মুসনাদে আহমদ- ইমাম আহমদ রহঃ (আল-ফাতহুর রব্বানী)
সর্বশ্রেষ্ঠ নবী ও সর্বশেষ রাসূল মুহাম্মদ ইব্ন আব্দুল্লাহ (ﷺ)-এর জীবনচরিত অধ্যায়
হাদীস নং: ২৭৬
সর্বশ্রেষ্ঠ নবী ও সর্বশেষ রাসূল মুহাম্মদ ইব্ন আব্দুল্লাহ (ﷺ)-এর জীবনচরিত অধ্যায়
পরিচ্ছেদ: বানু মুসতালিক যুদ্ধ অভিযানে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) জুওয়াইরিয়াহ বিন্তে হারিছ (রা)-কে বিয়ে করেন
২৭৬. উরওয়া ইবন যুবায়র বর্ণনা করেছেন আয়েশা (রা) থেকে, তিনি বলেছেন, বানু মুসতালিক যুদ্ধে অর্জিত শত্রু সম্পদ বণ্টনকালে জুওয়াইরিয়া বিনত হারিছ গিয়ে পড়ে ছাবিত ইবন কায়স ইবনে শাম্মাসের ভাগে। কিংবা ছাবিতের চাচাত ভাইয়ের ভাগে। এরপর জুওয়াইরিয়া তার মালিকের সাথে মুক্তিপণ পরিশোধের শর্তে মুক্তি চুক্তি সম্পাদন করে। বস্তুতঃ জুওয়াইরিয়া ছিল রূপবতী ও আকর্ষণীয় চেহারাবিশিষ্ট মহিলা। তাকে দেখলে যে কোন পুরুষের হৃদয়ে স্পন্দন সৃষ্টি হত। একপর্যায়ে মুক্তিপণ পরিশোধে সহায়তা পাওয়ার জন্যে সে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট আসে। হযরত আয়েশা (রা) বলেনঃ আল্লাহর কসম, ওকে ঘরের দরজায় দেখে আমি তার উপস্থিতি অপছন্দ করি এবং তাকে দেখে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর আকর্ষণ হতে পারে এই আশংকা উপলব্ধি করি। সে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট গিয়ে বলল, ইয়া রাসূলুল্লাহ (ﷺ), আমি গোত্রপতি হারিছ ইবন আবু দিরারের কন্যা জুওয়াইরিয়াহ। আমার করুণ পরিণতির বিষয় আপনার অজ্ঞাত নয়। বণ্টনে আমি ছাবিত ইবন কায়স ইবন শাম্মাস মতান্তরে তার চাচাত ভাইয়ের ভাগে দাসীরূপে পড়েছি। আমি নির্দিষ্ট অর্থের বিনিময়ে তার সাথে মুক্তিচুক্তি সম্পাদন করেছি। এখন মুক্তিপণ পরিশোধে সাহায্য কামনায় আপনার নিকট এসেছি। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন এর চেয়ে কল্যাণকর ব্যবস্থায় তুমি কি রাজি হবে? সে বলল, কী সেই বিকল্প কল্যাণময় ব্যবস্থা? রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন আমি যদি তোমার মুক্তিপণ পরিশোধ করে দিই এবং তোমাকে বিয়ে করি। সে বলল, হাঁ-ইয়া রাসূলাল্লাহ (ﷺ)। আমি তাতে রাজি আছি। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, তবে আমি তা করলাম। এ সংবাদ শুনে সাহাবা-ই-কিরাম (রা) বললেন সাম্প্রতিক বন্দী ও বণ্টিত সবাই তো রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর শ্বশুর পক্ষের আত্মীয় হয়ে গেল। অতঃপর তাঁরা সকলকে বন্দী দশা ও দাসত্ব থেকে মুক্তি দিয়ে দিলেন। হযরত আয়েশা (রা) বললেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) জুওয়াইরিয়াহকে বিয়ে করার ফলশ্রুতিতে বানু মুসতালিক গোত্রের একশতটি পরিবার দাসত্ব থেকে মুক্তিলাভ করে। নিজ সম্প্রদায়ের প্রতি জুওয়াইরিয়ার যে বরকত ও অবদান অন্য কোন নারীর তেমন বরকত ও অবদান আছে বলে আমার জানা নেই।
كتاب سيرة أول النبيين وخاتم المرسلين نبينا محمد بن عبد الله صلى الله عليه وسلم
باب ما جاء في زواجه - صلى الله عليه وسلم - بجويرية بنت الحارث رضي الله عنها في هذه الغزوة
عن عروة بن الزبير (3) عن عائشة أم المؤمنين رضي الله عنها قالت: لما قسم رسول الله - صلى الله عليه وسلم - سبايا بني المصطلق وقعت جويرية بنت الحارث في السهم لثابت بن قيس بن الشماس أو لابن عم له وكاتبته علي نفسها، وكانت امرأة حلوة ملاحة لا يراها رجل إلا أخذت بنفسه، فأتت النبي - صلى الله عليه وسلم - تستعينه في كتابتها. قالت فو الله ما هو إلا أن رأيتها علي باب حجرتي فكرهتها وعرفت أنه سيري منها ما رأيت، فدخلت عليه، فقالت يا رسول الله: أنا جويرية بنت الحارث بن أبي ضرار سيد قومه، وقد أصابني من البلاء ما لم يخف عليك، فوقعت في السهم لثابت بن قيس بن الشماس أو لابن عم له، فكاتبته علي نفسي، فجئت أستعينك علي كتابتي. قال فهل لك في خير من ذلك؟ قالت: وما هو يا رسول الله؟ قال أقضي كتابتك وأتزوجك. قالت نعم يا رسول الله. قال قد فعلت. قالت وخرج الخبر إلي الناس أن رسول الله - صلى الله عليه وسلم - تزوج جويرية بنت الحارث. فقال الناس أصهار رسول الله - صلى الله عليه وسلم - فأرسلوا ما بايديهم، قالت فلقد أعتق بتزويجه إياها مائة أهل بيت من بني المصطلق. فما أعلم امرأة كانت أعظم بركة على قومها منها