মুসনাদে আহমদ- ইমাম আহমদ রহঃ (আল-ফাতহুর রব্বানী)

সর্বশ্রেষ্ঠ নবী ও সর্বশেষ রাসূল মুহাম্মদ ইব্‌ন আব্দুল্লাহ (ﷺ)-এর জীবনচরিত অধ্যায়

হাদীস নং: ২৬৫
সর্বশ্রেষ্ঠ নবী ও সর্বশেষ রাসূল মুহাম্মদ ইব্‌ন আব্দুল্লাহ (ﷺ)-এর জীবনচরিত অধ্যায়
৪র্থ হিজরীর ঘটনাবলী

পরিচ্ছেদ: আসিম ইবন্ ছাবিতের নেতৃত্বে প্রেরিত অভিযান এবং খুবায়েব (রা)-এর সাথে তাঁর শাহাদাতবরণ
২৬৫. আবু হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) গোয়েন্দা হিসেবে দশজনের একটি দল পাঠিয়ে ছিলেন। আসিম ইবন্ ছাবিত ইবন আবু আকলাজকে দলনেতা মনোনীত করেছিলেন। তারা যাত্রা করে উসফান ও মক্কার মাঝামাঝি হাদ্দাহ্ নামক স্থানে হুযায়ল গোত্রের উপগোত্র বানু লিহয়ানকে তাদের আগমন সম্পর্কে জানানো হয়। অতঃপর প্রায় একশত জনের একটি গোলন্দাজ বাহিনী তাঁদেরকে আক্রমণ করার জন্যে বের হয়। তারা সাহাবীদলের সন্ধানে পদচিহ্ন অনুসরণ করে। একপর্যায়ে যাত্রাবিরতি কালে তাদের খেজুর খাওয়ার আলামত দেখতে পায়। তারা বলে যে, এ হল ইয়াছরিবের খেজুর বিচি। ওই সূত্র ধরে তারা পুনরায় পদচিহ্ন অনুসরণ করে অগ্রসর হয়। শত্রুসৈন্যের আগমন সংবাদ পেয়ে হযরত আসিম ও তাঁর সাথিগণ একটি উঁচু পাহাড়ে আশ্রয় নেন। ওরা তাঁদেরকে চারিদিক থেকে ঘেরাও করে ফেলে। তারা তাঁদেরকে নেমে এসে আত্মসমর্পণ করতে ও তাদের কাছে যা কিছু আছে তা দিয়ে দিতে বলে এবং সেক্ষেত্রে তাদেরকে হত্যা করবে না বলে প্রতিশ্রুতি দেয়। দলনেতা আসিম বললেন আল্লাহর কসম আমি কোন কাফিরের তত্ত্বাবধানে যাব না- হে আল্লাহ্! আমাদের অবস্থা সম্পর্কে আপনার নবীকে অবহিত করুন। একপর্যায়ে শত্রুপক্ষ তাঁদের প্রতি তীর নিক্ষেপ শুরু করে। তাতে হযরত আসিম (রা) সহ সাতজন শহীদ হন। ওদের প্রতিশ্রুতির আলোকে অবশিষ্ট তিনজন তাদের হাতে ধরা দেন। হযরত খুবায়ব (রা) হযরত যায়দ ইব্‌ন দাছিনাহ (রা) এবং অন্য একজন সাহাবী (রা)। তাঁদের আয়ত্বে এনে শত্রুপক্ষ তাদের ধনুকের রশি খুলে হাত বেঁধে ফেলে। এ পর্যায়ে তিনজনের তৃতীয় জন বললেন এ তো প্রথম গাদ্দারী ও প্রতিশ্রুতি ভঙ্গকারী। আল্লাহর কসম আমি তোমাদের সঙ্গে যাব না। যাঁরা শহীদ হয়েছে তাঁদের মধ্যে আমার অনুসরণীয় আদর্শ রয়েছে। ওরা তাঁকে নিয়ে যাবার জন্যে টানাহেঁচড়া করেছিল। তিনি যাচ্ছিলেন না। ফলে তারা তাঁকে সেখানে হত্যা করে। তারা হযরত খুবায়ব (রা) ও হযরত যায়দ ইব্‌ন দাছিনাহ্ (রা) কে তাদের সাথে নিয়ে যায় এবং মক্কায় তাঁদেরকে বিক্রি করে দেয়। এটি বদর যুদ্ধের পরের ঘটনা। হারিছ ইব্‌ন আমির ইব্‌ন নাওফিল ইবন আবদ মানাফের পুত্ররা হযরত খুবায়ব (রা) কে ক্রয় করে। হযরত খুবায়ব (রা) তাদের পিতা আমিরকে বদর যুদ্ধে হত্যা করেছিল। তিনি ওদের হাতে বন্দী ছিলেন। একপর্যায়ে তারা তাঁকে হত্যা করতে একমত হয়। তিনি ওদের এক মেয়ে থেকে একটি ক্ষুর ধার চেয়ে নেন। সে ক্ষৌরকর্মের জন্যে তাঁকে একটি ক্ষুর ধারে প্রদান করে। ইতিমধ্যে ওদের একটি ছোট্টা বাচ্চা হযরত খুবায়বের (রা) হাতের নাগালের মধ্যে চলে যায়, তারা এসে দেখে বাচ্চাটি হযরত খুবায়বের (রা) কোলের ওপর বসা এবং তাঁর হাতে রয়েছে ক্ষুরটি। মেয়েটি বাচ্চার পরিণতি চিন্তা করে সন্ত্রস্ত হয়ে ওঠে। হযরত খুবায়ব (রা) তা বুঝতে পেরে বললেন, তুমি কি ভয় পাচ্ছ যে, আমি বাচ্চাটিকে হত্যা করব? আমি কিন্তু তা করব না। মেয়েটি বলল, খুবায়বের চেয়ে ভালো কোন বন্দী আমি কখনো দেখিনি। সে আরো বল যে, আমি দেখলাম যে, তাঁর হাতে আঙ্গুরের ছড়া, অথচ তিনি ছিলেন লোহার শেকলে বন্দী আর মক্কায় তখন ফলের মৌসুম ছিল না। সে বলত যে, এটি নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ্ত্র বিশেষ রিযিক ও জীবিকা যা মহান আল্লাহ্ খুবায়বের জন্যে ব্যবস্থা করেছেন। তারা যখন তাঁকে নিয়ে হারাম শরীফের এলাকা ছেড়ে এল হত্যার জন্যে। তিনি তাদেরকে বললেন, আমাকে দু'রাকআত নামায আদায়ের সুযোগ দাও। তারা তা দিল। তিনি দু'রাকআত নামায আদায় করলেন। এরপর বললেন, তুমি যদি একথা মনে না করতে যে, আমি মৃত্যুর ভয়ে ভীত হয়ে আছি, তাহলে আমি আরো দীর্ঘসময় নামাযে থাকতাম। এরপর তিনি বললেন হে আল্লাহ্! আপনি ওদেরকে জনে জনে গুণে নিন এবং জনে জনে হত্যা করুন, ওদের কাউকেই অবশিষ্ট রাখবেন না-এরপর তিনি নিম্নের কবিতা আবৃত্তি করলেন,

فَلَسْتُ أَبَالِي حِيْنَ أُقْتَلْ مُسْلِمًا… عَلَى أَي جَنْبٍ كَانَ لِلَّهِ مَصْرَعِي

وَذَلِكَ فِي ذَاتِ الْإِلَهِ وَإِنْ يَشَأْ … يُبَارِكْ عَلَى أَوْ صَالِ شِلْمٍ مُمَزِّعِ

অর্থ, আমি মুসলমান হিসেবে নিহত হচ্ছি তাই আমার কোন পরোয়া নেই, যে কোন অবস্থায় আল্লাহর জন্যে আমার এই মৃত্যুতে লুটিয়ে পড়া। এটি তো মহান আল্লাহর সত্তার জন্যে, তিনি চাইলে আমার কর্তিত দেহের অঙ্গে অঙ্গে বরকত দিতে পারেন।
এরপর আবূ শির ওয়াআহ্ ইব্‌ন আমির তাঁর উদ্দেশে দণ্ডায়মান হয় এবং তাঁকে হত্যা করে। ঠাণ্ডা মাথায় যাদেরকে হত্যা করা হয় তাদের জন্যে হযরত খুবায়ব (রা) নিয়ম করে গিয়েছেন যে, তারা নিহত হবার পূর্বে নামায আদায় করবে। আসিম ইব্‌ন ছাবিতের নিহত হবার দিনের দু'আ আল্লাহ্ তা'আলা কবুল করেছিলেন এবং তাঁর নিহত হবার কথা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে এবং তাঁর সাহাবীদেরকে জানালেন। ওই দিকে হযরত আসিমের নিহত হবার সংবাদ শুনে কুরায়শগণ কতক লোক পাঠাল হযরত আসিমের নিহত হবার সংবাদ নিশ্চিত হবার পক্ষে তাঁর দেহের কোন অংশ নিয়ে যাবার জন্যে। তিনি বদর দিবসে একজন শীর্ষস্থানীয় কুরায়শ নেতাকে হত্যা করেছিলেন। কিন্তু কাফিরদের হাত থেকে তাঁর মৃতদেহ রক্ষা করার জন্যে মহান আল্লাহ্ মেঘমালার মত একদল বোলতা মতান্তরে মৌমাছি প্রেরণ করেছিলেন। এগুলো এসে তাঁকে ঘিরে রেখেছিল। ফলে তারা তাঁর দেহ স্পর্শ করতে পারেনি এবং দেহের কোন অংশ কেটে নিতে সক্ষম হয়নি।
كتاب سيرة أول النبيين وخاتم المرسلين نبينا محمد بن عبد الله صلى الله عليه وسلم
حوادث السنة الرابعة من الهجرة

باب ما جاء في سرية عاصم بن ثابت واستشهاده مع خبيب
عن أبي هريرة (1) بعث رسول الله - صلى الله عليه وسلم - عشرة رهط عينا (2) وأمر عليهم عاصم بن ثابت بن أبي الأفلج جد عاصم بن عمرو بن الخطاب (3) رضي الله عنه فانطلقوا حتي اذا كانوا بالهدة (4) بين عسفان ومكة ذكروا حيا من هذيل يقال لهم بنو لحيان فنفروا لهم بقريب من مائة رجل رام فاقتصوا آثارهم حتي وجدوا مأكلهم التمر في منزل نزلوه، قالوا نوي تمر يثرب فاتبعوا آثارهم، فلما أخبر بهم عاصم وأصحابه لجأوا إلي فدفه (5) فاحاط بهم القوم فقالوا لهم انزلوا وأعطونا ما بايديكم ولكم العهد والميثاق أن لا نقتل منكم أحدا، فقال عاصم بن ثابت أمير القوم أما أنا والله لا أنزل في ذمة كافر: اللهم أخبر عنا نبيك - صلى الله عليه وسلم - (6) فرموهم بالنبل فقتلوا عاصما في سبعة ونزل اليهم ثلاثة نفر علي العهد والميثاق، منهم خبيب الأنصاري وزيد بن الدثنة ورجل آخر، فلما تمكنوا منهم أطلقوا أوتار قسيهم فربطوهم بها، فقال الرجل الثالث هذا أول الغدر والله لا أصحبكم إن لي بهؤلاء لأسوة، فجرروه وعالجوه فأبي أن يصحبهم فقتلوه، فانطلقوا بخبيب وزيد بن الدثنة حتي باعوهما بمكة بعد وقعة بدر، فابتاع بنو الحارث بن عامر بن نوفل بن عبد مناف خبيبا وكان خبيب هو قتل الحارث بن عامر بن نوفل يوم بدر فلبث خبيب عندهم أسيراً حتي أجمعوا قتله، فاستعار من بعض. بنات الحارث موسي يستحد بها للقتل فاعارته إياها، فدرج بني لها قالت وأنا غافلة حتي أتاه فوجدته يجلسه علي فخذه والموسي بيده، قالت ففزعت فزعة عرفها خبيب، قال اتخشين أني أقتله؟ ما كنت لأفعل؛ فقالت والله مارأيت أسيرا قط خير اً من خبيب، قالت والله لقد وجدته يوما يأكل قطفا من عنب في يده وإنه لموثق في الحديد وما بمكة من ثمرة، وكانت تقول انه لرزق رزقه الله خبيبا فلما خرجوا به من الحرم ليقتلوه في الحل قال لهم خبيب دعوني أركع ركعتين، فركع ركعتين ثم قال والله لولا أن تحسبوا أن ما بي جذعا من القتل لزدت، اللهم أحصهم (1) عددا واقتلهم بددا (2) ولا تبق منهم أحدا
فلست أبالي حين أقتل مسلماً ... علي أي جنب كان لله مصرعي
وذلك في ذات الإله (3) وإن يشأ ... يبارك علي أوصال (4) شلو ممزع
ثم قال اليه أبو سروعة عقبة بن الحارث فقتله: وكان خبيب هو سن لكل مسلم قتل صبرا الصلاة (5) واستجاب الله عز وجل لعاصم بن ثابت يوم أصيب فاخبر رسول الله - صلى الله عليه وسلم - أصحابه يوم أصيبوا اخبرهم وبعث ناس من قريش الي عاصم بن ثابت حين حدثوا أنه قتل ليؤتي بشئ منه يعرف (5) وكان قتل رجلا من عظمائهم (6) يوم بدر فبعث الله عز وجل علي عاصم مثل الظلة من الدبر (7) فحمته من رسلهم فلم يقدروا علي أن يقطعوا منه شيئاً
tahqiqতাহকীক:তাহকীক চলমান