মুসনাদে আহমদ- ইমাম আহমদ রহঃ (আল-ফাতহুর রব্বানী)
সদ্ব্যবহার ও সুসম্পর্ক স্থাপন অধ্যায়
হাদীস নং: ১৪৯
সদ্ব্যবহার ও সুসম্পর্ক স্থাপন অধ্যায়
পরিচ্ছেদ: রাস্তা থেকে কষ্টদায়ক বস্তু দূর করা বিপথগামীকে পথ প্রদর্শন করা
১৪৯, আবু যর (রা) থেকে বর্ণিত। নবী করিম (ﷺ) বলেন, আমার উম্মতের ভালো ও মন্দ কার্যাবলী আমার সামনে পেশ করা হলে, আমি তাদের ভালো কার্যাবলীর মধ্যে যাতায়াতের পথ থেকে কষ্টদায়ক বস্তু সরানোও অন্তর্ভুক্ত দেখতে পেলাম এবং তাদের নিকৃষ্ট কার্যাবলীর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত মসজিদে থুথু ফেলাও দেখতে পেলাম, যা (মাটি দিয়ে) ঢেকে দেয়া হয়নি।
كتاب البر والصلة
باب الترغيب في إماطة الأذى عن الطريق وارشاد الضال
عن أبي ذرعن النبي صلى الله عليه وسلم قال عرضت علي أعمال أمتي حسنها وسيئها فرأيت في محاسن أعمالها الأذى يماط عن الطريق ورايت في مساوئ أعمالها النخاعة (2) تكون في المسجد لا تدفن
হাদীসের ব্যাখ্যা:
এ হাদীছে রাস্তা থেকে কষ্টদায়ক জিনিস সরানোকে একটি সৎকর্ম এবং মসজিদে দেখতে পাওয়া কফ ইত্যাদি না সরানোকে একটি অসৎ কর্মরূপে উল্লেখ করা হয়েছে। একটি প্রসিদ্ধ হাদীছে রাস্তা থেকে কষ্টদায়ক জিনিস সরানোকে ঈমানের সর্বনিম্ন শাখা বলা হয়েছে। কষ্টদায়ক জিনিস বলতে ইট, পাথর, কাঁটা, কাঠের টুকরা, আম-কলা প্রভৃতি ফলের খোসা, মানুষ বা পশুর বিষ্ঠা ইত্যাদি অনেক কিছুই হতে পারে। রাস্তায় এসব জিনিস পড়ে থাকলে মানুষের চলাচলে অনেক কষ্ট হয়ে থাকে। অনেক সময় এ কারণে বড় বড় দুর্ঘটনাও ঘটে যায়। তাই এগুলো সরিয়ে দেওয়াকে ঈমানের একটি শাখা এবং অনেক বড় ছাওয়াবের কাজ সাব্যস্ত করা হয়েছে। সুতরাং প্রকৃত মু'মিন রাস্তায় এমন কিছু দেখলে অবশ্যই সরিয়ে দেবে। এর দ্বারা রাস্তা পরিষ্কার রাখার গুরুত্ব বোঝা যায়। রাস্তায় ময়লা-আবর্জনা থাকলেও মানুষের চলাচলে কিছু না কিছু কষ্ট হয়। কাজেই ময়লা-আবর্জনা সরিয়ে রাস্তা পরিষ্কার করার কাজে অংশগ্রহণ করলে তাতেও ছাওয়াব হবে বৈ কি।
রাস্তা থেকে কষ্টদায়ক জিনিস সরিয়ে দেওয়া যখন ঈমানের শাখা ও ছাওয়াবের কাজ, তখন বলার অপেক্ষা রাখে না যে, কোনও কষ্টদায়ক জিনিস রাস্তায় ফেলা একটি ঈমানবিরোধী কাজ গণ্য হবে এবং যে তা ফেলবে সে অবশ্যই গুনাহগার হবে। কেননা তাতে মানুষের চলাচলে কষ্ট হবে আর মানুষকে কষ্ট দেওয়া একটি গুনাহের কাজ। কাজেই এর থেকে বিরত থাকা প্রত্যেক মু'মিনের অবশ্যকর্তব্য।
মসজিদ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা মসজিদের একটি গুরত্বপূর্ণ আদব। এ কাজে অংশগ্রহণ করতে পারাটা অনেক বড় সৌভাগ্যের বিষয় এবং একটি ছাওয়াবের কাজ। নবী কারীম সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম একবার মসজিদে শ্লেষ্মা দেখতে পেয়ে নিজ হাতে তা পরিষ্কার করেছিলেন। তো এটা পরিষ্কার করা যখন ছাওয়াবের কাজ, তখন এর দ্বারা মসজিদ নোংরা করা কি গুনাহের কাজ হবে না? অবশ্যই হবে। এক হাদীছে আছে-
«البُزَاقُ فِي المَسْجِدِ خَطِيئَةٌ وَكَفَّارَتُهَا دَفْنُهَا»
“মসজিদে থুথু ফেলা গুনাহ। এর কাফ্ফারা হচ্ছে তা দাফন করে দেওয়া।” সহীহ বুখারী, হাদীছ নং ৪১৫; সহীহ মুসলিম, হাদীছ নং ৫৫২; সুনানে আবু দাউদ, হাদীছ নং ৪৭৪; জামে তিরমিযী, হাদীছ নং ৫৭২; সুনানে নাসাঈ, হাদীছ নং ৭২৩
কাজেই কোনও মু'মিন মসজিদে থুথু, কফ ফেলতে পারে না। শিশু ও উন্মাদ হলে ভিন্ন কথা। কিংবা এমন কোনও নতুন মুসলিম, যার মসজিদের আদবকায়দা জানা নেই সেও মসজিদে থুথু কফ ফেলতে পারে। যদি কেউ এমন কাজ করে বসে, তবে যার চোখেই তা পড়বে তার কর্তব্য তা সরিয়ে বা মুছে মসজিদ পরিষ্কার করে ফেলা। দেখা সত্ত্বেও তা না করলে সে গুনাহগার হবে, যেমনটা এ হাদীছে বলা হয়েছে।
প্রকাশ থাকে যে, এ হাদীছে যে দাফন করার কথা বলা হয়েছে এটা সে কালের অবস্থা অনুযায়ী। তখন মসজিদে পাথরের নুড়ি বিছানো থাকত। তাই এরূপ ময়লা নুড়ির নিচে পুতে ফেলে মসজিদ পরিষ্কার করে ফেলা সম্ভব হত। পাকা মসজিদে এরূপ করা অসম্ভব। কাজেই এখন পরিষ্কার করতে হলে তা মুছে ধুয়ে ফেলতে হবে।
হাদীস থেকে শিক্ষণীয়ঃ
ক. এ হাদীছ দ্বারাও সৎকর্মের ব্যাপকতা বোঝা যায়। যেসব বস্তু দ্বারা মানুষ কোনওভাবে কষ্ট পেতে পারে তা সরানো এবং মানুষকে কষ্ট থেকে বাঁচানোও একটি সৎকর্ম, যা আমরা সহজেই করতে পারি।
খ. পাপকর্ম অনেক ব্যাপক। মানুষের চলাচল পথে কষ্টদায়ক বস্তু ফেলাও একটি পাপকর্ম। এর থেকে অবশ্যই বিরত থাকা উচিত।
গ. এ হাদীছ দ্বারা বোঝা যায় রাস্তাঘাট পরিষ্কার রাখতে সহযোগিতা করাও ছাওয়াবের কাজ। তাই আগ্রহের সাথে এতে অংশগ্রহণ করা উচিত।
ঘ. মসজিদকে নোংরা করা একটি গুনাহের কাজ। এর থেকেও বিরত থাকা অবশ্যকর্তব্য।
ঙ. মসজিদে নোংরা কিছু দেখে তা পরিষ্কার না করাও গুনাহ। সুতরাং এরকম কিছু দেখলে তা অবশ্যই পরিষ্কার করা চাই।
রাস্তা থেকে কষ্টদায়ক জিনিস সরিয়ে দেওয়া যখন ঈমানের শাখা ও ছাওয়াবের কাজ, তখন বলার অপেক্ষা রাখে না যে, কোনও কষ্টদায়ক জিনিস রাস্তায় ফেলা একটি ঈমানবিরোধী কাজ গণ্য হবে এবং যে তা ফেলবে সে অবশ্যই গুনাহগার হবে। কেননা তাতে মানুষের চলাচলে কষ্ট হবে আর মানুষকে কষ্ট দেওয়া একটি গুনাহের কাজ। কাজেই এর থেকে বিরত থাকা প্রত্যেক মু'মিনের অবশ্যকর্তব্য।
মসজিদ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা মসজিদের একটি গুরত্বপূর্ণ আদব। এ কাজে অংশগ্রহণ করতে পারাটা অনেক বড় সৌভাগ্যের বিষয় এবং একটি ছাওয়াবের কাজ। নবী কারীম সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম একবার মসজিদে শ্লেষ্মা দেখতে পেয়ে নিজ হাতে তা পরিষ্কার করেছিলেন। তো এটা পরিষ্কার করা যখন ছাওয়াবের কাজ, তখন এর দ্বারা মসজিদ নোংরা করা কি গুনাহের কাজ হবে না? অবশ্যই হবে। এক হাদীছে আছে-
«البُزَاقُ فِي المَسْجِدِ خَطِيئَةٌ وَكَفَّارَتُهَا دَفْنُهَا»
“মসজিদে থুথু ফেলা গুনাহ। এর কাফ্ফারা হচ্ছে তা দাফন করে দেওয়া।” সহীহ বুখারী, হাদীছ নং ৪১৫; সহীহ মুসলিম, হাদীছ নং ৫৫২; সুনানে আবু দাউদ, হাদীছ নং ৪৭৪; জামে তিরমিযী, হাদীছ নং ৫৭২; সুনানে নাসাঈ, হাদীছ নং ৭২৩
কাজেই কোনও মু'মিন মসজিদে থুথু, কফ ফেলতে পারে না। শিশু ও উন্মাদ হলে ভিন্ন কথা। কিংবা এমন কোনও নতুন মুসলিম, যার মসজিদের আদবকায়দা জানা নেই সেও মসজিদে থুথু কফ ফেলতে পারে। যদি কেউ এমন কাজ করে বসে, তবে যার চোখেই তা পড়বে তার কর্তব্য তা সরিয়ে বা মুছে মসজিদ পরিষ্কার করে ফেলা। দেখা সত্ত্বেও তা না করলে সে গুনাহগার হবে, যেমনটা এ হাদীছে বলা হয়েছে।
প্রকাশ থাকে যে, এ হাদীছে যে দাফন করার কথা বলা হয়েছে এটা সে কালের অবস্থা অনুযায়ী। তখন মসজিদে পাথরের নুড়ি বিছানো থাকত। তাই এরূপ ময়লা নুড়ির নিচে পুতে ফেলে মসজিদ পরিষ্কার করে ফেলা সম্ভব হত। পাকা মসজিদে এরূপ করা অসম্ভব। কাজেই এখন পরিষ্কার করতে হলে তা মুছে ধুয়ে ফেলতে হবে।
হাদীস থেকে শিক্ষণীয়ঃ
ক. এ হাদীছ দ্বারাও সৎকর্মের ব্যাপকতা বোঝা যায়। যেসব বস্তু দ্বারা মানুষ কোনওভাবে কষ্ট পেতে পারে তা সরানো এবং মানুষকে কষ্ট থেকে বাঁচানোও একটি সৎকর্ম, যা আমরা সহজেই করতে পারি।
খ. পাপকর্ম অনেক ব্যাপক। মানুষের চলাচল পথে কষ্টদায়ক বস্তু ফেলাও একটি পাপকর্ম। এর থেকে অবশ্যই বিরত থাকা উচিত।
গ. এ হাদীছ দ্বারা বোঝা যায় রাস্তাঘাট পরিষ্কার রাখতে সহযোগিতা করাও ছাওয়াবের কাজ। তাই আগ্রহের সাথে এতে অংশগ্রহণ করা উচিত।
ঘ. মসজিদকে নোংরা করা একটি গুনাহের কাজ। এর থেকেও বিরত থাকা অবশ্যকর্তব্য।
ঙ. মসজিদে নোংরা কিছু দেখে তা পরিষ্কার না করাও গুনাহ। সুতরাং এরকম কিছু দেখলে তা অবশ্যই পরিষ্কার করা চাই।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ রিয়াযুস সালিহীন (অনুবাদ- মাওলানা আবুল বাশার মুহাম্মাদ সাইফুল ইসলাম হাফি.)