মুসনাদে আহমদ- ইমাম আহমদ রহঃ (আল-ফাতহুর রব্বানী)
ধৈর্য ও এর প্রতি উৎসাহ প্রদান এবং ধৈর্য অবলম্বনকারীর জন্য আল্লাহ্ বিরাট পুরস্কার ও গুরুত্বপূর্ণ মর্যাদা তৈরি করে রেখেছেন
হাদীস নং: ৭১
ধৈর্য ও এর প্রতি উৎসাহ প্রদান এবং ধৈর্য অবলম্বনকারীর জন্য আল্লাহ্ বিরাট পুরস্কার ও গুরুত্বপূর্ণ মর্যাদা তৈরি করে রেখেছেন
পরিচ্ছেদ: উম্মে সুলাইম, তার স্বামী আবু তালহা (রা)-এর সন্তানের মৃত্যুর ঘটনা
৭১. আনাস (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আবূ তালহার ঔরষজাত উম্মে সুলাইমের ছেলে মারা গেলো। তখন উম্মে সুলাইম (রা) তার পরিবারের লোকদের বললো, আবূ তালহাকে তাঁর ছেলের সংবাদ দিওনা, যতক্ষণ আমি না বলি। তিনি বলেন, এরপর আবু তালহা (রা) আসলেন। উম্মে সুলাইম (রা) রাতের খানা সামনে উপস্থিত করলে তিনি পানাহার করলেন, তারপর উম্মে সুলাইম ভাল মতে সাজ-সজ্জা করলেন, যেভাবে পূর্বে করতেন, এরপর আবু তালহা (রা) তাঁর সাথে মিলিত হলেন। যখন উম্মে সুলাইম (রা) দেখলেন, তিনি মিলনে পরিতৃপ্ত হয়েছেন, তখন তাঁকে বললেন, হে আবু তালহা। যদি কেউ কাউকে কোন জিনিস ধার দেয়, এরপর তা নিয়ে নেয়, তবে কি সে তা ফিরাতে পারে? আবু তালহা বললেন, না। তখন উম্মে সুলাইম বললেন, আমি তোমার ছেলের মৃত্যুর সংবাদ দিচ্ছি। তখন আবু তালহা (রা) রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিকট গিয়ে তাঁকে এ খবরটি দিলেন। তখন রাসূল (ﷺ) বললেন, তোমাদের বিগত রাতটিকে আল্লাহ্ তা'আলা বরকত দিন। তাঁর দু'আর বরকতে উম্মে সুলায়ম অন্তঃসত্তা হয়। রাসূল (ﷺ) সফরে ছিলেন। উম্মে সুলাইম ও তাঁর সাথে সফরে ছিলেন। তিনি যখন সফর থেকে ফিরতেন, তখন রাতের বেলায় মদীনায় প্রবেশ করতেন না। লোকেরা যখন মদীনার কাছে পৌঁছলো, তখন উম্মে সুলাইমের প্রথম বেদনা শুরু হলো। আবু তালহা (রা) তার কাছে থেকে গেলেন, আর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) চলে গেলেন। আবু তালহা বললেন, হে আমার রব! তুমি তো জান যে, তোমার রাসূলের সাথে বের হতে আমার ভাল লাগে, যখন তিনি বের হন, আর তাঁর সাথে প্রবেশ করতে ভাল লাগে, যখন তিনি প্রবেশ করেন। কিন্তু তুমি তো অবগত আছ, কেন আমি থেকে গিয়েছি। রাবী বলেন, উম্মে সুলায়ম (রা) বললেন, হে আবু তালহা। পূর্বের মত আমার বেদনা নেই, চল আমরা চলে যাই। এরপর আমরা মদীনায় পৌছলে উম্মে সুলাইমের প্রসব বেদনা পুনরায় শুরু হলো। আর তিনি একটি শিশু পুত্র প্রসব করলেন। আমার মা বললেন, হে আনাস! শিশুটিকে যেন কেউ দুধপান না করায়, যতক্ষণ না তুমি তাকে ভোরবেলা রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর কাছে নিয়ে যাও। সকাল হলে আমি শিশুটিকে নিয়ে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর কাছে গেলাম। আমি দেখলাম, তাঁর হাতে উট দাগানোর যন্ত্র। তিনি আমাকে দেখে বললেন, সম্ভবত উম্মে সুলাইম এ ছেলেটি প্রসব করেছে। আমি বললাম, হ্যাঁ। বর্ণনাকারী বলেন, তিনি যন্ত্রটি হাত থেকে রেখে দিলেন এবং আমি শিশুটিকে তাঁর কোলে রাখলাম। তিনি মদীনার আজওয়া খেজুর আনালেন এবং নিজের মুখে দিয়ে চিবালেন, যখন খেজুর গলে গেল, তখন শিশুর মুখে দিলেন। শিশুটি চুষতে লাগলো। তিনি বললেন, দেখ আনসারদের খেজুর প্রীতি। পরে তিনি শিশুর মুখে হাত বুলালেন এবং তার নাম রাখলেন 'আবদুল্লাহ'।
(দ্বিতীয় বর্ণনায়) আনাস ইবন মালিক (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আবু তালহা (রা) উম্মে সুলাইমকে বিবাহ করেছিলেন। তিনি ছিলেন আনাস ইবনে মালিক ও বারা ইবনে মালেকের মা। তার একটি সন্তান জন্মগ্রহণ করে, তিনি তাকে খুবই ভালবাসতেন, অতঃপর ছেলেটি কঠিন রোগে আক্রান্ত হয়। আবূ তালহা সকাল বেলা অযু করে রাসূল (ﷺ)-এর সাথে ফযরের নামাযে দাঁড়াতেন এবং অর্ধেক রাত পর্যন্ত জ্ঞান শিক্ষা করার জন্য তাঁর নিকট অবস্থান করতেন, এরপর তিনি ফিরে আসতেন এবং খাওয়া দাওয়া করতেন। এরপর জোহরের নামায পড়ে নিজের প্রয়োজনীয় কাজ কর্ম শেষ করে নিতেন, তারপর চলে যেতেন ঈশার নামাযের সময় পর্যন্ত তিনি আর ফিরে আসতেন না। তিনি ঈশার সময় চলে গেলে এ সময় সন্তানটি মারা যায়, বর্ণনাকারী বলেন তারপর আবু তালহা ঈশার সময় ফিরে আসে, তার পূর্বেই উম্মে সুলাইম সন্তানকে একটি চাদর দিয়ে ঢেকে রাখেন এবং ব্যাপারটি গোপন রাখেন, (অর্থাৎ আবু তালহাকে মৃত্যুর সংবাদ দেননি) আবু তালহা (রা) উম্মে সুলাইমকে বললো, ছেলেটি কিভাবে রাত কাটাচ্ছে? উম্মে সুলাইম বললেন, হে আবু তালহা। তোমার ছেলেটি অসুস্থতার কারণে আরাম করছে। এরপর তার জন্য খানা উপস্থিত করা হলে তিনি খাদ্য গ্রহণ করলেন। শুভরাত্রির জন্য তিনি নিজেকে পরিপাটি করলেন, এরপর উঠে নিজেরে বিছানায় গেলেন এবং শুয়ে পড়লেন, উম্মে সুলাইম বলেন, তারপর আমি ও উঠলাম, সাজ সজ্জা করলাম, তারপর তার বিছানায় প্রবেশ করলাম। তখন আমি তার কাছে উত্তম সুগন্ধি পেলাম, যা কেউ তার পরিবারের নিকট আসতে ব্যবহার করে না। এরপর সকাল বেলা পূর্বের ন্যায় আবু তালহা উঠে চলে যান, (অর্থাৎ সকাল বেলা রাসূলের মজলিশে কাটাতেন, দুপুরের পর জীবিকা অর্জন করতেন)। উম্মে সুলায়ম আবু তালহাকে বললেন, হে আবু তালহা। তোমার কি মত, যদি কোন ব্যক্তি তোমার কাছে কোন কিছু আমানত রাখে, তুমি তা ভোগ কর। এরপর সে তা ফেরৎ চায়, এবং তোমার কাছ থেকে নিয়ে নেয়, এতে কি তুমি ধৈর্য হারা হবে? সে বলল: না। তখন তিনি বললেন, তোমার ছেলেটি মারা গেছে। আনাস (রা) বলেন, এতে আবু তালহা দুঃখিত ও ব্যথিত হন। তিনি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিকট গিয়ে খাওয়া দাওয়া, সাজ গোজ ও উম্মে সুলাইমের সাথে তার সব বিষয়ের কথা বলেন। বর্ণনাকারী বলেন তখন রাসূল (ﷺ) বললেন, তোমরা উভয়ে কি বাসর রাত যাপন করবে? তোমাদের সন্তান তো তোমাদের পাশেই আছে। সে বললো, হ্যাঁ, হে আল্লাহর রাসূল (ﷺ)। তখন রাসূল (ﷺ) বললেন, আল্লাহ তোমাদের রাতটিতে বরকত দিন। সে রাতেই উম্মে সুলাইম অন্তঃসত্তা হলেন। এরপর তিনি একটি শিশু পুত্র সন্তান প্রসব করেন। সকাল বেলা আবূ তালহা আমাকে বললো, তাকে এক খণ্ড কাপড়ে জড়িয়ে নাও। শেষে তাকে নিয়ে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর কাছে আসলাম। সাথে মদীনার আজওয়া খেজুর নিলাম। তখন আমি সন্তানকে কাপড়ে জড়িয়ে নিলাম এবং তার প্রতি কোন দয়া ও খাওয়ার ব্যবস্থা করা হলো না, (অর্থাৎ উম্মে সুলাইমের প্রতি নির্দেশ ছিল প্রথমে সন্তানের মুখে রাসূলের লালা দিয়ে খাওয়া শুরু করাবেন।) অতঃপর আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল (ﷺ)। উম্মে সুলাইম একটি শিশু সন্তান প্রসব করেছে। রাসূল (ﷺ) বললেন, আল্লাহ্ মহান কি সন্তান দান করেছে? আমি বললাম, ছেলে। রাসূল (ﷺ) বললেন, সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, তাকে আমার কাছে নিয়ে এসো তখন তাকে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর কাছে দেওয়া হলো। রাসূল (ﷺ) তাকে চুমা দিয়ে আমাকে বললেন, তোমার কাছে কি আজওয়া খেজুর আছে? আমি বললাম, হ্যাঁ। এরপর আমি কিছু বের করলাম এবং রাসূলুল্লাহ (ﷺ) একটি খেজুর নিলেন এবং তা নিজের মুখে দিয়ে চিবাতে লাগলেন। এরপর খেজুরটি লালার সাথে মিশ্রিত হলে তিনি তা শিশুর মুখে দিলেন। তখন শিশুটি খেজুরের স্বাদ পেলে এবং সে খেজুরের স্বাদ ও রাসূলের লালা চুষতে লাগলো। আনাস (রা) বলেন, এই প্রথম রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর মুখের লালা কোন শিশুর পেটে প্রবেশ করলো। এরপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, দেখ, আনসারদের খেজুর প্রীতি। তখন তিনি তার নাম রাখলেন 'আবদুল্লাহ। তার থেকে বহু সন্তান জন্ম লাভ করে। (আবদুল্লাহর সাতজন সন্তান ছিল এবং সবাই কুরআনের হাফিয ছিল)
অন্য বর্ণনায় এগার জন সন্তান সবাই হাফিয ছিল। 'আবদুল্লাহ্ (রা) পারস্য যুদ্ধে শাহাদাত বরণ করেন।
(দ্বিতীয় বর্ণনায়) আনাস ইবন মালিক (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আবু তালহা (রা) উম্মে সুলাইমকে বিবাহ করেছিলেন। তিনি ছিলেন আনাস ইবনে মালিক ও বারা ইবনে মালেকের মা। তার একটি সন্তান জন্মগ্রহণ করে, তিনি তাকে খুবই ভালবাসতেন, অতঃপর ছেলেটি কঠিন রোগে আক্রান্ত হয়। আবূ তালহা সকাল বেলা অযু করে রাসূল (ﷺ)-এর সাথে ফযরের নামাযে দাঁড়াতেন এবং অর্ধেক রাত পর্যন্ত জ্ঞান শিক্ষা করার জন্য তাঁর নিকট অবস্থান করতেন, এরপর তিনি ফিরে আসতেন এবং খাওয়া দাওয়া করতেন। এরপর জোহরের নামায পড়ে নিজের প্রয়োজনীয় কাজ কর্ম শেষ করে নিতেন, তারপর চলে যেতেন ঈশার নামাযের সময় পর্যন্ত তিনি আর ফিরে আসতেন না। তিনি ঈশার সময় চলে গেলে এ সময় সন্তানটি মারা যায়, বর্ণনাকারী বলেন তারপর আবু তালহা ঈশার সময় ফিরে আসে, তার পূর্বেই উম্মে সুলাইম সন্তানকে একটি চাদর দিয়ে ঢেকে রাখেন এবং ব্যাপারটি গোপন রাখেন, (অর্থাৎ আবু তালহাকে মৃত্যুর সংবাদ দেননি) আবু তালহা (রা) উম্মে সুলাইমকে বললো, ছেলেটি কিভাবে রাত কাটাচ্ছে? উম্মে সুলাইম বললেন, হে আবু তালহা। তোমার ছেলেটি অসুস্থতার কারণে আরাম করছে। এরপর তার জন্য খানা উপস্থিত করা হলে তিনি খাদ্য গ্রহণ করলেন। শুভরাত্রির জন্য তিনি নিজেকে পরিপাটি করলেন, এরপর উঠে নিজেরে বিছানায় গেলেন এবং শুয়ে পড়লেন, উম্মে সুলাইম বলেন, তারপর আমি ও উঠলাম, সাজ সজ্জা করলাম, তারপর তার বিছানায় প্রবেশ করলাম। তখন আমি তার কাছে উত্তম সুগন্ধি পেলাম, যা কেউ তার পরিবারের নিকট আসতে ব্যবহার করে না। এরপর সকাল বেলা পূর্বের ন্যায় আবু তালহা উঠে চলে যান, (অর্থাৎ সকাল বেলা রাসূলের মজলিশে কাটাতেন, দুপুরের পর জীবিকা অর্জন করতেন)। উম্মে সুলায়ম আবু তালহাকে বললেন, হে আবু তালহা। তোমার কি মত, যদি কোন ব্যক্তি তোমার কাছে কোন কিছু আমানত রাখে, তুমি তা ভোগ কর। এরপর সে তা ফেরৎ চায়, এবং তোমার কাছ থেকে নিয়ে নেয়, এতে কি তুমি ধৈর্য হারা হবে? সে বলল: না। তখন তিনি বললেন, তোমার ছেলেটি মারা গেছে। আনাস (রা) বলেন, এতে আবু তালহা দুঃখিত ও ব্যথিত হন। তিনি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিকট গিয়ে খাওয়া দাওয়া, সাজ গোজ ও উম্মে সুলাইমের সাথে তার সব বিষয়ের কথা বলেন। বর্ণনাকারী বলেন তখন রাসূল (ﷺ) বললেন, তোমরা উভয়ে কি বাসর রাত যাপন করবে? তোমাদের সন্তান তো তোমাদের পাশেই আছে। সে বললো, হ্যাঁ, হে আল্লাহর রাসূল (ﷺ)। তখন রাসূল (ﷺ) বললেন, আল্লাহ তোমাদের রাতটিতে বরকত দিন। সে রাতেই উম্মে সুলাইম অন্তঃসত্তা হলেন। এরপর তিনি একটি শিশু পুত্র সন্তান প্রসব করেন। সকাল বেলা আবূ তালহা আমাকে বললো, তাকে এক খণ্ড কাপড়ে জড়িয়ে নাও। শেষে তাকে নিয়ে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর কাছে আসলাম। সাথে মদীনার আজওয়া খেজুর নিলাম। তখন আমি সন্তানকে কাপড়ে জড়িয়ে নিলাম এবং তার প্রতি কোন দয়া ও খাওয়ার ব্যবস্থা করা হলো না, (অর্থাৎ উম্মে সুলাইমের প্রতি নির্দেশ ছিল প্রথমে সন্তানের মুখে রাসূলের লালা দিয়ে খাওয়া শুরু করাবেন।) অতঃপর আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল (ﷺ)। উম্মে সুলাইম একটি শিশু সন্তান প্রসব করেছে। রাসূল (ﷺ) বললেন, আল্লাহ্ মহান কি সন্তান দান করেছে? আমি বললাম, ছেলে। রাসূল (ﷺ) বললেন, সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, তাকে আমার কাছে নিয়ে এসো তখন তাকে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর কাছে দেওয়া হলো। রাসূল (ﷺ) তাকে চুমা দিয়ে আমাকে বললেন, তোমার কাছে কি আজওয়া খেজুর আছে? আমি বললাম, হ্যাঁ। এরপর আমি কিছু বের করলাম এবং রাসূলুল্লাহ (ﷺ) একটি খেজুর নিলেন এবং তা নিজের মুখে দিয়ে চিবাতে লাগলেন। এরপর খেজুরটি লালার সাথে মিশ্রিত হলে তিনি তা শিশুর মুখে দিলেন। তখন শিশুটি খেজুরের স্বাদ পেলে এবং সে খেজুরের স্বাদ ও রাসূলের লালা চুষতে লাগলো। আনাস (রা) বলেন, এই প্রথম রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর মুখের লালা কোন শিশুর পেটে প্রবেশ করলো। এরপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, দেখ, আনসারদের খেজুর প্রীতি। তখন তিনি তার নাম রাখলেন 'আবদুল্লাহ। তার থেকে বহু সন্তান জন্ম লাভ করে। (আবদুল্লাহর সাতজন সন্তান ছিল এবং সবাই কুরআনের হাফিয ছিল)
অন্য বর্ণনায় এগার জন সন্তান সবাই হাফিয ছিল। 'আবদুল্লাহ্ (রা) পারস্য যুদ্ধে শাহাদাত বরণ করেন।
كتاب الصبر والترغيب فيه وما أعده الله لصاحبه من الأجر العظيم والفضل الجسيم
باب قصة أم سليم مع زوجها أبي طلحة الأنصاري رضي الله عنهما عندما توفي ولدهما
عن أنس قال مات ابن لأبي طلحة (8) من أم سليم فقالت لأهلها لا تحدثوا أبا طلحة بابنه حتى أكون انا أحدثه قال فجاء فقربت إليه عشاءا فأكل وشرب قال ثم تصنعت له أحسن ما كانت تصنع قبل ذلك (9) فوقع بها فلما رأت أنه قد شبع وأصاب منها قالت يا أبا طلحة أرأيت أن قوماً أعاروا عاريتهم أهل بيت وطلبوا عاريتهم الهم أن يمنعوهم؟ قال لا (1) قالت فاحتسب ابنك فانطلق حتى أتى رسول الله صلى الله عليه وسلم فأخبره بما كان فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم بارك الله لكما في غابر (2) ليلتكما قال فحملت قال فكان رسول الله صلى الله عليه وسلم في سفر وهي معه وكان رسول الله صلى الله عليه وسلم إذا أتى المدينة من سفر لا يطرقها طروقا (3) فدنوا من المدينة فضربها المخاض (4) واحتبس عليها أبو طلحة (5) وانطلق رسول الله صلى الله عليه وسلم فقال أبو طلحة يا رب إنك لتعلم أنه يعجبني أن أخرج مع رسولك إذا خرج وادخل معه إذا دخل وقد احتبست بما ترى (6) قال تقول أم سليم يا أبا طلحة ما اجد الذي كنت أجد (7) فانطلقنا قال وضربها المخاض حين قدموا فولدت غلاما (8) فقالت لي أمي يا أنس لا يرضعنه أحد حتى تغدوا به على رسول الله صلى الله عليه وسلم قال فصادفته ومعه ميسم (9) فلما رآني قال لعل أم سليم ولدت؟ قلت نعم فوضع الميسم قال فجئت به فوضعته في حجره قال ودعا رسول الله صلى الله عليه وسلم بعجوة من عجوة المدينة فلاكها في فيه حتى ذابت ثم قذفها في الصبي (10) فجعل الصبي يتلمظ (11) فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم انظروا إلى حب الأنصار التمر قال فمسح وجهه وسماه عبد الله (12) (ومن طريق ثان) (13) (فر) عن ابن سيرين عن أنس بن مالك قال تزوج أبو طلحة من أم سليم وهي أم أنس (بن مالك) والبراء قال فولدت له بنيا قال فكان يحبه حبا شديدا قال فمرض الغلام مرضا شديدا فكان أبو طلحة يقوم صلاة الغداة يتوضأ ويأتي النبي صلى الله عليه وسلم فيصلي (14) معه ويكون معه إلى قريب من نصف النهار (15) ويجيئ يقيل ويأكل فإذا صلى الظهر تهيأ (16) وذهب فلم يجيئ إلى صلاة العتمة (17) قال فراح عشية ومات الصبي قال وجاء أبو طلحة قال نسجت عليه ثوبا وتركته (1) قال فقال لها أبو طلحة يا أم سليم كيف بيات بني الليلة؟ قالت يا أبا طلحة ما كان ابنك منذ اشتكى اسكن منه الليلة (2) قال ثم جاءته بالطعام فأكل وطابت نفسه قال فقام إلى فراشه فوضع رأسه قالت وقمت أنا فمسست شيئا من طيب ثم جئت حتى دخلت معه الفراش فما هو إلا أن وجد ريح الطيب كان منه ما يكون من الرجل إلى أهله قال ثم أصبح أبو طلحة يتهيأ كما كان يتهيأ كل يوم (3) قال فقالت له يا أبا طلحة أرأيت لو أن رجلا استودعك وديعة فاستمتعت بها ثم طلبها فأخذها منك تجزع من ذلك؟ قال لا قلت فإن ابنك قد مات قال أنس فجزع عليه جزعا شديدا وحدث رسول الله صلى الله عليه وسلم بما كان من أمرها في الطعام والطيب وما كان منه اليها قال فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم فبتما عروسين وهو إلى جنبكما؟ قال نعم يا رسول الله فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم بارك الله لكما في ليلتكما (4) قال فحملت أم سليم تلك الليلة قال فتلد غلاما قال فحين أصبحنا قال أبو طلحة احمله في خرقة حتى تأتي به رسول الله صلى الله عليه وسلم واحمل معك تمرة عجوة قال فحملته في خرقة قال ولم يحنك ولم يذق طعاما ولا شيئا (5) قال فقلت يا رسول الله ولدت أم سليم قال الله أكبر ما ولدت؟ قلت غلاما قال الحمد لله فقال هاته لي فدفعته إليه فحنكه (6) رسول الله صلى الله عليه وسلم ثم قال لي معك تمر عجوة؟ قلت نعم فأخرجت تمرات فأخذ رسول الله صلى الله عليه وسلم تمرة والقاها في فيه فمازال رسول الله صلى الله عليه وسلم يلوكها حتى اختلطت بريقه ثم دفعه الصبي فما هو إلا أن وجد الصبي حلاوة التمر جعل يمص بعض حلاوة التمر وريق رسول الله صلى الله عليه وسلم قال أنس فكان أول من فتح أمعاء ذلك الصبي على ريق رسول الله صلى الله عليه وسلم فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم حب الأنصار التمر فسمي عبد الله بن طلحة قال فخرج منه رجل كثير (7) قال واستشهد عبد الله بفارس