মুসনাদে আহমদ- ইমাম আহমদ রহঃ (আল-ফাতহুর রব্বানী)
সালাম, (ঘরে প্রবেশের) অনুমতি চাওয়া এবং অন্যান্য বিষয়ের আদব অধ্যায়
হাদীস নং: ৩৩
সালাম, (ঘরে প্রবেশের) অনুমতি চাওয়া এবং অন্যান্য বিষয়ের আদব অধ্যায়
পরিচ্ছেদ: কিতাবীদের সালামের জবাবে কী বলতে হবে।
৩৩। আবদুল্লাহ ইবন আবি বাকর ইবন মুহাম্মাদ ইবন 'আমর ইবন হাযম (র) তার পিতা থেকে, তিনি আয়েশা (রা) থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, একদা ইয়াহুদী (নবী (ﷺ) এর নিকট) উপস্থিত হয়ে বলল اَلسَّامُ عَلَيْكَ (আপনার মরণ হোক)। তখন তিনি বললেন, علیکم (বরং তোমাদের হোক)। এরপর 'আয়েশা (রা) বললেন, عَلَيْكُمْ لَعْنَةُ اللَّهِ وَلَعْنَةُ اللَّاعِنِينَ (তোমাদের ওপর আল্লাহর এবং সমস্ত লা'নতকারীর লা'নত)। তারা বলল, আপনার পিতা তো অশ্লীল কথা বলতেন না। তারপর তারা বের হয়ে গেলে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাকে বললেন, তুকি কি জন্য এরূপ আচরণ করেছ? তিনি বললেন, তারা যা বলেছে আপনি কি তা শুনতে পান নি? রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, তুমি কি আমাকে দেখ নি আমি তাদের জবাবে عَلَيْكُمْ(বরং তোমাদের হোক) বলেছি? নিশ্চয়ই আমি তাদেরকে যা বলেছি তা তাদের ওপর আপতিত হবে কিন্তু তারা আমাকে যা বলেছে তা আমার ওপর আপতিত হবে না।(বুখারী) মুসলিম সমার্থক ভিন্ন ভিন্ন শব্দে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।
كتاب السلام والاستئذان وآداب أخرى
باب ما يقال في رد السلام على أهل الكتاب
عن عبد الله بن أبي بكر بن محمد بن عمرة بن حزم عن أبيه عن عائشة رضي الله عنها قالت دخل ناس من اليهود فقالوا السام عليك، فقال عليكم فقالت عائشة عليكم لعنة الله ولعنة اللاعنين، قالوا ما كان أبوك فحاشًا (4) فلما خرجوا قال لها رسول الله صلى الله عليه وسلم ما حملك على ما صنعا؟ قالت أما سمعت ما قالوا؟ قال فما رأيتيني قلت عليكم: إنهم يصيبهم ما أقول لهم ولا يصيبني ما قالوا لي
হাদীসের ব্যাখ্যা:
এসব ইয়াহূদী নবী করীম ﷺ-এর সাথে খুব অভদ্র ও নিন্দনীয় আচরণ করেছিল। তারা নবী করীম ﷺ-কে বলেছিল, তোমার মৃত্যু হোক। উন্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা (রা) তা বরদাশত করতে পারেননি এবং মন্দ বাক্যের জবাব মন্দ বাক্যের দ্বারা দিয়েছিলেন। নবী করীম ﷺ ইয়াহুদীদের অভদ্র আচরণে হয়ত অন্তরে ব্যথা পেয়েছিলেন এবং এরূপ ব্যথা পাওয়া খুবই স্বাভাবিক। কিন্তু তিনি ব্যথিত অবস্থায়ও মন্দকে মন্দের দ্বারা প্রতিরোধ করতে পসন্দ করেননি। কারণ নবী করীম ﷺ-এর অভ্যাস হল ক্রোধকে দমন করা, মানুষের প্রতি সদয় থাকা এবং তাঁর শিক্ষা হল উত্তম তরীকার দ্বারা মন্দকে দূর করা। ওয়াযের চেয়ে আমল মানুষের কাছে আকর্ষণীয় এবং গ্রহণযোগ্য। তাই আমাদের উচিত, নবী করীম ﷺ-এর আদর্শ অনুসরণ করা এবং কর্মক্ষেত্রে তাঁর বাস্তব নমুনা পেশ করা, যাতে আল্লাহর বান্দাগণ সহজে বুঝতে পারে যে, মুসলমানগণ আখেরী নবীর আদর্শের বাস্তব অনুসারী।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)