মুসনাদে আহমদ- ইমাম আহমদ রহঃ (আল-ফাতহুর রব্বানী)
আল-কুরআন এর ফযীলত, তাফসীর ও শানে নুযূল অধ্যায়
হাদীস নং: ২১৫
আল-কুরআন এর ফযীলত, তাফসীর ও শানে নুযূল অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ "যারা আল্লাহর সাথে কৃত প্রতিশ্রুতি এবং নিজেদের শপথকে তুচ্ছ মূল্যে বিক্রয় করে।(১)
২১৫। শাকীক ইব্ন সালামা (র) হতে বর্ণিত, তিনি 'আব্দুল্লাহ ইবন মাসউদ (রা) সূত্রে বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, যে ব্যক্তি অন্যায়ভাবে কোন মুসলিম ব্যক্তির সম্পত্তি দখল করে, সে আল্লাহর সাথে সাক্ষাৎ করবে যখন তিনি তার ওপর ক্ষুদ্ধ। বর্ণনাকারী বলেন, তখন আশ'আছ ইব্ন কায়স (রা) এসে বললেন, তোমাদেরকে আবূ আব্দুর রহমান (অর্থাৎ আব্দুল্লাহ ইবন মাসউদ (রা) কি বলছিলেন? বর্ণনাকারী বলেন, আমরা তাকে ঘটনাটি খুলে বললাম। তিনি (রা) বললেন, হাদীসটি আমারই প্রসঙ্গে। আমি আমার এক চাচাত ভাই সম্পর্কে রাসূলুল্লাহর (ﷺ) এর নিকট অভিযোগ করেছিলাম, যার কাছে আমার একটি কুয়া ছিল। এক পর্যায়ে সে তা আমাকে ফেরৎ দিতে অস্বীকার করল। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, কুয়াটি যে তোমার এ ব্যাপারে তোমার কোন প্রমাণ থাকলে উপস্থাপন কর নতুবা তাকে কসম করতে হবে। আমি বললাম, ইয়া রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমার নিকট কোন প্রমাণ নাই, তবে আপনি তার নিকট কসম করার কথা বললে সে ঠিকই কসম করবে। ফলে আমার কুয়া তার হয়ে যাবে। আমার প্রতিপক্ষ একজন মিথ্যাচারী লোক। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তখন বললেন, যে ব্যক্তি কোন মুসলিমের সম্পদ অবৈধভাবে দখল করে নেয়, সে আল্লাহর সাথে এভাবে সাক্ষাৎ করবে যে, তিনি তার ওপর ক্ষুদ্ধ। অতঃপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তিলাওয়াত করলেন, "যারা আল্লাহর সাথে কৃত প্রতিশ্রুতি এবং নিজেদের শপথকে তুচ্ছ মূল্যে বিক্রয় করে পরকালে তাদের কোন অংশ নাই। কিয়ামতের দিন আল্লাহ তাদের সাথে কথা বলবেন না এবং তাদের দিকে তাকাবেন না, তাদেরকে পরিশুদ্ধ ও করবেন না; তাদের জন্য মমর্ভুদ শাস্তি রয়েছে।" শাকীক ইবন সালামা থেকে অপর এক সূত্রে বর্ণিত, তিনি আব্দুল্লাহ ইবন মাসউদ (রা) হতে বর্ণনা করেন যে, তিনি (রা) বলেন, যে ব্যক্তি কোন হকদার ব্যক্তির সম্পদকে কসমের মাধ্যমে নিজের অধিকার ভুক্ত করে নেয়, অথচ সে যে ব্যাপারে পাপাচারী তাহলে সে ব্যক্তি আল্লাহর সাথে এ অবস্থায় সাক্ষাৎ করবে যে, তিনি তার ওপর ক্ষুব্ধ থাকবেন। আর তার সত্যায়নকারী এর তসদীক রয়েছে। কুরআনের কথা ইরশাদ হয়েছে, "যারা আল্লাহর সাথে কৃত প্রতিশ্রুতি এবং নিজেদের শপথকে তুচ্ছ মূল্যে বিক্রয় করে পরকালে তাদের কোন অংশ নাই। কিয়ামতের দিন আল্লাহ তাদের সাথে কথা বলবেন না এবং তাদের দিকে তাকাবেন না, তাদেরকে পরিশুদ্ধও করবেন না; তাদের জন্য মর্মন্তদ শাস্তি রয়েছে।" বর্ণনাকারী বলেন, আব্দুল্লাহ ইবন মাসউদ (রা) এ আয়াত তিলাওয়াত করছিলেন এমন সময় আশআছ (রা) বেরিয়ে এসে বললেন, এ আয়াত আমার প্রসঙ্গেই নাজিল হয়েছে। এক ব্যক্তি আমার মালিকানাধীন একটি কুয়ার মালিকানা দাবী করলে আমরা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট এ ব্যাপারে নালিশ করলাম। তিনি বললেন, তুমি প্রমাণ উপস্থাপন কর নতুবা সে শপথ করবে। আমি বললাম, সে যদি শপথ করে তবে তা হবে মিথ্যা শপথ। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, যে ব্যক্তি অপরের বৈধ অধিকারে থাকা কোন সম্পদের ব্যাপারের মিথ্যা শপথ করবে সে আল্লাহর সাথে সাক্ষৎ কালে তিনি তার ওপর ক্ষুদ্ধ থাকবেন।
(বুখারী, মুসলিম, আবূ দাউদ, নাসাঈ, তিরমিজী ও ইবন মাজাহ অন্যান্য গ্রন্থসূত্র।)
(বুখারী, মুসলিম, আবূ দাউদ, নাসাঈ, তিরমিজী ও ইবন মাজাহ অন্যান্য গ্রন্থসূত্র।)
كتاب فضائل القرآن وتفسيره وأسباب نزوله
باب ان الذين يشترون بعهد الله وايمانهم ثمنا قليلا
عن شقيق بن سلمة عن عبد الله بن مسعود قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم من اقتطع مال امرئ مسلم بغير حق لقى الله عز وجل وهو عليه غضبان قال فجاء الأشعث بن قيس فقال ما يحدثكم ابو عبد الرحمن؟ (5) قال فحدثناه قال فيى كان هذا الحديث (6) خاصمت ابن عم لي إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم في بئر كانت لي في يده فجحدني فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم بينتك أنها بئرك وإلا فيمينه قال قلت يا رسول الله مالي بيمينه (7) وان تجعلها بيمينه تذهب بئري ان خصمي امرؤ فاجر (8) قال فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم من اقتطع مال امرئ مسلم بغير حق لقي الله عز وجل وهو عليه غضبان قال وقرأ رسول الله صلى الله عليه وسلم (إن الذين يشترون بعهد الله وايمانهم ثمنا قليلا الآية) (9) (وعنه من طريق ثان) (10) عن عبد الله ابن مسعود قال من حلف على يمين صبر (11) يستحق بها مالا وهو فيها فاجر (12) لقى الله وهو عليه غضبان وإن تصديقها لقى القرآن (ان الذين يشترون بعهد الله وأيمانهم ثمنا قليلا) الخ الآية فخرج الأشعث وهو يقرؤها قال فيى أنزلت هذه الآية إن رجلا ادعى ركيا (13) لي فاختصمنا إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم فقال شاهداك أو يمينه فقلت أما انه ان حلف حلف فاجرا (14) فقال النبي صلى الله عليه وسلم من حلف على يمين صبر يستحق بها مالا (15) لقى الله وهو عليه غضبان