মুসনাদে আহমদ- ইমাম আহমদ রহঃ (আল-ফাতহুর রব্বানী)
সর্বশ্রেষ্ঠ নবী ও সর্বশেষ রাসূল মুহাম্মদ ইব্ন আব্দুল্লাহ (ﷺ)-এর জীবনচরিত অধ্যায়
হাদীস নং: ২৮৮
সর্বশ্রেষ্ঠ নবী ও সর্বশেষ রাসূল মুহাম্মদ ইব্ন আব্দুল্লাহ (ﷺ)-এর জীবনচরিত অধ্যায়
পরিচ্ছেদ : মহান আল্লাহ্ কর্তৃক তাঁর নবী (ﷺ)-এর দু'আ কবুল করা এবং শত্রুদলের সাহসহারা হওয়া, বিচ্ছিন্ন হওয়া এবং ব্যর্থ ও লজ্জিত হয়ে ফিরে যাওয়া
২৮৮. মুহাম্মদ ইব্ন কা'ব কুরাযী থেকে বর্ণিত। তিনি বলেছেন, আমাদের মধ্যে জনৈক কৃষ্ণা অধিবাসী যুবক হুযায়ফা ইব্ন ইয়ামান (রা) কে বলেছিল, হে আবদুল্লাহ্! আপনারা কি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে দেখেছেন আর তাঁর সাহচর্য লাভ করেছেন? তিনি বলেছেন, হে ভাতিজা! তা-ই আমরা তাঁকে দেখেছি এবং তাঁর সাহচর্য পেয়েছি। যুবক বলল, আপনারা কিভাবে জীবন নির্বাহ করতেন? তিনি বললেন, তখন আমরা অতি দুঃখ কষ্টে জীবনযাপন করতাম। যুবক বলল, আমরা যদি তাঁকে পেতাম তাহলে তাঁকে পায়ে হেঁটে যেতে দিতাম না বরং আমাদের কাঁধে চড়িয়ে নিয়ে যেতাম! হুযায়ফা (রা) বললেন, ভাতিজা, খন্দকের যুদ্ধের দিন আমরা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সাথে অবস্থান দেখেছি, তিনি রাতের বেলা দীর্ঘক্ষণ নামায আদায় করেছেন। এরপর তিনি আমাদের দিকে তাকিয়ে বললেন, তোমাদের মধ্যে কে আছ যে, উঠে গিয়ে শত্রুপক্ষের অবস্থা পর্যবেক্ষণ করে ফিরে এসে আমাদেরকে তা জানাবে। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন যে, সে ফিরে এলে তার বিনিময়ে মহান আল্লাহ্ তাকে জান্নাতে দাখিল করবেন। কিন্তু কেউই উঠল না। এরপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) দীর্ঘক্ষণ নামায আদায় করলেন এবং আমাদের দিকে তাকিয়ে বললেন কে আছ যে, উঠে গিয়ে শত্রপক্ষের অবস্থা দেখে ফিরে এসে তা আমাদেরকে জানাবে বিনিময়ে সে নিশ্চিত জান্নাতে আমার সাথে থাকবে। প্রচণ্ড ভয়, ক্ষুধা ও ঠান্ডার কারণে এবারও কেউ দাঁড়ায়নি। কেউই যখন দাঁড়াল না তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাকে ডাকলেন। এবার আমার বসে থাকার কোন উপায় ছিল না। তিনি বললেন, হে হুযায়ফা, তুমি যাও, শত্রুদের অবস্থা দেখে আস যে, ওরা কী করছে। আমার নিকট আসার পূর্বে তুমি কোন কথা বলবে না। হুযায়ফা বলেন, আমি ওদের নিকট গেলাম এবং ওদের ভেতরে ঢুকে পড়লাম। এ সময়ে ঝঞ্ঝা বায়ু এবং আল্লাহর ফিরিশতা সৈনিকেরা ওদেরকে যা করার তা করছিল। প্রচণ্ড বায়ুতে তাদের আগুন ও পাতিলগুলো স্থির থাকছিল না। তাঁবু ও ওদেরকে যা করার তা করছিল। প্রচণ্ড বায়ুতে তাদের তাদের তাবু ও বাসস্থানগুলো নড়াচড়া করছিল। এ সময়ে আবু সুফয়ান ইবন হারব দাঁড়িয়ে বলল, ওহে কুরায়শ সম্প্রদায়! তোমাদের প্রত্যেকেই যেন তার পাশে বসা ব্যক্তির প্রতি তীক্ষ্ণ দৃষ্টি রাখে। হুযায়ফা (রা) বলেন, আবু সুফয়ানের কথা শোনার সাথে সাথে আমি আমার পাশের লোকটির হাত চেপে ধরি এবং বলি- আপনি কে? সে বলল আমি অমুকের পুত্র অমুক। এরপর আবূ সুফয়ান বলল, ওহে কুরায়শ সম্প্রদায়, আল্লাহ্ কসম, তোমরা অবস্থানযোগ্য জায়গায় নও। ঘোড়াগুলো ধ্বংস হয়ে গিয়েছে। বানু কুরায়যা গোত্র আমাদের সাথে ওয়াদাভঙ্গ করেছে। ওদের পক্ষ থেকে আমরা অপ্রীতিকর আচরণ পেয়েছি। ঝড় ঝঞ্ঝা আমাদের কী অবস্থা করে দিয়েছে তাতো দেখতেই পাচ্ছো। আল্লাহর কসম, চুলার উপর আমাদের পাতিল স্থির থাকছে না, আগুন জ্বলছে না, তাঁবু ও বাসস্থান ঠিক থাকছে না। সুতরাং সকলে নিজ দেশের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু কর, আমি যাত্রা শুরু করছি। সে তার উটে আরোহণ করে ঠিকঠাক ভাবে বসে কশাঘাত করল। উটটি তিন পায়ে লাফিয়ে উঠল। রশি খোলার পর সেটি সোজা দাঁড়িয়ে গেল। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট না আসা পর্যন্ত কোন কথা বলা নিষেধ থাকার কারণে আমি কিছুই বলিনি। নতুবা আমি তার হত্যার ইচ্ছা করলে অবশ্যই তাকে তীর নিক্ষেপে হত্যা করতে পারতাম। তিনি বলেন, এরপর আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট আসি। তিনি তখন তাঁর কোন এক স্ত্রীর চাদর পরে নামায আদায় করছিলেন। আমাকে দেখে তিনি আমাকে তাঁবুর ভেতরে নিয়ে গেলেন এবং ওড়নার এক অংশ আমার উপর ছড়িয়ে দিলেন। এরপর তিনি রুকু সিজদা করে নামায আদায় করলেন। তাঁর সালাম ফেরানোর পর আমি শত্রুপক্ষের অবস্থান তাঁকে জানাই। ওদিকে শত্রু সহযোগী গাতফান গোত্র কুরায়শদের পালিয়ে যাওয়ার ঘটনা অবগত হয় এবং তারা নিজ শহরের দিকে পালিয়ে যায়।
كتاب سيرة أول النبيين وخاتم المرسلين نبينا محمد بن عبد الله صلى الله عليه وسلم
باب ماجاء في استجابة الله تعالي دعاء نبيه - صلى الله عليه وسلم - وفشل الأحزاب وتفرقهم واندحارهم ورجوعهم بالخيبة والندامة
عن محمد بن كعب القرظي (2) قال قال فتي منا من أهل الكوفة لحذيفة بن اليمان يا أبا عبد الله رأيتم رسول الله - صلى الله عليه وسلم - وصحبتموه؟ قال نعم يا أبن أخي، قال فكيف كنتم تصنعون؟ قال والله لقد كنا بحهد (3) قال والله لو أدركنا ما تركناه يمشي علي الأرض ولجعلناه علي أعناقنا، قال فقال حذيفة يا أبن أخي والله لقد رأيتنا مع رسول الله - صلى الله عليه وسلم - بالخندق وصلي رسول الله - صلى الله عليه وسلم - من الليل هويا (4) ثم التفت الينا فقال من رجل يقوم فينظر لنا ما فعل القوم يشترط له رسول الله - صلى الله عليه وسلم - أنه يرجع أدخله الله الجنة، فما قام رجل ثم صلي رسول الله - صلى الله عليه وسلم - هوياً من الليل ثم التفت إلينا فقال من رجل يقوم فينظر لنا ما فعل القوم ثم يرجع يشرط له رسول الله - صلى الله عليه وسلم - الرجعة أسأل الله أن يكون رفيقي في الجنة، فما قام رجل من القوم مع شدة الخوف وشدة الجوع وشدة البرد، فلما يقم أحد دعاني رسول الله - صلى الله عليه وسلم - فلم يكن لي بد في القيام حين دعاني، فقال يا حذيفة فاذهب فادخل في القوم فانظر ما يفعلون ولا تحدثن شيئاً حتي تأتينا، قال فذهبت فدخلت في القوم والريح وجنود الله تفعل ما تفعل لا تقر لهم قدر ولا نار ولا بناء، فقام أبو سفيان بن حرب فقال يا معشر قريش لينظر امرؤ من جليسه، فقال حذيفة فأخذت بيد الرجل الذي إلي جنبي فقلت من أنت، قال أنا فلان بن فلان، ثم قال أبو سفيان يا معشر قريش إنكم والله ما أصبحتم بدار مقام: لقد هلك الكراع (5) واخلفتنا بنو قريظة، بلغنا منهم الذي نكره ولقينا من هذه الريح ما ترون: والله ما تطمئن لنا قدر ولا تقوم لنا نار ولا يستمسك لنا بناء فارتحلوا فإني مرتحل، ثم قام إلي جمله وهو معقول فجلس عليه ثم ضربه فوثب علي ثلاث فما أطلق عقله إلا وهو قائم، ولولا عهد رسول الله - صلى الله عليه وسلم - لا تحدث شيئاً حتي تأتيني ثم شئت (6) لقتلته بسهم، قال حذيفة ثم رجعت إلي رسول الله - صلى الله عليه وسلم - وهو قائم يصلي في مرط (7) لبعض نسائه مرجل (1) فلما رآني أدخلني إلي رحله وطرح علي طرف المرط ثم ركع وسجد وإنه لفيه (2) فلما سلم أخبرته الخبر، وسمعت غطفان بما فعلت قريش وانشمروا (3) إلي بلادهم