মুসনাদে আহমদ- ইমাম আহমদ রহঃ (আল-ফাতহুর রব্বানী)
সর্বশ্রেষ্ঠ নবী ও সর্বশেষ রাসূল মুহাম্মদ ইব্ন আব্দুল্লাহ (ﷺ)-এর জীবনচরিত অধ্যায়
হাদীস নং: ৩২০
সর্বশ্রেষ্ঠ নবী ও সর্বশেষ রাসূল মুহাম্মদ ইব্ন আব্দুল্লাহ (ﷺ)-এর জীবনচরিত অধ্যায়
পরিচ্ছেদ : সালামাহ ইব্ন আকওয়া'হ-এর হাদীস তাতে পূর্ববর্তী দুই অধ্যায়ের সারাংশ রয়েছে
৩২০. ইয়াস থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন আমার পিতা বলেছেন, আমরা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সাথে হুদায়বিয়াতে পৌছি। আমরা ছিলাম ১৪০০ জন। সেখানে ৫০টি বকরী থাকত। স্থানীয় কূপের পানি তাদের পিপাসা নিবারণের জন্যে যথেষ্ট ছিল না। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কূপের তীরে বসলেন। তিনি দুআ করলেন কিংবা কূপে থুথু ফেললেন। সাথে সাথে কূপের পানি উথলে উঠল। আমরা সকলে পানি পান করলাম এবং পশুপালকে পানি করালাম। এরপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বৃক্ষতলে বায়'আত করার আহ্বান জানান। প্রথম সারির লোকজন বায়আত করল। তারপর পর্যায়ক্রমে অন্যরা বায়আত করে যাচ্ছিল। মধ্যম ভাগের লোকজনের সময় হবার পর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন হে সালামাহ্! তুমি আমার হাতে বায়আত কর। তিনি বললেন ইয়া রাসূলাল্লাহ্! আমি প্রথম দিকের লোকদের সাথে বায়আত করে নিয়েছি। তিনি বললেন আবার বায়আত কর। তিনি আমাকে নিরস্ত্র দেখতে পেলেন এবং আমাকে একটি ঢাল দিলেন। এরপর তিনি বায়আত করাচ্ছিলেন। তিনি যখন শেষ দিকের লোকদেরকে বায়আত করাচ্ছিলেন তখন আমাকে বললেন, তুমি কি আমার নিকট বায়আত করবে না? আমি বললাম ইয়া রাসূলাল্লাহ্! আমি প্রথম দিকের লোকদের সাথে এবং মধ্যম দিকের লোকদের সাথে বায়আত করেছি। তিনি বললেন আবার বায়আত কর। আমি আবার তাঁর হাতে বায়আত করলাম। তিনি বললেন আমি তোমাকে যে ঢালটি দিয়েছি সেটি কোথায়? আমি বললাম, আমার চাচা 'আমিরকে নিরস্ত্র দেখে আমি সেটি তাঁকে দিয়ে দিয়েছি। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন তুমি তো সেই ব্যক্তির মত যে বলে হে আল্লাহ্! আমাকে এমন একটি বন্ধু এনে দিন যে আমার নিকট আমার নিজের চেয়ে অধিক প্রিয় অতঃপর তিনি হেসে ফেললেন। এরপর মুশরিকগণ আমাদের সাথে সন্ধি চুক্তি সম্পাদনের চেষ্টা করল। অতঃপর আমরা একে অন্যের পাশাপাশি থেকে হাঁটতে শুরু করি। আমি তালহা ইবন উবায়দুল্লাহ্ (রা) এর খাদেম ছিলাম। আমি তাঁর ঘোড়াকে খাবার দিই, পানি পান করাই এবং তালহার খাবার থেকে আমি খাই, আমার পরিবার-পরিজনকে বাড়ীতে রেখে আমি আল্লাহ্ পথে এসে পড়েছিলাম। আমরা এবং মক্কাবাসিগণ যখন চুক্তি সম্পাদন করলাম তখন আমরা সবাই মিলে মিশে যাত্রা করি এবং নির্দিষ্ট বৃক্ষতলে এসে পৌঁছি। গাছে কাঁটা-কুঁটা পরিষ্কার করে আমি সেখানে শুয়ে পড়ি। ইতিমধ্যে চারজন মুশরিক মক্কাবাসী আমার নিকট আসে এবং রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর বিষয়ে আমার সাথে তর্কে লিপ্ত হয়। আমি ওদেরকে ছেড়ে অন্য বৃক্ষের নিকট চলে যাই। তারা তাদের তরবারি গাছে ঝুলিয়ে রেখে শুয়ে পড়ে। এমতাবস্থায় উপত্যকার নিম্নাঞ্চল থেকে এক ঘোষক ঘোষণা দিয়ে বলে ওহে মুহাজিরগণ! ইবন্ যুনায়ম নিহত হয়েছে। অবিলম্বে আমি আমার তরবারি কোষমুক্ত করে চার মুশরিকের উপর হামলা করি। ওদের তরবারিগুলো নিয়ে আঁটি বেঁধে ফেলি। আমি বলি যে, মুহাম্মাদ (ﷺ) কে যিনি সম্মানিত করেছেন তাঁর কসম করে বলছি, তোমাদের কেউ যদি মাথা ওঠাও তবে আমি তার মাথা ধড় থেকে আলাদা করে দিব। আমি ওদের চারজনকে হাঁকিয়ে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট নিয়ে আসি। ওদিকে আমার চাচা আমির অশ্বে আরোহণ করে সত্তর জন মুশরিকের সাথে দলবদ্ধ হয়ে ইব্ন মুকরিযাকে সাথে নিয়ে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট উপস্থিত হন। আমরা তাঁর সম্মুখে দাঁড়াই। তিনি মুশরিকদের দিকে তাকিয়ে বললেন, ওদেরকে ছেড়ে দাও। এটি তাদের প্রথম অপকর্ম। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ওদেরকে ক্ষমা করে দিলেন। তখন এই আয়াত নাযিল হলঃ
وَهُوَ الَّذِي كَفَّ أَيْدِيَهُمْ عَنْكُمْ وَأَيْدِيَكُمْ عَنْهُمْ بِبَطْنِ مَكَّةَ مِنْ بَعْدِ أَنْ أَظْفَرَكُمْ عَلَيْهِمْ وَكَانَ اللَّهُ بِمَا تَعْمَلُونَ بَصِيرًا .
তিনি মক্কা উপত্যকায় ওদের হাত তোমাদের থেকে এবং তোমাদের হাত ওদের থেকে নিবারিত করেছেন (সূরা ফাত্হঃ ২৪)।
এরপর আমরা মদীনার দিকে ফিরতি যাত্রা করলাম। 'লুহা জামাল' নামক স্থানে এসে আমরা যাত্রাবিরতি করলাম। সে রাতে যারা পাহাড়ে উঠে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ও সাহাবীগণের পক্ষে গোয়েন্দাগিরি করেছিল রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাদের জন্যে ক্ষমার দু'আ করেছিলেন। আমি সে রাতে দুবার কিংবা তিনবার পাহাড়ে উঠেছিলাম। এরপর আমরা মদীনায় এসে পৌছি। মদীনায় এসে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাঁর ক্রীতদাস রাবাহকে তাঁর বাহন সহকারে অন্যত্র প্রেরণ করেন। আমি রাবাহের সাথে ছিলাম। আমি তালহা (রা) এর ঘোড়া নিয়ে বের হই। যখন ভোর হল তখন আবদুর রহমান ইবন উয়ায়নাহ এসে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর বাহনের উপর আক্রমণ চালায় এবং সেগুলো লুট করে নিয়ে যায়। সে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর পশুপালক রাবাহকে খুন করে।
وَهُوَ الَّذِي كَفَّ أَيْدِيَهُمْ عَنْكُمْ وَأَيْدِيَكُمْ عَنْهُمْ بِبَطْنِ مَكَّةَ مِنْ بَعْدِ أَنْ أَظْفَرَكُمْ عَلَيْهِمْ وَكَانَ اللَّهُ بِمَا تَعْمَلُونَ بَصِيرًا .
তিনি মক্কা উপত্যকায় ওদের হাত তোমাদের থেকে এবং তোমাদের হাত ওদের থেকে নিবারিত করেছেন (সূরা ফাত্হঃ ২৪)।
এরপর আমরা মদীনার দিকে ফিরতি যাত্রা করলাম। 'লুহা জামাল' নামক স্থানে এসে আমরা যাত্রাবিরতি করলাম। সে রাতে যারা পাহাড়ে উঠে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ও সাহাবীগণের পক্ষে গোয়েন্দাগিরি করেছিল রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাদের জন্যে ক্ষমার দু'আ করেছিলেন। আমি সে রাতে দুবার কিংবা তিনবার পাহাড়ে উঠেছিলাম। এরপর আমরা মদীনায় এসে পৌছি। মদীনায় এসে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাঁর ক্রীতদাস রাবাহকে তাঁর বাহন সহকারে অন্যত্র প্রেরণ করেন। আমি রাবাহের সাথে ছিলাম। আমি তালহা (রা) এর ঘোড়া নিয়ে বের হই। যখন ভোর হল তখন আবদুর রহমান ইবন উয়ায়নাহ এসে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর বাহনের উপর আক্রমণ চালায় এবং সেগুলো লুট করে নিয়ে যায়। সে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর পশুপালক রাবাহকে খুন করে।
كتاب سيرة أول النبيين وخاتم المرسلين نبينا محمد بن عبد الله صلى الله عليه وسلم
باب ما جاء فى حديث سلمة بن الأكوع وهو يتضمن تلخيص البابين اللذين قبله
عن إياس قال حدثنى أبى (7) قال قدمنا مع رسول الله صلى الله عليه وسلم الحديبية (8) ونحن أربع عشرة مائة (9) وعليها خمسون شاة لا ترويها (10) فقعد رسول الله صلى الله عليه وآله وسلم على حيالها (11) فإما دعا وإما بسق (12) فجاشت فسقينا واحتتينا، قال ثم إن رسول الله صلى الله عليه وآله وسلم دعا بالبيعة فى أصل الشجرة فبايعه أول الناس (13) وبايع وبايع حتى إذا كان فى وسط (14) من الناس قال يا سلمة بايعنى قال قد بايعتك فى أول الناس يا رسول الله، قال وأيضاً فبايع، ورآنى أعزلاً (15) فاعطاني حجفة (16) أو درفة ثم بايع وبايع حتى إذا كان فى آخر الناس قال ألا تبايعنى؟ قال قلت يا رسول الله قد بايعت أول الناس وأوسطهم، قال وأيضاً فبايع: فبايعته (1) ثم قال أين درقتك أو حجفتك التى أعطيتك؟ قال قلت يا رسول الله لقيتنى عمى عامر أعزلا فأعطيته إياها، قال فقال إنك كالذى قال اللهم أبغنى حبيباً هو أحب إلىّ من نفسى وضحك، ثم إن المشركين راسلونا الصلح حتى مشى بعضنا إلى بعض، قال وكنت تبيعاً لطلحة (2) بن عبيد الله أحس فرسه واسقيه وآكل من طعامه وتركت أهلى ومالي مهاجراً إلى الله ورسوله، فلما اصطلحنا نحن وأهل مكة واختلط بعضنا ببعض أتيت الشجرة فكسحت شوكها (3) واضطجعت فى ظلها فأتانى أربعة من أهل مكة فجعلوا وهم مشركون يقعون فى رسول الله صلى الله عليه وسلم فتحولت عنهم إلى شجرة أخرى وعلقوا سلاحهم واضطجعوا، فينما هم كذلك اذ نادى مناد من أسفل الوادى يا آل المهاجرين قتل بن زنيم (4) فاخترطت سيفى فشددت على الأربعة فأخذت سلاحهم فجعلته ضغئاً (5) قلت والذى أكرم محمداً صلى الله عليه وسلم لا يرفع رجل منكم رأسه إلا ضربت الذى يعنى فيه عيناه، فجئت أسوقهم إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم وجاء عمى عامر بابن مكرز (6) يقود به فرسه يقود سبعين حتى وقفنا فنظر إليهم فقال دعوهم يكون لهم بدوّ الفجور (7) وعفا عنهم رسول الله صلى الله عليه وسلم وأنزلت {وهو الذى كف أيديهم عنكم وأيديكم عنهم) (8) ثم رجعنا إلى المدينة فنزلنا منزلاً يقال له لحي جمل (9) فاستغفر رسول الله صلى الله عليه وسلم لمن رقى الجبل فى تلك الليلة كان طليعة لرسول الله صلى الله عليه وسلم وأصحابه، فرقيت تلك الليلة مرتين أو ثلاثة ثم قدمنا المدينة وبعث رسول الله صلى الله عليه وسلم بظهره (1) مع غلامه رباح وأنا معه وخرجت بفرس طلحة أيديه (2) على ظهره (3) فلما أصبحنا إذا عبد الرحمن بن عيينة الفزارى قد أغار (4) على ظهر رسول الله صلى الله عليه وسلم فانتسفه أجمع وقتل راعية