কুরআনের ফযীলতের সাথে সাথে সূরা বাকারা ও আলে ইমরানের ফযীলত বর্ণিত হয়েছে।
অনুরূপভাবে অন্যান্য কিছু সূরা ও আয়াতের ফযীলত ও বরকতও রাসূলুল্লাহ ﷺ বিভিন্ন স্থানে বর্ণনা করেছেন। নিম্নে এ ধারার কিছু হাদীসও আনা হচ্ছে।
কোন কোন হাদীসে বিশেষ বিশেষ সূরা ও আয়াতের ফযীলত ও বরকতও বর্ণনা করা হয়েছে। যেমন, হযরত আবু উমামা বাহেলী ও হযরত নাওয়াস ইবনে সামআন রাযি.-এর উপরে বর্ণিত হাদীসে পূর্ণ কুরআনের ফযীলতের সাথে সাথে সূরা বাকারা ও আলে ইমরানের ফযীলত বর্ণিত হয়েছে।
অনুরূপভাবে অন্যান্য কিছু সূরা ও আয়াতের ফযীলত ও বরকতও রাসূলুল্লাহ ﷺ বিভিন্ন স্থানে বর্ণনা করেছেন। নিম্নে এ ধারার কিছু হাদীসও আনা হচ্ছে।
৪৬. হযরত আবূ হুরায়রা রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ ﷺ উবাই ইবনে কা'বকে বললেন, তুমি কি এটা চাও যে, আমি তোমাকে কুরআনের এমন একটি সূরা শিখিয়ে দেই, যার তুল্য কোন সূরা তাওরাতেও নাযিল হয়নি; ইন্জীলেও নাযিল হয়নি, যবুরেও এবং স্বয়ং কুরআনের মধ্যেও নাযিল হয়নি? উবাই বললেন, হ্যাঁ, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আপনি বলে দিন। তিনি বললেন, তুমি নামাযে কেরাআত কিভাবে পাঠ কর? উবাই সূরা ফাতেহা পাঠ করে শুনালেন। রাসূলুল্লাহ ﷺ বললেন, ঐ সত্তার শপথ, যার হাতে আমার জীবন। তাওরাত, ইন্জীল, যবুর এবং স্বয়ং কুরআনেও এমন কোন সূরা নাযিল হয়নি। এটাই হচ্ছে বার বার পঠিত সাতটি আয়াত ও মহান কুরআন যা আমাকে দেওয়া হয়েছে। -তিরমিযী
کتاب الاذکار والدعوات
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: لِأُبَيِّ بْنِ كَعْبٍ أَتُحِبُّ أَنْ أُعَلِّمَكَ سُورَةً لَمْ يَنْزِلْ فِي التَّوْرَاةِ وَلاَ فِي الإِنْجِيلِ وَلاَ فِي الزَّبُورِ وَلاَ فِي القُرْآنِ مِثْلُهَا؟ قَالَ: نَعَمْ يَا رَسُولَ اللهِ، فَقَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: كَيْفَ تَقْرَأُ فِي الصَّلاَةِ؟ قَالَ: فَقَرَأَ أُمَّ القُرْآنِ، فَقَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ مَا أُنْزِلَتْ فِي التَّوْرَاةِ وَلاَ فِي الْإِنْجِيلِ وَلاَ فِي الزَّبُورِ وَلاَ فِي الفُرْقَانِ مِثْلُهَا، وَإِنَّهَا سَبْعٌ مِنَ الْمَثَانِي وَالقُرْآنُ الْعَظِيمُ الَّذِي أُعْطِيتُهُ. (رواه الترمذى)
হাদীসের ব্যাখ্যা:
কুরআন মজীদে সূরা হিজরের শেষ দিকে আল্লাহ্ তা'আলা রাসূলুল্লাহ ﷺ এর উপর তাঁর সবিশেষ অনুগ্রহের কথা উল্লেখ করতে গিয়ে বলেছেন:
وَلَقَدْ آتَيْنَاكَ سَبْعًا مِّنَ الْمَثَانِي وَالْقُرْآنَ الْعَظِيمَ
অর্থাৎ আমি আপনাকে বার বার পঠিতব্য সাতটি আয়াত ও মহান কুরআন দান করেছি। রাসূলুল্লাহ ﷺ উপরের হাদীসে ও আয়াতের দিকে ইশারা করে বলেছেন যে, বার বার পঠিতব্য সাত আয়াত ও মহান কুরআন হচ্ছে এই সূরায়ে ফাতেহা। আর এটা এমন মর্যাদাপূর্ণ ও বরকতময় সূরা যে, এ ধরনের কোন সূরা পূর্বেকার কোন আসমানী কিতাবে নাযিল করা হয়নি এবং কুরআন মজীদেও এমন দ্বিতীয় কোন সূরা নেই। এই সূরাটি কুরআন মজীদের সকল বিষয়বস্তুকে নিজের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করে আছে। এ জন্য এটাকে উম্মুল কুরআনও বলা হয়। আর এ কারণেই এটাকে কুরআনের প্রারম্ভিকা সাব্যস্ত করা হয়েছে এবং প্রত্যেক নামাযের প্রতি রাকাআতে এটা পাঠ করা আবশ্যক করে দেওয়া হয়েছে।
এ হাদীসের ভিত্তিতে বলা যায় যে, যে বান্দার সূরা ফাতেহা ইয়াদ রয়েছে এবং এখলাসের সাথে তার এটা পাঠ করার সৌভাগ্য হয়, মনে করতে হবে যে, আল্লাহ তা'আলার পক্ষ থেকে সেও বিরাট দৌলত ও নেয়ামত লাভ করে নিয়েছে। তাই সে যেন এর মর্যাদা ও মূল্য উপলব্ধি করে এবং এর হক আদায় করে যায়।
وَلَقَدْ آتَيْنَاكَ سَبْعًا مِّنَ الْمَثَانِي وَالْقُرْآنَ الْعَظِيمَ
অর্থাৎ আমি আপনাকে বার বার পঠিতব্য সাতটি আয়াত ও মহান কুরআন দান করেছি। রাসূলুল্লাহ ﷺ উপরের হাদীসে ও আয়াতের দিকে ইশারা করে বলেছেন যে, বার বার পঠিতব্য সাত আয়াত ও মহান কুরআন হচ্ছে এই সূরায়ে ফাতেহা। আর এটা এমন মর্যাদাপূর্ণ ও বরকতময় সূরা যে, এ ধরনের কোন সূরা পূর্বেকার কোন আসমানী কিতাবে নাযিল করা হয়নি এবং কুরআন মজীদেও এমন দ্বিতীয় কোন সূরা নেই। এই সূরাটি কুরআন মজীদের সকল বিষয়বস্তুকে নিজের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করে আছে। এ জন্য এটাকে উম্মুল কুরআনও বলা হয়। আর এ কারণেই এটাকে কুরআনের প্রারম্ভিকা সাব্যস্ত করা হয়েছে এবং প্রত্যেক নামাযের প্রতি রাকাআতে এটা পাঠ করা আবশ্যক করে দেওয়া হয়েছে।
এ হাদীসের ভিত্তিতে বলা যায় যে, যে বান্দার সূরা ফাতেহা ইয়াদ রয়েছে এবং এখলাসের সাথে তার এটা পাঠ করার সৌভাগ্য হয়, মনে করতে হবে যে, আল্লাহ তা'আলার পক্ষ থেকে সেও বিরাট দৌলত ও নেয়ামত লাভ করে নিয়েছে। তাই সে যেন এর মর্যাদা ও মূল্য উপলব্ধি করে এবং এর হক আদায় করে যায়।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)