মুসনাদে আহমদ- ইমাম আহমদ রহঃ (আল-ফাতহুর রব্বানী)

সর্বশ্রেষ্ঠ নবী ও সর্বশেষ রাসূল মুহাম্মদ ইব্‌ন আব্দুল্লাহ (ﷺ)-এর জীবনচরিত অধ্যায়

হাদীস নং: ৩২২
সর্বশ্রেষ্ঠ নবী ও সর্বশেষ রাসূল মুহাম্মদ ইব্‌ন আব্দুল্লাহ (ﷺ)-এর জীবনচরিত অধ্যায়
৭ম হিজরীর ঘটনাবলী

পরিচ্ছেদ : যু কারাদ যুদ্ধ- এটিকে গাবাহ্ যুদ্ধও বলা হয়
৩২২, ইয়াস ইব্‌ন সালামাহ ইব্‌ন আকওয়া তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেছেন যে, হুদায়বিয়ার সময় আমরা রাসুলুল্লাহ (ﷺ) এর সাথে মদীনায় আগমন করি। তখন আমি আর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর ক্রীতদাস রাবাহ একসাথে বের হলাম। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর ক্রীতদাস রাবাহের সাথে ছিল রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর বাহন উটপাল ও বোঝা। আর আমি বের হয়েছিলাম তালহা ইবন উবায়দুল্লাহ্-এর একটি ঘোড়া নিয়ে। আমার উদ্দেশ্য ছিল উটপালের সাথে ঘোড়াটিকে ঘাস- পানি খাওয়াব। শেষ রাতের অন্ধকার যখন ঘনীভূত হল তখন আবদুর রহমান ইব্‌ন উয়ায়নাহ এসে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর উটপালের উপর হামলা করতঃ রাখালকে হত্যা করে এবং উটপাল ছিনিয়ে নিয়ে যায়। তার সাথে একদল অশ্বারোহী লোকও ছিল। আমি বললাম ওহে রাবাহ, তুমি এই অশ্বে আরোহণ করে এটিকে তালহার নিকট পৌছিয়ে দাও এবং রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে জানিয়ে দাও যে, তাঁর বাহনগুলোর উপর শত্রুপক্ষ আক্রমণ করেছে। বর্ণনাকারী বলেন, আমি একটি পাহাড়ে উঠে গেলাম এবং মদীনার দিকে মুখ করে প্রচণ্ড শব্দে তিনবার চীৎকার দিয়ে বললাম 'ইয়া সাবাহাহ্"! (অর্থাৎ বিপদ বিপদ বিপদ)। এরপর আমি আমার তরবারি ও বর্শা নিয়ে লুটেরা দলের পেছনে ছুটলাম। আমি তাদেরকে তীর নিক্ষেপে আহত করছিলাম। ঘন গাছ-গাছালির ঝোপ পেলে আমি তীর নিক্ষেপ করতাম আর তাদের কোন অশ্বারোহী আমার দিকে এগিয়ে এলে আমি গাছের আড়ালে লুকিয়ে থাকতাম এবং সুযোগ বুঝে পুনরায় তীর নিক্ষেপ করতাম। যে অশ্বারোহীই আমার দিকে এসেছে আমি তাকে তীর নিক্ষেপে আহত করেছি। আমি তখন তীর নিক্ষেপ করছিলাম আর বলছিলাম-
أَنَا ابْنُ الْأَكْوَع ... وَالْيَوْمُ يَوْمُ الرُّضَعِ
“আমি আকওয়ার পুত্র-আজকের দিন নিকৃষ্ট লোকদের ধ্বংসের দিন।"
আমি ওদের এক লোকের দেখা পাই। সে তার বাহনের উপর ছিল। আমি তাকে তীর নিক্ষেপ করি। আমার তীর তার পায়ে বিদ্ধ হয়। আমি তার ঘাড় ধরে ফেলি এবং বলি, "এটি লও, আমি আকওয়ার পুত্র, আজকের দিন নিকৃষ্ট লোকদের জন্যে ধ্বংসের দিন)। আমি যখন গাছের আড়ালে থাকতাম তখন তীর মেরে ওদের মধ্যে আগুন ধরিয়ে দিতাম। আর পাহাড়ী পথে তীর নিক্ষেপ সম্ভব না হলে আমি পাহাড়ের উপরে উঠে তাদের উপর পাথর নিক্ষেপ করতাম। এভাবেই আমি আর তারা সংঘাতে লিপ্ত ছিলাম। একপর্যায়ে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর পুরো উটপাল কে আমি আমার পেছনে এনে ওদের কবল থেকে মুক্ত করে নিই। এরপরও আমি ওদের প্রতি তীর এবং পাথর নিক্ষেপ করতে থাকি। তারা নিজেদের বোঝা হালকা করার জন্যে ৩০টি বর্শা এবং ৩০টি চাঁদর ফেলে রেখে এগিয়ে যায়। তারা যা যা ফেলে যাচ্ছিল আমি সেগুলো পাথরে ঢেকে দিচ্ছিলাম এবং রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর আগমনের পথে সেগুলোকে একত্রিত করে রাখছিলাম।

সূর্যতাপ কিছুটা প্রখর হবার পর ওদের সাহায্যে উয়ায়না ইবন্ বদর উপস্থিত হয়। তখন তারা একটি ছোট্ট পাহাড়ে অবস্থান করছিল। আমি পাহাড়ের উপরে উঠে যাই। উয়ায়না বলল আমি এটা কী দেখছি? তারা বলল আমরা ওর পক্ষ থেকে ভীষণ আক্রমণের শিকার হচ্ছি। শেষ রাত থেকে এখন পর্যন্ত সে আমাদেরকে ছাড়ছে না। আমাদের হাতে যা ছিল তার সবই সে কেড়ে নিয়ে তার পেছনে রেখে দিয়েছে।

উয়ায়না বলল ওর পেছনে সাহায্যকারী দল থাকার ব্যবস্থা না থাকলে নিশ্চয়ই সে তোমাদেরকে ছেড়ে চলে যেত। এখন তোমাদের কয়েকজন তার উপর হামলা করার জন্যে এগিয়ে যাও। তাদের মধ্য থেকে চারজন এগিয়ে গিয়ে পাহাড়ে উঠল। আমার কণ্ঠস্বর তাদের কানে পৌছার মত জায়গায় তারা উঠার পর আমি বললাম, তোমরা কি আমাকে চেন? তারা বলল, তুমি কে? আমি বললাম, আমি আকওয়ার পুত্র। সেই সত্বার কসম যিনি মুহাম্মাদ (ﷺ) কে সম্মানিত করেছেন তোমাদের কেউ আমাকে খুঁজলে সে আমাকে খুঁজে পাবে না আর আমি তোমাদের কাউকে খুঁজে বের করতে গেলে সে লুকিয়ে থাকতে পারবে না। ওদের একজন বলল, হাঁ, আমার ধারণাও তাই। অতঃপর আমি আমার স্থানে রয়ে গেলাম। একপর্যায়ে আমি দেখতে পেলাম যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) অশ্বারোহী সৈন্যগণ বৃক্ষবনে প্রবেশ করছে। তাদের প্রথমে ছিলেন আখরাম আসাদী (রা) আর তাঁর পেছনে আবু কাতাদাহ্ (রা)। আর কাতাদাহ্-এর পেছনে মিকদাদ কিন্দী (রা)। তাঁদেরকে দেখে মুশরিকগণ পৃষ্ঠপ্রদর্শন করে পালাতে লাগল। আমি পাহাড় থেকে অবতরণ করলাম। আখরাম আসাদী (রা) এর ঘোড়ার লাগাম ধরে আমি বললাম, হে আখরাম! শত্রুদের ব্যাপারে সাবধান থাকবেন, ওরা যে আপনাকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলবে না সে বিষয়ে আমি শংকামুক্ত নই। আপনি অপেক্ষা করুন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ও তাঁর সাহাবীগণ সকলে উপস্থিত হবেন। আখরাম (রা) বললেন, হে সালামাহ্! আল্লাহ্ এবং শেষ দিবসে যদি তোমার বিশ্বাস থাকে আর তুমি যদি বিশ্বাস কর যে, জান্নাত ও জাহান্নাম সত্য তাহলে আমার মাঝে আমার শহীদ হবার মাঝে তুমি অন্তরায় হয়ো না। এরপর আমি তাঁর ঘোড়ার লাগাম ছেড়ে দিলাম। তিনি আবদুর রহমান ইব্‌ন উয়ায়নার মুখোমুখি হলেন। সে তাঁর উপর আক্রমণ করল। উভয়ের মধ্যে তরবারির আক্রমণ প্রতি আক্রমণ হল। আখরাম আহত করলেন আবদুর রহমানকে। আবদুর রহমান প্রত্যাঘাত করল আখরামকে এবং তাঁকে শহীদ করল। সে আখরাম (রা) এর ঘোড়ায় চড়ে বসল। আবু কাতাদা (রা) তাকে প্রতিরোধ করলেন। উভয়ের মধ্যে তরবারির আঘাত বিনিময় হল। সে আবু কাতাদা (রা) কে আহত করল, আবু কাতাদা (রা) তাকে হত্যা করলেন। তিনি আখরামের ঘোড়ায় চড়ে বসলেন। আমি শত্রু সেনাদলের পেছনে প্রাণপণে দৌড়াতে লাগলাম। আমি এতদূরে চলে এলাম যে, মূলমানদের পদধূলিও দেখতে পাচ্ছিলাম না। শেষ পর্যন্ত সূর্যাস্তের পূর্বে তারা কারাদ নামের পানির কূপবিশিষ্ট গিরিপথে এসে অবতরণ করল। তাঁরা পানি পান করার প্রস্তুতি নিচ্ছিল। এমন সময় তারা আমাকে দেখতে পায় যে আমি তাদেরকে তাড়া করছি। তারা ওই স্থান ছেড়ে দ্রুত ওই কূপবিশিষ্ট পাহাড়ে উঠতে থাকে। ইতিমধ্যে সূর্য অস্তমিত হয়। আমি ওদের একজনকে ধরে ফেলি। তার প্রতি তীর নিক্ষেপ করে আমি বলি
خُذْهَا أَنَا ابْنُ الْأَكْوَعِ ... وَالْيَوْمُ يَوْمُ الرضْعِ
“নে, এটি ধর, আমি আকওয়ার পুত্র, আজকের দিন নিকৃষ্ট লোকদের ধ্বংসের দিন।”
সে বলল, আকওয়ার মা ধ্বংস হোক তুমিই কি ভোর থেকে আমাদেরকে তাড়া করছ? আমি বললাম হাঁ, ওহে নিজে নিজের শত্রু। বস্তুতঃ আমি ভোরেও তাকে তীর নিক্ষেপ করেছিলাম। এবার আরেকটি তীর আমি তার দিকে নিক্ষেপ করলাম। দুটো তীর তার শরীরে ঝুলছিল। ওরা পালিয়ে যাবার সময় দুটো ঘোড়া ফেলে যায়। আমি সে দুটোকে চালিয়ে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট এসে পৌছি। শত্রুপক্ষকে যে পানির কূপ থেকে আমি তাড়িয়েছিলাম সেই যুকারাদ স্থানে তিনি অবস্থান করছিলেন। তাঁর সাথে পাঁচশত সৈন্য ছিল। আমি যে উটগুলোকে পেছনে রেখে গিয়েছিলাম হযরত বিলাল (রা) সেগুলো থেকে কতক উট জবাই করে কলিজা ও কুঁজ রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর জন্য ভাজি করছিলেন। আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিকট পৌছি এবং তাঁকে বলি যে, ইয়া রাসূলাল্লাহ্ (ﷺ)। আমাকে অনুমতি দিন, আমি সাহাবীগণের মধ্য থেকে একশত জনকে বাছাই করে নিই এবং সন্ধ্যাবেলা শত্রুদলের উপর আক্রমণ করে তাদের সকলকে হত্যা করি যাতে তাদের মধ্যে সংবাদ পৌঁছানোর মতও কেউ না থাকে। তিনি বললেন, হে সালামাহ্, তুমি কি তেমনটি করতে চাও? আমি বললাম, হাঁ, যে মহান সত্তা আপনাকে সম্মানিত করেছেন তাঁর কসম করে বলছি আমি তেমনটি করতে চাই। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) মুখ খুলে হাসলেন যে, আমি আগুনের আলোতে তাঁর পাশের দাঁত দেখতে পেলাম। তারপর তিনি বললেন, এখন তারা গাতফান মহল্লায় আপ্যায়ন করছে। একটু পরে গাতফানী এক পুরুষ উপস্থিত হয়ে বলে যে, ওই শত্রুদল অমুক গাতফানীর নিকট গিয়েছিল। সে তাদের ভোজনের জন্যে উট জবাই করেছিল। তারা যখন উটের চামড়া খুলছিল তখন তারা উড়ন্ত পদধূলি দেখতে পায়। ফলে তারা সেগুলো ফেলে রেখে পালিয়ে যায়।

ভোরবেলা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, আজকে আমাদের শ্রেষ্ঠ অশ্বারোহী হল আবু কাতাদাহ আর শ্রেষ্ঠ পদাতিক সৈন্য হল সালামাহ্। অতঃপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাকে অশ্বারোহী এবং পদাতিক উভয় প্রকারের যোদ্ধার বণ্টন-অংশ প্রদান করলেন। এরপর তাঁর বাহনের পেছনে যাত্রী হিসেবে তিনি আমাকে তাঁর 'আদবা' উষ্ট্রীর পেছনে তুলে নিলেন। আমরা সকলে তখন মদীনায় প্রত্যাবর্তন করছিলাম। মদীনার কাছাকাছি এসে পৌঁছার পর জনৈক আনসারী যে কোনোদিন দৌড় প্রতিযোগিতায় পরাজিত হয়নি চীৎকার করে বলছিল আমার সাথে দৌড় প্রতিযোগিতায় অবতীর্ণ হবার মত কেউ আছে কি? এমন কেউ কি আছে যে, মদীনায় আগে পৌঁছবার প্রতিযোগিতায় অবতীর্ণ হবে? সে একাধিকবার এই ঘোষণা দিল। আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর বাহনের পেছনে যাত্রীরূপে ছিলাম। আমি বললাম, ওহে তুমি কি সম্মানী মানুষকে সম্মান দেখাতে আর ভদ্র মানুষকে ভয় করতে অভ্যস্ত নও? সে বলল, না- রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ব্যতীত অন্য কাউকে সম্মান দেখানো কিংবা ভয় করতে আমি অভ্যস্ত নই। আমি বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ্ (ﷺ), আমার পিতা-মাতা আপনার জন্যে উৎসর্গ হোক, আপনি আমাকে অনুমতি দিন আমি ওই লোকের সাথে প্রতিযোগিতায় অবতীর্ণ হব। তিনি বললেন, মন চাইলে যাও। আমি ওকে বললাম, আমি তোমার সাথে প্রতিযোগিতায় যাচ্ছি। সে তার সওয়ারী থেকে লাফিয়ে পড়ল। আমি আমার দু' পা একত্রিত করে উষ্ট্রী থেকে নেমে পড়লাম। তারপর এক/দুই টিলা ধীরে ধীরে অগ্রসর হলাম শক্তি সঞ্চয়ের জন্যে। তারপর আমি প্রচন্ড গতিতে দৌড় দিলাম। তারপর তার নিকট গিয়ে তার ঘাড়ের মাঝখানে গুঁতো দিয়ে বললাম আল্লাহর কসম আমি তোমার আগে চলে গেলাম। আমার অবস্থা দেখে সে হেসে উঠল এবং বলল, আমি তাই ভেবেছিলাম। এভাবে আমরা সকলে মদীনা শরীফ এসে পৌছি।
كتاب سيرة أول النبيين وخاتم المرسلين نبينا محمد بن عبد الله صلى الله عليه وسلم
أبواب حوادث السنة السابعة

باب ما جاء فى غزوة ذى قرد وتسمى غزوة الغابة أيضاً
عن إياس بن سلمة بن الأكوع عن أبيه (2) قال قدمنا المدينة زمن الحديبية مع رسول الله صلى الله عليه وآله وسلم فخرجنا أنا ورباح غلام رسول الله صلى الله عليه وآله وسلم بظهر (3) رسول الله صلى الله عليه وسلم وخرجت بفرس لطلحة بن عبيد الله كنت أريد أن أنديه (4) مع الأبل فلما كان بغلس (5) أغار عبد الرحمن بن عيينة على ابل رسول الله صلى الله عليه وآله وسلم وقتل راعيها وخرج يطردها هو وأناس معه فى خيل، فقلت يا رباح اقعد (6) على هذا الفرس فألحقه بطلحة وأخبر رسول الله صلى الله عليه وسلم أنه قد أغير على سرحه (7) قال وقمت على تل فجعلت وجهى من قبل المدينة ثم ناديت ثلاث مرات يا صباحاه، ثم اتبعت القوم معى سيفى ونبلى فجعلت أرميهم وأعقر بهم وذلك حين يكثر الشجر فإذا رجع إلىّ فارس جلست له فى أصل الشجرة ثم رميت، فلا يقبل علىّ فارس إلا عقرت به فجعلت أرميهم وأقول (أنا ابن الأكوع ... واليوم يوم الرضع) (8) فألحق برجل منهم فأرميه وهو على راحلته فيقع سهمى فى الرجل حتى انتظمت كتفه فقلت (خذها وأنا ابن الأكوع: واليوم يوم الرضع) فاذا كنت فى الشجر أحرقتهم بالنبل فاذا تضايقت الثنايا (9) علوت الجبل فرديتهم بالحجارة، فما زال ذاك شأنى وشأنهم اتبعهم. فأرتجز حتى ما خلق الله شيئاً من ظهر رسول الله صلى الله عليه وسلم إلا خلفته (10) وراء ظهرى فاستنقذته من أيديهم (11) ثم لم أزل أرميهم حتى ألقوا أكثر من ثلاثين رمحاً وأكثر من ثلاثين بردة يستخفون منها ولا يلقون من ذلك شيئاًَ إلا جعلت عليه حجارة (12) وجمعت على طريق رسول الله صلى الله عليه وسلم حتى إذا امتد الضحى أتاهم عيينة بن بدر الفزارى مدداً لهم وهم فى ثنيه ضيقة ثم علوت الجبل فأنا فوقهم فقال عيينة ما هذا الذى أرى قالوا لقينا من هذا البرح (1) ما فارقنا بسحر حتى الآن وأخذ كل شئ فى أيدينا وجعله وراء ظهره، قال عيينة لولا أن هذا يرى أن وراءه طلباً لقد ترككم (2) ليقم إليه نفر منكم فقام إليه منهم أربعة وصعدوا فى الجبل فلما أسمعتهم الصوت قلت أتعرفونى؟ قالوا ومن أنت؟ قلت أنا ابن الأكوع والذى كرّم وجه محمد صلى الله عليه وسلم لا يطلبنى منكم رجل فيدركنى ولا أطلبه فيفوتنى قال رجل منهم أن أظن (3) قال فما برحت مقعدى ذلك حتى نظرت إلى فوارس رسول الله صلى الله عليه وسلم يتخللون الشجر وإذ أولهم الأخرم الأسدى وعلى أثره أبو قتادة فارس رسول الله صلى الله عليه وسلم وعلى أثر أبى قتادة المقداد الكندى فولىَّ المشركون مدبرين وأنزل من الجبل فأعرض للأخرم فآخذ بعنان فرسه فقلت يا أخرم ائذن القوم يعنى أحذرهم فانى لا آمن أن يقطعوك فاتئد حتى يلحق رسول الله صلى الله عليه وسلم وأصحابه، قال يا سلمة إن كنت تؤمن بالله واليوم الآخر وتعلم أن الجنة حق والنار حق فلا تحل بيني وبين الشهادة، قال فحليت عنان فرسه فيلحق بعبد الرحمن بن عيينة ويعطف عليه عبد الرحمن فاختلفا طعنتين فعقر (4) الأخرم بعبد الرحمن وطعنه عبد الرحمن فقتله، فتحول عبد الرحمن على فرس الأخرم (5) فيلحق أبو قتادة بعبد الرحمن فاختلفا طعنتين فعقر بابى قتادة وقتله أبو قتادة وتحول أبو قتادة على فرس الاخرم، ثم إنى خرجب أعدو فى أثر القوم حتى ما أرى من غبار صحابة النبى صلى الله عليه وسلم شيئاً (6) ويعرضون قبل غيبوبة الشمس إلى شعب فيه ماء قال له قرد فأرادوا أن يشربوا منه فأبصرونى أعدو وراءهم فعطفوا عنه واشتدوا فى الثنية (7) ثنية ذى بئر وغربت الشمس فألحق رجلاً (8) فأرميه فقلت (خذها وأنا ابن الأكوع: واليوم يوم الرضع) قال فقال يا ثكل أم أكوع بكرة (9) قلت نعم أى عدو نفسه، وكان الذي رميته بكرة (1) فأتبعه سهماً آخر فعلق به سهمان ويخلفون فرسين (2) فجئت بهما أسوقها إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم وهو على الماء الذى جنيتهم (3) عنه ذو قرد، فإذا نبى الله صلى الله عليه وسلم فى خمسمائة وإذا بلال قد نحر جزوراً مما خلقت فهو يشوى لرسول الله صلى الله عليه وسلم من كبدها وسنامها، فأتيت رسول الله صلى الله عليه وسلم فقلت يا رسول الله خلنى فأنتحب من أصحابك مائة فآخذ على الكفار عشوة فلا يبقى مخبر إلا قتلته، قال أكنت فاعلاً ذلك يا سلمة؟ قال نعم والذى أكرمك، فضحك رسول الله صلى الله عليه وسلم حتى رأيت نواجذه (4) فى ضوء للنار ثم قال أنهم يُقرون (5) الآن بأرض غطفان، فجاء رجل من غطفان فقال مرءوا على فلان الغطفانى فنحر لهم جزوراً، قال فلما أخذوا يكشطون جلدها رأوا غبرة فتركوها وخرجوا هراباً، فلما أصبحنا قال رسول الله صلى الله عليه وسلم خير فرساننا (6) اليوم أبو قتادة وخير رجالتنا (7) سلمة، فأعطانى رسول الله صلى الله عليه وسلم سهم الراجل والفارس جميعاً (8) ثم أردفنى وراءه على العضباء (9) راجعين إلى المدينة فلما كان بيننا وبينها قريباً من ضحوة وفى القوم رجل من الأنصار كان لا يُسبق جعل ينادى هل من مسابق؟ ألا رجل يسابق إلى المدينة؟ فاعاد ذلك مراراً وأنا وراء رسول الله صلى الله عليه وسلم مردفى، قلت أما تكرم كريماً ولا تهاب شريفاً؟ قال لا إلا رسول الله صلى الله عليه وسلم، قال قلت يا رسول الله بأبى أنت وأمى خلنى فلأسابق الرجل، قال إن شئت، قلت اذهب إليك فطفر (10) عن راحلته وثنيت رجلى فظفرت عن الناقة ثم انى ربطت عليها (11) شرفا أو شرفين يعنى استبقيت نفسى (12) ثم انى عدوت حتى ألحقه فاصك (13) بين كتفيه بيدى قلت سبقتك والله أو كلمة نحوها، قال وضحك وقال إن أظن (14) حتى قدمنا المدينة.
tahqiqতাহকীক:তাহকীক চলমান