মুসনাদে আহমদ- ইমাম আহমদ রহঃ (আল-ফাতহুর রব্বানী)

সালাম, (ঘরে প্রবেশের) অনুমতি চাওয়া এবং অন্যান্য বিষয়ের আদব অধ্যায়

হাদীস নং: ৩২
সালাম, (ঘরে প্রবেশের) অনুমতি চাওয়া এবং অন্যান্য বিষয়ের আদব অধ্যায়
পরিচ্ছেদ: কিতাবীদের সালামের জবাবে কী বলতে হবে।
৩২। আনাস ইবন মালিক (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা ইয়াহুদীরা নবী (ﷺ) এর নিকট উপস্থিত হয়ে বলল اَلسَّامُ عَلَيْكَ (আপনার মরণ হোক)। তখন নবী বললেন, السَّامُ عَلَيْكُمْ (বরং তোমাদের মরণ হোক)। এরপর আয়েশা (রা) বললেন, السَّامُ عَلَيْكُمْ يَا إِخْوَانَ الْقِرَدَةِ وَالْخَنَازِيْرُ وَلَعْنَةُ اللَّهِ وَغَضَبُهُ (হে শুকর ও বানরের ভাইয়েরা! তোদের মরণ হোক এবং তোদের ওপর আল্লাহর লানত ও গযব আপতিত হোক)। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, হে আয়েশা! চুপ কর। তিনি বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! তারা যা বলেছে আপনি কি তা শুনতে পান নি? রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, আমি তাদেরকে যে জবাব দিয়েছি তুমি কি সেটা শুনতে পাও নি? হে আয়েশা! নম্রতা যে কোন বিষয়ে এসেছে তাকে সৌন্দর্যমণ্ডিত করেছে আর যে কোন বিষয় থেকে তা বিদূরিত হয়েছে তাকে কলুষিত করেছে। (অন্য বর্ণনায় অতিরিক্ত আছে) আল্লাহ সর্ববিষয়ে নম্রতা পছন্দ করেন। (বুখারী)
মুসলিমে ইহার সমার্থক হাদীস বর্ণনা করেছেন।
كتاب السلام والاستئذان وآداب أخرى
باب ما يقال في رد السلام على أهل الكتاب
عن أنس بن مالك أن اليهود دخلوا على النبي صلى الله عليه وسلم فقالوا السام عليك فقال النبي صلى الله عليه وسلم السام عليكم، فقالت عائشة رضي الله عنها السام عليكم يا إخوان القدرة والخنازير ولعة الله وغضبه، فقال يا عائشة مه (1) فقالت يا رسول الله أما سمعت ما قالوا؟ قال أو ما سمعت ما وردت عليهم، يا عائشة لم يدخل الرفق في شيء إلا زانه، ولم ينزع من شيء إلا شأنه (2) (زاد في رواية) أن الله يحب الرفق في الأمر كله

হাদীসের ব্যাখ্যা:

এসব ইয়াহূদী নবী করীম ﷺ-এর সাথে খুব অভদ্র ও নিন্দনীয় আচরণ করেছিল। তারা নবী করীম ﷺ-কে বলেছিল, তোমার মৃত্যু হোক। উন্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা (রা) তা বরদাশত করতে পারেননি এবং মন্দ বাক্যের জবাব মন্দ বাক্যের দ্বারা দিয়েছিলেন। নবী করীম ﷺ ইয়াহুদীদের অভদ্র আচরণে হয়ত অন্তরে ব্যথা পেয়েছিলেন এবং এরূপ ব্যথা পাওয়া খুবই স্বাভাবিক। কিন্তু তিনি ব্যথিত অবস্থায়ও মন্দকে মন্দের দ্বারা প্রতিরোধ করতে পসন্দ করেননি। কারণ নবী করীম ﷺ-এর অভ্যাস হল ক্রোধকে দমন করা, মানুষের প্রতি সদয় থাকা এবং তাঁর শিক্ষা হল উত্তম তরীকার দ্বারা মন্দকে দূর করা। ওয়াযের চেয়ে আমল মানুষের কাছে আকর্ষণীয় এবং গ্রহণযোগ্য। তাই আমাদের উচিত, নবী করীম ﷺ-এর আদর্শ অনুসরণ করা এবং কর্মক্ষেত্রে তাঁর বাস্তব নমুনা পেশ করা, যাতে আল্লাহর বান্দাগণ সহজে বুঝতে পারে যে, মুসলমানগণ আখেরী নবীর আদর্শের বাস্তব অনুসারী।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)
tahqiqতাহকীক:তাহকীক চলমান
মুসনাদে আহমদ- ইমাম আহমদ রহঃ - হাদীস নং ৩২ | মুসলিম বাংলা