মুসনাদে আহমদ- ইমাম আহমদ রহঃ (আল-ফাতহুর রব্বানী)

সর্বশ্রেষ্ঠ নবী ও সর্বশেষ রাসূল মুহাম্মদ ইব্‌ন আব্দুল্লাহ (ﷺ)-এর জীবনচরিত অধ্যায়

হাদীস নং: ২৮৯
সর্বশ্রেষ্ঠ নবী ও সর্বশেষ রাসূল মুহাম্মদ ইব্‌ন আব্দুল্লাহ (ﷺ)-এর জীবনচরিত অধ্যায়
পরিচ্ছেদ: খন্দক ও বানু কুরায়যার যুদ্ধ এবং সা'দ ইব্‌ন মুআয (রা)-এর আহত হওয়া
২৮৯. ইয়াযীদ মুহাম্মদ ইবন আমর তাঁর পিতা ও দাদা থেকে আলকামাহ্ ইবন্ন ওয়াক্কাস (রা) সূত্রে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন হযরত আয়েশা (রা) আমাকে অবগত করিয়ে বলেছেন মানুষের পদচিহ্ন অনুসরণ করে আমি খন্দক যুদ্ধের দিনে পথে বের হলাম। হঠাৎ আমার পেছনে পায়ে চলার শব্দ পেলাম। আমি তাকিয়ে দেখলাম হযরত সা'দ ইবন্ মুআয (রা) আসছেন। তাঁর সাথে তাঁর ভাতিজা হারিছ ইব্‌ন আওস ঢাল নিয়ে যাচ্ছেন। আমি মাটিতে বসে পড়লাম। সা'দ (রা) আমাকে অতিক্রম করে গেলেন। তাঁর পরিধানে একটি যুদ্ধবর্ম ছিল। তাঁর হাত-পা বর্মের বাহিরে ছিল। তাঁর এই অঙ্গ প্রত্যঙ্গে আঘাত লাগার আশংকা করছিলাম আমি। হযরত সা'দ (রা) একজন দীর্ঘকায় ও বৃহৎদেহী লোক ছিলেন। তিনি এই কবিতা পাঠ করতে করতে এগুচ্ছিলেন-
لَيْتَ قَلِيلًا يُدْرِكُ الْهَيْجَاءُ جَمَلٌ ... مَا أَحْسَنَ الْمَوْتُ إِذَا حَانَ الْأَجَلُ
উট যদি যুদ্ধে উত্তেজনাকে কমই পেত অর্থাৎ যুদ্ধে উত্তেজনা যদি কম হতো তাহলে ভালো হতো। আর মৃত্যুর সময় এসে গেলে মৃত্যু তো অতি উত্তম।
হযরত আয়েশা (রা) বলেন হযরত সা'দ চলে যাবার পর আমি দাঁড়ালাম এবং একটি বাগানে প্রবেশ করলাম। সেখানে কতক মুসলিম লোককে দেখতে পেলাম। তাঁদের মধ্যে হযরত উমার ইব্‌ন খাত্তাব (রা) এবং শিরস্ত্রাণ ও মুখ-বর্ম পরিহিত এক লোক ছিলেন। আমাকে দেখে হযরত উমার (রা) বিস্মিত হয়ে বললেন, আমার জীবনের কসম আপনি এখানে কেন এসেছেন? আপনি মহাদুঃসাহস দেখিয়েছেন! আপনি যুদ্ধাহত হবেন না কিংবা বন্দী হবেন না এমন নির্ভরতা আপনাকে কে দিল? হযরত উমার (রা) আমাকে বকাবকি করতে লাগলেন তাতে আমি অতিষ্ঠ হয়ে কামনা করছিলাম যে, তখনই মাটি দু ফাঁক হয়ে যাক আমি তার ভিতরে ঢুকে পড়ি। এসময়ে মুখ-বর্ম পরিহিত লোকটি তার মুখ-বর্ম খুলল। আমি দেখলাম যে, তিনি তালহা ইব্‌ন উবায়দুল্লাহ্ (রা)। তিনি বললেন, ওহে উমার! আপনি তো বাড়াবাড়ি করে চলছেন। আল্লাহর প্রতি ধাবিত হওয়া ছাড়া আত্মরক্ষা কিংবা পলায়নের কী পথ আছে? এ সময়ে ইবনুল আরাকাহ নামের জনৈক কুরায়শী মুশরিক লোক হযরত সা'দকে লক্ষ্য করে তীর নিক্ষেপ করে এবং সে বলে এই তীর গ্রহণ করো, আমি ইবনুল আরাকাহ্। তীর এসে হযরত সা'দের বাহুর রগে বিদ্ধ হয় এবং রগ কেটে যায়। মহান আল্লাহর নিকট দুআ করে হযরত সা'দ (রা) বললেন হে আল্লাহ্! বানু কুরায়যা সম্পর্কে আমার চক্ষু না জুড়ানো পর্যন্ত আমার মৃত্যু দিবেন না। তিনি জাহেলী যুগে বানু কুরায়যা গোত্রের মিত্র ও বন্ধু ছিলেন। তৎক্ষণাৎ তাঁর রক্ত প্রবাহ বন্ধ হয়ে গেল। মহান আল্লাহ্ মুশরিকদের প্রতি প্রচণ্ড ঝঞ্ঝা বায়ু প্রেরণ করলেন। তাতে তারা যুদ্ধ ময়দান ছেড়ে পালিয়ে গেল। মহান আল্লাহ্ মুমিনদেরকে যুদ্ধ থেকে রক্ষা করলেন। মহান আল্লাহ্ সর্বশক্তিমান ও অপ্রতিরোধ্য। এ পর্যায়ে আবূ সুফয়ান ও তার সাথীগণ তিহামা-তে উয়ায়না ইব্‌ন বদর ও তার সাথীসঙ্গীগণ নাজদ অঞ্চলে গিয়ে একত্রিত হল আর বানু কুরায়যা গোত্র তাদের দূর্গে ফিরে এল এবং নিরাপত্তা বেষ্টনী জোরদার করল। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) মদীনায় ফিরে গিয়ে অস্ত্রশস্ত্র খুলে রাখলেন। হযরত সাদের জন্য মসজিদে একটি তাঁবু তৈরির নির্দেশ দিলেন। তাঁবু তৈরি করা হল। এসময়ে হযরত জিবরাঈল (ﷺ) এলেন। তাঁর সম্মুখ-দাঁতে বালির চিহ্ন লেগেছিল। তিনি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে বললেন, আপনি কি অস্ত্র খুলে ফেলেছেন? আল্লাহর কসম ফিরিশতাগণ এখনও অস্ত্র খুলে রাখেনি। আপনি বানু কুরায়যা বিরুদ্ধে অভিযানে বের হন এবং ওদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ পরিচালনা করুন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) শিরস্ত্রাণ পরিধান করলেন এবং লোকজনকে অভিযানে বের হবার নির্দেশ দিলেন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বের হয়ে মসজিদের প্রতিবেশী বানু গানাম গোত্রের পাশ দিয়ে অতিক্রম করলেন। তিনি তাদেরকে জিজ্ঞেস করে বললেন তোমাদের এ পথ দিয়ে কে গমন করেছে? তারা বলল, আমাদের এ পথে দিহয়া কালবী (রা) গমন করেছেন। বস্তুত হযরত দিহয়া কালবী (রা) এর দাঁড়ি, দাঁত ও মুখমণ্ডল হযরত জিব্রাঈলের মত ছিল। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বানু কুরায়যা গোত্রের নিকট এলেন এবং ২৫ দিন তাদেরকে অবরুদ্ধ করে রাখলেন। অবরোধের দুর্দশায় অতিষ্ঠ হবার পর তাদেরকে বলা হল যে, তোমরা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর ফায়সালা মেনে নিতে সম্মত হও। তারা আবু লুবাবাহ ইব্‌ন আবদুল মুনযিরের পরামর্শ চাইল তিনি ইঙ্গিতে তাদেরকে জানালেন যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর ফায়সালা হবে তোমাদেরকে জবাই করে দেয়া। তারা বলল, আমরা সা'দ ইব্‌ন মু'আযের ফায়সালা মেনে নিব। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, ঠিক আছে তোমরা সা'দ ইব্‌ন মুআয (রা) এর ফায়সালা মেনে নেয়ার শর্তে বেরিয়ে আস। তারা দূর্গ ছেড়ে বেরিয়ে এল। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) সা'দ ইব্‌ন মু'আয (রা) কে আনার জন্যে লোক পাঠালেন। খেজুর বৃক্ষের আঁশে তৈরি গদি বসানো একটি গাধার পিঠে উঠিয়ে তাঁকে নিয়ে আসা হল। তাঁর সম্প্রদায়ের লোকেরা তাঁকে ঘিরে দাঁড়িয়েছিল। তারা বলল, এরা আপনার মিত্র ও বন্ধু গোত্র এদের অবস্থা আপনার জানা আছে। কিন্তু তিনি তাদের দিকে তাকালেন না এবং কোন উত্তর দিলেন না। তাদের মহল্লার কাছাকাছি আসার পর তিনি তাদের দিকে তাকালেন এবং বললেন এখন কথা বলার সময় হয়েছে। মহান আল্লাহ্ সন্তুষ্টির বিপরীতে আমি কোন সমালোচকের সমালোচনার পরোয়া করি না। বর্ণনাকারী আবু সাঈদ (রা) বলেছেন যে, হযরত সা'দ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকটবর্তী হবার পর তিনি অন্যদেরকে বললেন, তোমাদের সাইয়েদের জন্যে দাঁড়াও এবং তাঁকে নামিয়ে আন। হযরত উমার (রা) বললেন আমাদের সাইয়েদ তো আল্লাহ্ তাআলা। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন আচ্ছা তাঁকে নামিয়ে আন-নামিয়ে আন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) হযরত সা'দ ইব্‌ন মুআয (রা) কে বললেন ওদের ব্যাপারে ফায়সালা দিন। তিনি বললেন আমি এই মর্মে ফায়সালা দিচ্ছি যে, ওদের যুদ্ধক্ষম ব্যক্তিদেরকে হত্যা করা হবে, শিশুদেরকে নিরাপত্তা হেফাজতে নেয়া হবে এবং ওদের ধনসম্পদ বণ্টন করে নেয়া হবে। বর্ণনাকারী ইয়াযীদ যখন বাগদাদে হাদীছটি বর্ণনা করছিলেন তখন তিনি تُقْسَمُ শব্দের স্থলে يُفْسَمُ শব্দ ব্যবহার করেছিলেন। হযরত সা'দের (রা) ফায়সালা শুনে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, আপনি আল্লাহর এবং তাঁর রাসূলের ফায়সালা মুতাবিকই ফায়সালা করেছেন। এরপর হযরত সা'দ (রা) দু'আ করে বললেন ইয়া আল্লাহ! আপনি যদি কুরায়শদের বিরুদ্ধে আপনার নবীর আরো কোন যুদ্ধ হওয়া অবশিষ্ট রাখেন তাহলে সেই যুদ্ধের জন্যে আপনি আমাকে বাঁচিয়ে রাখুন। আর যদি তাঁর আর কুরায়শদের মাঝে যুদ্ধ শেষ হবার ফায়সালা করে থাকেন তাহলে আমাকে আপনার নিকট উঠিয়ে নিন। বর্ণনাকারী বলেন, হযরত সা'দের ক্ষতস্থান সামান্য বাদে বাকীরা শুকিয়ে নিরাময় হয়ে গিয়েছিল। এই দু'আর পর সেই ঘা হতে রক্তক্ষরণ শুরু হল। তিনি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নির্দেশে প্রস্তুতকৃত তাঁর তাঁবুতে ফিরে গেলেন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আবূ বকর (রা) এবং উমার (রা) তাঁর নিকট গেলেন। তাঁরা হযরত সা'দের অবস্থা দেখে চীৎকার করে কাঁদতে লাগলেন। হযরত আয়েশা (রা) বলেন সেই মহান সত্তার কসম করে বলছি যাঁর হাতে মুহাম্মদ (ﷺ) এর প্রাণ আমি আমার কক্ষে অবস্থান করে স্পষ্ট শুনতে পাচ্ছিলাম কোন্টি আবূ বকর (রা) কান্নার শব্দ আর কোন্টি উমার (রা)-এর কান্নার শব্দ। মূলতঃ তাঁরা আল্লাহ্ ঘোষণা অনুযায়ী পরস্পর দয়ার্দ্র ও ভালবাসার মানুষ ছিলেন। আলকামাহ বলেন আমি তখন বললাম হে আম্মাজান! রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এমতাবস্থায় কি করতেন? আয়েশা (রা) বললেন তাঁর চক্ষু কারো জন্যে অশ্রুসজল হত না বরং কোন দুঃখ-ব্যথা পেলে তিনি তাঁর দাঁড়িতে হাত রাখতেন।
كتاب سيرة أول النبيين وخاتم المرسلين نبينا محمد بن عبد الله صلى الله عليه وسلم
باب ما جاء مشتركا في غزوة الخندق وبني قريظة وجرح سعد بن معاذ رضي الله عنه
حدثنا يزيد (4) قال أنا محمد بن عمرو عن أبيه عن جده علقمة بن وقاص قال أخبرتني عائشة قالت خرجت يوم الخندق أقفوا آثار الناس قالت فسمعت وئيد الأرض ورائي يعني حس الأرض، قالت فالتفت فاذا أنا بسعد بن معاذ ومعه ابن أخيه الحارث بن أوس يحمل مجنة (5) قالت فجلست إلي الأرض فمر سعد وعليه درع من حديد قد خرجت منها أطرافه (6) فأنا أتخوف علي أطراف سعد، قالت وكان سعد من أعظم الناس وأطولهم قالت فمر وهو يرتجز ويقول
ليت قليلا يدرك الهيجاء جمل ... ما أحسن الموت إذا حان الأجل
قالت فقمت فاقتحمت حديقة فاذا فيها نفر من المسلمين واذا فيهم عمر بن الخطاب وفيهم رجل عليه يعني سبغة له مغفراً (7) فقال عمر ما جاء بك؟ لعمري والله إنك لجربثة، وما يؤمنك أن يكون بلاء أو يكون تحوز (8) قالت فما زال يلومني حتي تمنيت أن الأرض انشقت لي ساعتئذ فدخلت فيها، قالت فرفع الرجل للسبغة عن وجهه فاذا طلحة بن عبيد الله، فقال يا عمر ويحك انك قد أكثرت منذ اليوم: وأين التحوز أو الفرار إلا إلي الله عز وجل، قالت ويرمي سعداً رجل من المشركين من قريش يقال له ابن العرقة بسهم له فقال له خذها وأنا ابن العرقة فأصاب أكحله (9) فقطعه فدعا الله عز وجل سعد فقال اللهم لاتمتني حتي تقر عيني من قريظة، قالت وكانوا حلفاءه ومواليه في الجاهلية، قالت فرقي كلمه (1) وبعث الله عز وجل الربح علي المشركين فكفي الله عز وجل المؤمنين القتال وكان الله قوياً عزيزاً، فلحق أبو سفيان ومن معه بتهامة، ولحق عيينة بن بدر ومن معه بنجد ورجعت بنو قريظة فتحصنوا في صيامهم (2) ورجع رسول الله - صلى الله عليه وسلم - إلي المدينة فوضع السلاح وامر بقبة من أدم فضربت علي سعد في المسجد، قالت فجاءه جبريل عليه السلام وإن علي ثناياه لنقع الغبار (3) فقال أقد وضعت السلاح؟ والله ما وضعت الملائكة بعد السلاح أخرج إلي بني قريظة فقاتلهم، قالت فلبس رسول الله - صلى الله عليه وسلم - لأمته (4) وأذن في الناس بالرحيل أي يخرجوا فخرج رسول الله - صلى الله عليه وسلم - فمر علي بني غنم وهي جيران المسجد حوله فقال من مر بكم؟ فقالوا مر بنا دحية الكلبي، وكان دحية الكلبي تشبه لحيته وسنه ووجهه جبريل عليه السلام، فقالت فأتاهم رسول الله - صلى الله عليه وسلم - فحاصرهم خمسا وعشرين ليلة، فلما اشتد حصرهم واشتد البلاء قيل لهم انزلوا علي حكم رسول الله - صلى الله عليه وسلم - فاستشاروا أبا لبابة بن عبد المنذر (5) فاشار اليهم انه الذبح (6) قالوا ننزل علي حكم سعد بن معاذ، فقال رسول الله - صلى الله عليه وسلم - انزلوا علي حكم سعد بن معاذ فنزلوا وبعث رسول الله - صلى الله عليه وسلم - إلي سعد بن معاذ فاتي به علي حمار عليه إكاف (7) من ليف قد حمل عليه وحف به قومه، فقالوا يا أبا عمرو حلفاؤك ومواليك وأهل النكاية ومن قد علمت، قالت وأني (8) لا يرجع اليهم شيئا ولا يلتفت اليهم حتي اذا دنا من دورهم التفت إلي قومه فقال قد أبي (9) لي أن لا أبالي في الله لومة لائم، قال قال أبو سعيد فلما طلع علي رسول الله - صلى الله عليه وسلم - قال قوموا إلي سيدكم فأنزلوه، فقال عمر سيدنا الله عز وجل، قال أنزلوه فأنزلوه (1) قال رسول الله - صلى الله عليه وسلم - أحكم فيهم قال سعد فاني أحكم فيهم أن تقتل مقاتلتهم وتسبي ذراريهم وتقسم اموالهم، وقال يزيد ببغداد (2) ويقسم فقال رسول الله - صلى الله عليه وسلم - لقد حكمت فيهم بحكم الله عز وجل وحكم رسوله، قالت ثم دعا سعد قال اللهم ان كنت أبقيت علي نبيك - صلى الله عليه وسلم - من حرب قريش شيئا فأبقني لها، وان كنت قطعت الحرب بينه وبينهم فاقبضني اليك، قالت فانفجر كلمه (3) وكان قد برئ حتي ما يري منه إلا مثل الخرص (4) ورجع إلي قبته التي ضرب عليه رسول الله - صلى الله عليه وسلم - قالت عائشة فحضره رسول الله - صلى الله عليه وسلم - وأبو بكر وعمر، قالت فو الذي نفس محمد بيده إني لأعرف بكاء عمر من بكاء أبي بكر وانا في حجرتي، وكانوا كما قال الله عز وجل (رحماء بينهم) قال علقمة قلت أي امه فكيف كان رسول الله - صلى الله عليه وسلم - يصنع؟ قالت كانت عينه لا تدمع علي احد ولكنه كان إذا وجد (5) فانما هو آخذ بلحيته
tahqiqতাহকীক:তাহকীক চলমান