মা'আরিফুল হাদীস
আযকার এবং দাওয়াত অধ্যায়
হাদীস নং: ৪৫
আযকার এবং দাওয়াত অধ্যায়
কেয়ামতের দিন কুরআন পাকের সুপারিশ
৪৫. হযরত নাওয়াস ইবনে সামআন রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ ﷺকে বলতে শুনেছি। কেয়ামতের দিন কুরআন ও কুরআনধারীদেরকে আনা হবে- যারা এর উপর আমল করত। সূরা বাকারা ও সূরা আলে ইমরান আগে আগে থাকবে এবং মনে হবে যে, যেন এগুলো দু'টি মেঘখণ্ড অথবা কালো বর্ণের দু'টি শামিয়ানা যেগুলোর মধ্যে নূরের ঝলক রয়েছে অথবা পাখীদের দু'টি ঝাঁক। এগুলো তাদের পাঠকদের পক্ষে সুপারিশ ও বিতর্ক করবে। -মুসলিম
کتاب الاذکار والدعوات
عَنِ النَّوَّاسَ بْنَ سَمْعَانَ قَالَ: سَمِعْتُ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، يَقُولُ: «يُؤْتَى بِالْقُرْآنِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ وَأَهْلِهِ الَّذِينَ كَانُوا يَعْمَلُونَ بِهِ تَقْدُمُهُ سُورَةُ الْبَقَرَةِ، وَآلُ عِمْرَانَ»، كَأَنَّهُمَا غَمَامَتَانِ، أَوْ ظُلَّتَانِ سَوْدَاوَانِ بَيْنَهُمَا شَرْقٌ، أَوْ كَأَنَّهُمَا فِرْقَانِ مِنْ طَيْرٍ صَوَافَّ، تُحَاجَّانِ عَنْ صَاحِبِهِمَا» (رواه مسلم)
হাদীসের ব্যাখ্যা:
এ হাদীসটির বিষয়বস্তু প্রায় হযরত আবু উমামা বাহেলী রাযি.-এর বর্ণিত হাদীসের মতই। হযরত আবূ উমামা বাহেলী রাযি. বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ ﷺকে বলতে শুনেছিঃ তোমরা কুরআন পাঠ কর। কেননা, এটা তার পাঠকারীদের জন্য সুপারিশকারী হয়ে আসবে। (বিশেষ করে) এর দু'টি নূরানী সূরা 'বাকারা' ও 'আলে ইমরান' পাঠ করে যাও। কেননা, এগুলো কেয়ামতের দিন তার পাঠকারীদেরকে এভাবে ছায়া করে নিয়ে আসবে যে, এগুলো যেন দু'টি মেঘখণ্ড অথবা শামিয়ানা অথবা পাখির ঝাঁক। এগুলো তার পাঠকদের পক্ষ থেকে (আযাব) প্রতিরোধ করবে। তোমরা সূরা বাকারা পাঠ কর। কেননা, এটা অর্জন করা খুবই বরকতের বিষয় আর বর্জন করা অত্যন্ত আক্ষেপ ও অনুতাপের ব্যাপার। আর অলস লোকেরা এটা করতে পারবে না।
কেয়ামত ও হাশরের ময়দানের ভয়াবহ দৃশ্যের কথা একটু চিন্তা করুন এবং এটাও ভেবে দেখুন যে, কত ভাগ্যবান হবে আল্লাহর ঐসব বান্দারা, যারা কুরআনের সাথে মহব্বত ও সম্পর্ক রাখার কারণে এবং এর আহকামের অনুসরণের বরকতে হাশরের ঐ ভয়াবহ ময়দানে এ অবস্থায় আসবে যে, আল্লাহর পাক কালাম তাদের সুপারিশকারী ও উকিল হয়ে তাদের সাথে থাকবে। কুরআনের প্রথম ও গুরুত্বপূর্ণ নূরানী সূরা, সূরা বাকারা ও আলে ইমরান তাদের উপর ছায়াপাত করে থাকবে। এসব হাদীসের উপর অবগতি লাভের পরও যেসব বান্দা এ সৌভাগ্য অর্জনে ত্রুটি করবে, নিঃসন্দেহে তারা চরম বঞ্চিত।
কেয়ামত ও হাশরের ময়দানের ভয়াবহ দৃশ্যের কথা একটু চিন্তা করুন এবং এটাও ভেবে দেখুন যে, কত ভাগ্যবান হবে আল্লাহর ঐসব বান্দারা, যারা কুরআনের সাথে মহব্বত ও সম্পর্ক রাখার কারণে এবং এর আহকামের অনুসরণের বরকতে হাশরের ঐ ভয়াবহ ময়দানে এ অবস্থায় আসবে যে, আল্লাহর পাক কালাম তাদের সুপারিশকারী ও উকিল হয়ে তাদের সাথে থাকবে। কুরআনের প্রথম ও গুরুত্বপূর্ণ নূরানী সূরা, সূরা বাকারা ও আলে ইমরান তাদের উপর ছায়াপাত করে থাকবে। এসব হাদীসের উপর অবগতি লাভের পরও যেসব বান্দা এ সৌভাগ্য অর্জনে ত্রুটি করবে, নিঃসন্দেহে তারা চরম বঞ্চিত।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)