মা'আরিফুল হাদীস
রোযা অধ্যায়
হাদীস নং: ১২৮
রোযা অধ্যায়
আশুরার দিনের রোযা ও এর ঐতিহাসিক গুরুত্ব
১২৮. হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যখন আশুরার দিন রোযা রাখার অভ্যাস বানিয়ে নিলেন (এবং অন্যদেরকেও এ দিন রোযা রাখার হুকুম দিলেন, তখন কিছু সংখ্যক সাহাবী আরয করলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! এ দিনকে তো ইয়াহুদী ও নাসারাগণ বিরাট দিন হিসাবে পালন করে এবং এটা যেন তাদের জাতীয় ও ধর্মীয় প্রতীক। তাই এ দিন রোযা রাখলে তাদের সাথে আমাদের হিস্যাদারী ও সাদৃশ্য হয়ে যায়। তাই এর মধ্যে কি এমন কোন পরিবর্তন আনা যায়, যার দ্বারা এ সাদৃশ্য আর বাকী না থাকে?) রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ ইন্শাআল্লাহ, যখন আগামী বছর আসবে, তখন আমরা নবম তারিখে রোযা রাখব। ইবনে আব্বাস রাযি. বলেন, কিন্তু আগামী বছরের মুহাররম মাস আসার আগেই রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ইন্তিকাল করে গেলেন। -মুসলিম
کتاب الصوم
عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنَ عَبَّاسٍ ، قَالَ : حِينَ صَامَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَوْمَ عَاشُورَاءَ وَأَمَرَ بِصِيَامِهِ ، قَالُوا : يَا رَسُولَ اللهِ إِنَّهُ يَوْمٌ يُعَظِّمُهُ الْيَهُودُ وَالنَّصَارَى ، فَقَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : " إِذَا كَانَ الْعَامُ الْمُقْبِلُ إِنْ شَاءَ اللهُ صُمْنَا يَوْمَ التَّاسِعِ ". قَالَ : فَلَمْ يَأْتِ الْعَامُ الْمُقْبِلُ حَتَّى تُوُفِّيَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ. (رواه مسلم)
হাদীসের ব্যাখ্যা:
একথা স্পষ্ট যে, সাহাবায়ে কেরামের আপত্তি পেশ করার পর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ওফাতের কিছুকাল পূর্বে এ কথাটি বলেছিলেন। এতটুকু পূর্বে যে, এর পর তাঁর জীবদ্দশায় মুহাররম মাস আর আসেই নাই, আর এজন্য এ নতুন সিদ্ধান্তের উপর আমল করা আর হুযুর (ﷺ)-এর জীবনে সম্ভব হয়নি। কিন্তু উম্মত পথনির্দেশ পেয়ে গেল যে, এ ধরনের হিস্যাদারী ও সাদৃশ্য থেকে বেঁচে থাকা চাই। যেমন তিনি এ উদ্দেশ্যে আগেই সিদ্ধান্ত নিয়ে নিলেন যে, ইন্শাআল্লাহ্ আগামী বছর আমরা নবম তারিখে রোযা রাখব।
মুহাররম মাসের নয় তারিখে রোযা রাখার যে সিদ্ধান্ত তিনি নিয়েছিলেন, এর দু'টি অর্থ হতে পারে। (১) আমরা আগামীতে ১০ তারিখের স্থলে ৯ই মুহাররম এ রোযা রাখব। (২) আগামীতে ১০ তারিখের সাথে আমরা ৯ তারিখেও রোযা রেখে নিব এবং এভাবে আমাদের এবং ইয়াহুদী ও নাসারাদের আমলের মধ্যে পার্থক্য হয়ে যাবে। অধিকাংশ ওলামায়ে কেরাম এ দ্বিতীয় অর্থটিকেই প্রাধান্য দিয়েছেন এবং বলেছেন যে, আশুরা দিবসের সাথে এর আগে নয় তারিখের রোযাও রেখে নেওয়া চাই। আর যদি কোন কারণে নয় তারিখে রাখা সম্ভব না হয়, তাহলে তার পরের দিন অর্থাৎ, ১১ তারিখে রোযা রেখে নেওয়া হবে।
অধম সংকলন নিবেদন করছে যে, আমাদের যুগে যেহেতু ইয়াহুদী ও নাসারগণ আশুরা দিবসে (১০ই মুহাররম) রোযা রাখে না; বরং তাদের কোন কর্মকান্ডই চান্দ্র মাসের হিসাবে হয় না, তাই বর্তমানে কোন প্রকার সাদৃশ্যের প্রশ্নই থাকে না। অতএব, আমাদের যুগে সাদৃশ্য দূর করার জন্য ৯ তারিখে অথবা ১১ তারিখে রোযা রাখার প্রয়োজন আছে বলে মনে হয় না।
মুহাররম মাসের নয় তারিখে রোযা রাখার যে সিদ্ধান্ত তিনি নিয়েছিলেন, এর দু'টি অর্থ হতে পারে। (১) আমরা আগামীতে ১০ তারিখের স্থলে ৯ই মুহাররম এ রোযা রাখব। (২) আগামীতে ১০ তারিখের সাথে আমরা ৯ তারিখেও রোযা রেখে নিব এবং এভাবে আমাদের এবং ইয়াহুদী ও নাসারাদের আমলের মধ্যে পার্থক্য হয়ে যাবে। অধিকাংশ ওলামায়ে কেরাম এ দ্বিতীয় অর্থটিকেই প্রাধান্য দিয়েছেন এবং বলেছেন যে, আশুরা দিবসের সাথে এর আগে নয় তারিখের রোযাও রেখে নেওয়া চাই। আর যদি কোন কারণে নয় তারিখে রাখা সম্ভব না হয়, তাহলে তার পরের দিন অর্থাৎ, ১১ তারিখে রোযা রেখে নেওয়া হবে।
অধম সংকলন নিবেদন করছে যে, আমাদের যুগে যেহেতু ইয়াহুদী ও নাসারগণ আশুরা দিবসে (১০ই মুহাররম) রোযা রাখে না; বরং তাদের কোন কর্মকান্ডই চান্দ্র মাসের হিসাবে হয় না, তাই বর্তমানে কোন প্রকার সাদৃশ্যের প্রশ্নই থাকে না। অতএব, আমাদের যুগে সাদৃশ্য দূর করার জন্য ৯ তারিখে অথবা ১১ তারিখে রোযা রাখার প্রয়োজন আছে বলে মনে হয় না।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)