মুসনাদে আহমদ- ইমাম আহমদ রহঃ (আল-ফাতহুর রব্বানী)

সদ্ব্যবহার ও সুসম্পর্ক স্থাপন অধ্যায়

হাদীস নং: ৪১
সদ্ব্যবহার ও সুসম্পর্ক স্থাপন অধ্যায়
পরিচ্ছেদ: সন্তানের উপকারিতা এবং তাদের প্রতি স্নেহ মমতা ও আদব কায়দা শিক্ষা দেওয়ার প্রতি উৎসাহ প্রদান
৪১. নু'মান ইবন বশীর (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমার পিতা বশীর আমাকে একটা জিনিস দান করেন। আমার মা বলেন, এ ব্যাপারে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে স্বাক্ষী রাখ। এ কথা বলে তিনি আমার হাত ধরে বললেন, শেষ পর্যন্ত আমরা রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিকট আসলাম। তখন নু'মান বললেন, হে আল্লাহর রাসূল (ﷺ) আমার পিতা আমাকে একটি জিনিস দান করার পর, আমার মা আমাকে বলে, যেন এ ব্যপারে আমি আপনাকে স্বাক্ষী রাখি, তাই এজন্য আমরা আপনার নিকট উপস্থিত হয়েছি। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) শান্ত ভাবে জিজ্ঞেস করলেন, তোমার কি অন্য কোন সন্তান আছে? সে বললো, হাঁ। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, তাকে যেভাবে দান করেছ, তুমি কি সকল সন্তানকে সেভাবে দান করেছ? সে জবাব দিল, না। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, এ ব্যাপারে আমাকে স্বাক্ষী রেখ না; অন্যায় কাজে আমি স্বাক্ষী দেব না। তোমার দায়িত্ব ছিল তুমি সকল সন্তানদের মধ্যে ইনসাফ ও সমান দৃষ্টি রাখবে।
(অন্য শব্দেঃ) রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, আমি অন্য বিষয় স্বাক্ষী দিব তারপর বললেন, তুমি কি তাদের সাথে সমান ও ইনসাফপূর্ণ ব্যবহার করে খুশী হতে চাও না? তিনি বললেন, হাঁ। অন্য শব্দে, তোমার কর্তব্য হলো সকল সন্তানদের মাঝে ইনসাফ করা, যেভাবে সন্তানদের দায়িত্ব হলো- তোমার সাথে উত্তম আচরণ করা।
كتاب البر والصلة
باب ما جاء في ثمرة الأولاد والترغيب في تأديبهم والعطف عليهم
عن النعمان ابن بشير قال ان ابي بشيرا وهب لي وهبة فقالت أمي (3) أشهد عليها رسول الله صلى الله عليه وسلم فأخذ بيدي فانطلق بي حتى أتينا رسول الله صلى الله عليه وسلم فقال يا رسول الله إن أم هذا الغلام سألتني أن أهب له هبة فوهبتها له فقالت أشهد عليها رسول الله صلى الله عليه وسلم فأتيتك لأشهدك فقال رويدك الك ولد غيره؟ قال نعم قال كلهم أعطيته كما أعطيته؟ قال لا قال فلا تشهدني إذا إني لا أشهد على جور (4) إن لبنيك عليك من الحق أن تعدل بينهم (5) (وفي لفظ آخر) فقال النبي صلى الله عليه وسلم فأشهد غيري ثم قال اليس يسرك أن يكونوا في البر سواء؟ قال بلى وفي لفظ إن لهم عليك من الحق أن تعدل بينهم كما إن لك عليهم من الحق أن يبروك

হাদীসের ব্যাখ্যা:

একথা স্পষ্ট যে, এ হাদীসে সন্তানদের সাথে অসম আচরণ করতে নিষেধ করা হয়েছে এবং এটাকে বেইনসাফী সাব্যস্ত করা হয়েছে। কোন কোন ফকীহ এটাকে হারাম পর্যন্ত বলেছেন। তবে অধিকাংশ ফকীহ এবং ইমাম চতুষ্টয়ের মধ্যে ইমাম আবু হানিফা, ইমাম মালেক ও ইমাম শাফেয়ী (রহ) কিছু কিছু দলীল ও ইঙ্গিতের ভিত্তিতে এটাকে হারাম তো বলেননি; কিন্তু মাকরূহ ও অত্যন্ত অপছন্দনীয় কাজ সাব্যস্ত করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে যে, এ বিধানটি কেবল ঐ অবস্থায়, যখন কাউকে প্রাধান্য দান শরী‘আতসম্মত কোন কারণ ছাড়াই হয়। কিন্তু যদি কোন কারণ থাকে, তাহলে এ কারণ অনুসারে কাউকে প্রাধান্য দেওয়া বৈধ হবে। যেমন, সন্তানদের মধ্যে কেউ যদি চিররোগী হয় এবং সে অন্য ভাইদের মত জীবিকা উপার্জনের চেষ্টা-সাধনা করতে না পারে, তাহলে তার সাথে বিশেষ আচরণ ন্যায়-নীতির পরিপন্থী হবে না; বরং এক পর্যায়ে জরুরী ও সওয়াবের কাজ বিবেচিত হবে। অনুরূপভাবে সন্তানদের মধ্য থেকে কেউ যদি নিজেকে দ্বীন ও জাতির খেদমতে এভাবে নিয়োজিত করে দেয় যে, জীবিকার চেষ্টায় বেশী অংশগ্রহণ করতে পারে না, তাহলে তার সাথেও উপযোগী পর্যায় পর্যন্ত বিশেষ আচরণ কেবল জায়েযই নয়; বরং সওয়াবের কাজ হবে। অনুরূপভাবে এক ভাইয়ের প্রতি বিশেষ ও প্রাধান্যমূলক আচরণ করাতে অন্য ভাইয়েরা যদি সন্তুষ্ট থাকে, তাহলেও এটা জায়েয হবে।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)
tahqiqতাহকীক:তাহকীক চলমান