মুসনাদে আহমদ- ইমাম আহমদ রহঃ (আল-ফাতহুর রব্বানী)
সর্বশ্রেষ্ঠ নবী ও সর্বশেষ রাসূল মুহাম্মদ ইব্ন আব্দুল্লাহ (ﷺ)-এর জীবনচরিত অধ্যায়
হাদীস নং: ৩০৩
সর্বশ্রেষ্ঠ নবী ও সর্বশেষ রাসূল মুহাম্মদ ইব্ন আব্দুল্লাহ (ﷺ)-এর জীবনচরিত অধ্যায়
পরিচ্ছেদ : যাতুর রিকা যুদ্ধ-এই যুদ্ধে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ভয়কালীন নামায আদায় করেছেন
৩০৩. জাবির ইবন আবদুল্লাহ্ (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেছেন, আমরা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সাথে যাতুর রিকা' যুদ্ধে বের হলাম। জনৈকা মুশরিক মহিলা আমাদের হাতে ধরা পড়ল। তার স্বামী তখন অন্যত্র অবস্থান করছিল। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যখন ফিরে আসছিলেন তখন তার স্বামী কসম করে বলেছিল যে, মুহাম্মাদের (ﷺ) সাহাবীগণের মধ্যে কারো রক্ত প্রবাহিত না করে খুন না করে সে থামবে না। সে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর পদচিহ্ন ধরে সামনে এগুচ্ছিল। এক জায়গায় এসে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যাত্রাবিরতি করলেন। তিনি ঘোষণা দিয়ে বললেন আমাদেরকে পাহারা দেয়ার কে আছ? একজন আনসারী এবং একজন মুহাজির তাঁর আহ্বানে সাড়া দিয়ে বললেন ইয়া রাসূলুল্লাহ (ﷺ), আমরা আছি। তিনি বললেন তোমরা গিরি গুহার প্রবেশ মুখে অবস্থান করবে। অভিযাত্রী দল এক পার্বত্য উপত্যকায় গিরিগুহায় অবস্থান করছিল। প্রহরী দুজন গুহার প্রবেশ মুখে যাবার পর আনসারী ব্যক্তিটি মুহাজির ব্যক্তিকে বলল, আমি আপনাকে রাতের কোন অংশে বিশ্রাম নিতে দিব প্রথম অংশে নাকি শেষ অংশে? তিনি বললেন আপনি রাতের প্রথম অংশে আমাকে অব্যাহতি দিন। ফলে রাতের প্রথম অংশে মুহাজির ব্যক্তিটি ঘুমিয়ে পড়লেন। আনসারী ব্যক্তি নামাযে দাঁড়ালেন। ইতিমধ্যে একজন আগন্তুক সেখানে উপস্থিত হয়। মানুষের কায়া দেখে সে ধরে নিল যে, এই ব্যক্তি নিশ্চয়ই সংশ্লিষ্ট গোত্রের প্রহরী ও নিরাপত্তাকর্মী। সে আনসারী প্রহরীকে লক্ষ্য করে তীর নিক্ষেপ করে। তীর তাঁর শরীরে বিদ্ধ হয়। তিনি সেটি খুলে রেখে নামাযে স্থির থাকেন। এরপর সে তৃতীয় তীর নিক্ষেপ করে। তীর তার শরীরে বিদ্ধ হয়। তিনি সেটি খুলে রুকু সিজদা চালিয়ে যান। এরপর তিনি তাঁর সাথী মুহাজির সাহাবীকে জাগ্রত করেন এবং বলেন আপনি উঠে বসুন আমি আক্রান্ত হয়েছি। শত্রু ব্যক্তি যখন দুজনকে দেখতে পেল তখন সে বুঝল যে, তার ব্যাপারে সবাইকে সাবধান করে দেয়া হয়েছে। অতঃপর সে পালিয়ে যায়। আনসারী প্রহরীর অবস্থা দেখে মুহাজির সাহাবী অস্থির হয়ে পড়লেন এবং বললেন, আপনি আমাকে আরো আগে জাগ্রত করেননি কেন? তিনি বললেন নামাযে আমি একটি সূরা পাঠ করছিলাম, সেটি শেষ না হওয়া পর্যন্ত সেটি বন্ধ করা পছন্দ করিনি। সে যখন একটার পর একটা তীর নিক্ষেপ শুরু করল তখন আমি আপনাকে জাগিয়ে তুললাম। আল্লাহর কসম রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) আমাকে প্রবেশ পথ পাহারার যে দায়িত্ব দিয়েছেন তাতে ত্রুটি হবার আশংকা না থাকলে ওই পঠন বন্ধ করা কিংবা শেষ করার পূর্বে আমার মৃত্যু হয়ে যেত।
كتاب سيرة أول النبيين وخاتم المرسلين نبينا محمد بن عبد الله صلى الله عليه وسلم
باب ما جاء في غزوة ذات الرقاع وفيها صلي النبي صلى الله عليه وسلم - صلاة الخوف
عن جابر بن عبد الله رضي الله تبارك وتعالي عنهما (1) قال خرجنا مع رسول الله صلي الله عليه وسلم في غزوة ذات الرقاع فاصيبت امرأة من المشركين (2) فلما انصرف رسول الله - صلى الله عليه وسلم - قافلا وجاء زوجها وكان غائبا فحلف أن لا ينتهي حتي يريق دما في أصحاب محمد - صلى الله عليه وسلم - فخرج يتبع أثر النبي - صلى الله عليه وسلم - فنزل النبي - صلى الله عليه وسلم - منزلا فقال من رجل يكلؤنا (3) فانتدب رجل من المهاجرين ورجل من الأنصار فقالا نحن يا رسول الله، قال فكونا بفم الشعب (4) قال وكانوا نزلوا إلي شعب من الوادي، فلما خرج الرجلان إلي فم الشعب قال الأنصاري للمهاجري أي الليل أحب اليك أن اكفيكه أوله أو آخره؟ قال اكفني أوله، فاضطجع المهاجري فنام وقام الأنصاري يصلي وأتي الرجل فلما رأي شخص الرجل عرف انه ربيئة (5) القوم فرماه بسهم فوضعه فيه، فنزعه فوضعه وثبت قائما، ثم رماه بسهم آخر فوضعه فيه فنزعه فوضعه وثبت قائماً، ثم عادله بثالث فوضعه فيه فنزعه فوضعه ثم ركع وسجد ثم أهب صاحبه (6) فقال أجلس فقد أوتيت فوثب فلما رآهما الرجل عرف أن قد نذروا به (7) فهرب فلما رأي المهاجري ما بالأنصاري من الدماء قال سبحان الله ألا أهببتني (8) قال كنت في سورة أقرؤها فلم أحب أن أقطعها حتي أنفذها (9) فلما تابع الرمي ركعت فأريتك، وايم الله لولا أن أضيع ثغراً أمرني رسول الله صلي الله عليه وعلي آله وصحبه وسلم بحفظه لقطع نفسي قبل أن أقطعها أو أنفذها