মুসনাদে আহমদ- ইমাম আহমদ রহঃ (আল-ফাতহুর রব্বানী)

সর্বশ্রেষ্ঠ নবী ও সর্বশেষ রাসূল মুহাম্মদ ইব্‌ন আব্দুল্লাহ (ﷺ)-এর জীবনচরিত অধ্যায়

হাদীস নং: ২৪৬
সর্বশ্রেষ্ঠ নবী ও সর্বশেষ রাসূল মুহাম্মদ ইব্‌ন আব্দুল্লাহ (ﷺ)-এর জীবনচরিত অধ্যায়
পরিচ্ছেদ: হযরত আলী (রা)-এর সাথে হযরত ফাতিমা যাহরা (রা)-এর বিবাহ
২৪৬. আতা ইবন সাইব তাঁর পিতা থেকে, তিনি হযরত আলী (রা) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যখন তাঁর নিকট ফাতিমা (রা) কে বিয়ে দেন তখন একটি চাঁদর, একটি বালিশ যার খোল ছিল চামড়ার আর ভেতরে ছিল খেজুরের আঁশ, দুটো যাঁতা, একটি মশক এবং দুটো কলসী সাথে দিয়েছিলেন। একদিন হযরত আলী (রা) এসে ফাতিমা (রা) কে বললেন, আল্লাহর কসম পানি বহন করে করে আমার বুকে ব্যথা হয়ে গেল, ইতিমধ্যে আল্লাহ্ তোমার পিতাকে কতগুলো ক্রীতদাস দিয়েছেন, তুমি তোমার পিতার নিকট গিয়ে সেবক-সেবিকা চেয়ে নাও। হযরত ফাতিমা (রা) বললেন, আল্লাহর কসম আমিও তো আটা পিষতে পিষতে আমার হাতে ফোঁসকা পড়ার উপক্রম হয়েছে। হযরত ফাতিমা (রা) রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট এলেন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, বৎস, কোন প্রয়োজনে এসেছ কি? ফাতিমা (রা) বললেন, এসেছি সালাম জানাতে এবং কুশলাদি জানতে। মূলকথা উত্থাপনে তিনি লজ্জাবোধ করলেন এবং ফিরে গেলেন। হযরত আলী (রা) কি হল তা জানতে চাইলেন। ফাতিমা (রা) বললেন মূলকথা উত্থাপনে আমি লজ্জাবোধ করেছি। সেবকের আবেদন আমি করিনি। এরপর আলী (রা) ও ফাতিমা (রা) দুজনই রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট গমন করলেন। আলী (রা) বললেন ইয়া রাসূলুল্লাহ (ﷺ), পানি তুলে তুলে আমার বুকে ব্যথা সৃষ্টি হয়েছে। ফাতিমা (রা) বললেন, আটা পিষতে পিষতে আমার হাত খসখসে হয়ে গিয়েছে। হাতে ফোঁসকা সৃষ্টি হয়ে গেছে। মহান আল্লাহ তো আপনাকে কতক বন্দী দাসী ও অর্থ-সম্পদ দিয়েছেন। আপনি তা থেকে আমাদেরকে একটি সেবিকা ও দাসী প্রদান করুন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, না, আমি তোমাকে সেবিকা দিতে পারব না। আমি বরং সুফফা-ওয়ালাদেরকে ডেকে আনব, ওরা ক্ষুধায় পেটে পাথর বেঁধে আছে ওদের খাবারের ব্যবস্থা করতে পারছি না। আমি এসব বন্দী দাস-দাসী বিক্রি করে ওদের খাবারের ব্যবস্থা করব। হযরত আলী (রা) ও ফাতিমা (রা) ফিরে এলেন। রাতে তাঁরা এমন একটি চাঁদর গায়ে শুয়ে পড়লেন যা দিয়ে মাথা ঢাকলে পায়ের অংশ খোলা থাকে আর পা ঢাকলে মাথার অংশ খোলা থাকে। এসময়ে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাঁদের ঘরে প্রবেশ করলেন। তাঁরা তাড়াতাড়ি শোয়া থেকে উঠে যাচ্ছিলেন। তিনি বললেন, ওঠার দরকার নেই। যেমন আছ তেমন থাক। এরপর তিনি বললেন তোমরা আমার নিকট যা চেয়েছিলে তার চাইতে উত্তম কিছু সম্পর্কে কি আমি তোমাদেরকে জানিয়ে দিব? তাঁরা বললেন, হাঁ-অবশ্যই তা জানাবেন। তিনি বললেন, সেগুলো হল কতক কালিমাহ ও বাক্য যেগুলো হযরত জিবরাঈল (আ) আমাকে শিখিয়ে গিয়েছেন। এরপর তিনি বললেন তোমরা প্রত্যেক নামাযের পর ১০ বার সুবহানাল্লাহ্ পাঠ করবে, ১০ বার আলহামদুলিল্লাহ পাঠ করবে এবং ১০ বার আল্লাহু আকবার পাঠ করবে আর যখন বিছানায় শয়ন করতে যাবে তখন ৩৩ বার সুবহানাল্লাহ্, ৩৩ বার আলহামদুলিল্লাহ্ এবং ৩৪ বার আল্লাহু আকবার পাঠ করবে। হযরত আলী (রা) বললেন- রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদেরকে এটি শিখিয়ে দেয়ার পর থেকে আমি কোন দিন সেগুলো পাঠ না করে ছাড়িনি। ইবন কাওয়া বললেন, আপনি কি সিম্ফীনের যুদ্ধের রাতেও তা পাঠ না করে ছাড়েননি? তিনি বললেন, ওহে ইরাকবাসী! তোমাদের প্রতি আল্লাহর ধ্বংস আসুক সিফফীনের যুদ্ধের রাতেও আমি সেগুলো পাঠ না করে ছাড়িনি।
كتاب سيرة أول النبيين وخاتم المرسلين نبينا محمد بن عبد الله صلى الله عليه وسلم
باب ما جاء فى زوراج على بفاطمة الزهراء رضى الله عنهما
عن عطاء بن السائب (6) عن أبيه عن على رضى الله عنه أن رسول الله - صلى الله عليه وسلم - لما زوجه فاطمة بعث معه بخميلة ووسادة من أدم حشوها ليف (وفى لفظ ليف الاءذخر) ورحيين وسقاء وجرتين (7) فقال على لفاطمة ذات يوم والله لقد سنوت (8) حتى لقد اشتكيت صدري، قال وقد جاء الله أباك بسبي فاذهبي فاستخدميه (1) فقالت وأنا والله قد طحنت حتي مجلت (2) يدي، فأتت النبي - صلى الله عليه وسلم - فقال ما جاء بك أي بنية؟ قالت جئت لأسلم عليك وأستحيت أن تسأله ورجعت، فقال ما فعلت؟ قالت استحييت أن أسأله، فأتيناه جميعاً فقال علي يا رسول الله والله سنوت حتي اشتكيت صدري، وقالت فاطمة قد طحنت حتي مجلت يداي وقد جاءك الله بسبي وسعة فأخدمنا، فقال رسول الله - صلى الله عليه وسلم - والله لا أعطيكما وأدع أهل الصفة تطوي (3) بطونهم لا أجد ما أنفق عليهم، ولكني أبيعهم وأنفق عليهم أثملنهم، فرجعا فأتاهما النبي - صلى الله عليه وسلم - وقد دخلا في قطيفتهما اذا غطت رءوسهما تكشفت أقدامهما، واذا غطيا أقدامهما تكشفت روءسهما فثارا، فقال مكانكما، ثم قال ألا أخبركما بخير مما سألتماني؟ قالا بلي، فقال كلمات علمنيهن جبريل عليه السلام: فقال تسبحان في دبر كل صلاة عشرا، وتحمدان عشرا، وتكبران عشرا، واذا أويتما الي فراشكما فسبحا ثلاثا وثلاثين واحمدا ثلاثا وثلاثين وكبرا أربعا وثلاثين: قال فو الله ما تركتهن منذ علمنيهن رسول الله صلي الله عليه وسلم: قال فقال له ابن الكواء (4) ولا ليلة صفين (5) فقال قاتلكم الله يا أهل العراق نعم ولا ليلة صفين
tahqiqতাহকীক:তাহকীক চলমান