মুসনাদে আহমদ- ইমাম আহমদ রহঃ (আল-ফাতহুর রব্বানী)

আল-কুরআন এর ফযীলত, তাফসীর ও শানে নুযূল অধ্যায়

হাদীস নং: ১৮২
আল-কুরআন এর ফযীলত, তাফসীর ও শানে নুযূল অধ্যায়
পরিচ্ছেদ: "লোকেরা তোমাকে মদ ও জুয়া সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করে।"
১৮২। আবু হুরায়রা (রা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, মদ নিষিদ্ধ হয়েছে তিন পর্যায়ে। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) মদীনায় এসে দেখলেন মদীনাবাসীরা মদ পান করছে এবং জুয়া প্রাপ্ত সম্পদ ভক্ষণ করছে। তারা রাসুলুল্লাহ (ﷺ) কে এ দুটোর ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করলে মহান আল্লাহ তাঁর রাসূলের প্রতি নাজিল করেন, "লোকেরা তোমাকে মদ ও জুয়া সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করে। বল, উভয়ের মধ্যে আছে মহাপাপ এবং মানুষের জন্য উপকারও কিন্তু তাদের পাপ উপকার অপেক্ষা অধিক।" তখন মানুষেরা বলা শুরু করল, আল্লাহ্ আমাদের ওপর তা হারাম করেননি বরং তিনি বলেছেন এ দুটোতে মহাপাপ রয়েছে। তাই তারা মদ পান করছিলো, এমনকি একদিন জনৈক মুহাজির নিজে ইমামতি করে তার সঙ্গীদের নিয়ে মাগরিবের সালাত আদায় করছিলেন নেশার কারণে তিনি তার কিরাআত জড়িয়ে ফেলছিলেন। তখন মহান আল্লাহ আরও কঠোর বিধান সহকারে নাজিল করলেন, "হে মু'মিনগণ। নেশাগ্রস্ত অবস্থায় তোমরা সালাতের নিকটবর্তী হয়ো না যতক্ষণ না তোমরা যা বল তা বুঝতে পার।(১) তখন মানুষের মদ পান করতো। তারপর যখন নেশা কেটে যেত, সালাতে হাজির হত। তারপর মহান আল্লাহ কঠোরতর বিধান সহকারে নাজিল করলেন, "হে মু'মিনগণ। মদ, জুয়া মূর্তিপূজার বেদী ও ভাগ্য নির্ণায়ক শর ঘৃণ্য বস্তু, শয়তানের কার্য। সুতরাং তোমরা তা বর্জন কর- যাতে তোমরা সফলকাম হতে পারো।(২) তখন তারা বললো, আমাদের প্রভু আমাদেরকে থামিয়ে দিলেন। তখন মানুষেরা জিজ্ঞাসা করল, ইয়া রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যে সব মানুষ আল্লাহর পথে শহীদ হয়েছেন অথবা রোগগ্রস্ত হয়ে বিছানায় মারা গেছেন এবং তারা মদ সেবন করত ও জুয়া প্রাপ্ত অর্থ ভক্ষণ করতো অথচ মহান আল্লাহ তাকে ঘৃণ্য বস্তু ও শয়তানের কার্য হিসেবে ঘোষণা দিয়েছেন, (তাহলে তাদের পরিনতি কি হবে?) তখন আল্লাহ নাজিল করলেন, "যারা ঈমান আনে ও সৎকর্ম করে তারা পূর্বে যা ভক্ষণ করেছে তজ্জন্য তাদের কোন গুনাহ্ নাই, যদি তারা সাবধান হয় এবং ঈমান আনে ও সৎকর্ম করে, সাবধান হয় ও বিশ্বাস করে, পুনরায় সাবধান হয় ও সৎকর্ম করে এবং আল্লাহ সৎ কর্ম পরায়ন দিগকে ভালবাসেন।(৩) তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, তোমরা যেভাবে পরিত্যাগ করেছো তাদের ওপর হারাম করলে তারাও সেভাবে পরিত্যাগ করত।
টিকা:
১. আল কুরআন ৪: ৪৩
২. আল কুরআন ৫: ৯০
৩. আল কুরআন ৫: ৯৩
كتاب فضائل القرآن وتفسيره وأسباب نزوله
باب يسألونك عن الخمر والميسر الخ
عن أبي هريرة قال حرمت الخمر ثلاث مرات قدم رسول الله صلى الله عليه وسلم المدينة وهم يشربون الخمر ويأكلون الميسر فسألوا رسول الله صلى الله عليه وسلم عنهما فأنزل الله عز وجل على نبيه صلى الله عليه وسلم (يسألونك عن الخمر (3) والميسر قل فيهما إثم كبير ومنافع للناس وإثمهما أكبر من نفعهما الخ الآية) فقال الناس ما حرم علينا إنما قال فيهما إثم كبير وكانوا يشربون الخمر (4) حتى اذا كان يوم من الايام صلى رجل من المهاجرين أم أصحابه في المغرب خلط في قراءته (5) فأنزل الله فيها آية أغلظ منها (يا ايها الذين آمنوا لا تقربوا الصلاة وأنتم سكارى حتى تعلموا ما تقولون) وكان الناس يشربون حتى يأنى أحدهم الصلاة وهو مفيق ثم انزلت آية أغلظ من ذلك (6) (يا أيها الذين آمنوا انما الخمر والميسر والأنصاب (7) والأزلام رجس من عمل الشيطان فاجتنبوه لعلكم تفلحون) فقالوا انتهينا ربنا فقال الناس يا رسول الله ناس قتلوا في سبيل الله أو ماتوا على فراشهم كانوا يشربون الخمر ويأكلون الميسر وقد جعله الله رجسا ومن عمل الشيطان فأنزل الله (ليس على الذين آمنوا وعملوا الصالحات جناح فيما طعموا اذا ما اتقوا وآمنوا) الخ الآية (8) فقال النبي صلى الله عليه وعلى آله وسلم لو حرمت عليهم لتركوها كما تركتم
tahqiqতাহকীক:তাহকীক চলমান