মুসনাদে আহমদ- ইমাম আহমদ রহঃ (আল-ফাতহুর রব্বানী)
আল-কুরআন এর ফযীলত, তাফসীর ও শানে নুযূল অধ্যায়
হাদীস নং: ১৭৫
আল-কুরআন এর ফযীলত, তাফসীর ও শানে নুযূল অধ্যায়
পরিচ্ছেদ: "হে মু'মিনগণ! তোমাদের জন্য সিয়ামের বিধান দেয়া হল।"(১)
১. আল-কুরআন, ২: ১৮৩
১. আল-কুরআন, ২: ১৮৩
১৭৫। মু'আয়াজ ইবন জাবাল (রা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) মদীনায় এসে প্রতিমাসে তিনদিন এবং প্রতি আশুরার দিন রোজা রাখছিলেন। অতঃপর মহান আল্লাহ তাঁর ওপর রমাজানের রোজা ফরজ করলেন, মহান আল্লাহ নাজিল করলেন, "হে মু'মিনগণ। তোমাদের জন্য সিয়াসের বিধান দেয়া হল, যেমন বিধান তোমাদের পূর্ববর্তীদেরকে দেয়া হয়েছিল যাতে তোমরা মুত্তাকী হতে পার। সিয়াম নির্দিষ্ট কয়েকদিনের। তোমাদের মধ্যে কেউ পীড়িত হলে বা সফরে থাকলে অন্য সময় এ সংখ্যা পূর্ণ করে নিতে হবে। এটা যাদেরকে অতি কষ্ট দেয় তাদের কর্তব্য এর পরিবর্তে ফিদয়া- একজন অভাবগ্রস্তকে খাদ্য দান করা।(১)
বর্ণনাকারী বলেন, তখন যার ইচ্ছা সাওম পালন করতো, আর যার ইচ্ছা এর পরিবর্তে এক এক জন মিসকিনকে খাদ্য দান করতো। বর্ণনাকারী বলেন, অতঃপর মহান আল্লাহ নাজিল করলেন, "রামাযান মাস, এতে মানুষের দিশারী ও সৎপথের স্পষ্ট নিদর্শন এবং সত্যাসত্যের পার্থক্যকারীরূপে কুরআন অবতীর্ণ হয়েছে। সুতরাং তোমাদের মধ্যে যারা এ মাস পাবে তারা যেন এ মাসে সিয়াম পালন করে।(২)
বর্ণনাকারী বলেন, এ আয়াতের মাধ্যমে আল্লাহ এ মাসে মুকীম সুস্থ ব্যক্তির ওপর রোজা ফরজ হিসেবে সাব্যস্ত করলেন এবং অসুস্থ ও মুসাফিরের ওপর এ মাসে তা শিথিল করে দিলেন। আর রোজা পালনে অক্ষম বৃদ্ধের জন্য অভাব গ্রস্তকে খাদ্য খাওয়ানোর বিধান জারী করলেন। উল্লিখিত দু'অবস্থায় অর্থাৎ মুকীম ও সুস্থ অবস্থায় সাহাবীরা ঘুমের পূর্ব পর্যন্ত পানাহার ও স্ত্রী সহবাস করতেন, ঘুমালে তারা সকল কিছু পরিহার করতেন। বর্ণনাকারী বলেন, সিরমা নামক জনৈক আনসার সারাদিন রোজা রেখে সন্ধ্যা বেলা তার পরিবারের নিকট ফিরে এসে ইশার সালাত আদায় করলেন, অতঃপর ঘুমিয়ে পড়লেন, সকাল পর্যন্ত তিনি কিছুই পানাহার করেননি। সকালে তিনি রোজাদার অবস্থায়ই ছিলেন। বর্ণনাকারী বলেন, তাকে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) অত্যন্ত ক্ষুধাকাতর অবস্থায় দেখতে পেলেন। সে বলল ইয়া রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমি গতকাল রোজা রেখে আমার দৈনন্দিন সকল কাজ শেষে ফিরে এসে ঘুমিয়ে পড়েছি, আবার যথা সময়ে রোজাদার অবস্থাতেই ঘুম থেকে উঠেছি। বর্ণনাকারী বলেন, উমর (রা) ঘুমানোর পর একজন দাসী বা স্বাধীন স্ত্রীর সাথে সহবাস করে ফেলেন। অতঃপর তিনি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে বিষয়টি অবহিত করলে মহান আল্লাহ নাজিল করেন, সিয়ামের রাতে তোমাদের জন্য স্ত্রী সম্ভোগ বৈধ করা হয়েছে। তারা তোমাদের পরিচ্ছদ এবং তোমরা তাদের পরিচ্ছদ। আল্লাহ্ জানেন যে, তোমরা নিজেদের প্রতি অবিচার করছিলে। অতঃপর তিনি তোমাদের প্রতি ক্ষমাশীল হয়েছেন এবং তোমাদের অপরাধ ক্ষমা করেছেন। সুতরাং এখন তোমরা তাদের সাথে মিলিত হও এবং আল্লাহ্ যা তোমাদের জন্য বিধিবদ্ধ করেছেন তা কামনা কর। আর তোমরা পানাহার কর যতক্ষণ রাতের কৃষ্ণরেখা হতে উষার শুভ্র রেখা স্পষ্টরূপে তোমাদের নিকট প্রতিভাত না হয়। অতঃপর নিশাগম পর্যন্ত সিয়াম পূর্ণ কর।" (আল-কুরআন, ০২: ১৮৭)
]টিকা: ১. আল-কুরআন, ২। ১৮৩-১৮৪।
টিকা: ২. আল-কুরআন, ২: ১৮৫।
বর্ণনাকারী বলেন, তখন যার ইচ্ছা সাওম পালন করতো, আর যার ইচ্ছা এর পরিবর্তে এক এক জন মিসকিনকে খাদ্য দান করতো। বর্ণনাকারী বলেন, অতঃপর মহান আল্লাহ নাজিল করলেন, "রামাযান মাস, এতে মানুষের দিশারী ও সৎপথের স্পষ্ট নিদর্শন এবং সত্যাসত্যের পার্থক্যকারীরূপে কুরআন অবতীর্ণ হয়েছে। সুতরাং তোমাদের মধ্যে যারা এ মাস পাবে তারা যেন এ মাসে সিয়াম পালন করে।(২)
বর্ণনাকারী বলেন, এ আয়াতের মাধ্যমে আল্লাহ এ মাসে মুকীম সুস্থ ব্যক্তির ওপর রোজা ফরজ হিসেবে সাব্যস্ত করলেন এবং অসুস্থ ও মুসাফিরের ওপর এ মাসে তা শিথিল করে দিলেন। আর রোজা পালনে অক্ষম বৃদ্ধের জন্য অভাব গ্রস্তকে খাদ্য খাওয়ানোর বিধান জারী করলেন। উল্লিখিত দু'অবস্থায় অর্থাৎ মুকীম ও সুস্থ অবস্থায় সাহাবীরা ঘুমের পূর্ব পর্যন্ত পানাহার ও স্ত্রী সহবাস করতেন, ঘুমালে তারা সকল কিছু পরিহার করতেন। বর্ণনাকারী বলেন, সিরমা নামক জনৈক আনসার সারাদিন রোজা রেখে সন্ধ্যা বেলা তার পরিবারের নিকট ফিরে এসে ইশার সালাত আদায় করলেন, অতঃপর ঘুমিয়ে পড়লেন, সকাল পর্যন্ত তিনি কিছুই পানাহার করেননি। সকালে তিনি রোজাদার অবস্থায়ই ছিলেন। বর্ণনাকারী বলেন, তাকে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) অত্যন্ত ক্ষুধাকাতর অবস্থায় দেখতে পেলেন। সে বলল ইয়া রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমি গতকাল রোজা রেখে আমার দৈনন্দিন সকল কাজ শেষে ফিরে এসে ঘুমিয়ে পড়েছি, আবার যথা সময়ে রোজাদার অবস্থাতেই ঘুম থেকে উঠেছি। বর্ণনাকারী বলেন, উমর (রা) ঘুমানোর পর একজন দাসী বা স্বাধীন স্ত্রীর সাথে সহবাস করে ফেলেন। অতঃপর তিনি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে বিষয়টি অবহিত করলে মহান আল্লাহ নাজিল করেন, সিয়ামের রাতে তোমাদের জন্য স্ত্রী সম্ভোগ বৈধ করা হয়েছে। তারা তোমাদের পরিচ্ছদ এবং তোমরা তাদের পরিচ্ছদ। আল্লাহ্ জানেন যে, তোমরা নিজেদের প্রতি অবিচার করছিলে। অতঃপর তিনি তোমাদের প্রতি ক্ষমাশীল হয়েছেন এবং তোমাদের অপরাধ ক্ষমা করেছেন। সুতরাং এখন তোমরা তাদের সাথে মিলিত হও এবং আল্লাহ্ যা তোমাদের জন্য বিধিবদ্ধ করেছেন তা কামনা কর। আর তোমরা পানাহার কর যতক্ষণ রাতের কৃষ্ণরেখা হতে উষার শুভ্র রেখা স্পষ্টরূপে তোমাদের নিকট প্রতিভাত না হয়। অতঃপর নিশাগম পর্যন্ত সিয়াম পূর্ণ কর।" (আল-কুরআন, ০২: ১৮৭)
]টিকা: ১. আল-কুরআন, ২। ১৮৩-১৮৪।
টিকা: ২. আল-কুরআন, ২: ১৮৫।
كتاب فضائل القرآن وتفسيره وأسباب نزوله
باب يا أيها الذين آمنوا كتب عليكم الصيام
عن معاذ بن جبل قال قدم رسول الله صلى الله عليه وسلم المدينة فجعل يصوم من كل شهر ثلاثة أيام وصام يوم عاشوراء ثم ان الله عز وجل فرض عليه الصيام فأنزل الله عز وجل (يا أيها الذين آمنو كتب عليكم الصيام كما كتب على الذين من قبلكم) إلى هذه الآية (وعلى الذين يطيقونه فدية طعام مسكين) قال فكان من شاء صام ومن شاء أطعم مسكينا فأجزأ ذلك عنه قال ثم ان الله عز وجل انزل الآية الأخرى (شهر رمضان الذي أنزل فيه القرآن) إلى قوله (فمن شهد منكم الشهر فليصمه) قال فأثبت الله صيامه على المقيم الصحيح ورخص فيه للمريض والمسافر وثبت الاطعام للكبير الذي لا يستطيع الصيام (فهذان حالان) قال وكانوا يأكلون ويشربون ويأتون النساء مالم يناموا فإذا ناموا امتنعوا قال ثم ان رجلا من الانصار يقال له صرمة ظل يعمل صائما حتى أمسى فجاء إلى أهله فصلى العشاء ثم نام فلم يأكل ولم يشرب حتى أصبح فأصبح صائما قال فرآه رسول الله صلى الله عليه وسلم وقد جهد جهدا شديدا قال يا رسول الله اني عملت أمس فجئت حين جئت فألقيت نفسي فنمت وأصبحت حين أصبحت صائما قال وكان عمر قد أصاب من النساء من جارية أو من حرة بعد ما قام (2) وأتى النبي صلى الله عليه وسلم فذكر ذلك فأنزل الله (احل لكم ليلة الصيام الرفث في نسائكم) إلى قوله (ثم اتموا الصيام إلى الليل)