মুসনাদে আহমদ- ইমাম আহমদ রহঃ (আল-ফাতহুর রব্বানী)
সর্বশ্রেষ্ঠ নবী ও সর্বশেষ রাসূল মুহাম্মদ ইব্ন আব্দুল্লাহ (ﷺ)-এর জীবনচরিত অধ্যায়
হাদীস নং: ২৫৪
সর্বশ্রেষ্ঠ নবী ও সর্বশেষ রাসূল মুহাম্মদ ইব্ন আব্দুল্লাহ (ﷺ)-এর জীবনচরিত অধ্যায়
পরিচ্ছেদ: উহুদ যুদ্ধের ঘটনা, সৈন্যদের সারিবদ্ধতা, নেতৃত্ব, নেতার আনুগত্য এবং তার বিরোধিতার কুফল
২৫৪. ইবন মাসউদ (রা) থেকে বর্ণিত, উহুদ দিবসে মুসলিম মহিলাগণ মুসলিম যোদ্ধাদের পেছনে অবস্থান করছিল। তারা আহত মুসলিম সৈন্যদের সেবা শুশ্রূষা ও চিকিৎসা করছিল। সেদিন আমি যদি কসম করে বলতাম আমাদের কেউই দুনিয়ার লোভে লোভী নই তাহলে আমার আশা যে, আমি কসমে সঠিকই থাকতাম। কিন্তু এক পর্যায়ে মহান আল্লাহ্ নাযিল করলেন
مِنْكُمْ مَنْ يُرِيدُ الدُّنْيَا وَمِنْكُمْ مَنْ يُرِيدُ الْآخِرَةَ ثُمَّ صَرَفَكُمْ عَنْهُمْ لِيَبْتَلِيَكُمْ .
তোমাদের কতক ইহকাল প্রত্যাশী ছিল এবং কতক পরকাল প্রত্যাশী। অতঃপর তিনি তোমাদেরকে পরীক্ষা করার জন্যে তাদের থেকে তোমাদেরকে ফিরিয়ে দিলেন (সূরা আলে ইমরান: ১৫২)।
অতঃপর সাহাবিগণ যখন পরস্পর মতভেদ করলেন এবং নির্দেশ অমান্য করলেন, তখন তাঁরা ছত্রভঙ্গ হয়ে চারিদিকে ছড়িয়ে পড়লেন আর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) একাকী থেকে গেলেন নয়জন সাহাবীর মধ্যে। তাঁদের মধ্যে সাতজন আনসারী এবং দুইজন কুরায়শী সাহাবী আর দশম হলেন রাসূলুল্লাহ (ﷺ)। একপর্যায়ে কাফিরগণ যখন তাঁকে ঘিরে ফেলল তখন তিনি বলতে লাগলেন মহান আল্লাহ্ সেই ব্যক্তিকে দয়া করুন যে ওদেরকে আমাদের থেকে সরিয়ে দিবে। তিনি এটি বলে যাচ্ছিলেন, আর তাঁর সাথিগণ যুদ্ধ করতে করতে নয়জনের মধ্যে একে একে সাতজন শহীদ হয়ে গেলেন। অবশিষ্ট দুজনকে তিনি বললেন হায়! আমাদের সাথিগণ আমাদের প্রতি ইনসাফ করেনি। এ পর্যায়ে আবু সুফিয়ান এল এবং বলল, হুবল প্রতিমার জয় হোক। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, তোমরা বল, আল্লাহ্ সর্বোচ্চ, সর্বোর্ধ্ব ও সুমহান। তাঁরা বললেন, আল্লাহ্ সর্বোচ্চ, সর্বোর্ধ্ব সুমহান। আবু সুফিয়ান বলল, আমাদের উয্যা প্রতিমা আছে তোমাদের উয্যা প্রতিমা নেই। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, তোমরা বল আমাদের প্রভু ও সাহায্যকারী আল্লাহ্ তোমাদের কোন প্রভু নেই। আবূ সুফিয়ান বলল, আজকের দিন বদর দিনের প্রতিশোধ, একদিন আমাদের পক্ষে একদিন আমাদের বিপক্ষে, একদিন মহিলাদের একদিন শকুনদের, এই হানযালার মৃত্যু ওই হানযালার প্রতিশোধ, অমুকের মৃত্যু অমুকের মৃত্যুর প্রতিশোধ। অমুক অমুকের প্রতিশোধ, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন উভয় পক্ষ সমান নয়। আমাদের নিহত ব্যক্তিগণ জীবিত, রিযক ভোগ করছে। আর তোমাদের নিহত ব্যক্তিগণ আগুনে শাস্তি ভোগ করছে। আবূ সুফিয়ান বলল, লোকজনের মধ্যে কতক নাক-কান কাটা রয়েছে, সেটি আমাদের নেতৃবর্গের পরামর্শে হয়নি। আমি নিজে তা করার নির্দেশ দেইনি আবার নিষেধও করিনি। আমি তা পছন্দও করিনি অপছন্দও করিনি। সেটি আমাকে আনন্দিতও করেনি-অখুশিও করেনি। সাহাবা-ই-কিরাম সম্মুখে তাকালেন। তাঁরা দেখতে পেলেন যে, হযরত হামযার (রা) পেট চিরে ফাঁক করে ফেলা হয়েছে। হিনদা তাঁর কলিজা নিয়ে দাঁতে চিবুচ্ছে। কিন্তু সে তা গিলতে পারেনি। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন হিনদা কি কলিজা খেতে পেরেছে? সাহাবাগণ (রা) বললেন, না খেতে পারেনি। তিনি বললেন মহান আল্লাহ্ হযরত হামযার (রা) দেহের সামান্য অংশও আগুনে দিতে চান না। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) হযরত হামযার (রা) লাশ তাঁর সম্মুখে রেখে জানাযা আদায় করলেন। এরপর অন্য এক শহীদের লাশ হামযার (রা) পাশে রেখে জানাযা আদায় করলেন। এরপর হামযার (রা) লাশ রেখে অন্য লাশটি সরিয়ে তদস্থলে অন্য এক শহীদের লাশ রেখে জানাযা আদায় করলেন। এভাবে হযরত হামযার (রা) লাশ যথাস্থানে রেখে একে একে অন্যান্য লাশ তাঁর পাশে এনে জানাযা আদায় করলেন। এভাবে রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) ৭০ বার হযরত হামযা (রা) এর জানাযা আদায় করেছেন।
مِنْكُمْ مَنْ يُرِيدُ الدُّنْيَا وَمِنْكُمْ مَنْ يُرِيدُ الْآخِرَةَ ثُمَّ صَرَفَكُمْ عَنْهُمْ لِيَبْتَلِيَكُمْ .
তোমাদের কতক ইহকাল প্রত্যাশী ছিল এবং কতক পরকাল প্রত্যাশী। অতঃপর তিনি তোমাদেরকে পরীক্ষা করার জন্যে তাদের থেকে তোমাদেরকে ফিরিয়ে দিলেন (সূরা আলে ইমরান: ১৫২)।
অতঃপর সাহাবিগণ যখন পরস্পর মতভেদ করলেন এবং নির্দেশ অমান্য করলেন, তখন তাঁরা ছত্রভঙ্গ হয়ে চারিদিকে ছড়িয়ে পড়লেন আর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) একাকী থেকে গেলেন নয়জন সাহাবীর মধ্যে। তাঁদের মধ্যে সাতজন আনসারী এবং দুইজন কুরায়শী সাহাবী আর দশম হলেন রাসূলুল্লাহ (ﷺ)। একপর্যায়ে কাফিরগণ যখন তাঁকে ঘিরে ফেলল তখন তিনি বলতে লাগলেন মহান আল্লাহ্ সেই ব্যক্তিকে দয়া করুন যে ওদেরকে আমাদের থেকে সরিয়ে দিবে। তিনি এটি বলে যাচ্ছিলেন, আর তাঁর সাথিগণ যুদ্ধ করতে করতে নয়জনের মধ্যে একে একে সাতজন শহীদ হয়ে গেলেন। অবশিষ্ট দুজনকে তিনি বললেন হায়! আমাদের সাথিগণ আমাদের প্রতি ইনসাফ করেনি। এ পর্যায়ে আবু সুফিয়ান এল এবং বলল, হুবল প্রতিমার জয় হোক। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, তোমরা বল, আল্লাহ্ সর্বোচ্চ, সর্বোর্ধ্ব ও সুমহান। তাঁরা বললেন, আল্লাহ্ সর্বোচ্চ, সর্বোর্ধ্ব সুমহান। আবু সুফিয়ান বলল, আমাদের উয্যা প্রতিমা আছে তোমাদের উয্যা প্রতিমা নেই। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, তোমরা বল আমাদের প্রভু ও সাহায্যকারী আল্লাহ্ তোমাদের কোন প্রভু নেই। আবূ সুফিয়ান বলল, আজকের দিন বদর দিনের প্রতিশোধ, একদিন আমাদের পক্ষে একদিন আমাদের বিপক্ষে, একদিন মহিলাদের একদিন শকুনদের, এই হানযালার মৃত্যু ওই হানযালার প্রতিশোধ, অমুকের মৃত্যু অমুকের মৃত্যুর প্রতিশোধ। অমুক অমুকের প্রতিশোধ, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন উভয় পক্ষ সমান নয়। আমাদের নিহত ব্যক্তিগণ জীবিত, রিযক ভোগ করছে। আর তোমাদের নিহত ব্যক্তিগণ আগুনে শাস্তি ভোগ করছে। আবূ সুফিয়ান বলল, লোকজনের মধ্যে কতক নাক-কান কাটা রয়েছে, সেটি আমাদের নেতৃবর্গের পরামর্শে হয়নি। আমি নিজে তা করার নির্দেশ দেইনি আবার নিষেধও করিনি। আমি তা পছন্দও করিনি অপছন্দও করিনি। সেটি আমাকে আনন্দিতও করেনি-অখুশিও করেনি। সাহাবা-ই-কিরাম সম্মুখে তাকালেন। তাঁরা দেখতে পেলেন যে, হযরত হামযার (রা) পেট চিরে ফাঁক করে ফেলা হয়েছে। হিনদা তাঁর কলিজা নিয়ে দাঁতে চিবুচ্ছে। কিন্তু সে তা গিলতে পারেনি। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন হিনদা কি কলিজা খেতে পেরেছে? সাহাবাগণ (রা) বললেন, না খেতে পারেনি। তিনি বললেন মহান আল্লাহ্ হযরত হামযার (রা) দেহের সামান্য অংশও আগুনে দিতে চান না। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) হযরত হামযার (রা) লাশ তাঁর সম্মুখে রেখে জানাযা আদায় করলেন। এরপর অন্য এক শহীদের লাশ হামযার (রা) পাশে রেখে জানাযা আদায় করলেন। এরপর হামযার (রা) লাশ রেখে অন্য লাশটি সরিয়ে তদস্থলে অন্য এক শহীদের লাশ রেখে জানাযা আদায় করলেন। এভাবে হযরত হামযার (রা) লাশ যথাস্থানে রেখে একে একে অন্যান্য লাশ তাঁর পাশে এনে জানাযা আদায় করলেন। এভাবে রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) ৭০ বার হযরত হামযা (রা) এর জানাযা আদায় করেছেন।
كتاب سيرة أول النبيين وخاتم المرسلين نبينا محمد بن عبد الله صلى الله عليه وسلم
باب خبر موقعة أحد وتنظيم الصفوف والقيادة ووجوب طاعة الامام وسوء مخالفته
عن ابن مسعود (6) أن النساء كن يوم أحد خلف المسلمين يجهزن علي جرحي المشركين فلو حلفت يومئذ رجوت أن أبر إنه ليس أحد منا يريد الدنيا حتي أنزل الله عز وجل (منكم من يريد الدنيا ومنكم من يريد الآخرة: ثم صرفكم عنهم ليبتليكم) فلما خالف أصحاب النبي - صلى الله عليه وسلم - وعصوا ما أمروا به أفر د رسول الله - صلى الله عليه وسلم - في تسعة: سبعة من الأنصار ورجلين من قريش وهو عاشرهم فلما رهقوه (7) أيضا قال رحم الله رجلا ردهم عنا، فلم يزل يقول ذا حتى قتل السبعة، فقال النبي - صلى الله عليه وسلم - لصاحبيه ما أنصفنا أصحابنا (1) فجاء أبو سفيان فقال أعل هبل فقال رسول الله صلي الله عليه وسلم قولوا الله أعلي وأجل، فقالوا الله أعلي وأجل، فقال أبو سفيان لنا عزي ولا عزي لكم، فقال رسول الله - صلى الله عليه وسلم - قولوا الله مولانا والكافرون لا مولي لهم، ثم قال أبو سفيان يوم بيوم بدر، يوم لنا ويوم علينا ويوم نساء ويوم نسر، حنظلة بحنظلة وفلان بفلان وفلان بفلان فقال رسول الله - صلى الله عليه وسلم - لا سواءا أما قتلانا فاحياء يرزقون، وقتلاكم في النار يعذبون، قال أبو سفيان قد كانت في القوم مثله وإن كانت لعن غير ملاء (2) منا، ما أمرت ولا نهيت ولا أحببت ولا كرهت ولا ساءني ولا سرني، قال فنظر وا فاذا حمزة قد بقر بطنه (3): فاخذت هند (4) كبده فلا كتها فلم تستطع أن تأكلها، فقال رسول الله - صلى الله عليه وسلم - أكلت منه شيئا؟ قالوا لا، قال ما كان الله ليدخل شيئا من حمزة النار، فوضع رسول الله - صلى الله عليه وسلم - حمزة فصلي عليه وجئ برجل من الأنصار فوضع الي جنبه فصلي عليه، فرفع الأنصاري وترك حمزة، ثم جئ بآخر فوضع الي جنب حمزة فصلي عليه ثم رفع وترك حمزة، حتي صلي عليه يومئذ سبعين صلاة