মুসনাদে আহমদ- ইমাম আহমদ রহঃ (আল-ফাতহুর রব্বানী)
সর্বশ্রেষ্ঠ নবী ও সর্বশেষ রাসূল মুহাম্মদ ইব্ন আব্দুল্লাহ (ﷺ)-এর জীবনচরিত অধ্যায়
হাদীস নং: ২৭৮
সর্বশ্রেষ্ঠ নবী ও সর্বশেষ রাসূল মুহাম্মদ ইব্ন আব্দুল্লাহ (ﷺ)-এর জীবনচরিত অধ্যায়
পরিচ্ছেদ : বানু মুসতালিক যুদ্ধ অভিযানে অপবাদ আরোপের কারণে হযরত আয়েশা (রা)-এর মনোকষ্ট
২৭৮. হযরত আয়েশার (রা) মাতা উম্মু রূমান (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আর আয়েশা বসা অবস্থায় ছিলাম। এ সময়ে জনৈকা মহিলা আনসারী সেখানে এল। সে বলল, মহান আল্লাহ্ অমুককে ধ্বংস করুন। সে তার পুত্রের জন্যে বদ দুআ করছিল। আমি বললাম কী হয়েছে? ব্যাপার কী? সে বলল সংশ্লিষ্ট গুজব রটনায় আমার পুত্রও জড়িত রয়েছে। আমি তাকে বললাম কী গুজব? সে বলল, এই-এই। তখন আয়েশা (রা) বলল, আবু বকর (রা) কি তা শুনেছেন? সে বলল হাঁ, তিনিও শুনেছেন। আয়েশা (রা) বলল, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) শুনেছেন? সে বলল, হাঁ তিনিও তা শুনেছেন। এটা শুনে আয়েশা সংজ্ঞাহীন হয়ে পড়ে গেল। পরে কাঁপুনি জ্বর গায়ে সে সংজ্ঞা ফিরে পেল। আমি তার গায়ে কাপড় ছড়িয়ে দিলাম। এসময়ে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) সেখানে প্রবেশ করলেন এবং এ অবস্থা দেখে বললেন ঘটনা কী, আর কী হয়েছে? আমি বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ্ (ﷺ), তার কাঁপুনিসহ জ্বর এসেছে। তিনি বললেন, সম্ভবত চলমান গুজবের কারণে তা হয়েছে। উম্মু রূমান বললেন, হাঁ তেমনটাই হবে। এবার হযরত আয়েশা (রা) মাথা উঠিয়ে বললেন, আমি যদি আমার সতীত্বের কথা বলি তবে আপনারা তা গ্রহণ করবেন না, আমি যদি কসম করি তা আপনারা সত্য বলে মেনে নিবেন না। এখন আমার আর আপনাদের অবস্থা হল ইয়াকুব (আ) ও তাঁর পুত্রদের অবস্থার মত যখন ইয়াকুব (আ) বলেছিলেন
فَصَبُرٌ جَمِيلٌ وَاللَّهُ الْمُسْتَعَانُ عَلَى مَا تَصِفُونَ
অর্থাৎ, এখন আমার জন্যে ধৈর্য ধারণই উত্তম-তোমরা যা বলছ সে বিষয়ে একমাত্র আল্লাহই আমার আশ্রয়স্থল (সূরা ইউসুফ: ১৮)।
যখন হযরত আয়েশা (রা) এর নির্দোষ হবার পক্ষে আয়াত নাযিল হল তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাঁর নিকট এলেন এবং তাঁকে ওই আয়াত সম্পর্কে জানালেন। হযরত আয়েশা (রা) বললেন এখন আল্লাহর প্রশংসা করব। আপনার প্রশংসা নয় বর্ণনান্তরে অন্য কারো প্রশংসা নয়।
উম্মু রূমান থেকে অপর বর্ণনায় এসেছে তিনি বলেছেন যে, আমি আয়েশার নিকট ছিলাম। তখন সেখানে জনৈকা আনসারী মহিলা (রা) প্রবেশ করল (এরপর পূর্ববর্তী বর্ণনার মত বর্ণনা করলেন) এরপর তিনি বললেন, একপর্যায়ে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) সেখান থেকে বের হয়ে গেলেন। এরপর আয়েশা (রা) এর নির্দোষ বিষয়ে আয়াত নাযিল হল। এবার রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আয়েশা (রা) এর নিকট ফিরে এলেন। তাঁর সাথে ছিলেন হযরত আবূ বকর (রা)। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, হে আয়েশা (রা) মহান আল্লাহ্ তোমার নির্দোষ হবার বিষয়ে আয়াত নাযিল করেছেন। আয়েশা (রা) বললেন, মহান আল্লাহর প্রশংসা করব, আপনার প্রশংসা নয়। আবূ বকর (রা) বললেন, আয়েশা! তুমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে একথা বলছ? তিনি বললেন হাঁ, তাই। বর্ণনাকারী বলেন আয়েশার গুজব ছড়ানোর পেছনে আবূ বকর (রা) এর কৃপাধন্য এক লোক ছিল। আবূ বকর (রা) শপথ করলেন যে, ওই লোককে তিনি আর সহযোগিতা ও দান-দক্ষিণা করবেন না। এ প্রেক্ষিতে মহান আল্লাহ্ আয়াত নাযিল করলেন
وَلَا يَأْتَلِ أُوْلُو الْفَضْلِ مِنْكُمْ وَالسَّعَةِ
তোমাদের মধ্যে যারা প্রাচুর্য ও ঐশ্বর্যের অধিকারী তারা যেন শপথ গ্রহণ না করে যে, তারা আত্মীয়-স্বজন ও অভাবগ্রস্তকে এবং আল্লাহর রাস্তায় যারা গৃহত্যাগ করেছে তাদেরকে কিছুই দিবে না। তোমরা কি চাও না যে, আল্লাহ্ তোমাদেরকে ক্ষমা করেন? আল্লাহ্ ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু (সূরা নূর: ২২১)।
হযরত আবূ বকর (রা) বললেন, হাঁ-হাঁ আমরা চাই যে, আল্লাহ্ আমাদেরকে ক্ষমা করুন। অতঃপর তিনি ওই ব্যক্তিকে দান-দক্ষিণা করতে শুরু করেন।
فَصَبُرٌ جَمِيلٌ وَاللَّهُ الْمُسْتَعَانُ عَلَى مَا تَصِفُونَ
অর্থাৎ, এখন আমার জন্যে ধৈর্য ধারণই উত্তম-তোমরা যা বলছ সে বিষয়ে একমাত্র আল্লাহই আমার আশ্রয়স্থল (সূরা ইউসুফ: ১৮)।
যখন হযরত আয়েশা (রা) এর নির্দোষ হবার পক্ষে আয়াত নাযিল হল তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাঁর নিকট এলেন এবং তাঁকে ওই আয়াত সম্পর্কে জানালেন। হযরত আয়েশা (রা) বললেন এখন আল্লাহর প্রশংসা করব। আপনার প্রশংসা নয় বর্ণনান্তরে অন্য কারো প্রশংসা নয়।
উম্মু রূমান থেকে অপর বর্ণনায় এসেছে তিনি বলেছেন যে, আমি আয়েশার নিকট ছিলাম। তখন সেখানে জনৈকা আনসারী মহিলা (রা) প্রবেশ করল (এরপর পূর্ববর্তী বর্ণনার মত বর্ণনা করলেন) এরপর তিনি বললেন, একপর্যায়ে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) সেখান থেকে বের হয়ে গেলেন। এরপর আয়েশা (রা) এর নির্দোষ বিষয়ে আয়াত নাযিল হল। এবার রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আয়েশা (রা) এর নিকট ফিরে এলেন। তাঁর সাথে ছিলেন হযরত আবূ বকর (রা)। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, হে আয়েশা (রা) মহান আল্লাহ্ তোমার নির্দোষ হবার বিষয়ে আয়াত নাযিল করেছেন। আয়েশা (রা) বললেন, মহান আল্লাহর প্রশংসা করব, আপনার প্রশংসা নয়। আবূ বকর (রা) বললেন, আয়েশা! তুমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে একথা বলছ? তিনি বললেন হাঁ, তাই। বর্ণনাকারী বলেন আয়েশার গুজব ছড়ানোর পেছনে আবূ বকর (রা) এর কৃপাধন্য এক লোক ছিল। আবূ বকর (রা) শপথ করলেন যে, ওই লোককে তিনি আর সহযোগিতা ও দান-দক্ষিণা করবেন না। এ প্রেক্ষিতে মহান আল্লাহ্ আয়াত নাযিল করলেন
وَلَا يَأْتَلِ أُوْلُو الْفَضْلِ مِنْكُمْ وَالسَّعَةِ
তোমাদের মধ্যে যারা প্রাচুর্য ও ঐশ্বর্যের অধিকারী তারা যেন শপথ গ্রহণ না করে যে, তারা আত্মীয়-স্বজন ও অভাবগ্রস্তকে এবং আল্লাহর রাস্তায় যারা গৃহত্যাগ করেছে তাদেরকে কিছুই দিবে না। তোমরা কি চাও না যে, আল্লাহ্ তোমাদেরকে ক্ষমা করেন? আল্লাহ্ ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু (সূরা নূর: ২২১)।
হযরত আবূ বকর (রা) বললেন, হাঁ-হাঁ আমরা চাই যে, আল্লাহ্ আমাদেরকে ক্ষমা করুন। অতঃপর তিনি ওই ব্যক্তিকে দান-দক্ষিণা করতে শুরু করেন।
كتاب سيرة أول النبيين وخاتم المرسلين نبينا محمد بن عبد الله صلى الله عليه وسلم
باب ما جاء في محنة عائشة رضي الله عنها بحديث الإفك في هذه الغزوة
عن مسروق عن أم رومان (6) وهي أم عائشة قالت كنت أنا وعائشة قاعدة فدخلت امرأة من الأنصار فقالت فعل الله بفلان وفعل تعني ابنها (7) قالت فقلت لها وما ذلك؟ قالت ابني كان فيمن حدث الحديث، قالت فقلت لها وما الحديث؟ قالت كذا وكذا (8) فقالت عائشة أسمع بذلك أبو بكر؟ قالت نعم، قالت أسمع بذلك رسول الله صلي الله عليه وآله وسلم؟ قالت نعم، فوقعت أو سقطت عليها فأفاقت بحمي ناقض (9) فالقيت عليها الثياب فدخل رسول الله صلي الله عليه وآله وسلم فقال ما لهذه؟ قالت فقلت يا رسول الله أخذتها حمي بناقض، قال لعله من الحديث الذي تحدث به؟ قالت نعم، يا رسول الله، فرفعت عائشة رأسها وقالت ان قلت (10) لم تعذروني وان حلفت لم تصدقوني ومثلي ومثلكم كمثل يعقوب (11) وبنيه حين قال (فصبر جميل والله المستعان علي ما تصفون): فلما نزل عذرها أتاها النبي صلي الله تبارك وتعالى عليه وعلى آله وصحبه وسلم وأخبرها بذلك فقالت بحمد الله لا بحمدك أو قالت ولا بحمد أحد
(وعنه من طريق ثان) (1) عن أم رومان. قالت بينا أنا عند عائشة اذ دخلت علينا امرأة من الأنصار (فذكرت نحو الحديث المتقدم وفيه) قالت وخرج رسول الله - صلى الله عليه وسلم - قال وأنزل الله عذرها، فرجع رسول الله - صلى الله عليه وسلم - معه أبو بكر فدخل فقال يا عائشة ان الله عز وجل قد أنزل عذرك، قالت بحمد الله لا بحمدك، قالت قال لها أبو بكر تقولين هذا لرسول الله - صلى الله عليه وسلم -؟ قالت نعم، قالت فكان فيمن حدث الحديث (2) رجل كان يعوله أبو بكر (3) فحلف أبو بكر أن لا يصله فأنزل الله عز وجل (ولا يأتل ألوا الفضل منكم والسعة) الي آخر الآية، قال أبو بكر بلي فوصله
(وعنه من طريق ثان) (1) عن أم رومان. قالت بينا أنا عند عائشة اذ دخلت علينا امرأة من الأنصار (فذكرت نحو الحديث المتقدم وفيه) قالت وخرج رسول الله - صلى الله عليه وسلم - قال وأنزل الله عذرها، فرجع رسول الله - صلى الله عليه وسلم - معه أبو بكر فدخل فقال يا عائشة ان الله عز وجل قد أنزل عذرك، قالت بحمد الله لا بحمدك، قالت قال لها أبو بكر تقولين هذا لرسول الله - صلى الله عليه وسلم -؟ قالت نعم، قالت فكان فيمن حدث الحديث (2) رجل كان يعوله أبو بكر (3) فحلف أبو بكر أن لا يصله فأنزل الله عز وجل (ولا يأتل ألوا الفضل منكم والسعة) الي آخر الآية، قال أبو بكر بلي فوصله