মুসনাদে আহমদ- ইমাম আহমদ রহঃ (আল-ফাতহুর রব্বানী)

সর্বশ্রেষ্ঠ নবী ও সর্বশেষ রাসূল মুহাম্মদ ইব্‌ন আব্দুল্লাহ (ﷺ)-এর জীবনচরিত অধ্যায়

হাদীস নং: ২৭৭
সর্বশ্রেষ্ঠ নবী ও সর্বশেষ রাসূল মুহাম্মদ ইব্‌ন আব্দুল্লাহ (ﷺ)-এর জীবনচরিত অধ্যায়
পরিচ্ছেদ : বানু মুসতালিক যুদ্ধ অভিযানে অপবাদ আরোপের কারণে হযরত আয়েশা (রা)-এর মনোকষ্ট
২৭৭. হযরত আয়েশা (রা) বলেছেন যে, আমাকে কেন্দ্র করে যে আলোচনা-সমালোচনা চলছিল যা সম্পর্কে আমি কিছুই জানতাম না। তখন আমার বিষয়টি নিয়ে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) একটি ভাষণ দিলেন। শুরুতে মহান আল্লাহর প্রশংসা ও যথোপযুক্ত গুণগানের পর তিনি বললেন, কারা কারা কার সাথে সম্পৃক্ত করে আমার পরিবার নিয়ে কুৎসা রটনা করছে তাদের সম্পর্কে তোমরা আমাকে পরামর্শ দাও। আল্লাহর কসম আমি তো আমার পরিবার সম্পর্কে কখনো মন্দ কিছু দেখিনি-জানিনি। আর যাকে সম্পৃক্ত করে কুৎসা রটনা করা হচ্ছে তার সম্পর্কেও আমি মন্দ কিছু জানিনি। আমার অনুপস্থিতিতে সে কখনও আমার গৃহে প্রবেশ করেনি। আমি সফরে গেলে সেও আমার সাথে সফরে গিয়েছে। এ পর্যায়ে সা'দ ইব্‌ন মু'আয (রা) দাঁড়িয়ে বললেন ইয়া রাসূলুল্লাহ (ﷺ)! আপনি অনুমতি দিন আমরা কুৎসা রটনাকারীদের ঘাড় আলাদা করে দিই। এ কথা শুনে হাসসান ইবন সাবিত (রা) এর মাতুল গোত্রের জনৈক খাযরাজী লোক দাঁড়িয়ে বলল আপনি ঠিক বলেননি-দোষী ব্যক্তি আওস গোত্রের হলে আপনি তাদের ঘাড় আলাদা করতে পছন্দ করতেন না। এ বিষয়ে মসজিদের মধ্যে আওস ও খাযরাজ গোত্রের মধ্যে অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে যাবার উপক্রম হয়। হযরত আয়েশা (রা) বলেন, তখনও আমি এসবের কিছুই জানতাম না। সেদিন সন্ধ্যায় আমি শৌচ-কার্যের জন্যে বাহিরে বেই হই। আমার সাথে ছিলেন মিসতাহ এর মাতা। হঠাৎ তার পায়ে কাপড় পেঁচিয়ে যায়। তখন মিসতাহের মাতা বলল মিসতাহ ধ্বংস হোক। আমি বললাম, আপনার পুত্রকে আপনি গালমন্দ করছেন কেন? তিনি কিছু বললেন না। দ্বিতীয় বার তার পায়ে কাপড় পেঁচিয়ে যায়। মিসতাহের মাতা বলল, মিসতাহ ধ্বংস হোক। আমি বললাম, আপনি আপনার পুত্রকে গালমন্দ করছেন কেন? তৃতীয়বার তার পায়ে কাপড় পেঁচিয়ে যায়। তিনি বললেন, মিসতাহ ধ্বংস হোক। এবার আমি তাঁকে ধমক দিয়ে বললাম, আপনি আপনার পুত্রকে কেন গালমন্দ করছেন? এবার তিনি বললেন, আপনার খাতিরে আমি তাকে গালমন্দ করছি। আমি বললাম, আমার কোন বিষয়ে? এবার তিনি আমাকে পুরো ঘটনা বললেন। আশ্চর্য হয়ে আমি বললাম এমনতর রটনা রটেছে? তিনি বললেন হাঁ, আল্লাহর কসম তা-ই রটেছে। আমি শৌচকার্য না করেই ঘরে ফিরে এলাম। আমার তখন মনে হয়েছিল যে, আমার কোন শৌচকার্যের বেগ-ই হয়নি। আমি জ্বরে আক্রান্ত হলাম। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে আমি বললাম- আমাকে বাবার বাড়িতে পাঠিয়ে দিন। একটি বাচ্চাকে সাথে দিয়ে তিনি আমাকে পাঠিয়ে দিলেন। পিত্রালয়ে পৌছে আমার মাতা উম্মু রুমানের মুখোমুখি হই। তিনি আমাকে বললেন, আদুরে কন্যা তুমি কি কারণে এসেছ? আমি তাঁকে ঘটনা বললাম। তিনি বললেন, মা, বিষয়টি নিয়ে অস্থির হয়ো না, এই জগতে যে সুন্দরী স্ত্রী স্বামীর প্রিয়তমা তার যদি সতীন থাকে তাহলে তারা ওই স্ত্রীর প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করেই এবং তার ফলে এ জাতীয় অপবাদ ও গুজব রটে। আমি বললাম, আমার বাবা কি এসব জানেন? মা বললেন, হাঁ তিনিও শুনেছেন। আমি বললাম রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এসব জেনেছেন? তিনি বললেন হাঁ রাসূলুল্লাহ (ﷺ)ও তা জেনেছেন। এবার আমি অশ্রু ছেড়ে কাঁদতে শুরু করি। আমার বাবা আমার কান্নার শব্দ শুনলেন। তিনি গৃহের উপরে কুরআন শরীফ পাঠ করছিলেন। তিনি নেমে এলেন। আমার মায়ের নিকট ঘটনা কি জানতে চাইলেন। মা বললেন তার সম্পর্কে যে গুজব রটেছে তা শুনেছে এবং সেজন্যে কাঁদছে। বাবা আমাকে নিজ গৃহে ফিরে যাবার তাকিদ দিলেন। আমি আমার গৃহে ফিরে গেলাম। আমার পিতামাতা দুজনে আমার নিকট উপস্থিত হলেন। তাঁরা আমার সাথে থাকলেন। আসরের নামাযের পর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমার নিকট এলেন। আমার পিতা-মাতা তখন আমার ডানে এবং বামে বসা ছিলেন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) মহান আল্লাহর প্রশংসা ও যথোপযুক্ত গুণগান করার পর বললেন হে আয়েশা! তুমি যদি সত্যিই কোন অপ্রীতিকর কর্ম করে থাক তাহলে আল্লাহর নিকট তাওবা কর। আল্লাহ্ তাঁর বান্দাদের বান্দাদের তাওবা কবুল করে থাকেন। এ সময়ে একজন আনসারী মহিলা এসে দরজায় বসে ছিল। আমি বললাম এই মহিলার সম্মুখে এসব আলোচনা করতে আপনার লজ্জা হচ্ছে না? আমি আমার বাবাকে বললাম আপনি তাঁর কথার উত্তর দিন। বাবা বললেন, আমি কি উত্তর দিব? আমি আমার মাকে বললাম আপনি উত্তর দিন। মা বললেন, আমি কি উত্তর দিব? তাঁরা যখন উত্তর দিলেন না তখন আমি মহান আল্লাহর প্রশংসা ও যথোপযুক্ত গুণগান করার পর বললাম, আমি এখন যদি বলি যে, আমি ওইসব কিছুতে জড়িত হইনি আর আল্লাহ সাক্ষ্য দিবেন যে, আমি আমার কথায় সত্যবাদী তাতে আপনাদের নিকট আমার কোন লাভ হবে না। কারণ আপনারা এ বিষয়ে অনেক কথাবার্তা বলেছেন এবং এটি আপনাদের অন্তরে স্থান করে নিয়েছে। আর আমি যদি বলি আমি ওই কর্মে জড়িত হয়েছি অথচ মহান আল্লাহ্ জানেন যে, আমি তাতে জড়িত হইনি তাহলে আপনারা বলবেন যে, সে এখন তার দোষ স্বীকার করেছে। এখন আমার আর আপনাদের মধ্যকার উদাহরণ হল হযরত ইউসুফ (আ) এর পিতার উদাহরণ যে, তিনি বলেছিলেন এখন আমার জন্যে ধৈর্য ধারণই উত্তম, তোমরা যা বলছ একমাত্র আল্লাহই সে বিষয়ে আমার আশ্রয়স্থল। এ সময়ে অস্থিরতায় আমি ইউসুফ (আ) এর পিতার নাম ভুলে যাই। এ অবস্থায় রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর প্রতি ওহী নাযিল হতে শুরু করে। একপর্যায়ে ওহী নাযিল শেষ হয়। আমি তাঁর চেহারায় আনন্দের চিহ্ন দেখতে পাই। তিনি মুখমণ্ডল মুছতেছিলেন আর বলতেছিলেন, হে আয়েশা! তুমি সুসংবাদ শোন মহান আল্লাহ্ তোমার সতীত্ব ও নির্দোষ হবার পক্ষে আয়াত নাযিল করেছেন। আমি তখন আরো কঠিনভাবে রাগান্বিত হই। আমার বাবা-মা আমাকে বললেন, ওঠো এবং রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ কর। আমি বললাম, আল্লাহর কসম আমি তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞতায় দাঁড়াব না ও তাঁর প্রশংসা করব না। আপনাদের দুজনেরও প্রশংসা করব না। আপনারা এমন একটি জঘন্য অপবাদের কথা শুনেও তা প্রত্যাখ্যান ও প্রতিরোধ করেননি। আমি মহান আল্লাহরই প্রশংসা করব, যিনি আমার সতীত্বের পক্ষে আয়াত নাযিল করেছেন। ইতিমধ্যে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) একবার আমার কক্ষে এসেছিলেন এবং আমার সেবিকাকে আমার সম্পর্কে জিজ্ঞেস করেছিলেন। সে বলেছিল হায় আল্লাহ্! আমি তো তাঁর কোন দোষ দেখি না তবে মাঝে মাঝে তিনি ঘুমিয়ে পড়েন আর বকরী এসে তাঁর রুটির মণ্ডগুলো খেয়ে যায়। সেবিকার কথা শুনে কেউ একজন তাকে ধমক দেয় এবং গালমন্দ করে বলে যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যা চাচ্ছেন তার সপক্ষে তুমি কথা বল। উরওয়া বলল: এরূপ মন্তব্যকারী দোষী। তারপর সেবিকা বলে, আমি তার সম্পর্কে ঠিক সেই ধারণা পোষণ করি এবং জানি স্বর্ণকার যেমন লাল স্বর্ণপিণ্ড সম্পর্কে জানে। যাকে জড়িত করে এই গুজব রটনা করা হয়েছিল সে এই গুজব শোনার পর বলেছিল সুবহানাল্লাহ! আল্লাহর কসম আমি কখনো কোন মহিলার পর্দা ও আবরণ উন্মোচন করিনি। পরবর্তীতে এই ব্যক্তি যুদ্ধে শাহাদাতবরণ করে।

হযরত আয়েশা (রা) বলেন, যায়নাব বিন্তে জাহাশকে মহান আল্লাহ্ রক্ষা করেছেন এ বিষযে তিনি সবসময় ভাল কথাই বলেছেন। কিন্তু তাঁর বোন হামনাহ্ সে ধ্বংসপ্রাপ্তদের দলে ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়েছে। আবদুল্লাহ্ ইবন উবায় মুনাফিক এ বিষয়ে নির্লজ্জ কথাবার্তা বলেছে। সে এই গুজব ছড়ানোতে বড় ভূমিকা পালন করেছে। মিসতাহ এবং হাসান ইব্‌ন ছাবিতও এ গুজব প্রচারে কাজ করেছেন। মিসতাহ (রা) হযরত আবুবকর (রা) এর দানে ধন্য ছিলেন। এ ঘটনার পর হযরত আবূ বকর (রা) কসম করে বললেন যে, তিনি আর মিসতাহের প্রতি কোন দয়া-দান করবেননা। তখন মহান আল্লাহ্ নাযিল করলেন-
ولا يَأْتَلِ أُولُوا الْفَضْلِ مِنْكُمْ وَالسَّعَةِ أَنْ يُؤْتُوا أُولِي الْقُرْبَى وَالْمَسَاكِينَ وَالْمُهَاجِرِينَ فِي سَبِيْلِ اللَّهِ
তোমাদের মধ্যে যারা প্রাচুর্য ও ঐশ্বর্যের অধিশ্বরী (অর্থাৎ আবু বকর (রা)) তারা যেন শপথ গ্রহণ না করে যে তারা আত্মীয় স্বজন ও অভাবগ্রস্তকে (অর্থাৎ মিসতাহকে) এবং আল্লাহর রাস্তায় যারা গৃহত্যাগ করেছে তাদেরকে কিছুই দিবে না।
أَلَا تُحِبُّونَ أَنْ يَغْفِرَ اللَّهُ لَكُمْ وَاللَّهُ غَفُورٌ رَّحِيمٌ
অর্থাৎ, তোমরা কি চাওনা যে, আল্লাহ্ তোমাদেরকে ক্ষমা করেন? আল্লাহ্ ক্ষমাশীল পরম দয়ালু (সূরা নূরঃ ২২)
তখন হযরত আবূ বকর (রা) বললেন, হাঁ আল্লাহর কসম আমরা অবশ্যই চাই যে, মহান আল্লাহ্ আমাদেরকে ক্ষমা করুন। এরপর হযরত আবূ বকর (রা) মিসতাহকে যে সাহায্য করতেন তা পুনরায় চালু করলেন।
كتاب سيرة أول النبيين وخاتم المرسلين نبينا محمد بن عبد الله صلى الله عليه وسلم
باب ما جاء في محنة عائشة رضي الله عنها بحديث الإفك في هذه الغزوة
حدثنا أبو سلمة (1) ثنا هشام عن أبيه عن عائشة رضي الله عنها قالت لما ذكر من شأني الذي ذكر (2) وما علمت به قام رسول الله - صلى الله عليه وسلم - في خطيبا وما علمت به فتشهد فحمد الله عز وجل واثني عليه بما هو أهله ثم قال أما بعد أشيروا علي في ناس أبنوا (3) أهلي وايم الله ما علمت علي أهلي سوءا قط وأبنوهم بمن؟ (4) والله ما علمت عليه من سوء قط، ولا دخل بيتي قط إلا وأنا حاضر، ولا غبت في سفر إلا غاب معي، فقام سعد بن معاذ (5) فقال تري يا رسول الله أن نضرب أعناقهم؟ فقام رجل من الخزرج (6) وكانت أم حسان بن ثابت من رهط ذلك الرجل (7) فقال كذبت، أما والله لو كانوا من الأوس ما أحببت أن تضرب أعناقهم، حتي كادوا أن يكون بين الأوس والخزرج في المسجد شر وما علمت به: فلما كان مساء ذلك اليوم خرجت لبعض حاجتي ومعي أم مسطح فعثرت فقالت تعس مسطح، فقلت علام تسبين ابنك؟ فسكتت فعثرت الثانية فقالت تعس مسطح، فقلت علام تسبين ابنك؟ ثم عثرت الثالثة فقالت تعس مسطح (8) فانتهرتها فقلت علام تسبين ابنك؟ فقالت والله ما أسبه إلا فيك، فقلت في أي شأني؟ فذكرت لي الحديث، فقلت وقد كان هذا؟ قالت نعم والله، فرجعت إلي بيتي فكأن الذي خرجت لم أخرج له (9) لا أجد منه قليلا ولا كثيرا ووعكت (10) فقلت لرسول الله - صلى الله عليه وسلم - أرسلني إلي بيت أبي، فأرسل معي الغلام فدخلت الدار فإذا أنا بأم رومان (1) فقالت ما جاء بك يا أمته؟ فاخبرتها، فقالت خفضي عليك الشأن فانه والله لقلما كانت امرأة جميلة تكون عند رجل يحبها ولها ضرائر الا حسدنها وقلن فيها، قلت وقد علم به أبي؟ قالت نعم، قلت ورسول الله - صلى الله عليه وسلم -؟ (2) قالت ورسول الله - صلى الله عليه وسلم - فاستعبرت (3) فبكيت فسمع أبو بكر صوتي وهو فوق البيت يقرأ فنزل فقال لأمي ما شأنها؟ فقلت بلغها الذي ذكر من أمرها ففاضت عيناه، فقال أقسمت عليك يابته إلا رجعت إلي بيتك، فرجعت وأصبح أبواي عندي فلم يزالا عندي حتي دخل علي رسول الله - صلى الله عليه وسلم - بعد العصر وقد اكتنفني أبواي عن يميني وعن شمالي، فتشهد النبي - صلى الله عليه وسلم - فحمد الله واثني عليه بما هو أهله ثم قال أما بعد يا عائشة إن كنت قارفت سوءا وظلمت توبي إلي الله عز وجل فان الله عز وجل يقبل التوبة عن عباده، وقد جاءت امرأة من الأنصار فهي جالسة بالباب فقلت الا تستحي من هذه المرأة أن تقول شيئا؟ فقلت لأبي أجبه، فقال أقول ماذا؟ فقلت لأمي أجيبيه، فقالت أقول ماذا؟ فلما لم يجيباه تشهدت فحمدت الله عز وجل وأثنيت عليه؟ بما هو أهله ثم قلت أما بعد فو الله لئن قلت لكم إني لم أفعل والله جل جلاله يشهد أني لصادقة ما ذاك بنافعي عندكم، لقد تكلمتم به وأشربته قلوبكم، (4) ولئن قلت لكم إني قد فعلت والله عز وجل يعلم اني لم أفعل لتقولن قد باءت به علي نفسها (5) فاني والله ما أجد لي ولكم مثلا إلا أبا يوسف وما أحفظ اسمه صبر جميل والله المستعان علي ما تصفون، فأنزل علي رسول الله - صلى الله عليه وسلم - ساعتئذ فرفع عنه وإني لأتبين السرور في وجهه وهو يمسح جبينه وهو يقول ابشري يا عائشة، فقد أنزل الله عز وجل براءتك، فكنت أشد ما كنت غضبا فقال لي أبواي قومي اليه، قلت والله لا أقوم اليه ولا أحمدكما، لقد سمعتموه فما أنكرتموه ولا غيرتموه، ولكن احمد الله الذي أنزل براءتي، (6) ولقد جاء رسول الله - صلى الله عليه وسلم - بيتي فسأل الجارية عني فقالت لا والله ما أعلم عليها عيبا إلا أنها كانت تنام حتي تدخل الشاة فتأكل خميرتها، وعجينتها شك هشام فانهرها بعض أصحابه وقال أصدقي رسول الله صلي الله عليه وآله وسلم حتي أسقطوا لها به (7) قال عروة فعيب ذلك علي من قاله، فقالت لا والله أعلم عليها الا ما يعلم الصائغ علي تبر الذهب الأحمر (1) وبلغ ذلك الرجل الذي قيل له (2) فقال سبحان الله والله ما كشفت كف (3) أنثي قط فقتل شهيدا في سبيل الله، قالت عائشة فأما زينب بنت جحش فعصمها الله عز وجل بدينها فلم تقل الا خيرا، وأما أختها حمنة (4) فهلكت فيمن هلك، وكان الذين تكلموا فيه المنافق عبد الله بن أبي كان يستوشيه ويجمعه، وهو الذي تولي كبره منهم، ومسطح وحسان بن ثابت، فحلف أبو بكر أن لا ينفع مسطحا بنافعة أبداً (5) فانزل الله عز وجل (ولا يأتل أولوا الفضل منكم والسعة) يعني أبا بكر (أي يؤتوا أولي القربي والمساكين) يعني مسطحا (ألا تحبون أن يغفر الله لكم والله غفور رحيم) فقال أبو بكر بلي والله انا لنحب أن يغفر لنا وعاد أبو بكر رضي الله عنه لمسطح بما كان يصنع.
tahqiqতাহকীক:তাহকীক চলমান