মুসনাদে আহমদ- ইমাম আহমদ রহঃ (আল-ফাতহুর রব্বানী)
আল-কুরআন এর ফযীলত, তাফসীর ও শানে নুযূল অধ্যায়
হাদীস নং: ১৬৫
আল-কুরআন এর ফযীলত, তাফসীর ও শানে নুযূল অধ্যায়
পরিচ্ছেদ। "যে কেউ জিবরাঈলের শত্রু ....২
টিকা: ২. আল-কুরআন, ২:৯৭
টিকা: ২. আল-কুরআন, ২:৯৭
১৬৫। আব্দুল্লাহ ইবন আব্বাস (রা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, একদল ইহুদী রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট এসে বলল, হে আবুল কাসিম! আমরা আপনাকে পাঁচটি ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করব, আপনি যদি আমাদেরকে তার সদুত্তর দিতে পারেন তাহলে আমরা বুঝতে পারব আপনি সত্যি নবী এবং আমরা আপনার আনুগত্য করব। তখন রাসুলুল্লাহ (ﷺ) তাদের নিকট থেকে সেরূপ অঙ্গীকার গ্রহণ করলেন যেরূপ গ্রহণ করেছিলেন ইয়াকুব (আ) তার সন্তানদের নিকট থেকে এবং তিনি বলেছিলেন আমরা যা বলছি আল্লাহ তার সাক্ষী রাসুলুল্লাহ (ﷺ) তাদেরকে বললেন, তোমরা তোমাদের প্রশ্ন কর। তারা বলল, আপনি আমাদেরকে একজন নবীর আলামত সম্পর্কে অবহিত করুন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) উত্তর দিলেন, একজন নবীর দু'চোখ ঘুমায় কিন্তু তাঁর অন্তর ঘুমায় না। তারা বলল, আপনি আমাদেরকে বলুন, আমাদের মহিলারা কিভাবে পুত্র সন্তান এবং কিভাবে কন্যা সন্তান জন্ম দেয়? রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেন, পিতা-মাতা উভয়ের বীর্য একত্রিত হয়, তখন মহিলার বীর্যের ওপর পুরুষের বীর্য প্রাধান্য পেলে শিশুটি পুত্র হয়, আর পুরুষের বীর্যের ওপর মহিলার বীর্য প্রধান্য পেলে শিশুটি কন্যা হয়। তারা বলল, আপনি আমাদেরকে বলুন, ইয়াকুব (আ) তাঁর নিজের জন্য কি কি জিনিস হারাম করেছিলেন? রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেন, তিনি (আ) সাইটিকা রোগের আক্রান্ত হয়ে পড়েছিলেন, তখন সে রোগ থেকে মুক্তির জন্য অমুক অমুক প্রাণীর দুষ ছাড়া অন্য কোন বিকল্প পাননি। হাদীসের সংকলক আব্দুল্লাহ ইব্ন আহমদ (র) বলেন আমার পিতা ইমাম আহমদ (র) বলেছেন, সে প্রাণীদের অন্যতম ছিল উট, তাই ইয়াকুব (আ) উটের গোশত খাওয়া নিজের জন্য হারাম করেছিলেন। তারা বলল, আপনি ঠিক বলেছেন। তারা আবার বলল, আপনি আমাদেরকে বজ্র সম্পর্কে বলুন। রাসুলুল্লাহ (ﷺ) বলেন, মেঘমালার দায়িত্বে নিয়োজিত আল্লাহর একজন ফিরিশতা, যার হাতে রয়েছে আগুনের তৈরি এক হাতুড়ি, যা দিয়ে সে মেঘ তাড়ানোর জন্য আঘাত করে আল্লাহর নির্দেশ মোতাবেক। তারা বলল তখন সে আওয়াজ শোনা যায় তা কী? রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, ওটা তারই শব্দ। তারা বলল, আপনি সত্য বলেছেন, এখন আর একটা প্রশ্ন বাকী থাকল, যদি আপনি তার উত্তর দিতে পারেন তাহলে আমরা আপনার হাতে বাইয়াত গ্রহণ করবো। প্রত্যেক নবীকে তথ্য দেয়ার জন্য একজন নির্দিষ্ট ফিরিশতা আসে, তাহলে আপনি বলুন, আপনার নিকট কে আসে? রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেন, জিবরাঈল (আ)। তারা বলল, জিবরাঈল ঐ ফেরেশতা যিনি যুদ্ধ, সংঘাত ও আযাব নিয়ে আমাদের শত্রু হিসেবে নাজিল হন আপনি যদি মিকাঈল (আ) এর কথা বলতেন যিনি রহমত, শস্যাদি ও বৃষ্টি নিয়ে অবতীর্ণ হয় তাহলে হত। তখন মহান আল্লাহ অবতীর্ণ করলেন, বল যে কেউ জিবরাঈল শত্রু এজন্য যে সে আল্লাহর নির্দেশে তোমার হৃদয়ে কুরআন পৌঁছে দিয়েছে....।
আব্দুল্লাহ ইব্ন আব্বাস (রা) হতে অপর এক সূত্রে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, একদিন ইহুদীদের একটি দল রাসুলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট উপস্থিত হয়ে বলল, হে আবুল কাসেম। আপনি আমাদের কয়েকটি প্রশ্নের উত্তর দিন যা একজন নবী ব্যতীত অন্য কারও জানা থাকে না। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেন, তোমরা তোমাদের যা খুশী জিজ্ঞাসা কর, তবে তোমরা আল্লাহকে জামিন রাখ এবং ইয়াকুব (আ) যেমন তাঁর সন্তানদের নিকট থেকে অঙ্গীকার গ্রহণ করেছিলেন, সেই রকম অংঙ্গীকার করে বল যে, আমি তোমাদের নিকট কিছু বললে যদি তা সঠিক বলে বুঝতে পার, তবে অবশ্যই তোমরা আমার হাতে ইসলামের উপর বায়আত গ্রহণ করবে। তারা বলল, আমরা আপনার নিকট সেরূপ কথা দিচ্ছি। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, তাহলে তোমরা তোমাদের খুশী মত জিজ্ঞাসা কর। তারা বলল, আপনি আমাদের চারটি প্রশ্নের উত্তর দিন। আপনি বলুন (১) তাওরাত নাজিলের পূর্বে ইয়াকুব (আ) তার নিজের জন্য কোন কোন খাদ্য হারাম করেছিলেন? (২) একজন মহিলা ও একজন পুরুষের বীর্য কেমন এবং তা দ্বারা পুত্র সন্তান জন্ম নেয় কিভাবে? (৩) নিরক্ষর নবীর ঘুম কি রকমের? এবং (৪) কোন ফিরশতা তাঁর বন্ধু। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, আমি যদি তোমাদের এ প্রশ্নগুলির উত্তর দিই তাহলে তোমরা আমার অনুসরণ করবে সে ব্যাপারে আল্লাহর নিকট তোমাদের অঙ্গীকার রইল। বর্ণনাকারী বলেন, তারা তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর ইচ্ছা মোতাবেক অঙ্গীকার ও প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হল। অতঃপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেন, যিনি মুসা (আ) এর ওপর তাওরাত নাজিল করেছেন তার নামে শপথ করে বলছি, তোমরা কি জান ইয়াকুব (আ) একটি কঠিন রোগে আক্রান্ত হয়েছিলেন এবং তার সে রোগটি দীর্ঘদিন ধরে অব্যাহত ছিল, তখন তিনি আল্লাহর জন্য মা'নত করলেন, আল্লাহ যদি তাকে সে রোগ থেকে আরোগ্য দান করেন তাহলে তিনি তার প্রিয় পানীয় ও প্রিয় আহার্য পরিবহার করবেন? আর তাঁর নিকট প্রিয় আহার্য ছিল উটের গোশত এবং প্রিয় পানীয় ছিল উটের দুধ? তারা বলল, হ্যাঁ ঠিক আছে। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, হে আল্লাহ তুমি তাদের সাক্ষী থেকো। অতঃপর আমি সে আল্লাহর নামে শপথ করছি যিনি মুসা (আ) এর ওপর তাওরাত নাজিল করেছেন, যিনি ছাড়া অন্য কোন ইলাহ নাই- তোমরা কি জান পুরুষের বীর্য শুভ্র ও গাঢ় এবং নারীর বীর্য পাতলা ও হলদে। তাই যার বীর্য প্রবল হয়, আল্লাহর ইচ্ছা সন্তান ও সাদৃশ্য তদনুসারেই হয়। পুরুষের বীর্য যদি নারীর বীর্যের ওপর প্রাধান্য লাভ করে তাহলে আল্লাহর অনুমতিক্রমে তা দ্বারা পুরুষ শিশু জন্ম নেয়, আর স্ত্রীর বীর্য যদি পুরুষের বীর্যের ওপর প্রাধান্য লাভ করে তাহলে আল্লাহর অনুমতিক্রমে তা দ্বারা স্ত্রী শিশু জন্ম নেয়? তারা বলল, হ্যাঁ, ঠিক আছে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, হে আল্লাহ আপনি তাদের সাক্ষী থাকেন। অতঃপর আমি তোমাদের সামনে সেই সত্তার শপথ করছি যিনি মুসা (আ) এর ওপর তাওরাত নাজিল করেছেন, তোমরা কি জানো এ নিরক্ষর নবীর দুচক্ষু ঘুমায় কিন্তু তার অন্তর ঘুমায় না? তারা বলল, হ্যাঁ, ঠিক আছে। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, হে আল্লাহ আপনি সাক্ষী থাকুন। তারা বলল, আপনি এখন আমাদেরকে বলুন ফিরিশতাদের মধ্যে কে আপনার বন্ধু? এ প্রশ্নের উত্তরের মাধ্যমে আমরা আপনার সাথে ঐকমত্য হবো অথবা বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবো। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, আমার বন্ধু হলেন জিবরাঈল (আ)। আল্লাহ যে সকল নবীকে প্রেরণ করেছেন জিবরাঈল (আ) তাদের সকলেরই বন্ধু। তারা বলল, এখানেই আমরা আপনার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাচ্ছি। জিবরাঈল ব্যতীত অন্য কোন ফিরিশতা আপনার বন্ধু হলে আমরা আপনার অনুসরণ করতাম এবং আপনাকে সত্য বলে মেনে নিতাম। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, তাকে সত্য বলে মেনে নিতে তোমাদের বাধা কোথায়? তারা বলল, সে আমাদের শত্রু। বর্ণনাকারী বলেন, তখন আল্লাহ তা'আলা সে ব্যাপারে বলেন, "বল, যে কেউ জিবরাঈলের শত্রু এজন্য যে, সে আল্লাহর নির্দেশে তোমার হৃদয়ে কুরআন পৌঁছে দিয়েছে..... তাদের একদল আল্লাহর কিতাবকে পশ্চাতে নিক্ষেপ করল, যেন তারা জানে না(১) ফলে তারা অনবরত আযাবে নিপতিত হতে থাকল।
(তিরমিযী, নাসাঈ, অন্যান্য গ্রন্থসূত্র।)
টিকা: ১. আল কুরআন, ২। ৯৭-১০১।
আব্দুল্লাহ ইব্ন আব্বাস (রা) হতে অপর এক সূত্রে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, একদিন ইহুদীদের একটি দল রাসুলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট উপস্থিত হয়ে বলল, হে আবুল কাসেম। আপনি আমাদের কয়েকটি প্রশ্নের উত্তর দিন যা একজন নবী ব্যতীত অন্য কারও জানা থাকে না। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেন, তোমরা তোমাদের যা খুশী জিজ্ঞাসা কর, তবে তোমরা আল্লাহকে জামিন রাখ এবং ইয়াকুব (আ) যেমন তাঁর সন্তানদের নিকট থেকে অঙ্গীকার গ্রহণ করেছিলেন, সেই রকম অংঙ্গীকার করে বল যে, আমি তোমাদের নিকট কিছু বললে যদি তা সঠিক বলে বুঝতে পার, তবে অবশ্যই তোমরা আমার হাতে ইসলামের উপর বায়আত গ্রহণ করবে। তারা বলল, আমরা আপনার নিকট সেরূপ কথা দিচ্ছি। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, তাহলে তোমরা তোমাদের খুশী মত জিজ্ঞাসা কর। তারা বলল, আপনি আমাদের চারটি প্রশ্নের উত্তর দিন। আপনি বলুন (১) তাওরাত নাজিলের পূর্বে ইয়াকুব (আ) তার নিজের জন্য কোন কোন খাদ্য হারাম করেছিলেন? (২) একজন মহিলা ও একজন পুরুষের বীর্য কেমন এবং তা দ্বারা পুত্র সন্তান জন্ম নেয় কিভাবে? (৩) নিরক্ষর নবীর ঘুম কি রকমের? এবং (৪) কোন ফিরশতা তাঁর বন্ধু। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, আমি যদি তোমাদের এ প্রশ্নগুলির উত্তর দিই তাহলে তোমরা আমার অনুসরণ করবে সে ব্যাপারে আল্লাহর নিকট তোমাদের অঙ্গীকার রইল। বর্ণনাকারী বলেন, তারা তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর ইচ্ছা মোতাবেক অঙ্গীকার ও প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হল। অতঃপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেন, যিনি মুসা (আ) এর ওপর তাওরাত নাজিল করেছেন তার নামে শপথ করে বলছি, তোমরা কি জান ইয়াকুব (আ) একটি কঠিন রোগে আক্রান্ত হয়েছিলেন এবং তার সে রোগটি দীর্ঘদিন ধরে অব্যাহত ছিল, তখন তিনি আল্লাহর জন্য মা'নত করলেন, আল্লাহ যদি তাকে সে রোগ থেকে আরোগ্য দান করেন তাহলে তিনি তার প্রিয় পানীয় ও প্রিয় আহার্য পরিবহার করবেন? আর তাঁর নিকট প্রিয় আহার্য ছিল উটের গোশত এবং প্রিয় পানীয় ছিল উটের দুধ? তারা বলল, হ্যাঁ ঠিক আছে। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, হে আল্লাহ তুমি তাদের সাক্ষী থেকো। অতঃপর আমি সে আল্লাহর নামে শপথ করছি যিনি মুসা (আ) এর ওপর তাওরাত নাজিল করেছেন, যিনি ছাড়া অন্য কোন ইলাহ নাই- তোমরা কি জান পুরুষের বীর্য শুভ্র ও গাঢ় এবং নারীর বীর্য পাতলা ও হলদে। তাই যার বীর্য প্রবল হয়, আল্লাহর ইচ্ছা সন্তান ও সাদৃশ্য তদনুসারেই হয়। পুরুষের বীর্য যদি নারীর বীর্যের ওপর প্রাধান্য লাভ করে তাহলে আল্লাহর অনুমতিক্রমে তা দ্বারা পুরুষ শিশু জন্ম নেয়, আর স্ত্রীর বীর্য যদি পুরুষের বীর্যের ওপর প্রাধান্য লাভ করে তাহলে আল্লাহর অনুমতিক্রমে তা দ্বারা স্ত্রী শিশু জন্ম নেয়? তারা বলল, হ্যাঁ, ঠিক আছে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, হে আল্লাহ আপনি তাদের সাক্ষী থাকেন। অতঃপর আমি তোমাদের সামনে সেই সত্তার শপথ করছি যিনি মুসা (আ) এর ওপর তাওরাত নাজিল করেছেন, তোমরা কি জানো এ নিরক্ষর নবীর দুচক্ষু ঘুমায় কিন্তু তার অন্তর ঘুমায় না? তারা বলল, হ্যাঁ, ঠিক আছে। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, হে আল্লাহ আপনি সাক্ষী থাকুন। তারা বলল, আপনি এখন আমাদেরকে বলুন ফিরিশতাদের মধ্যে কে আপনার বন্ধু? এ প্রশ্নের উত্তরের মাধ্যমে আমরা আপনার সাথে ঐকমত্য হবো অথবা বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবো। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, আমার বন্ধু হলেন জিবরাঈল (আ)। আল্লাহ যে সকল নবীকে প্রেরণ করেছেন জিবরাঈল (আ) তাদের সকলেরই বন্ধু। তারা বলল, এখানেই আমরা আপনার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাচ্ছি। জিবরাঈল ব্যতীত অন্য কোন ফিরিশতা আপনার বন্ধু হলে আমরা আপনার অনুসরণ করতাম এবং আপনাকে সত্য বলে মেনে নিতাম। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, তাকে সত্য বলে মেনে নিতে তোমাদের বাধা কোথায়? তারা বলল, সে আমাদের শত্রু। বর্ণনাকারী বলেন, তখন আল্লাহ তা'আলা সে ব্যাপারে বলেন, "বল, যে কেউ জিবরাঈলের শত্রু এজন্য যে, সে আল্লাহর নির্দেশে তোমার হৃদয়ে কুরআন পৌঁছে দিয়েছে..... তাদের একদল আল্লাহর কিতাবকে পশ্চাতে নিক্ষেপ করল, যেন তারা জানে না(১) ফলে তারা অনবরত আযাবে নিপতিত হতে থাকল।
(তিরমিযী, নাসাঈ, অন্যান্য গ্রন্থসূত্র।)
টিকা: ১. আল কুরআন, ২। ৯৭-১০১।
كتاب فضائل القرآن وتفسيره وأسباب نزوله
باب من كان عدوا لجبريل الخ
عن ابن عباس قال أقبلت يهود إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم فقالوا يا أبا القاسم انا نسألك عن خمسة أشياء فان أنبأتنا بهن عرفنا انك نبي واتبعناك فأخذ عليهم ما أخذ اسرائيل (7) على بنيه إذ قال الله على ما نقول وكيل (8) قال هاتوا قالوا خبرنا عن علامة النبي؟ قال تنام عيناه ولا ينام قلبه قالوا خبرنا كيف تؤنث المرأة وكيف تذكر (9) قال يلتقي الماءان فإذا علا ماء الرجل ماء المرأة أذكرت واذا علا ماء المرأة ماء الرجل آنثت قالوا أخبرنا ما حرم اسرائيل على نفسه؟ قال كان يشتكي عرق النسا فلم يجد شيئا يلائمه إلا البان كذا وكذا قال أبي (10) قال بعضهم يعني الإبل فحرم لحومها قالوا صدقت قالوا أخبرنا ما هذا الرعد؟ قال ملك من ملائكة الله عز وجل موكل بالسحاب بيده أو في يده مخراق (11) من نار يزجر به السحاب يسوقه حيث أمر الله قالوا فما هذا الصوت الذي يسمع؟ قال صوته قالوا صدقت انما بقيت واحدة وهي التي نبايعك ان اخبرتنا بها فإنه ليس من نبي إلا له ملك يأتيه بالخبر فأخبرنا من صاحبك؟ قال جبريل قالوا جبريل ذاك الذي ينزل بالحرب والقتال والعذاب عدونا (1) لو قلت ميكائيل الذي ينزل بالرحمة والنبات والقطر لكان فأنزل الله عز وجل (من كان عدوا لجبريل الخ الآية) (2) (وعنه أيضا من طريق ثان) (3) قال حضرت عصابة من اليهود نبي الله صلى الله عليه وسلم يوما فقالوا يا أبا القاسم حدثنا عن خلال نسألك عنهن لا يعلمهن إلا نبي قال سلوني عما شئتم ولكن اجعلوا ذمة الله وما أخذ يعقوب عليه السلام على بنيه لئن حدثتكم شيئا فعرفتموه لتتابعني على الاسلام؟ قالوا فذلك لك قال فسلوني ما شئتم قالوا اخبرنا عن أربع خلال نسألك عنهن أخبرنا أي الطعام حرم اسرائيل على نفسه من قبل أن تنزل التوراة وأخبرنا كيف ماء المرأة وماء الرجل كيف يكون الذكر منه وأخبرنا كيف هذا النبي الأمي في النوم ومن وليه من الملائكة؟ قال فعليكم عهد الله وميثاقه لئن أنا أخبرتكم لتتابعني؟ قال فأعطوه ما شاء من عهد وميثاق قال فأنشدكم بالذي أنزل التوراة على موسى صلى الله عليه وسلم هل تعلمون ان اسرائيل يعقوب عليه السلام مرض مرضا شديدا وطال سقمه فنذر لله نذرا لئن شفاه الله تعالى من سقمه ليحرمن أحب الشراب اليه واحب الطعام اليه؟ وكان أحب الطعام اليه لحمان الإبل واحب الشراب اليه البانها؟ (4) قالوا اللهم نعم قال اللهم اشهد عليهم فانشدكم بالله الذي لا إله إلا هو الذي انزل التوراة على موسى هل تعلمون ان ماء الرجل أبيض غليظ وان ماء المرأة أصفر رقيق فأيهما علا كان له الولد والشبه بإذن الله إن علا ماء الرجل على ماء المرأة كان ذكرا باذن الله وان علا ماء المرأة على ماء الرجل كان أنثى بإذن الله؟ قالوا اللهم أشهد عليهم فأنشدكم بالذي انزل التوراة على موسى هل تعلمون أن هذا النبي الأمي تنام عيناه ولا ينام قلبه؟ قالوا اللهم نعم قال اللهم اشهد قالوا اللهم نعم قال اللهم اشهد قالوا وانت الآن فحدثنا من وليك من الملائكة فعندها نجامعك أو نفارقك قال فإن ولي جبريل عليه السلام ولم يبعث الله نبيا قط إلا وهو وليه قالوا فعندها نفارقك لو كان وليك سواه من الملائكة لتابعناك وصدقناك قال فما يمنعكم من أن تصدقوه؟ قالوا انه عدونا قال فعند ذلك قال الله عز وجل (قل من كان عدوا لجبريل فإنه نزله على قلبك بإذن الله (1) إلى قوله عز وجل كتاب الله وراء ظهورهم كأنهم لا يعلمون) (2) فعند ذلك باءوا بغضب على غضب الآية