মুসনাদে আহমদ- ইমাম আহমদ রহঃ (আল-ফাতহুর রব্বানী)

সর্বশ্রেষ্ঠ নবী ও সর্বশেষ রাসূল মুহাম্মদ ইব্‌ন আব্দুল্লাহ (ﷺ)-এর জীবনচরিত অধ্যায়

হাদীস নং: ২৬৬
সর্বশ্রেষ্ঠ নবী ও সর্বশেষ রাসূল মুহাম্মদ ইব্‌ন আব্দুল্লাহ (ﷺ)-এর জীবনচরিত অধ্যায়
পরিচ্ছেদ : মাউনা-কূপ কেন্দ্রিক অভিযান। এতে কতক বিশিষ্ট কুরআন পাঠকারী শহীদ হয়েছিলেন
২৬৬. আনাস (রা) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আনাস (রা) এর মামা উম্মে সুলায়মের ভাই হারাম (রা) কে ৭০ জনের প্রতিনিধিদলের অন্তর্ভুক্ত করে অভিযানে প্রেরণ করেছিলেন। মাউনা কূপ কেন্দ্রিক ঘটনায় তাঁরা নিহত হয়েছিলেন। সে সময়ে ওই সকল কাফিরদের নেতা ছিল আমির ইবন্ তুফায়ল। সে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর দরবারে এসে বলল, আপনি আমার তিনটি প্রস্তাবের যে কোন একটি গ্রহণ করুন। গ্রামীণ অঞ্চল আপনার শাসনাধীন থাকবে আর শহরাঞ্চল আমার শাসনাধীন থাকবে অথবা আপনার অবর্তমানে আমি আপনার খলীফা হব অথবা গাতফান গোত্রের হাজার হাজার লাল ঘোড়া নিয়ে আমি আপনার বিরুদ্ধে যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ব। বর্ণনাকারী বলেন, এই তুফায়ল-ই একসময় একটি গোত্রের জনৈকা মহিলার গৃহে প্লেগ রোগে আক্রান্ত হয়। তখন সে বলেছিল হায়রে অমুক গোত্রের মহিলার গৃহে আমি তো উটের কুঁজের মত বড় ফোঁড়ায় আক্রান্ত হলাম। আমার ঘোড়া নিয়ে আমি আমি এখান থেকে চলে যাব। তার ঘোড়া আনা হল। সে তাতে আরোহণ করল। ঘোড়ার পিঠেই তার মৃত্যু হল। মাউনা কূপের অভিযানে উম্মু সুলায়মের ভাই হারাম এবং অন্য দু'জন লোক শত্রুপক্ষের দিকে এগিয়ে গেলেন। অন্য দুজনের একজন উমাইয়া গোত্রের এবং দ্বিতীয়জন ছিলেন খোঁড়া। হারাম তাঁর সাথী দুজনকে বললেন, তোমরা দুজন আমার কাছাকাছি থেকো। আমি ওদের নিকট যাব। ওরা আমাকে নিরাপত্তা দিলে তাতো ভালো। অন্যথায় তোমরা আমার কাছাকাছি থেকে অবস্থা পর্যবেক্ষণ করবে। ওরা আমাকে হত্যা করলে তোমরা ফিরে এসে আমাদের অবশিষ্ট সাথীদেরকে তা জানাবে। হারাম (রা) শত্রুপক্ষের নিকট এলেন। তিনি বললেন, তোমরা কি আমাকে নিরাপত্তা দিবে যে, আমি তোমাদের নিকট রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর বার্তা পৌছাব? ওরা বলল, হাঁ, তা দিব। তিনি তাদের মাঝে বসে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর বার্তা বিষয়ে আলোচনা করছিলেন। ইতিমধ্যে তারা তাদের জনৈক ব্যক্তিকে ইঙ্গিত দিল। সে হারামের (রা) পেছন দিক থেকে তাঁর উপর বর্শার আঘাত করে। তাঁর দেহ এফোঁড় ওফোঁড় করে দিল। তিনি মৃত্যু নিশ্চিত জেনে চিৎকার দিয়ে বলে উঠলেন আল্লাহু আকবার-কা'বাগৃহের মালিকের কসম, আমি সফলকাম হয়েছি। এরপর তারা অভিযানে প্রেরিত সকল সাহাবীকে হত্যা করে। অবশ্য খোঁড়া সাহাবীটি পাহাড়ের চূড়ায় আরোহণ করে তাদের হাত থেকে রক্ষা পায়। হযরত আনাস (রা) বলেন সে প্রেক্ষাপটে আমাদের প্রতি এ আয়াত নাযিল হয়েছিল-
أَنْ بَلِغُوا قَوْمَنَا أَنَا لَقِيْنَا رَبَّنَا فَرَضِيَ عَنَا وَأَرْضَانا.
আমাদের সম্প্রদায়কে জানিয়ে দিন যে, আমরা আমাদের প্রতিপালকের সাথে সাক্ষাত করেছি। তিনি আমাদের প্রতি সন্তুষ্ট হয়েছেন এবং তিনি আমাদেরকে সন্তুষ্ট করেছেন।
এই আয়াতটি তখন পাঠ করা হতো। পরবর্তীতে এটির পাঠ রহিত হয়ে যায়। এ ঘটনার পর রি'ল, যাকওয়ান, বানু লিহয়ান এবং আল্লাহ্ ও রাসূলের অবাধ্য উসাইয়া গোত্রসমূহের জন্যে ৪০ দিন ফজরের নামাযে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বদ দু'আ করেছেন।
كتاب سيرة أول النبيين وخاتم المرسلين نبينا محمد بن عبد الله صلى الله عليه وسلم
باب سرية بئر معونة وهي التي قتل فيها القراء رضي الله عنهم
عن أنس (2) أن رسول الله - صلى الله عليه وسلم - لما بعث حراما خاله اخا أم سليم في سبعين رجلا فقتلوا يوم بئر معونة (3) وكان رئيس المشركين يومئذ عامر بن الطفيل (4) وكان هو أني النبي - صلى الله عليه وسلم - فقال اختر مني ثلاث خصال: يكون لك أهل السهل (5) ويكون لي أهل الوبر (6) أو أكون خليفة من بعدك أو أغزوك بغطفان (7) بالف أشقر والف شقراء (8) قال نطعن في بيت امرأة من بني فلان (9) فقال غدة كغدة البعير (10) في بيت امرأة من بني فلان، إيتوني بفرسي، فأتي به فركبه فمات وهو علي ظهره (11) فانطلق حرام أخو أم سليم رضي الله عنهما ورجلان معه (12)، رجل من بني أمية ورجل أعرج (1) فقال لهم كونوا قريبا مني حتي آتيهم، فان آمنوني والا كنتم قريبا فان قتلوني أعلمتم أصحابكم قال فأتاهم حرام فقال أتومنوني أبلغكم رسالة رسول الله - صلى الله عليه وسلم - اليكم (2) قالوا نعم فجعل يحدثهم واومئوا (3) الي رجل منهم من خلفه فطعنه حتي أنفذه (4) بالرمح قال الله أكبر فزت ورب الكعبة (5) قال ثم قتلوهم كلهم (6) غير الأعرج كان في رأس جبل، قال أنس فأنزل علينا وكان مما يقرأ فنسخ (7) (أن بلغوا قومنا أنا لقينا ربنا فرضي عنا وأرضانا) قال فدعا النبي - صلى الله عليه وسلم - عليهم أربعين صباحا علي رعل وذكوان وبني لحيان (8) وعصية الذين عصوا الله ورسوله - صلى الله عليه وسلم
tahqiqতাহকীক:তাহকীক চলমান