মুসনাদে আহমদ- ইমাম আহমদ রহঃ (আল-ফাতহুর রব্বানী)
সর্বশ্রেষ্ঠ নবী ও সর্বশেষ রাসূল মুহাম্মদ ইব্ন আব্দুল্লাহ (ﷺ)-এর জীবনচরিত অধ্যায়
হাদীস নং: ২৭১
সর্বশ্রেষ্ঠ নবী ও সর্বশেষ রাসূল মুহাম্মদ ইব্ন আব্দুল্লাহ (ﷺ)-এর জীবনচরিত অধ্যায়
পরিচ্ছেদ: রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ও উম্মু সালামা (রা)-এর বিয়ে
২৭১. উম্মু সালামা (রা) থেকে বর্ণিত যে, একদিন আবু সালামা (রা) এসে বলল, রাসুলুল্লাহ (ﷺ) ইরশাদ করেছেন, তোমাদের কারো উপর কোন বিপদ এলে তোমরা "ইন্নালিল্লাহে ওয়া ইন্না ইলাইহে রাজিউন” পাঠ করবে। আর বলবে হে আল্লাহ, আমি আমার বিপদের প্রতিদান আপনার নিকটই প্রত্যাশা করি, আপনি আমাকে বিপদ থেকে উদ্ধার করুন এবং আমার যা ক্ষতি হল তার চেয়ে উত্তম প্রতিদান আমাদের দান করুন। আবু সালামা (রা) তাঁর মুমূর্ষ অবস্থায় বলেছিলেন হে আল্লাহ! আমার পরিবার-পরিজনের জন্যে আপনি আমার চেয়ে উত্তম প্রতিদানের ব্যবস্থা করবেন। আবু সালামা (রা) যখন মৃত্যুবরণ করলেন তখন আমি বললাম, "ইন্নালিল্লাহে ওয়া ইন্না ইলাইহে রাজিউন"-হে আল্লাহ্ আমার এই বিপদের প্রতিদান আমি আপনার নিকট প্রত্যাশা করছি, আপনি আমাকে আশ্রয় দিন। এরপর আমি বলতে চেয়েছিলাম যে, আমাকে তদপেক্ষা উত্তম প্রতিদান দিন কিন্তু তখনই আমি মনে মনে বললাম যে, আবু সালামার চাইতে উত্তম স্বামী আমি কোথায় পাব? এভাবে মনের সাথে বুঝাপড়া করতে করতে শেষ পর্যন্ত আমি বললাম যে, আমাকে তদপেক্ষা উত্তম প্রতিদান দিন। উম্মু সালামার ইদ্দত শেষ হবার পর হযরত আবু বকর (রা) তাঁকে বিয়ের প্রস্তাব দিয়েছিলেন, কিন্তু তিনি তা ফিরিয়ে দিয়েছেন। এরপর হযরত উমার (রা) তাঁকে বিয়ের প্রস্তাব দিয়েছিলেন। তিনি তাও ফিরিয়ে দেন। এরপর রাসুলুল্লাহ (ﷺ) তাঁর নিকট বিয়ের প্রস্তাব পাঠান। তখন তিনি বলেন, সুস্বাগতম রাসূলুল্লাহ (সা. কে এবং তাঁর দূতকে। ওহে বার্তাবাহক, আপনি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে জানাবেন যে, আমি একজন আত্ম অভিমানী মহিলা। আমার ছেলেমেয়ে আছে এবং আমার অবিভাবকদের কেউ উপস্থিত নেই। তাঁর অনুযোগের জবাব সহ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বার্তাবাহক পাঠালেন এবং বললেন যে, ছেলেমেয়ে থাকার এভাবে সমাধান হবে যে, মহান আল্লাহ তার একটি বিহিত ব্যবস্থা করবেন। তোমার আত্মঅভিমানী হবার ব্যাপারে কথা হল তোমার অভিমান দূর হবার জন্যে আমি আল্লাহর নিকট দু'আ করব। অভিভাবকগণ অনুপস্থিত না থাকলেও তারা যখনই আমার নিজের প্রস্তাবের কথা শুনবেন তারা অবিলম্বে সম্মতি জ্ঞাপনে খুশী হবেন। এ সময়ে উম্মু সালামা (রা) বললেন ওহে উমার, তুমি ওঠো, আমাকে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সাথে বিয়ে দিয়ে দাও। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, তোমার অমুক বোনকে আমি যা সাজসরঞ্জাম ও আসবাবপত্র দিয়েছি তোমাকে তার চেয়ে কম দিব না। তা হল দুটো যাঁতা, দুটো কলসী এবং ভেতরে খেজুরের আঁশবিশিষ্ট একটি চামড়ার বালিশ। পরবর্তীতে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) উম্মু সালামার নিকট এলে তিনি দুগ্ধপোষ্য শিশু যায়নাবকে কাছে টেনে দুধ পান করাতে শুরু করতেন। রাসুলুল্লাহ (ﷺ) লাজুক, সদাচারী ও বন্ধুবৎসল ছিলেন, এমতাবস্থায় বাচ্চাকে সরিয়ে দিতে লজ্জাবোধ করতেন বিধায় ফিরে যেতেন। একাধিকবার এমন ঘটনা ঘটবার পর আম্মার ইবন ইয়াসির উম্মু সালামার এই কৌশল বুঝে ফেলেন। ইনি ছিলেন তাঁর বৈপিত্রেয় ভাই। একদিন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) উম্মু সালামার গৃহে এলেন। তখন আম্মার এসে যায়নাবকে তাঁর কোল থেকে টেনে নিয়ে গেলেন এবং বললেন এই দুর্ভাগাকে তুমি ছাড়, এর দ্বারা তুমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে কষ্ট দিচ্ছ। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ঘরে ঢুকে যায়নাবকে না দেখতে পেয়ে বললেন যায়নাব কোথায়? উম্মু সালামা (রা) বলেন আম্মার এসে ওকে নিয়ে গিয়েছে। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সাথে এ সময়ে তাঁর বাসর হল। তিনি বললেন তুমি চাইলে আমি এখন তোমার নিকট একাধারে সাতদিন রাত কাটাব এবং পরবর্তীতে প্রত্যেক স্ত্রীর নিকট সাত রাত করে থাকব।
كتاب سيرة أول النبيين وخاتم المرسلين نبينا محمد بن عبد الله صلى الله عليه وسلم
باب ما جاء في زواجه - صلى الله عليه وسلم - بأم سلمة رضي الله عنها
وعنها أيضا (3) قالت قال أبو سلمة، قال رسول الله - صلى الله عليه وسلم - اذا أصاب أحدكم مصيبة فليقل انا لله وانا اليه راجعون، اللهم عندك أحتسب مصيبتي وأجرني فيها وأبدلني ما هو خير منها فلما احتضر أبو سلمة قال اللهم أخلفني في أهلي بخير، فلما قبض قلت إنا لله وإنا إليه راجعون اللهم عندك أحتسب مصيبتي فأجرني فيها، قالت وأردت أن أقول وأبدلني خيرا منها فقلت ومن خير من أبي سلمة، فما زلت حتي قلتها، فلما أنقضت عدتها خطبها أبو بكر فردته ثم خطبها عمر فردته فبعث اليها رسول الله - صلى الله عليه وسلم - فقالت مرحبا برسول الله - صلى الله عليه وسلم - وبرسوله، أخبر رسول الله - صلى الله عليه وسلم - أني امرأة غيري واني مصيبة وأنه ليس أحد من أوليائي شاهدا، فبعث اليها رسول الله - صلى الله عليه وسلم - أما قولك اني مصيبة فان الله يكفيك صبيانك، وأما قولك اني غيري سأدعو الله أن يذهب غيرتك، وأما الأولياء فليس أحد منهم شاهد ولا غائب الا سير ضاني: قلت يا عمر (1) قم فزوج رسول الله - صلى الله عليه وسلم - فقال رسول الله - صلى الله عليه وسلم - أما أني لا انقصك شيئا مما أعطيت أختك فلانة رحبين وجرتين ووسادة من أدم حشوها ليف، قال وكان رسول الله - صلى الله عليه وسلم - يأتيها فاذا جاء أخذت زينب في حجرها لترضعها؛ وكان رسول الله حييا كريما يستحي فرجع، ففعل ذلك مرارا ففطن عمار بن ياسر لما تصنع، فأقبل ذات يوم وجاء عمار وكان أخاها لأمها فدخل عليها فانتشطها من حجرها وقال دعي هذه المقبوحة المقشوحة التي آذيت بها رسول الله - صلى الله عليه وسلم - قال وجاء رسول الله - صلى الله عليه وسلم - فدخل فجعل يقلب بصره في البيت ويقول أين زناب مافعلت زناب؟ قالت جاء عمار فذهب بها، قال فبني باهله ثم قال ان شئت أن اسبع لك سبعت للنساء