মুসনাদে আহমদ- ইমাম আহমদ রহঃ (আল-ফাতহুর রব্বানী)
আল-কুরআন এর ফযীলত, তাফসীর ও শানে নুযূল অধ্যায়
হাদীস নং: ২৮২
আল-কুরআন এর ফযীলত, তাফসীর ও শানে নুযূল অধ্যায়
পরিচ্ছেদ: "স্মরণ কর যখন তোমার প্রতিপালক আদম সন্তানের পৃষ্ঠদেশ হতে তার বংশধরকে বের করলেন"।
২৮২। উবাঈ ইব্ন কা'ব (রা) হতে বর্ণিত, তিনি মহান আল্লাহর বাণী, "স্মরণ কর, তোমার প্রতিপালক আদম সন্তানের পৃষ্ঠদেশ হতে তার বংশধরকে বের করেন এবং তাদের নিজেদের সম্বন্ধে স্বীকারোক্তি গ্রহন করেন...."(১) এর ব্যাপারে বলেন, মহান আল্লাহ আদম সন্তানদেরকে একত্র করলেন, অতঃপর তাদেরকে রূহ দান করলেন, তারপর তাদের আকৃতি দান করলেন, অতঃপর তাদের কথা বলার শক্তি দিলেন তখন তারা কথা বলল। তারপর তাদের নিজেদের সম্বন্ধে অঙ্গীকার ও প্রতিশ্রুতি নিলেন এবং তাদের নিজেদের ব্যাপারে স্বীকারোক্তি গ্রহণ করলেন 'আমি কি তোমাদের প্রতিপালক নই? তারা বলল, অবশ্যই। তখন আল্লাহ বললেন আমি তোমাদের ব্যাপারে সপ্ত আসমান ও সপ্ত জমীনকে সাক্ষী রাখলাম, আমি আরও তোমাদের ব্যাপারে সাক্ষী রাখলাম তোমাদের পিতা আদম (আ)-কে, যাতে তোমরা কিয়ামতের দিন বলতে না পারো আমরা এ ব্যাপারে ইতোপূর্বে কিছুই জানি নি। জেনে রেখো, আমি ছাড়া তোমাদের কোন উপাস্য নাই, আমি ছাড়া তোমাদের আর কোন প্রতিপালক নাই, তাই তোমরা আমার সাথে কাউকে শরীক করো না। আমি অতি সত্ত্বর তোমাদের নিকট আমার রসুলদের প্রেরণ করব যারা তোমাদেরকে আমার সাথে কৃত অঙ্গীকার ও চুক্তি স্মরণ করিয়ে দিবে, আর আমি তোমাদের প্রতি আমার আসমানী কিতাবসমূহ নাজিল করব। তখন তারা বলল, আমরা সাক্ষ্য দিলাম আপনিই আমাদের রব, আপনিই আমাদের ইলাহ, আপনি ব্যতীত আমাদের আর কোন রব নেই। তারা এটা বার বার স্বীকার করল। তখন আদম (আ) তাদের প্রতি দৃষ্টি নিক্ষেপ করলেন। তিনি ধনী-দরিদ্র সুন্দর-অসুন্দর সবাইকে দেখলেন। অতঃপর বললেন, হে প্রভু! আপনি যদি আপনার বান্দাদের ধনী- দরিদ্র ও সুন্দর-কুৎসিৎ এর মাঝে সমতা বিধান করতেন। আল্লাহ বলেন, আমি পছন্দ করি যে, আমার কৃতজ্ঞতা আদায় করা হোক। তিনি নবীগণকে তাদের মাঝে আলোকবর্তিকার মত দেখতে পেলেন যাদের ওপর রয়েছে আলো। তাদেরকে আল্লাহ অপর একটি অঙ্গীকারের সাথে সম্পৃক্ত করলেন, যা রিসালাত ও নবুয়ত সম্পর্কিত অঙ্গীকার। সে সম্পর্কে আল্লাহ তা'আলা ইরশাদ করেন "স্মরণ কর, যখন আমি নবীদের নিকট হতে অঙ্গীকার গ্রহণ করেছিলাম এবং তোমার নিকট হতে ও এবং নূহ, ইব্রাহীম, মূসা ও মারইয়াম তনয় 'ঈসার নিকট হতে ও..."(২) ‘ঈসা (আ) ছিল উক্ত রূহসমূহের মধ্যে একটি। অতঃপর মহান আল্লাহ তাকে মারইয়াম (আ)-এর নিকট প্রেরণ করলেন। বর্ণনাকারী(৩) উবাঈ ইবন কা'ব (রা) সূত্রে বলেন, ঈসা (আ) এর রূহ মারইয়াম (আ) এর মুখ দিয়ে ভিতরে প্রবেশ করেছিল।
(মুসতাদরাক অন্যান্য গ্রন্থসূত্র।)
টিকা:
১. আল-কুরআন, ০৭: ১৭২।
২. আল-কুরআন, ৩৩। ০৭।
৩. রাবী ইব্ন আনাস (র)।
(মুসতাদরাক অন্যান্য গ্রন্থসূত্র।)
টিকা:
১. আল-কুরআন, ০৭: ১৭২।
২. আল-কুরআন, ৩৩। ০৭।
৩. রাবী ইব্ন আনাস (র)।
كتاب فضائل القرآن وتفسيره وأسباب نزوله
باب وإذ أخذ ربك من بني آدم من ظهورهم ذرياتهم
عن أبي بن كعب في قوله الله عز وجل (وإذ إخذ ربك من بني آدم من ظهورهم ذرياتهم وأشهدهم على أنفسهم - الآية) (2) قال جمعهم فجعلهم أرواسا ثم صورهم فاستنطقهم فتكلموا ثم أخذ عليهم العهد والميثاق وأشهدهم على أنفسهم الست بربكم؟ قالوا بلى قال فإني أشهد عليكم السموات السبع والأرضين السبع وأشهد عليكم أباكم آدم عليه السلام أن تقولوا يوم القيامة لم نعلم بهذا اعلموا أنه لا إله غيري ولا رب غيري فلا تشركوا بي شيئا اني سأرسل اليكم رسلي يذكرونكم عهدي وميثاقي وأنزل عليكم كتبي قالوا شهدنا بأنك ربنا وإلهنا لا رب لنا غيرك فاقروا بذلك ورفع عليهم آدم ينظر اليهم فرأى الغني والفقير وحسن الصورة ودون ذلك فقال رب لولا سويت بين عبادك (3) قال اني أحببت أن أشكر (4) ورأى الأنبياء فيهم مثل السرج عليهم النور (5) خصوا بميثاق آخر في الرسالة والنبوة وهو قوله تعالى (وإذ أخذنا من النبيين ميثاقهم) (6) إلى قوله (عيسى بن مريم) كان في تلك الأرواح (7) فأرسله إلى مريم فحدث (8) عن أبي أنه دخل من فيها