মুসনাদে আহমদ- ইমাম আহমদ রহঃ (আল-ফাতহুর রব্বানী)
সর্বশ্রেষ্ঠ নবী ও সর্বশেষ রাসূল মুহাম্মদ ইব্ন আব্দুল্লাহ (ﷺ)-এর জীবনচরিত অধ্যায়
হাদীস নং: ২৬৪
সর্বশ্রেষ্ঠ নবী ও সর্বশেষ রাসূল মুহাম্মদ ইব্ন আব্দুল্লাহ (ﷺ)-এর জীবনচরিত অধ্যায়
পরিচ্ছেদ: রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর চাচা হামযা ইব্ন আবদুল মুত্তালিবের শাহাদাত বরণ, তাঁর হত্যাকারী এবং হত্যার কারণ
২৬৪. হুজাইন ইব্ন মুছান্না আবু উমার (রহ.) জাফর ইবন আমর দামারী (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন যে, আমি একদা উবায়দুল্লাহ ইব্ন আদী ইবন খিয়ারের সাথে সিরিয়াতে গিয়েছিলাম। আমরা যখন হিমস জনপদে পৌছলাম। তখন তিনি আমাকে বললেন, আমরা যদি ওয়াহশীর নিকট গিয়ে হযরত হামযা (রা) এর শাহাদাত বরণের ঘটনা জানতে চাই তাতে তোমার সম্মতি থাকবে কিনা? আমি বললাম হাঁ, তাতে আমি সম্মত আছি। সে সময়ে ওয়াহ্শী হিমস জনপদে বসবাস করতেন। আমরা তাঁর অবস্থান সম্পর্কে লোকজনকে জিজ্ঞেস করলাম, আমাদরেকে বলা হল যে, তিনি তাঁর বাসগৃহের ছায়ায় বসে আছেন। তাঁর শরীর ভারী মোটকার মত হয়ে গেছে। আমরা তাঁর নিকট গিয়ে সালাম দিলাম। তিনি আমাদের সালামের জবাব দিলেন। উবায়দুল্লাহ্ তখন পাগড়ি দিয়ে তাঁর মাথা ও মুখমণ্ডল ঢেকে রেখেছিলেন। ওয়াহশী তাঁর চোখ দুটো আর পা দুটো ছাড়া কিছুই দেখতে পাচ্ছিলেন না। তিনি বললেন হে ওয়াহশী, আপনি কি আমাকে চিনতে পেরেছেন? ওয়াহশী তাঁর দিকে তাকিয়ে বললেন, না, চিনতে পারছি না তবে আল্লাহর কসম, আমার জানা আছে যে, আদী ইব্ন খিয়ার উম্মু কিতাল নামে আবু ঈসের এক কন্যাকে বিয়ে করেছিল। মক্কায় তার এক পুত্রসন্তান জন্ম নিয়েছিল। আমি তার দুধপানের ব্যবস্থা করলাম। এবং তার আপন মা সহ তাকে তার দুধমার নিকট নিয়ে গিয়েছিলাম এবং তাকে তার দুধমার হাতে তুলে দিয়েছিলাম। এখন তোমার পা দুটো দেখে সেই পা দুটোর কথা মনে পড়ছে। এবার উবায়দুল্লাহ্ তাঁর মুখ খুললেন এবং বললেন আপনি কি আমাদেরকে হযরত হামযা (রা) এর হত্যার ঘটনা সম্পর্কে বলবেন? তিনি বললেন হাঁ, বলব। হামযা (রা) বদর যুদ্ধে তুআয়মাহ ইব্ন আদীকে হত্যা করেছিলেন। সে প্রেক্ষিতে আমার মুনিব জুবায়র ইবন মুতইম আমাকে বলেছিল যে, আমার চাচার প্রতিবেশী হিসেবে তুমি যদি হামযাকে হত্যা করতে পার, তাহলে তুমি মুক্ত ও স্বাধীন হয়ে যাবে। আয়নায়ন যুদ্ধের দিন-'আয়নায়ন' হল উহুদের পাদদেশে একটি পাহাড়। উহুদ আর আয়নায়নের মাঝে একটি পাহাড়ী মাঠ আছে। অর্থাৎ উহুদ দিবসে যখন লোকজন যুদ্ধের জন্যে যাত্রা করল তখন আমিও তাদের সাথে যাত্রা করলাম। যোদ্ধাগণ যখন সারিবদ্ধ হল, সিবাগ বেরিয়ে এসে মুসলিম যোদ্ধাদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলল, আমার বিরুদ্ধে লড়াই করার কেউ আছ কি? হামযা ইব্ন আবদুল মুত্তালিব বের হয়ে বললেন হায়, তুমি উম্মু আনসারের পুত্র সিবাগ? ওহে মহিলাদের খাতনাকর্মীর পুত্র। তুই আল্লাহ্ এবং তাঁর রাসূলের বিরুদ্ধে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়েছিস? এই বলে তিনি তার উপর হামলা করলেন। মুহূর্তে সে ধরাশায়ী ও ধ্বংস হয়ে গেল। হযরত হামযা (রা) এর উপর আক্রমণ করার জন্যে আমি একটি পাথরের নিচে লুকিয়ে থাকি। তিনি আমার পাশ দিয়ে অগ্রসর হচ্ছিলেন। আমার কাছাকাছি আসামাত্র আমি তাঁকে বর্শা দিয়ে আঘাত করি। তাঁর নাভিতে বর্শা ঢুকিয়ে দিই। তাঁর নিতম্বদ্বয়ের মাঝ দিয়ে সেটি বেরিয়ে যায়। এটি ছিল তাঁর শেষ অবস্থা। এতে তিনি মারা যান। মক্কার লোকজন যখন মক্কায় ফিরে আসে আমিও তাদের সাথে মক্কায় ফিরে আসি এবং সেখানে বসবাস করতে থাকি। একপর্যায়ে মক্কায় ইসলামের প্রসার ঘটে। তখন আমি মক্কা ছেড়ে তাইফ চলে যাই। একসময় সেখান থেকে একদল প্রতিনিধি পাঠানো হয় রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর দরবারে। তাকে জানানো হয় যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কোন প্রতিনিধির সাথে অসৌজন্য আচরণ করেননি। ওয়াহশী বলেন ওইদলের সাথে আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর দরবারে উপস্থিত হই। আমাকে দেখে তিনি বললেন তুমি না ওয়াহ্শী? আমি বললাম হাঁ-তাই। তিনি বললেন তুমি না হামযা (রা) কে হত্যা করেছ? আমি বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ্ আপনি যেমনটি শুনেছেন ঘটনা তাই। তিনি বললেন, তুমি তোমার চেহারা আমার দৃষ্টি থেকে লুকিয়ে রাখতে পারবে না? সে বলল, এরপর আমি তাইফ ফিরে আসি। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর যখন ওফাত হল এবং ভণ্ডনবী মিথ্যাবাদী মুসায়লামার আবির্ভাব ঘটল। তখন আমি বললাম, আমি মুসায়লামার বিরুদ্ধে অভিযানে অংশ নিব যাতে আমি তাকে হত্যা করে হামযা (রা)-এর হত্যার দায়মুক্তি নিতে পারি। সে বলে, অতঃপর আমি মুসায়লামা বিরোধী অভিযানে প্রেরিত লোকজনের সাথে পথে বের হলাম। ওরা যা করার তা করল। হঠাৎ আমি দেখলাম প্রাচীরে এক গর্তে এক লোক দাঁড়িয়ে আছে। তাঁর চুল এলোমেলো। সে যেন ধূসর বর্ণের উট। ওয়াহ্শী বলেন, আমি আমার বর্শা দ্বারা তার উপর আক্রমণ চালালাম। তার দু'স্তনের মাঝে বর্শাঘাত করলাম, তার দু' কাঁধের মাঝখান দিয়ে সেটি বেরিয়ে গেল। জনৈক আনসারী তার দিকে দৌড়ে গেল এবং তার মাথার তালুতে তরবারি আঘাত করল। আবদুল্লাহ্ ইব্ন মুগাফ্ফাল বলেন যে, সুলায়মান ইবন ইয়াসার আমাকে জানিয়েছেন যে, তিনি আবদুল্লাহ্ ইবন উমার (রা) কে বলতে শুনেছেন যে, মুসায়লামার এক ক্রীতদাসী বাড়ীর ছাদে উঠে বলেছিল হায়। হায়রে দুঃখ! একজন কালো ক্রীতদাস আমীরুল মুমেনীন তথা রাষ্ট্রপ্রধানকে হত্যা করল।
كتاب سيرة أول النبيين وخاتم المرسلين نبينا محمد بن عبد الله صلى الله عليه وسلم
باب ما جاء في مقتل حمزة بن عبد المطلب عم النبي - صلى الله عليه وسلم - ومن قتله وسبب ذلك
حدثنا حجين بن المثني ابو عمر (2) قال حدثنا عبد العزيز يعني ابن عبد الله بن أبي سلمة (3) عن عبد الله بن الفضل عن سليمان بن يسار عن جعفر بن عمرو الضمري (4) قال خرجت مع عبيد الله بن عدي بن الخيار (5) إلي الشام فلما قدمنا حمص قال لي عبيد الله هل لك في وحشي (6) نسأله عن قتل حمزة؟ قلت نعم، وكان وحشي يسكن حمص فسألنا عنه فقيل لنا هو ذاك في ظل قصره كانه حميت (7) قال فجئنا حتي وقفنا عليه فسلمنا فرد علينا السلام، قال وعبيد الله معتجر (8) بعمامة ما يري وحشي الا عينيه ورجليه، فقال عبيد الله يا وحشي أتعرفني؟ قال فنظر اليه ثم قال لا والله الا اني أعلم أن عدي بن الخيار تزوج امرأة يقال لها أم قتال ابنة أبي العيص فولدت له غلاما بمكة فأسترضعه (9) فحملت ذلك الغلام مع أمه فناولتها اياه فلكأني نظرت الي قدميك (10) قال فكشف عبيد الله وجهه ثم قال ألا تخبرنا بقتل حمزة؟ قال نعم، إن حمزة قتل طعيمة بن عدي ببدر فقال لي مولاي جبير بن مطعم ان قتلت حمزة بعمي فأنت حر، فلما خرج الناس يوم عينين (11) قال وعينين جبل تحت أحد (12) وبينه وبينه واد خرجت الناس الي القتال فلما أن اصطفوا للقتال خرج سباع (13) فقال هل من مبارز؟ (14) قال فخرج اليه حمزة بن عبد المطلب فقال سباع بن أم انمار؟ (15) يا ابن مقطعة البظوز (16) اتحاد الله ورسوله؟ ثم شد عليه فكان كأمس الذاهب واكمنت لحمزة تحت صخرة (1) حتي اذا مر علي فلما أن دنا مني رميته فأضعها في ثنته (2) حتي خرجت من بين وركيه، قال فكان ذلك العهد به (3) قال فلما رجع الناس رجعت معهم قال فأقمت بمكة حتي فشا فيها الاسلام، قال ثم خرجت الي الظائف (4) قال فأرسل إلي النبي - صلى الله عليه وسلم - (5) قال وقبل له انه لا يهيج (6) الرسل قال فخرجت معهم حتي قدمت علي رسول الله - صلى الله عليه وسلم - قال فلما رآني قال أنت وحشي؟ قال قلت نعم، قال أنت قتلت حمزة؟ قال قلت قد كان في الأمر ما بلغك يا رسول الله اذ قال ما تستطيع أن تغيب عني وجهك؟ قال فرجعت، فلما توفي رسول الله - صلى الله عليه وسلم - وخرج مسيلمة (7) الكذاب قال قلت لاخرجن الي مسيلمة لعلي اقتله فاكافئ به حمزة، قال فخرجت مع الناس فكان من امرهم ما كان، قال فاذا رجل قائم في ثلمة (8) جدار كأنه جمل أورق (9) ثائر رأسه قال فأرميه بحربتي فاضعها بين ثدييه حتي خرجت من كتفيه؛ قال ودب اليه رجل من الأنصار (10) قال فضربه بالسيف علي هامته (11) قال عبد الله بن المفضل فاخبرني سليمان بن يسار انه سمع عبد الله بن عمر فقالت جارية علي ظهر بيت وأمير المؤمنين (12) قتله العبد الأسود