মুসনাদে আহমদ- ইমাম আহমদ রহঃ (আল-ফাতহুর রব্বানী)
সর্বশ্রেষ্ঠ নবী ও সর্বশেষ রাসূল মুহাম্মদ ইব্ন আব্দুল্লাহ (ﷺ)-এর জীবনচরিত অধ্যায়
হাদীস নং: ২৬৭
সর্বশ্রেষ্ঠ নবী ও সর্বশেষ রাসূল মুহাম্মদ ইব্ন আব্দুল্লাহ (ﷺ)-এর জীবনচরিত অধ্যায়
পরিচ্ছেদ : মাউনা-কূপ কেন্দ্রিক অভিযান। এতে কতক বিশিষ্ট কুরআন পাঠকারী শহীদ হয়েছিলেন
২৬৭. ছাবিত (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন আমরা আনাস ইব্ন মালিকের (রা) নিকট ছিলাম। তিনি তাঁর পরিবারের মধ্যে একটি লিখনী বিতরণ করছিলেন। এরপর তিনি বললেন, হে কিরআত বিশেষজ্ঞগণ তোমরা সাক্ষী থাক। ছাবিত বললেন আমি যেন এমনটি অপছন্দ করলাম। আমি বললাম, হে আবু হামযাহ, আপনি যদি ওই ক্বারীগণের নাম উল্লেখ করতেন তবে খুবই ভালো হতো। তিনি বললেন, তাতে তো কোন অসুবিধা নেই। আমি আপনাদের সে সকল ভাইদের সম্পর্কে কেন বলব না যাঁদেরকে আমরা রাসুলুল্লাহ (ﷺ) এর যুগে "কারী-দল" নামে ডাকতাম। তিনি বললেন, তাঁরা ছিলেন ৭০ জন। রাত অন্ধকার হলে তাঁরা মদীনার একজন শিক্ষকের নিকট যেতেন এবং ভোর পর্যন্ত শিক্ষা গ্রহণ করতেন। ভোর হবার পর যার দেহে শক্তি থাকত সে পানি তুলত এবং কাঠ সংগ্রহ করে তা বিক্রি করত আর যার আর্থিক সংগতি ছিল সে বকরী কিনে তা বিক্রি করে মুনাফা অর্জন করত এবং রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর পবিত্র হুজরাতে হাদিয়া পাঠাত। হযরত খুবায়ব (রা) যখন শহীদ হয়ে গেলেন তখন এদেরকে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) পাঠালেন। তাঁরা সুলায়ম গোত্রের একটি উপগোত্রে এলেন। আমার মামা হারাম (রা) এই দলের মধ্যে ছিলেন। হারাম (রা) তাদের দলপতিকে বললেন, আপনি আমাকে সুযোগ দিন আমি ওই গোত্রের লোকদেরকে জানিয়ে আসি যে, আমরা তোমাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধের উদ্দেশ্যে আসিনি, তাহলে তারা আমাদের যাবার পথ ছেড়ে দিবে। হারাম (রা) ওদেরকে বললেন, আমরা তোমাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার উদ্দেশ্যে আসিনি। সুতরাং তোমরা আমাদের পথ ছেড়ে দাও। ওদের এক লোক এসে তাঁর সম্মুখে দাঁড়ায় এবং বর্শার আঘাতে তাঁর দেহ এফোঁড় ওফোঁড় করে দেয়। আপন পেটে বর্শার আঘাত অনুভব করে তিনি বললেন, আল্লাহু আকবার-কা'বার মালিকের কসম আমি সফলকাম হয়েছি। এরপর কাফিরগণ মুসলিম প্রতিনিধিদলের ওপর আক্রমণ করে সকলকে হত্যা করে। তাঁদের কেউই রেহাই পায়নি। হযরত আনাস (রা) বলেন, এই সকল সাহাবীর হত্যাকাণ্ডে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যত বেদনাহত ও দুঃখ পেয়েছিলেন অন্য কোন ঘটনায় তেমনটি হতে আমি দেখিনি। আমি তাঁকে দেখেছি যে, এই ঘটনায় ফজরের নামাযের মধ্যে তিনি দু'হাত তুলে ওই ঘাতক কাফিরদের জন্যে বদ দু'আ করেছেন। পরবর্তীতে একদিন আবু তালহা (রা) আমাকে বললেন তোমরা হারাম (রা)-এর হত্যাকারী ব্যক্তি কোনটি আমি কি তা তোমাকে চিনিয়ে দিব? আমি বললাম, কী দরকার আল্লাহ্ তাকে যা করার করবেন। আবূ তালহা (রা) বললেন, তেমনটি বলো না, সে তো ইসলাম গ্রহণ করেছে। জনৈক বর্ণনাকারী আফ্ফান বলেছেন যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) দু'হাত তুলে ঘাতক কাফিরদের জন্যে বদ দু'আ করেছেন। আবু নদরের বর্ণনায় এসেছে যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) দু'হাত তুলতেন।
كتاب سيرة أول النبيين وخاتم المرسلين نبينا محمد بن عبد الله صلى الله عليه وسلم
باب سرية بئر معونة وهي التي قتل فيها القراء رضي الله عنهم
عن ثابت (9) قال كنا عند أنس بن مالك (رضي الله عنه) فكتب كتابا بين أهله فقال اشهدوا يا معشر القراء قال ثابت فكأني كرهت ذلك فقلت يا أبا حمزة لو سميتهم باسمائهم؟ قال وما بأس ذلك إن أقل لكم قراء، أفلا أحدثكم عن اخوانكم الذين كنا نسميهم علي عهد رسول الله - صلى الله عليه وسلم - القراء؟ فذكر أنهم كانوا سبعين فكانوا اذا جنهم الليل انطلقوا الي معلم لهم بالمدينة فيدرسون الليل (10) حتي يصبحوا فاذا أصبحوا فمن كانت له قوة استعذب من الماء وأصاب من الحطب (11) ومن كانت عنده سعة اجتمعوا فاشتروا الشاة وأصلحوها فيصبح ذلك معلقا بحجر (12) رسول الله - صلى الله عليه وسلم - فلما أصيب خبيب (13) بعثهم رسول الله - صلى الله عليه وسلم - فأتوا علي حي من بني سليم وفيهم خالي حرام (14) فقال حرام لأميرهم (15) دعني فلأخبر هؤلاء أنا لسنا إياهم نريد حتى يخلوا وجهنا (1). وقال عفان فيخلون وجهنا (2) فقال لهم حرام إنا لسنا إياكم نريد فخلوا وجهنا، فاستقبله رجل بالرمح فانفذه منه، فلما وجد الرمح في جوفه قال الله أكبر فزت ورب الكعبة، قال فانطووا عليهم فما بقي أحد منهم، فقال أنس فما رأيت رسول الله - صلى الله عليه وسلم - وجد علي شئ (3) قط وجده عليهم، فلقد رأيت رسول الله - صلى الله عليه وسلم - في صلاة الغداة رفع يديه فدعا عليهم، فلما كان بعد ذلك اذا أبو طلحة (4) يقول لي هل لك في قاتل حرام (5) قال قلت له ماله فعل الله به وفعل (6) قال مهلا فانه قد أسلم (7) وقال عفان رفع يديه يدعو عليهم، وقال أبو النضر رفع يديه