মুসনাদে আহমদ- ইমাম আহমদ রহঃ (আল-ফাতহুর রব্বানী)

আল-কুরআন এর ফযীলত, তাফসীর ও শানে নুযূল অধ্যায়

হাদীস নং: ২৮৩
আল-কুরআন এর ফযীলত, তাফসীর ও শানে নুযূল অধ্যায়
সূরা আনফাল

পরিচ্ছেদ: "লোকে তোমাকে যুদ্ধলব্ধ সম্পদ সম্বন্ধে প্রশ্ন করে....।"
২৮৩। 'উবাদা ইব্‌ন সামিত (রা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সাথে যুদ্ধাভিযানে বের হয়ে তাঁর সাথে বদর যুদ্ধে অংশ নিলাম। উভয় দল মুখোমুখি হল। মহান আল্লাহ শত্রুবাহিনীকে পরাস্ত করলেন। যুদ্ধ শেষে আমাদের সেনাবাহিনীর একদল তাদেরকে বিতাড়িত করতে ও হত্যা করতে তাদের পশ্চাদ্বাবন করল, অপর একটি দল পরিত্যক্ত রসদপত্র ও যুদ্ধলব্ধ সম্পদ হস্তগত ও একত্রিত করার জন্য নিয়োজিত হল। অপর একটি দল রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর পাহারায় থাকল, যাতে সৈন্য বাহিনী রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর কোন ক্ষতি করতে না পারে। এভাবে রাত চলে আসল এবং সাহাবীরা পরস্পর পরস্পরের সাথে মিলিত হল। যারা গণীমত সংগ্রহে ব্যস্ত ছিল তারা বলল, আমরা ঐ দল যারা ঐ গণীমতের সম্পত্তি সংগ্রহ ও একত্রিত করেছি, তাই এতে অন্য কারো অংশ নেই। আর যারা শত্রুদের সন্ধানে বেরিয়েছিল তারা বলল, তোমরা এ ব্যাপারে আমাদের চেয়ে অধিক হকদার নও। আমরা শত্রুদের থেকে এ সম্পত্তি নিরাপদ করেছি এবং তাদেরকে পরাস্ত করেছি। আর যারা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর পাহারায় ছিল, তারা বলল, তোমরা এ সম্পত্তির ব্যাপারে আমাদের তুলনায় অধিক হকদার নও। আমরা রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে পাহারা দিয়েছি এবং তাঁকে শত্রুর নাগালের বাইরে রেখেছি, আমরা তাকে নিয়ে সার্বক্ষণিক ব্যস্ত ছিলাম। তখন নাজিল হয়, "লোকে তোমাকে যুদ্ধলব্ধ সম্পদ সম্বন্ধে প্রশ্ন করে। বল, যুদ্ধলব্ধ সম্পদ আল্লাহ এবং রাসূলের; সুতরাং আল্লাহকে ভয় কর এবং নিজেদের মধ্যে সদ্ভাব স্থাপন কর.....। (আল-কুরআন, ০৮: ০১)
সুতরাং রাসূলুল্লাহ (ﷺ) উক্ত সম্পদ মুসলমানদের মাঝে সমহারে বণ্টন করে দিলেন। বর্ণনাকারী বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যখন কোন শত্রু ভূমিতে বিজয় লাভ করতেন তখন অর্জিত সম্পদ চারভাগে ভাগ করতেন। অভিযান শেষে ফিরে এসে মানুষদেরকে তিনভাগ দিয়ে দিতেন। তিনি নিজের জন্য গণীমতের সম্পত্তি নেয়া অপছন্দ করতেন এবং বলতেন, শক্তিশালী মুমিনরা যেন তা দূর্বলদেরকে ফিরিয়ে দেয়। (অন্যসূত্র মতে,) আবূ উমামা বাহিলী (রা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি 'উবাদা ইবনুস সামিত (রা) কে সূরা আন্ফাল সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেন, এটা আমাদের কতিপয় বদরী সাহাবীকে কেন্দ্র করে নাজিল হয় যখন আমরা গনীমতের সম্পত্তির ব্যাপারে মত পার্থক্যে লিপ্ত হয়েছিলাম এবং আমাদের মত পার্থক্য চরমে পৌঁছে গিয়েছিল। তখন আল্লাহ সে সম্পদ আমাদের হাত থেকে ছিনিয়ে নিয়ে তা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর হাতে তুলে দিলেন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তখন মুসলমানদের মাঝে সমহারে বণ্টন করে দিলেন।
(মুস্তাদরাক, যাহাবী)
كتاب فضائل القرآن وتفسيره وأسباب نزوله
سورة الأنفال

باب يسألونك عن الانفال الخ
عن عبادة بن الصامت قال خرجنا مع النبي صلى الله عليه وسلم فشهدت معه بدرا فالتقى الناس فهزم الله تبارك وتعالى العدو فانطلقت طائفة في آثارهم يهزمون ويقتلون فأكبت طائفة على العسكر يحوونه ويجمعونه وأحدقت طائفة برسول الله صلى الله عليه وسلم لا يصيب العدو منه غرة حتى اذا كان الليل وفاء الناس بعضهم إلى بعض قال الذين جمعوا الغنائم نحن الذين حويناها وجمعناها فليس لأحد فيها نصيب وقال الذين خرجوا في طلب العدو لستم بأحق بها منا نحن نفينا عنها العدو وهزمناهم وقال الذين أحدقوا برسول الله صلى الله عليه وسلم لستم بأحق بها منا نحن أحدقنا برسول الله صلى الله عليه وسلم وخفنا أن يصيب العدو منه غرة واشتغلنا به فنزلت (يسألونك عن الأنفال قل الأنفال لله والرسول فاتقوا الله واصلحوا ذات بينكم) فقسمها رسول الله صلى الله عليه وسلم على فواق (يعني على السواء) بين المسلمين قال وكان رسول الله صلى الله عليه وسلم اذا أغار في أرض العدو نفل الربع واذا أقبل راجعا وكل الناس نفل الثلث وكان يكره الأنفال ويقول ليرد قوى المؤمنين على ضعيفهم (ومن طريق ثان) (1) عن أبي أمامة الباهلي رضي الله عنه قال سألت عبادة بن الصامت رضي الله عنه عن الأنفال (يعني سورة الأنفال) فقال فينا معشر أصحاب بدر نزلت حين اختلفنا في النفل وساءت فيه أخلاقنا فانتزعه الله من أيدينا وجعله إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم فقسمه رسول الله صلى الله عليه وسلم بين المسلمين عن بواء يقول عن السراء
tahqiqতাহকীক:তাহকীক চলমান