মুসনাদে আহমদ- ইমাম আহমদ রহঃ (আল-ফাতহুর রব্বানী)

সর্বশ্রেষ্ঠ নবী ও সর্বশেষ রাসূল মুহাম্মদ ইব্‌ন আব্দুল্লাহ (ﷺ)-এর জীবনচরিত অধ্যায়

হাদীস নং: ২৫৩
সর্বশ্রেষ্ঠ নবী ও সর্বশেষ রাসূল মুহাম্মদ ইব্‌ন আব্দুল্লাহ (ﷺ)-এর জীবনচরিত অধ্যায়
পরিচ্ছেদ: উহুদ যুদ্ধের ঘটনা, সৈন্যদের সারিবদ্ধতা, নেতৃত্ব, নেতার আনুগত্য এবং তার বিরোধিতার কুফল
২৫৩. উবায়দুল্লাহ্ ইব্‌ন উতবা বর্ণনা করেছেন, হযরত ইব্‌ন আব্বাস (রা) থেকে যে, তিনি বলেছেন, মহান আল্লাহ্ আমাদেরকে উহুদ দিবসে যত বড় ধরনের সাহায্য করেছেন অন্য কোন স্থানে তেমন করেননি। বর্ণনাকারী বলেন, আমরা হযরত ইব্‌ন আব্বাস (রা) এর এ বক্তব্য অগ্রাহ্য করলাম। তখন ইবন আব্বাস (রা) বললেন আমার মাঝে এবং বক্তব্য অগ্রাহ্যকারীর মাঝে মহান আল্লাহর কিতাব-ই ফায়সালাকারী। উহুদ দিবস সম্পর্কে মহান আল্লাহ বলেছেন
وَلَقَدْ صَدَقَكُمُ اللهُ وَعْدَهُ إِذْ تَحُشُوْنَهُمْ بِإِذْنِهِ
আল্লাহ্ তোমাদের সাথে তাঁর প্রতিশ্রুতি পূরণ করেছিলেন যখন তোমরা তাঁর অনুমতিক্রমে তাদেরকে হত্যা করছিলে।
ইব্‌ন আব্বাস (রা) বলেন, حَسٌ শব্দের অর্থ হত্যা করা।
حَتَّى إِذَا فَشِلْتُمْ وَتَنَازَعْتُمْ فِي الْأَمْرِ وَعَصَيْتُمْ مِنْ بَعْدِ مَا أَرَاكُمْ مَا تُحِبُّوْنَ مِنْكُمْ مَنْ يُرِيدُ الدُّنْيَا وَمِنْكُمْ مَنْ يُرِيدُ الْآخِرَةَ ثُمَّ صَرَفَكُمْ عَنْهُمْ لِيَبْتَلِيَكُمْ وَلَقَدْ عَفَا عَنْكُمْ وَاللَّهُ ذُو فَضْلٍ عَلَى الْمُؤْمِنِينَ .
যে পর্যন্ত না তোমরা সাহস হারালে এবং নির্দেশ সম্বন্ধে মতভেদ সৃষ্টি করলে এবং যা তোমরা ভালবাস তা দেখাবার পর তোমরা অবাধ্য হলে। তোমাদের কতক ইহকাল চাচ্ছিলে এবং কতক পরকাল চাচ্ছিলে। অতঃপর তিনি পরীক্ষা করার জন্যে তোমাদেরকে তাদের থেকে ফিরিয়ে দিলেন। অবশ্য তিনি তোমাদেরকে ক্ষমা করবেন। আল্লাহ্ মুমিনদের প্রতি অনুগ্রহশীল (সূরা আল ইমরান: ১৫২)।
এখানে মুমিনগণ দ্বারা উক্ত গোলন্দাজ সেনাদের প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে। বিষয়টি এরূপ যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) গোলন্দাজ বাহিনীকে একটি নির্দিষ্ট স্থানে নিয়োজিত করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন তোমরা আমাদের পেছনের দিকটা পাহারা দিবে। তোমরা যদি দেখতে পাও যে, আমরা নিহত হচ্ছি তবুও তোমরা ওই জায়গা ছেড়ে আমাদের সাহায্যে নেমে আসবে না। আর যদি দেখতে পাও যে আমরা যুদ্ধে জয়ী হয়ে গনীমত ও যুদ্ধসম্পদ সংগ্রহ করছি তবুও তোমরা সম্পদ সংগ্রহে আমাদের সাথে যোগ দিবে না। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যখন যুদ্ধে জয়ী হয়ে গনীমত সংগ্রহ করতে লাগলেন এবং মুসলিম যোদ্ধাগণ মুশরিক সেনাদেরকে যেখানে পাওয়া যায় সেখানে হত্যা করার মিশন শুরু করল, তখন গোলন্দাজ বাহিনীর লোকজন দ্রুত যুদ্ধ ময়দানে নেমে এসে যুদ্ধসম্পদ সংগ্রহে লিপ্ত হল। ইতিমধ্যে সাহাবীগণ সারি ভেঙ্গে পরস্পর এলোমেলো অবস্থায় পড়ে গেলেন। নিজেরা নিজেদের মধ্যে গোলমেলে পরিবেশ সৃষ্টি করে ফেললেন। গোলন্দাজ দল যখন পাহাড়ী পথ উন্মুক্ত রেখে চলে এল, তখন শত্রুপক্ষের অশ্ববাহিনী সেপথে প্রবেশ করে সাহাবীগণের ওপর আক্রমণ চালাল। অতঃপর এলোমেলো অবস্থায় একে অন্যের ওপর হামলা শুরু করল। এতে বহু মুসলমান শহীদ হয়ে গেলেন। দিনের প্রথম ভাগে যুদ্ধ ছিল রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ও তাঁর সাথীগণের নিয়ন্ত্রণে। এ সময়ে মুশরিকদের পতাকাবাহী সেনাদলের সাত থেকে নয় জন সৈন্য নিহত হয়। কিন্তু শেষপর্যায়ে মুশরিকদের অতর্কিত হামলায় মুসলমানগণ দিশেহারা হয়ে ওঠে এবং পাহাড়ী পথ বন্ধ করার জন্যে চিৎকার করে সেদিকে দৌড়াতে থাকে। কিন্তু তারা সেখানে পৌছতে পারেনি। তারা তখন পাহাড়ের পাদদেশে ছিল। ইতিমধ্যে ইবলিস শয়তান চিৎকার দিয়ে ঘোষণা করল যে, মুহাম্মাদ নিহত হয়েছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় কেউ এই ঘোষণার সত্যতায় সন্দেহ করেনি। আমরা এই বিশৃংখল অবস্থায় ছিলাম। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) নিহত হয়েছেন তাতে আমাদের কোন সন্দেহ ছিল না। হঠাৎ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে দেখা গেল দুই সা'দের মাঝখানে। তাঁর ঝুঁকে হাঁটার ভঙ্গি দেখে আমরা তাঁকে চিনতে পারি। তাঁকে দেখে আমরা এত আনন্দিত হই যে, দুঃখ আমাদের ওপর যা আঘাত ও আক্রমণ এসেছে তাতে যেন আমাদের কিছুই হয়নি। এরপর তিনি আমাদের দিকে উঠে আসছিলেন আর বলছিলেন
اِشْتَدَّ غَضَبُ اللهِ عَلَى قَوْمٍ دَمَوْا وَجْهَ رَسُولِهِ
সেই সম্প্রদায়ের প্রতি আল্লাহর কঠোর গযব ও অসন্তোষ কত ভয়াবহ হবে যারা আল্লাহর রাসূলের মুখমণ্ডল রক্তরঞ্জিত করেছে।
সাথে সাথে বলছিলেন যে, হে আল্লাহ্! ওরা তো আমাদের উপর জয়ী হতে পারে না। একপর্যায়ে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদের নিকট এসে পৌছলেন। তিনি কিছুক্ষণ অবস্থান করার পর শুনতে পেলেন যে, আবু সুফিয়ান পাহাড়ের পাদদেশে দাঁড়িয়ে চিৎকার দিয়ে বলছে হুবল প্রতিমার জয় হোক, হুবল প্রতিমার জয় হোক, আবূ কাবাশার পুত্র (মুহাম্মাদ সা.) কোথায়? আবু কুহাফার পুত্র (আবূ বকর রা.) কোথায়? খাত্তাবের পুত্র (উমার রা.) কোথায়? উমার (রা) বললেন ইয়া রাসূলুল্লাহ (ﷺ), আমি কি তার জবাব দেব? তিনি বললেন, হাঁ জবাব দাও। এরপর যখন আবু সুফিয়ান বলল, হুবলের জয় হোক তখন হযরত উমার (রা) বললেন আল্লাহ্ সর্বোচ্চ ও সুমহান। আবু সুফয়ান বলল, ওহে খাত্তাব পুত্র! এখন হুবলের নয়ন জুড়িয়েছে তার এখন খুবই স্বস্তি। সুতরাং তাকে নিয়ে বিরূপ মন্তব্য করো না। আবু সুফিয়ান বলল, আবু কাবাশার পুত্র, আবু কুহাফার পুত্র এবং খাত্তাবের পুত্র কোথায়? উমার (রা) বললেন, এই যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ), এই যে আবূ বকর (রা) এবং এই যে, আমি উমার। আবু সুফিয়ান বলল, আজকের দিন বদর দিনের প্রতিশোধ। দিন পরিবর্তনশীল এবং যুদ্ধে জয়পরাজয়ে আমরা সমান সমান। উমার (রা) বললেন, না-সমান সমান নয়, আমাদের মধ্যে যারা নিহত হয়েছেন তাঁরা জান্নাতে থাকবেন আর তোমাদের মধ্যে যারা নিহত হয়েছে তারা জাহান্নামে থাকবে। আবু সুফিয়ান বলল, তোমরা কি তা-ই মনে কর? তাহলে তো আমরা ব্যর্থ ও ক্ষতিগ্রস্ত বটে। এরপর আবু সুফিয়ান বলল, অবিলম্বে তোমাদের নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে কারো কারো অঙ্গ কর্তিত ও নাক কান কাটা পাবে, এটি আমাদের নেতৃবৃন্দের নির্দেশে হয়নি। এরপর জাহেলী যুগের অহংবোধ তার মধ্যে জেগে উঠল এবং বলল, এমনটি তো ঘটেছে তবে আমরা তাতে অখুশিও হইনি।
كتاب سيرة أول النبيين وخاتم المرسلين نبينا محمد بن عبد الله صلى الله عليه وسلم
باب خبر موقعة أحد وتنظيم الصفوف والقيادة ووجوب طاعة الامام وسوء مخالفته
عن عبيد الله (يعني ابن عتبة) عن (ابن عباس) (3) أنه قال ما نصر الله تبارك وتعالي في موطن كما نصر في يوم أحد قال فأنكرنا ذلك: فقال ابن عباس بيني وبين من أنكر ذلك كتاب الله تبارك وتعالي ان الله عز وجل يقول في يوم أحد (ولقد صدقكم الله وعده (4) إذ تحسونهم باذنه) يقول ابن عباس والحس القتل (حتي اذا فشلتم _ الي قوله _ ولقد عفا عنكم والله ذو فضل علي المؤمنين) عني بهذا الرماة، وذلك أن النبي - صلى الله عليه وسلم - اقامهم في موضع ثم قال احموا ظهورنا فان رأيتمونا نقتل فلا تنصرونا وان رأيتمونا قد غنمنا فلا تشركونا، فلما غنم النبي - صلى الله عليه وسلم - وأباحوا عسكر المشركين اكب الرماة جميعا فدخلوا العسكر ينهبون وقد التفت صفوف أصحاب رسول الله - صلى الله عليه وسلم - فهم كذا وشبك أصابع يديه والتبسوا (5) فلما أخل الرماة تلك الخلة (6) التي كانوا فيها دخلت الخيل من ذلك الموضع علي أصحاب النبي - صلى الله عليه وسلم - فضرب بعضهم بعضا والتبسوا، وقتل من المسلمين ناس كثير، وقد كان لرسول الله - صلى الله عليه وسلم - وأصحابه أول النهار حتي قتل من أصحاب لواء المشركين سبعة أو تسعة: وجال المسلمون جولة نحو الجبل ولم يبلغوا حيث يقول الناس الغاث وانما كانوا تحت المهراس (7) وصاح الشيطان قتل محمد فلم يشك فيه أنه حق فما زلنا كذلك ما نشك أنه قد قتل حتي طلع رسول الله - صلى الله عليه وسلم - بين السعدين (8) نعرفه بتكفئه (9) اذا مشي، قالوا ففرحنا حتي كأنه لم يصبنا ما أصابنا، قال فرقي نحونا وهو يقول اشتد غضب الله علي قوم دموا (10) وجه رسوله، قال ويقول مرة أخري اللهم إنه ليس لهم أن يعلونا حتي أنتهي الينا فمكث ساعة فإذا أبو سفيان يصيح في أسفل الجبل أعل هبل مرتين يعني آلهته أين ابن أبي كبشة (1) أين ابن أبي قحافة؟ أين ابن الخطاب؟ فقال عمر يا رسول الله ألا أجيبه؟ قال بلي، قال فلما قال أعل هبل قال عمر الله أعلي وأجل، قال فقال أبو سفيان يا ابن الخطاب إنه قد أنعمت عينها (2) فعاد عنها أو فعال عنها، فقال أين ابن أبي كبشه؟ أين ابن أبي قحافة؟ أين ابن الخطاب؟ فقال عمر هذا رسول الله - صلى الله عليه وسلم - وهذا أبو بكر وهذا أنا ذا عمر، قال فقال أبو سفيان يوم بيوم بدر، الأيام دول وإن الحرب سجال (3) قال فقال عمر لا سواء، قتلانا في الجنة وقتلاكم في النار، قال انكم لتزعمون ذلك لقد خبنا اذا وخسرنا، ثم قال أبو سفيان أما إنكم سوف تجدون في قتلاكم مثلا (4) ولم يكن ذاك عن رأي سراتنا (5) قال ثم أدركته حمية الجاهلية قال فقال أما إنه قد كان ذاك ولم نكرهه
tahqiqতাহকীক:তাহকীক চলমান
মুসনাদে আহমদ- ইমাম আহমদ রহঃ - হাদীস নং ২৫৩ | মুসলিম বাংলা